অর্ধেক ভোটিং মেশিন নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে অবস্থিত ম্যারিকোপা কাউন্টি আদালতে ২০২৩ সালের ১৭ মে নির্বাচন চ্যালেঞ্জ মামলার শুনানিতে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্ট ওলসেন। ছবি: রয়টার্স

নির্বাচন জালিয়াতির নানা অবাস্তব ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিষিদ্ধ করার গোপন চেষ্টা চালিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক শীর্ষ নির্বাচনি নিরাপত্তা কর্মকর্তা। গত বছর ট্রাম্পের এই কর্মকর্তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কাজে লাগিয়ে ভোটিং মেশিনের যন্ত্রাংশগুলোকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করার উপায় খুঁজছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং অবগত থাকা দুটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্দেশে দেশ জুড়ে নির্বাচন জালিয়াতির ভুয়া দাবি প্রমাণে নিয়োজিত থাকা হোয়াইট হাউজের বিশেষ উপদেষ্টা ও আইনজীবী কার্ট ওলসেন মূলত ‘ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস’ নামের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ভোটিং মেশিনগুলোকে লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। তিনি এখনও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন জালিয়াতির দাবিগুলোর পক্ষে প্রমাণ খুঁজতে কাজ করছেন।

সূত্রের দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছ থেকে নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়— তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দফায় দফায় আলোচনার সময়ই এই পরিকল্পনার সূত্রপাত ঘটে। উল্লেখ্য, খোদ ট্রাম্পও একাধিকবার জনসমক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ওলসেন চেয়েছিলেন পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল মেশিনের পরিবর্তে হাতে গোনা কাগজের ব্যালট ব্যবস্থা চালু করতে, যা ট্রাম্পেরও একটি দীর্ঘদিনের দাবি। তবে নির্বাচনি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতে গোনা ব্যালট বর্তমানের ডিজিটাল ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে ভুলের আশঙ্কা বেশি থাকে।

প্রমাণ না থাকায় ভেস্তে যায় পরিকল্পনা

তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটিং মেশিন বর্জনের এই পরিকল্পনা গত বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ বেশ অনেক দূর এগিয়েছিল। এমনকি মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এটি বাস্তবায়নের জন্য আইনি ও কৌশলগত ভিত্তি খোঁজার কাজও শুরু করে দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কার্ট ওলসেন এবং তার সহযোগী কর্মকর্তারা এই নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বা অকাট্য তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে না পারায় পুরো পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়।

রয়টার্স বলছে, এটি ছিল রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের দূরপ্রসারী চেষ্টারই একটি অংশ। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাহী বিভাগ বা প্রেসিডেন্ট যাতে এককভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারেন, সেজন্যই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত।

চলতি বছরের ১৯ মে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাইমারি চলাকালীন একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
চলতি বছরের ১৯ মে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাইমারি চলাকালীন একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্সের চলতি মাসের শুরুর দিকের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং তদন্তকারীরা অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের গোপন নথিপত্র চেয়ে চাপ দিচ্ছেন, ভোটিং মেশিনের অ্যাক্সেস (প্রবেশাধিকার) চাইছেন এবং ভোটার জালিয়াতির এমন সব মামলা পুনর্নিরীক্ষার চেষ্টা করছেন যা ইতোমধ্যে দেশের আদালত এবং দ্বিপাক্ষিক পর্যালোচনা কমিটিগুলো খারিজ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পেতে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান সহযোগীরা নজিরবিহীনভাবে নির্বাচনি এলাকার সীমানা (ডিস্ট্রিক্ট) নতুন করে পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করছেন।

