বিবিসির বিশ্লেষণ

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে ইরান যুদ্ধ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
সোমবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পুলিশ স্টেশনের ধ্বংসস্তূপের মাঝে টাঙানো ইরানের পতাকা। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া নতুন সংঘাত খুব অল্প সময়েই আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ইরান তাদের উপসাগরীয় প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোতে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্যও আগের অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ভুলবশত নিজেদের গুলিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এই লেখা শেষ করার আগেই হয়তো আরও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে। যারা এখন বেঁচে আছেন, তাদের অনেকেই হয়তো মারা পড়বেন।

এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধ শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলো কীভাবে এর সমাপ্তি চায়, তার কিছু সম্ভাব্য উপায় খুঁজে দেখ যাক।

‘বিজয়’ নিয়ে ট্রাম্পের রূপরেখা

ফ্লোরিডার বাসভবন মার-এ-লাগো থেকে এক ভিডিও বার্তায় যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ ঘোষণার পর থেকেই তিনি বরাবরের মতো মার্কিন সামরিক শক্তি নিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরছেন। অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট হলে হয়তো হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের রেজোলিউট ডেস্কের সামনে বসে আনুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে এমন ভাষণ দিতেন। তবে ট্রাম্পের উপস্থাপনায় ছিল ভিন্নতা— ওপেন-নেক শার্ট ও সাদা বেসবল ক্যাপ পরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যেকোনো সময় তার মত বদলাতে পারেন। তবে ওই ভাষণে তিনি নিজের মতো করে বিজয়ের একটি সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন। এটি একটি তালিকার মতো—

  • ‘আমরা তাদের সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনশিল্পকে ধূলিসাৎ করে দেব। এটি আবারও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’
  • ‘আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলব।’
  • ‘আমরা নিশ্চিত করব যেন এই অঞ্চলের সন্ত্রাসী প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো আর কখনো মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। তারা যেন আমাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে না পারে। তারা যেন আর আইইডি বা রাস্তার ধারের বোমা ব্যবহার করে অসংখ্য মার্কিন নাগরিকসহ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা বা গুরুতর আহত করতে না পারে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এই দাবির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প এও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা গত গ্রীষ্মে দেওয়া তার নিজের বক্তব্যেরই বিরোধী। সেখানে তিনি বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘গুঁড়িয়ে’ দিয়েছে।

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরান সরকারকে পঙ্গু করে দিতে পারবে। যদি ইরান আত্মসমর্পণ না-ও করে, তবু তারা এমনভাবে বিপর্যস্ত হবে যে ইরানের জনগণের সামনে রাজপথে নেমে ক্ষমতা দখলের সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে। ইরানের কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এমন সুযোগ আর আসেনি।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে, আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবেন। এটা তখন আপনাদেরই হয়ে যাবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই হয়তো আপনাদের একমাত্র সুযোগ। বহু বছর ধরে আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু পাননি। আজ রাতে আমি যা করতে রাজি হয়েছি, অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট তা করতে রাজি ছিলেন না। এখন আপনারা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি দিচ্ছেন। তো চলুন দেখি আপনারা কীভাবে এতে সাড়া দেন।’

ইরানের জনগণকে সরাসরি উসকে দিলেও শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের দায়িত্ব পুরোপুরি তাদের ওপরই চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে যদি তেহরানের বর্তমান সরকার টিকে যায়, তবে রাজনৈতিক দায় এড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ তার জন্য খোলা থাকবে।

তবে এটিকে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন ‘সবকিছুতেই কোনো না কোনো চুক্তি করা সম্ভব’, তাকে এই নৈতিকতা কতটা প্রভাবিত করবে— সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো সুসজ্জিত শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়া বা সরকার পরিবর্তনের কোনো নজির বিশ্বে নেই।

সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্ররা ইরাকে বড় পরিসরে পদাতিক বাহিনী পাঠিয়েছিল।

২০১১ সালে লিবিয়ার কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল বিদ্রোহী বাহিনী। ন্যাটো ও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল এবং আকাশপথে সুরক্ষা দিয়েছিল।

ট্রাম্প আশা করছেন, ইরানের জনগণ এই কাজটি নিজেরাই করতে পারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পনা একটি বিশাল বাজি। শুধু বোমা মেরে সরকার পতন ঘটানোর এই কৌশলের সফল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।

দেশটিতে পশ্চিমাপন্থি কোনো অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান দানা বাঁধাও অসম্ভব নয়, তবে যুদ্ধের তৃতীয় দিনে দাঁড়িয়ে এটিকে বেশ অস্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে। বরং এর চেয়ে এটিই বেশি সম্ভব যে বর্তমানে যারা সরকার পরিচালনা করছেন তারা আরও মরিয়া হয়ে উঠবেন এবং আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বেন।

তারা নিজেদের আদর্শে বলীয়ান হয়ে এই বিশ্বাস নিয়ে লড়বেন যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা আরব দেশগুলোর চেয়ে তারা বেশি আঘাত সহ্য করতে সক্ষম। তবে দীর্ঘকাল ধরে কষ্ট ভোগ করা সাধারণ ইরানি জনগণ এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হবেন। অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই।

যে হিসাব কষছেন নেতানিয়াহু

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানিদের নিজেদের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তারা যদি শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাস্ত করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া।

একই সঙ্গে এই অঞ্চলে নতুন করে মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তোলার যে ক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে, সেটিও নষ্ট করতে চাইবেন তিনি। কয়েক দশক ধরেই নেতানিয়াহু ইরানকে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু হিসেবে দেখে আসছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ইহুদি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে ইরানের শাসকেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চান।

অন্যদিকে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কাছে বিজয়ের সংজ্ঞা হলো টিকে থাকা। আর এটি নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের চারপাশে এক দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছে। তাদের রয়েছে শক্তিশালী ও নির্মম নিরাপত্তা, দমন ও পীড়নমূলক এক বিশাল বাহিনী। গত জানুয়ারিতে নির্দেশ পেয়ে এই বাহিনীর সদস্যরাই রাস্তায় নেমে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছিল।

এখন পর্যন্ত এবং আমি বারবার বলছি, এই লেখাটি যখন লিখছি তখন যুদ্ধের মাত্র তৃতীয় দিন— ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যেমনটা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ মস্কোতে পালিয়ে যাওয়ার পর তার বাহিনীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

প্রথাগত সশস্ত্র বাহিনী ও সুসজ্জিত পুলিশের পাশাপাশি দেশটিতে রয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশে ও দেশের বাইরে ইরান সরকারকে রক্ষা করার সুস্পষ্ট দায়িত্ব এই বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। এটি মূলত ‘ভেলায়েত-ই ফকিহ’ বা ইসলামি আইনবিদদের অভিভাবকত্বের পেছনে পেশিশক্তি হিসেবে কাজ করে। এটিই ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মূল মতবাদ, যা শিয়া ধর্মীয় নেতাদের শাসনকে বৈধতা দেয়।

ধারণা করা হয়, আইআরজিসির ১ লাখ ৯০ হাজার নিয়মিত সেনা ও প্রায় ৬ লাখ অনিয়মিত সেনা রয়েছে। ধর্মীয় মতবাদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশও তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই আনুগত্য ধরে রাখার পেছনে এই নেতাদের আদর্শিক কারণের পাশাপাশি আর্থিক কারণও রয়েছে।

আইআরজিসিকে সহায়তা করে ‘বাসিজ’ নামের একটি আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্যের এই বাহিনীর যেমন সরকারের প্রতি আনুগত্যের সুখ্যাতি রয়েছে, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগ রয়েছে।

২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর তেহরানে যখন বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন সরকারের প্রতিরক্ষার প্রথম সারিতে আমি তাদের কাজ করতে দেখেছি। তারা রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিত এবং লাঠি ও রাবারের ডান্ডা দিয়ে ব্যাপক মারধর করত। তাদের পেছনে থাকত ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ ও আইআরজিসির সদস্যরা। বাসিজ বাহিনীর দ্রুতগতির মোটরসাইকেল স্কোয়াডও ছিল, যারা শহরের যেকোনো প্রান্তে ভিন্নমত বা বিক্ষোভ দমাতে ছুটে যেত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যথায় তাদের নিশ্চিত মৃত্যুর হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘এর পরিণতি খুব একটা সুখকর হবে না।’ তবে ট্রাম্পের এই হুমকিতে ইরান সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মত বদলানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, ইসলামি প্রজাতন্ত্র (ইরান) ও শিয়া ইসলাম শাহাদাতের (শহীদ হওয়ার) আদর্শে উদ্বুদ্ধ।

