দিনিপ্রোতে রুশ ড্রোনে নিহত বেড়ে ১৫, রেলস্টেশনে হামলার নিন্দা জেলেনস্কির

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলস্টেশনে উদ্ধারকাজ করছেন জরুরি সেবাকর্মীরা। ২৯ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলস্টেশনে উদ্ধারকাজ করছেন জরুরি সেবাকর্মীরা। ২৯ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে ১৫ হয়। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গানজা এ তথ্য জানিয়েছেন।

দিনিপ্রোর রেলস্টেশনে এ হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেতস্কি বলেছেন, রাশিয়া ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এ ধরনের সন্ত্রাসের কোনো ন্যায্যতা নেই।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি নিয়মিত কমিউটার ট্রেন ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, হামলার সময় সেখানে যাত্রী ও রেলকর্মীরা উপস্থিত থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রুশ ড্রোনটি সরাসরি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে। এতে একটি ছাত্রাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দিনিপ্রো ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে মস্কো বরাবরই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দিনিপ্রোর হামলা নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওই দিন ইউক্রেনের আরও কয়েকটি শহরে রুশ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ শহরের একটি সড়কে হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়, আহত হয় ২৩ জন।

মধ্যাঞ্চলের ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবনে হামলায় নিহত হন তিনজন, আহত হন ৩২ জন। জাপোরিঝঝিয়ায় একটি বাসে হামলায় ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজন নিহত হন।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

এসব হামলার মধ্যেই খেরসন অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনেও তা কার্যকর ছিল।

রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকিতে কয়েক মাস ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকট চলছে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকায় ধারাবাহিক হামলা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। জেলেনস্কি আরও রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি ও ইউক্রেইনস্কা প্রাভদা

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad