
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। এ ভোটের মূল আলোচনায় রয়েছে এলাকাভিত্তিক সংখ্যালঘু ভোট। পাশাপাশি ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৪০ লাখের বেশি ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি রয়েছে আলোচনায়।
ভারতের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় সকালে সাড়ে ৭টা) পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
এ নির্বাচনে ভোটের হিসাবের বাইরেও আলোচনায় এসেছে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ইস্যুটি। ভোটে মোট দুই হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। এর পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী প্রথম দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন, যাকে বলা হচ্ছ ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’।
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার এ ভোটে সমগ্র উত্তরবঙ্গ ও গোটা জঙ্গলমহলের পাশাপাশি ভোট হবে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে দুটি বড় ভোটের (২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা) পরিসংখ্যান বলছে, এই ১৫২টি আসনে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াইয়ে ছিল তৃণমূল-বিজেপি। গত বিধানসভায় যে ফল হয়েছিল, লোকসভায় তার অনেক কিছু বদলে গিয়েছিল। এই বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৫২টি আসনে কেবল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই নয়, বরং বহুমুখী সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত বিধানসভা ভোটের তিন বছরের মাথায় হয়েছিল লোকসভা ভোট। সেই নির্বাচনে বেশ কিছু হিসাবে বদল হয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনের দুবছরের মাথায় হতে চলেছে বিধানসভা ভোট। সেখানেও হিসাব বদলের বিভিন্ন উপকরণ মজুত।
প্রথম দফার ভোটের ১৫২টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল ৯২টিতে। বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন। পাহাড়ের একটি আসন পেয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু লোকসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফলাফলে বিস্তর বদল ঘটে গিয়েছে। ৯২ থেকে কমে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা বিধানসভার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭টিতে। বিজেপি-ও ৫৯ থেকে সামান্য কমেছে। তারা এগিয়েছিল ৫৩টি আসনে।
২০২১ সালে যে বাম-কংগ্রেস ছিল শূন্য, তারা আবার গত লোকসভা ভোটে ১২টি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে কংগ্রেস ১১টি এবং বামেরা একটিতে। তবে বাম-কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা বিধানসভাগুলো তিনটি জেলায় সীমাবদ্ধ— মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর। এই তিন জেলাতেই গত বিধানসভা ভোটে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করার পরে এই তিন জেলায় এমন সাফল্য কখনো পায়নি জোড়াফুল শিবির। এই তিন জেলার ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু ভোট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘ধাক্কা’ খাওয়ার পরে ২০২১ সালের বিধানসভায় তা কিছুটা সামলে নিয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই ক্ষতে আরও কিছুটা প্রলেপ দিতে সমর্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলটি। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল মিলিয়ে মোট চারটি লোকসভা আসন বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল।
আবার বিজেপিও পালটা ধাক্কা দিয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু জেলায়। যেমন শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ২০২১ সালের ভোটে ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু গত লোকসভায় মাত্র একটি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল তারা। বিজেপি এগিয়েছিল বাকি ১৫টিতে। এ বার নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে।
