চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৩৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জিনজিয়াংয়ের একটি জুতা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বহুতল ভবনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে এবং বেশ কয়েকজন কর্মীকে জীবন বাঁচাতে ছাদে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ‘বড় ধরনের প্রাণহানি’ হয়েছে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিকভাবে ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশ্বজুড়ে চীনের ‘জুতার রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হয়, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ নামী ব্র্যান্ডের ক্রীড়া জুতা বা স্পোর্টস শু এই শহরেই উৎপাদিত হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে শহরের ‘হুইতেং ফুটওয়্যার’ নামের কারখানায় আকস্মিক এই আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটির ভেতরে প্রায় ২৪০ জন কর্মী কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধারকাজে পাঁচ শতাধিক ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোতায়েন করা হয়। উদ্ধারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে ২১৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকের। উদ্ধারকৃতদের হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ থাকা আরও ২৬ জনের মরদেহ কারখানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেমে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কারখানার নিচতলায় যেখানে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হতো, সেখান থেকেই মূলত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবও সাময়িকভাবে জব্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে হংকংয়ের কয়েকটি আবাসিক ভবনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর চীনজুড়ে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে একটি বিশেষ জাতীয় কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের মাঝেই আবার এই বড় দুর্ঘটনা ঘটল। এই প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চলতি বছরে দেশে ঘটে যাওয়া একাধিক বড় শিল্প দুর্ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘গভীর শিক্ষা’ নিতে হবে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে শিল্পকারখানাগুলোতে ‘কঠোর ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য তিনি জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজনীতি/এসআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement