যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বার্নহ্যাম, প্রথম ভাষণেই আসবে ‘১০ বছরের পরিকল্পনা’

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ২০: ০৩
সোমবার সকালে ওয়েস্টমিনস্টারে পৌঁছান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এ দিন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লস–এর কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার পর তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন।

সেই ভাষণেই তিনি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি ‘১০ বছরের পরিকল্পনা’ তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এটি তিনি ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার অঙ্গীকার হিসেবে নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের রূপরেখা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এদিকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব ছাড়ার আগে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে শেষবারের মতো ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

এক দশকে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে মাত্র এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই ডেভিড ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন থেরেসা মে। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক, কিয়ের স্টারমার এবং এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আগেরগুলোর তুলনায় অনেকটাই ব্যতিক্রম।

সাধারণত ক্ষমতাসীন দল নতুন নেতা নির্বাচনের সময় এমন কাউকে বেছে নেয়, যিনি হয় সংসদ সদস্যদের কাছে জনপ্রিয় কিন্তু সাধারণ ভোটারের কাছে তুলনামূলক কম গ্রহণযোগ্য, অথবা ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হলেও দলীয় কর্মীদের মধ্যে কম গ্রহণযোগ্য।

কিন্তু লেবার এবার এমন একজনকে বেছে নিয়েছে, যিনি একই সঙ্গে জনমত জরিপে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিক এবং বর্তমানে দলীয় এমপিদেরও ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বোঝা হয়ে ওঠা স্টারমারের জায়গায় এমন একজনকে আনা হয়েছে, যাকে অন্তত আপাতত পুরো দলই সমর্থন করছে।

‘১০ বছরের পরিকল্পনা’

দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি দেশের জন্য একটি ‘১০ বছরের পরিকল্পনা’ঘোষণা করবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ এই নয় যে তিনি ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

তার ভাষায়, ‘আমি এটা বলতে চাইছি না যে আমি দশ বছর এখানে থাকার পরিকল্পনা করছি। আমি বলতে চাইছি, আমরা কাঠামোগতভাবে সঠিক জায়গায় নেই। একটি দেশ হিসেবে আমরা সঠিক অবস্থানে নেই। আমার মনে হয় মানুষও সেটা অনুভব করে’’

তার মতে, যুক্তরাজ্যের সমস্যাগুলো এতটাই গভীর যে সেগুলোর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

করনীতি নিয়ে নতুন বার্তা

সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম করনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিরোধীদের অন্যতম সমালোচনা হলো, তিনি কর বাড়ানোর পক্ষপাতী। তবে তিনি সেই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

তিনি জানান, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রচারণায় ভোটারদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগ তিনি শুনেছেন, তা হলো ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা দীর্ঘদিন ধরে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডে স্থির রয়েছে।

এর ফলে মানুষের বেতন বাড়লেও করমুক্ত সীমা না বাড়ায় কার্যত প্রতি বছরই বেশি কর দিতে হচ্ছে, যাকে অনেকেই ‘গোপন কর বৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত করেন।

বার্নহাম বলেন,‘মেকারফিল্ডে মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি শুনেছি, তা হলো ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডে ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা স্থির থাকার কারণে মানুষের হতাশা। অভিযোগটি আমার মনে গেঁথে গেছে।’

যদিও তিনি এই সীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেননি, কারণ এতে সরকারের কয়েকশ কোটি পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তবে তিনি বলেন,‘তারা আমাকে শুধু কর বাড়ানোর মানুষ হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু বিষয়টা কখনোই এতটা সরল নয়, তাই না?’

এর আগে গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, কিছু ক্ষেত্রে মানুষকে হয়তো ‘আরও সামান্য বেশি কর’ দিতে হতে পারে।

আজকের সূচি

নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচি ইতোমধ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিট থেকে শেষ ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

এরপর স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পাওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছাবেন এবং জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন।

দিনের বাকি সময়ে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন এবং নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবেন।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

দিল্লিতে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, এবার ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ সিজেপির

‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এবার দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের কাছে হাজারো সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় আন্দোলনের হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

১৬ ঘণ্টা আগে

ভারতে ককরোচ পার্টির মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আটক

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি তীব্র আকার ধারণ করলে সোমবার দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। এ ছাড়া বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সংসদের কাছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নিকটবর্তী এলাকা থেকে সিজেপির অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

১৬ ঘণ্টা আগে

ভারতে সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল, পুলিশের লাঠিচার্জ

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্মসূচি শুরুর পর সংসদ অভিমুখে এগোতে চাইলে দলটির সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

১৮ ঘণ্টা আগে

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। আমরা ইরানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাব। আলোচনার সেই দরজা যদি উন্মুক্ত হয়, তবে আমরা অবশ্যই তা স্বাগত জানাব।’

১ দিন আগে