নেপথ্যে ছিলেন বিদায়ী গোয়েন্দা পরিচালকের উপদেষ্টাও

সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ওলসেনকে তার পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করছেন। ওলসেনের মূল লক্ষ্য ছিল আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ডমিনিয়নের ভোটিং মেশিনগুলোকে অবৈধ বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। এই গোপন তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পল ম্যাকনামারা নামের এক শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি গতকাল শুক্রবার জুনের শেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া মার্কিন গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ট্রাম্পের ডোমেস্টিক পলিসি কাউন্সিলের বিশেষ সহকারী ব্রায়ান সিকমাও এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওলসেন মূলত তুলসী গ্যাবার্ডের অফিস ‘ওডিএনআই’র (অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলস সিটি হল ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা একটি ভোটিং মেশিন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলস সিটি হল ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা একটি ভোটিং মেশিন। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে, ম্যাকনামারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডমিনিয়ন ভোটিং মেশিনের চিপ ও সফটওয়্যারগুলোকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায় কি না— তা বিবেচনার অনুরোধ জানান। ওই সময় ম্যাকনামারা ওডিএনআই’র একটি টাস্কফোর্সের প্রধান ছিলেন, যার কাজ ছিল মার্কিন ভোটিং মেশিনের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করা। তিনি এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিক নিজে এই আলোচনার বিষয়ে জানতেন কি না বা এতে জড়িত ছিলেন কি না, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লুটনিক কখনো ম্যাকনামারার সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক বা আলোচনা করেননি। অন্যদিকে তুলসী গ্যাবার্ডের এজেন্সির মুখপাত্র অলিভিয়া কোলম্যান দাবি করেছেন, ওডিএনআই বা ম্যাকনামারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডমিনিয়নের ভোটিং মেশিন নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা বা সমন্বয় করেননি। ঘটনার বিষয়ে ওলসেন, ম্যাকনামারা বা সিকমা কেউ রয়টার্সের সাক্ষাৎকারের অনুরোধে সাড়া দেননি। তবে এই খবর প্রকাশের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ওলসেনকে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ আখ্যা দিয়ে তাকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

নির্বাচনি বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের হারের সম্মুখীন হতে পারে— এমন পূর্বাভাসের পর ডেমোক্র্যাট এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন মূলত ভোট দেওয়ার হার কমাতে এবং পরবর্তীতে নিজেদের পরাজয়কে ‘ভোট জালিয়াতি’র তকমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবি তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সহায়তা কমিশনের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নির্বাচনি এলাকাগুলোর ৯৮ শতাংশেরই প্রতিটি ভোটের কাগজের রেকর্ড বা ট্রেইল থাকে। বেশিরভাগ ভোটই মেশিনে দেওয়ার পর একটি কাগজের রেকর্ড প্রিন্ট হয় অথবা হাতে ব্যালট মার্ক করার পর তা ইলেকট্রনিক রিডারের মাধ্যমে গণনা করা হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তির সঙ্গে কাগজের এই সমন্বয়কে সমর্থন করেন, কারণ এতে নির্বাচনের পর অডিট বা পুনর্গণনা করা সহজ হয়।

অন্যদিকে, যারা সম্পূর্ণ হাতে গোনা কাগজের ব্যালটের পক্ষে, তাদের যুক্তি হলো এতে হ্যাকিংয়ের কোনো ভয় থাকে না। তবে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যালেক্স হ্যাল্ডারম্যান বলেন, সম্পূর্ণ হাতে গণনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে। এতে গণনায় ভুল হওয়া এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা জাল ভোট ঢোকানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘হাতে গণনার পদ্ধতিতে ফিরে গেলে তা মারাত্মক বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং এটি জালিয়াতিকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।’ অবশ্য হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল রয়টার্সের এই প্রতিবেদনটিকে ‘আংশিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁস করা তথ্য’ এবং ‘ভুল তথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

‘বিদেশি শত্রু’ খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্লাই চেইন আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যমন্ত্রী চাইলে ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেকোনো লেনদেন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারেন। এই তালিকায় চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারও রয়েছে (যাকে গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করেছিল)।

সূত্রের দাবি, ওলসেনের দল মূলত একটি পুরনো ও খারিজ হয়ে যাওয়া তত্ত্বের পেছনে ছুটছিল— যেখানে দাবি করা হয়েছিল, ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে হারাতে ভেনেজুয়েলার তৈরি কোড বা সফটওয়্যার ডমিনিয়নের মেশিনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০২০ সাল থেকে একাধিক সরকারি তদন্ত ও আদালতের মামলায় প্রমাণিত হয়েছে যে ডমিনিয়নের মেশিন হ্যাক করার কোনো প্রমাণ নেই। উল্টো ২০২৩ সালে এই ভুয়া জালিয়াতির খবর প্রচার করার দায়ে আমেরিকার ফক্স নিউজ চ্যানেল ডমিনিয়ন কোম্পানিকে মানহানির মামলা বাবদ ৭৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছিল।

২০২৪ সালের নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি অঙ্গরাজ্যে ডমিনিয়নের মেশিন ব্যবহৃত হয়েছে। গত অক্টোবরের ডেনভারভিত্তিক এই কোম্পানিটিকে কলোরাডোর ‘লিবার্টি ভোট ইউএসএ’ কিনে নেয়। এক বিবৃতিতে লিবার্টি ভোট জানিয়েছে, দেশের ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এত কিছুর পরও ট্রাম্প এই ভুয়া দাবি করে যাচ্ছেন। গত ১২ মে-ও তিনি কট্টর ডানপন্থি একটি নেটওয়ার্কের পুরোনো ক্লিপ শেয়ার করে দাবি করেন, ডমিনিয়নের মেশিন লাখ লাখ ভোট মুছে দিয়েছে।

২০২৫ সালের মে মাসে ওলসেন একটি ফেডারেল মিশনের নেতৃত্ব দিয়ে পুয়ের্তো রিকোয় ব্যবহৃত ডমিনিয়নের মেশিনগুলো জব্দ করেছিলেন। পরে ‘মহাভে রিসার্চ’ নামের একটি সাইবার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা করে কিছু সাধারণ কারিগরি দুর্বলতা পেলেও ভেনেজুয়েলার কোনো কোড বা হ্যাকিংয়ের প্রমাণ পায়নি। পুয়ের্তো রিকোর সেই মেশিনগুলো খোলার পর ওলসেনের দল ভেবেছিল সেখানে চীনা বা শত্রু দেশের তৈরি চিপ পাওয়া যাবে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেখানে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টেলে’র তৈরি একটি চিপ পাওয়া গেছে যা চীনে প্যাকেজিং করা হয়েছিল— যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকিই নয়। বাকি চিপগুলো ছিল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার তৈরি। ব্যর্থতা ঢাকতে ওলসেন তার প্রতিবেদনে চিপগুলোকে সুনির্দিষ্ট দেশের নাম না লিখে কেবল ‘পূর্ব এশীয়’ চিপ বলে উল্লেখ করেন, যা মূলত জালিয়াতির প্রমাণ না মেলার সত্য গোপন করার চেষ্টা ছিল।

সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউজে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ওলসেনের দল ডমিনিয়ন মেশিনে ভেনেজুয়েলার কোড থাকার দাবি তুললে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক রাজনৈতিক কর্মকর্তা সাইবার বিভাগকে এই ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান। তবে মন্ত্রণালয়ের সেই বিশেষ সেল বিষয়টি খতিয়ে দেখে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, তবুও ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, "ট্রাম্প তার সীমারেখা খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন: ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না।"

৩ ঘণ্টা আগে

ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না: ট্রাম্প

যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। তবে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক বলছেন, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে

৪ ঘণ্টা আগে

শান্তি আলোচনায় বাধা ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’: ইরান

আরাঘচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে কূটনীতিকে দুর্বল করেছে। তারপরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গুরুত্বের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে তেহরান।’

৪ ঘণ্টা আগে

ভারতের রাজনীতিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' কেন আলোচনায়?

এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম লাখ লাখ ফলোয়ার পেয়েছে এবং মূলধারার গণমাধ্যমের দৃষ্টিও আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর আবির্ভাব প্রবীণ রাজনীতিবিদদেরও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে বৈকি।

৪ ঘণ্টা আগে