আনন্দবাজার বলছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে মোট ৪৩টি আসন রয়েছে। প্রায় সব আসনেই সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এই তিন জেলাতেই সংখ্যালঘু ভোট ভাগের বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে হুমায়ুন কবীর নিজের দল গড়ে প্রার্থী দিয়েছেন। তবে হুমায়ুন যে ভাবে শুরু করেছিলেন, ভোট যত এগিয়েছে তত তার দলের ছন্নছাড়া অবস্থা প্রকট হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় হুমায়ুনের দলের প্রার্থীরাই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। গোপন ক্যামেরা অভিযানে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপি-যোগের ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনা পরম্পরা বলছে, ওই গোপন ক্যামেরা অভিযান প্রকাশ্যে আসার পর থেকে গত ১৫ দিনে হুমায়ুনের দলের করুণ দশা প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে, যা তৃণমূলের জন্য খানিকটা স্বস্তির বলেই অভিমত অনেকের। তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিন জেলাতেই বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ মাঠে রয়েছে। অন্তত ১৭টি আসনে বাম-কংগ্রেসের প্রচার ও জমায়েত সাড়া ফেলেছে। ভোটবাক্সে তার কতটা প্রতিফলন হবে বা আদৌ হবে কি না, তা বোঝা যাবে ফলপ্রকাশের পরে। তবে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির যে আসনগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট উল্লেখযোগ্য, সেখানে তৃণমূলের সমান্তরাল কোনো শক্তি মাথা তুলতে পারেনি।
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও কোচবিহারে মেরুকরণের আবহ তীব্র থাকায় সেখানে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ। প্রত্যাশিতভাবে তা গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির দিকেই গেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি অন্তত প্রচারপর্বে দেখা যায়নি। বরং মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অংশে নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেই মেরুকরণের আবহ আরও তীব্র হয়েছে।
একদিকে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার নানা সমীকরণ এবং অন্য দিকে হিন্দু ভোটের ‘ঐক্য’ তৃণমূলের জন্য খুব শুভ সঙ্কেত নয় বলেই অনেকে মনে করছেন। যদিও অতীতে দেখা গেছে, উলটো দিকে বিজেপির উপস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
২০১৯ সালের লোকসভা ও ২০২১ সালে যে পরিমাণ রাজবংশী ভোট জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে বিজেপির পক্ষে ছিল, তাতে কিছুটা ক্ষয় হয়েছিল গত লোকসভা নির্বাচনে। বিজেপির সমর্থনে রাজ্যসভায় যাওয়া অনন্ত মহারাজের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার নৈকট্য নিয়েও বিস্তর জল্পনা রয়েছে। রাজবংশী ভোট ভাঙার জন্যও তৃণমূল কৌশলের ত্রুটি রাখেনি। আবার বিজেপি-ও ক্ষয় মেরামত করতে নানা সাংগঠনিক পদক্ষেপ করেছে।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতেও উল্লেখযোগ্যভাবে তফসিলি ও আদিবাসী ভোট রয়েছে। সেই ভোটে বিজেপির যে আধিপত্য তৈরি হয়েছিল ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে, গত বিধানসভা এবং গত লোকসভা নির্বাচনে তার অনেকটাই ভাঙতে পেরেছিল তৃণমূল। গত কয়েক মাসে তফসিলি ও আদিবাসী ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি প্রচারে কমতি রাখেনি। বিশেষত, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অপমান’ বিতর্ককে ‘হাতিয়ার’ করে পশ্চিমাঞ্চলেই তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারবিরোধী প্রচারকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে পদ্মশিবির।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ভোটমুখী ১৬টি জেলায় সাড়ে ৪০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরেই শুধু বাদ পড়েছে প্রায় ১৬ লাখ নাম। কার্যত সব পক্ষের কাছেই নতুন ভোটার তালিকা। ফলে অতীতের হিসাব যে সব ক্ষেত্রে একই থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
বাদের সংখ্যা তুলে ধরে বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম তাদের মতো করে রাজনৈতিক আখ্যান তুলে ধরেছে প্রচারে। কেউ বলেছে, বেনোজল বার করে দেওয়া হয়েছে। ‘ভূতহীন’ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ভোট হবে। আবার কেউ বলেছে, রাষ্ট্রীয় লুটের পরে ভোট হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। যে ভোটের বাইরে রয়েছেন লাখ লাখ বৈধ নাগরিক।
বিজেপিবিরোধীরা এই ভাষ্যও তুলে ধরছেন, এবার ভোট তাদের জন্য, যাদের এবার ভোট নেই। তবে এ সবই রাজনৈতিক বয়ান তৈরির প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নাম বাদ পড়া ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব তৈরি করবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। এ ভোটের মূল আলোচনায় রয়েছে এলাকাভিত্তিক সংখ্যালঘু ভোট। পাশাপাশি ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৪০ লাখের বেশি ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি রয়েছে আলোচনায়।
