ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮: স্পেনে প্রধানমন্ত্রী-পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, বিক্ষোভ

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। রাজধানী মাদ্রিদে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ।
স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভিই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাইরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ জড়ো হন। তারা দুর্ঘটনার দায় নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ফ্লেয়ার ছুড়লে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে ‘অপরাধীরা নিপাত যাক, ৭৮-এর শাসনব্যবস্থার পতন হোক’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে গেলে বিক্ষোভকারীরা পরিবহনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ‘অস্কার পুয়েন্তে, মৃত্যুর মন্ত্রী’ বলে স্লোগান দেন।
এদিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেল নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের ডাক দিতে পারে স্পেনের রেলচালকদের সংগঠন স্প্যানিশ ইউনিয়ন অব রেলওয়ে ড্রাইভার্স।
চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তিন দশকের বেশি সময় ধরে নিরাপদে চলার পর চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনার মুখে পড়ল দেশটি।
বুধবার তোলেদো প্রদেশের জলপাই বাগানঘেরা একটি নির্জন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চার সপ্তাহ আগে এ ঘটনা স্পেনের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনকে ধাক্কা দিলে ৪৬ জন নিহত হন।
বুধবারের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিরপেক্ষ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত বছর সাড়ে চার কোটি যাত্রী পরিবহন করা দেশটির আধুনিক রেলব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। শোকের মধ্যে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত চললেও রেল নিরাপত্তা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ দুর্ঘটনাটিকে সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফলের জন্য অপেক্ষা করার কথাও বলছেন কেউ কেউ। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মাদ্রিদের রাস্তায় মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে। এতে স্পষ্ট, দুর্ঘটনাটি এখন শুধু রেল নিরাপত্তার বিষয় নয়; স্পেনের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় স্পেনের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এর মধ্যে নতুন করে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


-96f609.jpg)







-96f609-256x144.webp)




-3d5440-256x144.webp)
