ফ্রান্সে বিক্ষোভে ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ পুলিশ, প্যারিসে কারফিউ

জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও জনসেবার সংকট নিয়ে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির সরকার বলছে, চলমান বিক্ষোভের মধ্যে কয়েকটি বড় শহরে ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ পুলিশ।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে হালের আশপাশের এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সপ্তাহান্তের ব্যাপক সহিংসতার পর সোমবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি বড় শহরে পুলিশ ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল’। শনিবার দেশ জুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে বিভিন্ন শহরে দোকানপাট ও সরকারি ভবনে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ শুরু হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেনদারম সদস্য (বিশেষ সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য) আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে দিন দেশ জুড়ে প্রায় ৬০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। বরং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোথায় ব্যর্থতা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সোমবারও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। এ দিন প্যারিসে ল্যুভর জাদুঘরের প্রবেশপথ আটকে বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী। আগের দিন রাজধানীতে প্রায় ৩০টি দোকান লুটপাট বা হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্যারিসের মেয়র।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ শনিবার আবার রাজপথে নামার ডাক দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভিড়ের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষায় বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রতিবাদ করছিলেন। এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্বল জনসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যুক্ত হয়ে শনিবারের বড় আন্দোলনে রূপ নেয়।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে আরও স্থানীয় কারফিউ এবং এমনকি জরুরি অবস্থা জারির কথাও বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে কয়েক মাস পরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষোভ এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়, বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জেও পরিণত হচ্ছে।


















