ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনের সময় ‘ফুরিয়ে আসছে’— দাবি এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা পরিচালকের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁয়ে) ও এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক কাউপো রোসিন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রণক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দীর্ঘ অচলাবস্থা এবং দেশের অভ্যন্তরে একের পর এক বাড়তে থাকা সংকটের মুখে পড়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে সময় ‘দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’। যুদ্ধে জয়লাভের জন্য তিনি আর বেশি সময় পাবেন না বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক কাউপো রোসিন।

এস্তোনিয়ার এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী চার বা পাঁচ মাসের মধ্যে পুতিন হয়তো আর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে কোনো আলোচনা বা দরকষাকষি করার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন না। এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অবস্থিত গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে বসে এই সাক্ষাৎকারটি দেন তিনি।

রোসিন পুতিনের সামনে আসা অর্থনৈতিক, সামরিক এবং সামাজিক চাপের এক জটিল সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরেন, যা শেষ পর্যন্ত রুশ প্রেসিডেন্টকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, ‘সময় এখন মোটেও রাশিয়ার পক্ষে নেই।’

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ এস্তোনিয়া বর্তমানে ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের (ন্যাটো) জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নজরদারি কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করে। আর রোসিনের পেশাগত জীবনের সিংহভাগ সময়ই কাটে তাদের এই বিশাল ও শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী দেশটির (রাশিয়া) ভেতরের খবরাখবর এবং ঘটনাবলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে।

রোসিন বলেন, “ক্রেমলিনের ভেতরে এখন আর ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের’ মতো কোনো কথাবার্তা আমি শুনতে পাচ্ছি না। সেখানকার কর্তাব্যক্তিরা এখন ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছেন যে, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তাদের জন্য খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।” তিনি আরও যোগ করেন, মস্কো বর্তমানে যতসংখ্যক নতুন সেনা নিয়োগ করতে পারছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সেনা তারা রণক্ষেত্রে হারাচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) এবং অন্যান্য সামরিক বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই বছর ধরে রুশ বাহিনী প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৭০ মিটার (২৩০ ফুট) করে এগোতে পেরেছিল। আর এই সামান্য অগ্রগতির জন্য তাদের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার জন করে সেনা হতাহত হয়েছেন।

এমনকি রাশিয়ার সেই ‘কচ্ছপগতির অগ্রগতি’ও থমকে গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে দাবি করেছেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে ‘প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার সৈন্য হারাচ্ছে, যারা আহত নয়— সরাসরি নিহত হচ্ছেন।’

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসেই ৩৫ হাজার ২০৩ জন রুশ সেনা নিহত বা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যা এর আগের দুই মাসের পরিসংখ্যানের প্রায় কাছাকাছি। অবশ্য সিএনএন স্বাধীনভাবে উভয় পক্ষের এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করতে পারেনি; কারণ মস্কো এবং কিয়েভ কেউই সাধারণত তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।

বর্তমানে এই যুদ্ধের বেশিরভাগ ক্ষয়ক্ষতিই ঘটছে ড্রোনের মাধ্যমে, যে প্রযুক্তিতে ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয় দেশই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে। রোসিন পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, যুদ্ধটি পুরোপুরি ড্রোননির্ভর হয়ে ওঠার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে (ফ্রন্টলাইন) বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখন বেশ সীমিত। তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো পক্ষই শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে বড় ধরনের কোনো ‘মেকানাইজড’ বা সাঁজোয়া যানভিত্তিক অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্ষম নয়।

যুদ্ধের শুরু থেকে ড্রোন প্রযুক্তিতে উভয় পক্ষের আধিপত্যের ভারসাম্য বারবার ওঠানামা করেছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, তাদের নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর (বিধ্বংসী ড্রোন) শহরের ওপর চালানো রুশ হামলাগুলোর কার্যকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেন, ‘গত চার মাসে ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ‘শাহেদ’ ড্রোন ভূপাতিত করার হার দ্বিগুণ হয়েছে।’

নতুন করে সেনা মোতায়েন?

গোয়েন্দা কর্মকর্তা রোসিনের মতে, রাশিয়া যদি তাদের সামরিক অভিযানকে আবার চাঙ্গা করতে চায় এবং তাদের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্য ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস অঞ্চলের বাকি অংশ দখল করতে চায়, তবে তাদের সামনে একমাত্র পথ হলো ‘জোরপূর্বক’ নতুন করে সেনা সমাবেশ (মোবিলাইজেশন) ।

রোসিন বলেন, ‘রাশিয়া যদি যুদ্ধক্ষেত্রে আরও কয়েক লাখ সেনা জোর করে পাঠাতে পারে, তবে তা অবশ্যই ইউক্রেনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হবে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ ক্রেমলিনের জন্য অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেমলিন দেশের ভেতরের স্থিতিশীলতা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত এবং তারা খুব সতর্কতার সাথে জনগণের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করছে... তাই এত সহজে তারা এই সিদ্ধান্ত (সেনা সমাবেশ) নেবে না।’

এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পর, মস্কো আংশিক সেনা সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়াতে লাখো যুবকের দেশ ছাড়ার ঘটনা।

এরপর থেকে সেনা সংগ্রহ করার জন্য রাশিয়ার আঞ্চলিক সরকারগুলো বিশাল অঙ্কের প্রণোদনা এবং নানা সুযোগ-সুবিধার লোভ দেখিয়ে চুক্তিবদ্ধ সেনা নিয়োগের ওপর নির্ভর করে আসছিল। কিন্তু রাশিয়ার অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে চাপে পড়ার কারণে এখন আর সেই আকর্ষণীয় প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আগের মতো নেই।

রোসিন জানান, যুদ্ধের পেছনে বিপুল ব্যয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত তেল শিল্পের ওপর ইউক্রেনের অত্যন্ত সফল ড্রোন হামলাগুলো এখন রাশিয়ার গায়ে লাগতে শুরু করেছে। সম্প্রতি রাশিয়া তাদের চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩% থেকে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪%-এ নামিয়ে এনেছে। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এর জন্য তীব্র শ্রমিক সংকট, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।

ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে’ বলে উল্লেখ করেন রোসিন। কারণ কিয়েভের দূরপাল্লার ড্রোনের বিশাল বহর এখন রাশিয়ার শত শত মাইল ভেতরের শোধনাগার, তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবং পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি মস্কোর বুকেও বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে রোসিন বলেন, রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য এখন ‘যুদ্ধ তাদের ঘরের দুয়ারে কড়া নাড়ছে।’

তবে এসব ঘটনা পুতিনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে বা আদৌ কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রোসিন বলেন, ‘পুতিন ঠিক কোন মুহূর্তে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা উপলব্ধি করবেন, তা বলা মুশকিল। কারণ ইউক্রেন ইস্যুটি তার কাছে অত্যন্ত আদর্শিক একটি বিষয়, তাই নিজের সিদ্ধান্ত বা মানসিকতা পরিবর্তন করা তার জন্য মোটেও সহজ নয়।’

যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনারা কোনো অগ্রগতি করতে না পারলেও পুতিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন বলেই বিশ্বাস রোসিনের। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া চেষ্টা করবে ইউক্রেনীয়দের জন্য আগামী শীতকালটিকে অন্তত এই বছরের মতোই কঠিন করে তুলতে। সামরিক উপায়ে লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে, পুতিন নিশ্চিতভাবেই কিয়েভে একটি রুশপন্থি সরকার বসানোর জন্য অন্য যেকোনো পথ বা কৌশল বেছে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।’

কিন্তু এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে মস্কোর ভেতরে এখন তীব্র এক ধরনের সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। ক্ষমতাচ্যুত বা অভ্যুত্থানের গুজবের মধ্যে প্রেসিডেন্টের চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রুশ সামাজিক পরিমণ্ডলেও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ইউক্রেন ফেরত সৈন্যরা দেশের অভ্যন্তরে এক নতুন ‘মাথাব্যথা’র কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোসিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা এই সৈন্যরা নিজেদের সঙ্গে করে সহিংসতা, মানসিক ট্রমা, অস্থিরতা এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ে ফিরছে। তাদের অনেকেই আবার দেশে ফিরে বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধী চক্রে জড়িয়ে পড়ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সিএসআইএস’র গত বছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা রুশ সৈন্যদের হাতে খোদ রাশিয়ার ভেতরেই এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও অভিযোগের গুঞ্জন বাড়লেও, পুতিনের কঠোর নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে বড় ধরনের কোনো গণঅস্থিরতার লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। কাউপো রোসিন তার সাক্ষাৎকারের শেষাংশে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি রাশিয়ার রাস্তায় কোনো গণবিপ্লব দেখতে পাচ্ছি না। তবে মনে রাখতে হবে, এই ধরনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাগুলো ভেতর থেকে অত্যন্ত ফাঁপা হয়। যদি কখনো কোনো পরিবর্তন ঘটে, তা চোখের পলকে খুব দ্রুত ঘটে যাবে এবং আমরা সবাই হয়তো তা দেখে বিস্মিতই হব।’

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ভারতে তৃতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরও দীর্ঘদিন খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি না করলেও, শেষ পর্যন্ত ভর্তুকির চাপ সামলাতে না পেরে টানা তিন দফায় লিটারপ্রতি প্রায় ৫ রুপি পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হলো ভারত সরকার।

১২ ঘণ্টা আগে

গ্রিন কার্ডের আবেদনে নতুন নিয়ম, বিপাকে লাখো মার্কিন অভিবাসী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়াতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াকালীন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকতে হবে।

১৩ ঘণ্টা আগে

চীনের কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণ, ৮ জনের মৃত্যু

শানসি প্রদেশকে চীনের কয়লা খনির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খনির নিরাপত্তা কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবুও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা না হওয়ায় দেশটিতে এখনও প্রায়ই খনি দুর্ঘটনা ঘটে।

১৩ ঘণ্টা আগে

কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, তবুও ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, "ট্রাম্প তার সীমারেখা খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন: ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না।"

১৩ ঘণ্টা আগে