
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান যুদ্ধ পালটে দিয়েছে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কে শত্রুতা-মিত্রতার হিসাব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তাদের কাউকেই সরাসরি পাশে পাননি তিনি। বরং ইউরোপের দেশগুলো ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এ যুদ্ধ তাদের যুদ্ধ না। ট্রাম্পকে একাই সামলাতে হবে যুদ্ধের ধাক্কা।
নিজেকে ট্রান্স-আটলান্টিকপন্থি হিসেবে পরিচয় দেওয়া জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস যেমন সরাসরিই বলেছেন, এ যুদ্ধে সরাসরি সামরিক কোনো পদক্ষেপের দিকে যাবে না তার দেশ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ অভিযান কীভাবে সফল হবে— তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা নেই। ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং ইউরোপীয় সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানায়নি।’
ইরানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অভিযানে অংশ নিতে এবং প্রায় বন্ধ হয়ে আসা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মিত্র দেশগুলোকে নৌ বাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে জার্মানিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মিত্রদেশগুলো এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ প্রসঙ্গেই বুধবার জার্মান পার্লামেন্টে মের্ৎস বলেন, ইরান যেন প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে— এ বিষয়ে তিনি একমত। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আমরা এ পথে (যুদ্ধের পথে) না যাওয়ার পরামর্শ দিতাম। তাই যুদ্ধ চলাকালে আমরা হরমুজ প্রণালিতে সামরিকভাবে নৌ চলাচল নিশ্চিত করার মতো কোনো কার্যক্রমে অংশ নেব না।’
মের্ৎসের মতো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউরোপীয় অন্য নেতারাও। তাদের আশঙ্কা— এটি একটি অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে, যার লক্ষ্যও স্পষ্ট নয় এবং যা নিজ দেশের জনগণের কাছেও অজনপ্রিয়।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিসটোরিয়াস আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এ যুদ্ধ শুরু করিনি।’ প্রায় একই কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতের অংশ নই।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপে বিরোধিতা
দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে— ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করলে তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে তাদের পাশে না-ও থাকতে পারেন কিংবা কিয়েভকে মস্কোর পক্ষে কোনো সমঝোতায় বাধ্য করতে পারেন। এমনকি বছরের শুরুতে ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়ায় ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত না দিলেও ট্রাম্প বলেছেন, ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়িয়ে তারা ‘খুবই বোকামি’ করেছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে সরাসরি আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি উইনস্টন চার্চিল নন!
তবে স্টারমারসহ ইউরোপীয় নেতাদের পাশে রয়েছে জনমত। ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে হামলার বিপক্ষে, পক্ষে মাত্র ২৮ শতাংশ।
এ পরিস্থিতিতে নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে ও বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও তাদের প্রাথমিক সমর্থন কিছুটা নরম করেছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি বেডনক বলেন, আমি স্টারমারের কঠোর সমালোচক। কিন্তু হোয়াইট হাউজ থেকে যে ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শিশুসুলভ।
রিফর্ম ইউকের রবার্ট জেনরিক বলেন, ‘বিদেশি নেতাদের হাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অপমান আমি দেখতে চাই না।’
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানে হামলাকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘অবৈধ’ বলে নিন্দা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তার দেশ। উপপ্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসাস মনটেরো সরাসরিই বলেন, ‘আমরা কারও দাস হব না, কোনো হুমকিও মেনে নেব না।’
স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান ফোরটিডেসিবেলের এক জরিপে ৬৮ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে অভিমত দিয়েছে। জার্মানির এআরডি ডয়চেল্যান্ড ট্রেন্ডের জরিপেও ৫৮ শতাংশ যুদ্ধবিরোধী মত উঠে এসেছে।
জনমতের মতোই ইউরোপের দেশগুলোর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে। জার্মানির কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানির নেতা টিনো চ্রুপালা বলেন, ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুরু করলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠছেন।’
ট্রাম্পের নেতৃত্বের অনিশ্চয়তায় ব্যতিব্যস্ত ইউরোপ
ইউরোপীয় সরকারগুলোর স্প বক্তব্য— যে যুদ্ধে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি এবং যার গন্তব্য অজানা, সেখানে তারা জড়াতে চায় না। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্য পরিষ্কার নয় এবং তা ইসরায়েলের লক্ষ্য থেকেও ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে ক্ষমতাব্যবস্থা বদল (রেজিম চেঞ্জ) প্রসঙ্গে।
আবার জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসসহ অনেকেই সমালোচনা করেছেন, তেলের দাম কমাতে গিয়ে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন, যা মিত্রদের না জানিয়ে করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইউরোপ নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য মিত্রদের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনায় কাজ করছে। তবে এটি সামরিক কোনো উদ্যোগ নয় বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধজাহাজ দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেবে।
এ পরিকল্পনায় ইউরোপ, এশিয়া (ভারতসহ) ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ম্যাখোঁ। তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন।’
সব মিলিয়ে ইউরোপীয় নেতারা একতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন এবং ট্রাম্পের অনিশ্চিত নেতৃত্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘এখন আমরা অনেকটা শান্ত। কারণ আমরা ধরে নিয়েছি, যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে এগোচ্ছি।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন অবলম্বনে

ইরান যুদ্ধ পালটে দিয়েছে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কে শত্রুতা-মিত্রতার হিসাব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তাদের কাউকেই সরাসরি পাশে পাননি তিনি। বরং ইউরোপের দেশগুলো ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এ যুদ্ধ তাদের যুদ্ধ না। ট্রাম্পকে একাই সামলাতে হবে যুদ্ধের ধাক্কা।
নিজেকে ট্রান্স-আটলান্টিকপন্থি হিসেবে পরিচয় দেওয়া জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস যেমন সরাসরিই বলেছেন, এ যুদ্ধে সরাসরি সামরিক কোনো পদক্ষেপের দিকে যাবে না তার দেশ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ অভিযান কীভাবে সফল হবে— তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা নেই। ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং ইউরোপীয় সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানায়নি।’
ইরানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অভিযানে অংশ নিতে এবং প্রায় বন্ধ হয়ে আসা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মিত্র দেশগুলোকে নৌ বাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে জার্মানিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মিত্রদেশগুলো এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ প্রসঙ্গেই বুধবার জার্মান পার্লামেন্টে মের্ৎস বলেন, ইরান যেন প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে— এ বিষয়ে তিনি একমত। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আমরা এ পথে (যুদ্ধের পথে) না যাওয়ার পরামর্শ দিতাম। তাই যুদ্ধ চলাকালে আমরা হরমুজ প্রণালিতে সামরিকভাবে নৌ চলাচল নিশ্চিত করার মতো কোনো কার্যক্রমে অংশ নেব না।’
মের্ৎসের মতো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউরোপীয় অন্য নেতারাও। তাদের আশঙ্কা— এটি একটি অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে, যার লক্ষ্যও স্পষ্ট নয় এবং যা নিজ দেশের জনগণের কাছেও অজনপ্রিয়।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিসটোরিয়াস আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এ যুদ্ধ শুরু করিনি।’ প্রায় একই কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতের অংশ নই।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপে বিরোধিতা
দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে— ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করলে তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে তাদের পাশে না-ও থাকতে পারেন কিংবা কিয়েভকে মস্কোর পক্ষে কোনো সমঝোতায় বাধ্য করতে পারেন। এমনকি বছরের শুরুতে ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়ায় ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত না দিলেও ট্রাম্প বলেছেন, ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়িয়ে তারা ‘খুবই বোকামি’ করেছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে সরাসরি আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি উইনস্টন চার্চিল নন!
তবে স্টারমারসহ ইউরোপীয় নেতাদের পাশে রয়েছে জনমত। ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে হামলার বিপক্ষে, পক্ষে মাত্র ২৮ শতাংশ।
এ পরিস্থিতিতে নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে ও বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও তাদের প্রাথমিক সমর্থন কিছুটা নরম করেছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি বেডনক বলেন, আমি স্টারমারের কঠোর সমালোচক। কিন্তু হোয়াইট হাউজ থেকে যে ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা শিশুসুলভ।
রিফর্ম ইউকের রবার্ট জেনরিক বলেন, ‘বিদেশি নেতাদের হাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অপমান আমি দেখতে চাই না।’
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানে হামলাকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘অবৈধ’ বলে নিন্দা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তার দেশ। উপপ্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসাস মনটেরো সরাসরিই বলেন, ‘আমরা কারও দাস হব না, কোনো হুমকিও মেনে নেব না।’
স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান ফোরটিডেসিবেলের এক জরিপে ৬৮ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে অভিমত দিয়েছে। জার্মানির এআরডি ডয়চেল্যান্ড ট্রেন্ডের জরিপেও ৫৮ শতাংশ যুদ্ধবিরোধী মত উঠে এসেছে।
জনমতের মতোই ইউরোপের দেশগুলোর ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে। জার্মানির কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানির নেতা টিনো চ্রুপালা বলেন, ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুরু করলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠছেন।’
ট্রাম্পের নেতৃত্বের অনিশ্চয়তায় ব্যতিব্যস্ত ইউরোপ
ইউরোপীয় সরকারগুলোর স্প বক্তব্য— যে যুদ্ধে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি এবং যার গন্তব্য অজানা, সেখানে তারা জড়াতে চায় না। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্য পরিষ্কার নয় এবং তা ইসরায়েলের লক্ষ্য থেকেও ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে ক্ষমতাব্যবস্থা বদল (রেজিম চেঞ্জ) প্রসঙ্গে।
আবার জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসসহ অনেকেই সমালোচনা করেছেন, তেলের দাম কমাতে গিয়ে ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন, যা মিত্রদের না জানিয়ে করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইউরোপ নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য মিত্রদের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনায় কাজ করছে। তবে এটি সামরিক কোনো উদ্যোগ নয় বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধজাহাজ দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেবে।
এ পরিকল্পনায় ইউরোপ, এশিয়া (ভারতসহ) ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ম্যাখোঁ। তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন।’
সব মিলিয়ে ইউরোপীয় নেতারা একতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন এবং ট্রাম্পের অনিশ্চিত নেতৃত্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘এখন আমরা অনেকটা শান্ত। কারণ আমরা ধরে নিয়েছি, যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে এগোচ্ছি।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন অবলম্বনে

চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি তার এবং ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে ভারতসহ বিশ্ব জুড়ে মুসলমানরা রোজা, প্রার্থনা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
প্রতি বছর মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। জাতীয় রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে এই ঘোষণা জানানো হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
কাতার-এর গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনায় ইরান-এর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, এসব দেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ক্ষেত্রে কাতারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং তাদের নিজস্ব মজ
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে বলে জানা গেছে।
৯ ঘণ্টা আগে