ভারতের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভারতীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় সকালে সাড়ে ৭টা) পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
এ নির্বাচনে ভোটের হিসাবের বাইরেও আলোচনায় এসেছে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ইস্যুটি। ভোটে মোট দুই হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। এর পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী প্রথম দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন, যাকে বলা হচ্ছ ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’।
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার এ ভোটে সমগ্র উত্তরবঙ্গ ও গোটা জঙ্গলমহলের পাশাপাশি ভোট হবে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে দুটি বড় ভোটের (২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা) পরিসংখ্যান বলছে, এই ১৫২টি আসনে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াইয়ে ছিল তৃণমূল-বিজেপি। গত বিধানসভায় যে ফল হয়েছিল, লোকসভায় তার অনেক কিছু বদলে গিয়েছিল। এই বিধানসভা নির্বাচনের আগে ১৫২টি আসনে কেবল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই নয়, বরং বহুমুখী সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত বিধানসভা ভোটের তিন বছরের মাথায় হয়েছিল লোকসভা ভোট। সেই নির্বাচনে বেশ কিছু হিসাবে বদল হয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনের দুবছরের মাথায় হতে চলেছে বিধানসভা ভোট। সেখানেও হিসাব বদলের বিভিন্ন উপকরণ মজুত।
প্রথম দফার ভোটের ১৫২টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল ৯২টিতে। বিজেপির দখলে ছিল ৫৯টি আসন। পাহাড়ের একটি আসন পেয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু লোকসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফলাফলে বিস্তর বদল ঘটে গিয়েছে। ৯২ থেকে কমে তৃণমূলের এগিয়ে থাকা বিধানসভার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭টিতে। বিজেপি-ও ৫৯ থেকে সামান্য কমেছে। তারা এগিয়েছিল ৫৩টি আসনে।
২০২১ সালে যে বাম-কংগ্রেস ছিল শূন্য, তারা আবার গত লোকসভা ভোটে ১২টি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে কংগ্রেস ১১টি এবং বামেরা একটিতে। তবে বাম-কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা বিধানসভাগুলো তিনটি জেলায় সীমাবদ্ধ— মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর। এই তিন জেলাতেই গত বিধানসভা ভোটে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করার পরে এই তিন জেলায় এমন সাফল্য কখনো পায়নি জোড়াফুল শিবির। এই তিন জেলার ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু ভোট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘ধাক্কা’ খাওয়ার পরে ২০২১ সালের বিধানসভায় তা কিছুটা সামলে নিয়েছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই ক্ষতে আরও কিছুটা প্রলেপ দিতে সমর্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলটি। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল মিলিয়ে মোট চারটি লোকসভা আসন বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল।
আবার বিজেপিও পালটা ধাক্কা দিয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু জেলায়। যেমন শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ২০২১ সালের ভোটে ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু গত লোকসভায় মাত্র একটি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল তারা। বিজেপি এগিয়েছিল বাকি ১৫টিতে। এ বার নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে।
আনন্দবাজার বলছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে মোট ৪৩টি আসন রয়েছে। প্রায় সব আসনেই সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এই তিন জেলাতেই সংখ্যালঘু ভোট ভাগের বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে হুমায়ুন কবীর নিজের দল গড়ে প্রার্থী দিয়েছেন। তবে হুমায়ুন যে ভাবে শুরু করেছিলেন, ভোট যত এগিয়েছে তত তার দলের ছন্নছাড়া অবস্থা প্রকট হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় হুমায়ুনের দলের প্রার্থীরাই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। গোপন ক্যামেরা অভিযানে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপি-যোগের ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনা পরম্পরা বলছে, ওই গোপন ক্যামেরা অভিযান প্রকাশ্যে আসার পর থেকে গত ১৫ দিনে হুমায়ুনের দলের করুণ দশা প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে, যা তৃণমূলের জন্য খানিকটা স্বস্তির বলেই অভিমত অনেকের। তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিন জেলাতেই বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ মাঠে রয়েছে। অন্তত ১৭টি আসনে বাম-কংগ্রেসের প্রচার ও জমায়েত সাড়া ফেলেছে। ভোটবাক্সে তার কতটা প্রতিফলন হবে বা আদৌ হবে কি না, তা বোঝা যাবে ফলপ্রকাশের পরে। তবে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির যে আসনগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট উল্লেখযোগ্য, সেখানে তৃণমূলের সমান্তরাল কোনো শক্তি মাথা তুলতে পারেনি।
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও কোচবিহারে মেরুকরণের আবহ তীব্র থাকায় সেখানে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ। প্রত্যাশিতভাবে তা গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির দিকেই গেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি অন্তত প্রচারপর্বে দেখা যায়নি। বরং মালদহ, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অংশে নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেই মেরুকরণের আবহ আরও তীব্র হয়েছে।
একদিকে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার নানা সমীকরণ এবং অন্য দিকে হিন্দু ভোটের ‘ঐক্য’ তৃণমূলের জন্য খুব শুভ সঙ্কেত নয় বলেই অনেকে মনে করছেন। যদিও অতীতে দেখা গেছে, উলটো দিকে বিজেপির উপস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
২০১৯ সালের লোকসভা ও ২০২১ সালে যে পরিমাণ রাজবংশী ভোট জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে বিজেপির পক্ষে ছিল, তাতে কিছুটা ক্ষয় হয়েছিল গত লোকসভা নির্বাচনে। বিজেপির সমর্থনে রাজ্যসভায় যাওয়া অনন্ত মহারাজের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার নৈকট্য নিয়েও বিস্তর জল্পনা রয়েছে। রাজবংশী ভোট ভাঙার জন্যও তৃণমূল কৌশলের ত্রুটি রাখেনি। আবার বিজেপি-ও ক্ষয় মেরামত করতে নানা সাংগঠনিক পদক্ষেপ করেছে।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতেও উল্লেখযোগ্যভাবে তফসিলি ও আদিবাসী ভোট রয়েছে। সেই ভোটে বিজেপির যে আধিপত্য তৈরি হয়েছিল ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে, গত বিধানসভা এবং গত লোকসভা নির্বাচনে তার অনেকটাই ভাঙতে পেরেছিল তৃণমূল। গত কয়েক মাসে তফসিলি ও আদিবাসী ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি প্রচারে কমতি রাখেনি। বিশেষত, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অপমান’ বিতর্ককে ‘হাতিয়ার’ করে পশ্চিমাঞ্চলেই তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারবিরোধী প্রচারকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে পদ্মশিবির।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ভোটমুখী ১৬টি জেলায় সাড়ে ৪০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরেই শুধু বাদ পড়েছে প্রায় ১৬ লাখ নাম। কার্যত সব পক্ষের কাছেই নতুন ভোটার তালিকা। ফলে অতীতের হিসাব যে সব ক্ষেত্রে একই থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
বাদের সংখ্যা তুলে ধরে বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম তাদের মতো করে রাজনৈতিক আখ্যান তুলে ধরেছে প্রচারে। কেউ বলেছে, বেনোজল বার করে দেওয়া হয়েছে। ‘ভূতহীন’ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ভোট হবে। আবার কেউ বলেছে, রাষ্ট্রীয় লুটের পরে ভোট হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। যে ভোটের বাইরে রয়েছেন লাখ লাখ বৈধ নাগরিক।
বিজেপিবিরোধীরা এই ভাষ্যও তুলে ধরছেন, এবার ভোট তাদের জন্য, যাদের এবার ভোট নেই। তবে এ সবই রাজনৈতিক বয়ান তৈরির প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নাম বাদ পড়া ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব তৈরি করবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

মার্কিন ওই পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের সূত্রগুলো তাদের জানিয়েছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হতে পারে। এ ব্যাপারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি জবাব দিয়েছেন, ‘সম্ভাবনা আছে।’
১৭ ঘণ্টা আগে
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও জোরালো হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
১ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে আজ বুধবার অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১ দিন আগে