গত রোববার কয়েক ঘণ্টা ধরে সরকারিভাবে দাবি করা হচ্ছিল যে সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। এরপর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদপাঠক কাঁদতে কাঁদতে খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাতের পবিত্র ও সুমিষ্ট সুধা পান করেছেন।

ইরান বিষয়ে অনেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ধারণা করছেন, যখন পুরো বিশ্ব মনে করছিল যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে, তখনো আয়াতুল্লাহ তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের নিয়ে তেহরানের বাসভবনে বৈঠক চালিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ, তিনি নিজেই শাহাদাত বরণ করতে চেয়েছিলেন।

এই সরকারের প্রতি অনুগত একটি বড় বেসামরিক গোষ্ঠী রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর, ৪০ দিনের শোক পালনের প্রথম দিনেই তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারদিকে যখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল, তখনো তারা শহরের বিভিন্ন চত্বরে জড়ো হয়ে মোমবাতি ও মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।

খারাপ নজির ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মার্কিনিরা বিশ্বাস করে যে এবার ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিপুল সামরিক শক্তি কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ছাড়াই শত্রুপক্ষের সরকার পরিবর্তন করতে পারবে। তবে অতীতের নজিরগুলো মোটেও ভালো নয়। ২০০৩ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার ফলে সেখানে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা সেই যুদ্ধ উগ্রবাদী জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর জন্ম দিয়েছে, যাদের অস্তিত্ব এখনো রয়ে গেছে।

লিবিয়া এমন একটি দেশ ছিল, যার তেলের মজুত দিয়ে এর ছোট জনসংখ্যার মানুষের পশ্চিমা মানের জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার ১৫ বছর পর দেশটি আজ একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত, দরিদ্র ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যেসব পশ্চিমা দেশ তার পতন ত্বরান্বিত করেছিল এবং এ নিয়ে উদ্‌যাপন করেছিল, দেশটি টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়ার পর তারা খুব সহজেই নিজেদের দায় এড়িয়ে গেছে।

ইরান একটি বিশাল দেশ। এটি ইরাকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড়। দেশটিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ৯ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। যদি সত্যিই ইরান সরকারের পতন ঘটে, তবে এর পরিণতি হতে পারে চরম ভয়াবহ। এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা ও রক্তপাত শুরু হবে, তা সিরিয়া ও ইরাকের সেই গৃহযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে তেহরান সরকার যদি টিকে-ও যায়, তবু মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে। এই সরকারের পতন হলে বহু ইরানি, সম্ভবত বেশির ভাগ মানুষই উল্লাস প্রকাশ করবে। কিন্তু গায়ের জোরে একটি শাসকগোষ্ঠীকে সরিয়ে সেখানে শান্তিপূর্ণ ও সুসংহত একটি বিকল্প দাঁড় করানো হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প বাজি ধরেছেন যে এটি সম্ভব এবং এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে আরও উন্নত ও নিরাপদ একটি জায়গায় পরিণত করবে। এমনটি ঘটার সম্ভাবনা খুবই চ্যালেঞ্জিং।

লেখক: জেরেমি বোয়েন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক, বিবিসি

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

খামেনির উত্তরসূরিকেও হত্যার হুমকি ইসরায়েলের

যিনিই ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হবেন তাকেই হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া যেকোনো নেতাকেই তারা হত্যা করবেন। খবর এএফপির।

১৩ ঘণ্টা আগে

জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত হবেন খামেনি

ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খামেনিকে বিদায় জানাতে রাজধানীতে একটি গণ-স্মরণানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন দেশটির সরকার। তবে দাফন, জানাজা বা স্মরণ অনুষ্ঠানের তারিখ এখনো জানানো হয়নি।

১৫ ঘণ্টা আগে

ভারত মহাসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও জ্বালানি ট্যাংকার উভয় জাহাজেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানানো হয়। যদিও এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কি

১৬ ঘণ্টা আগে

জ্বালানি নিরাপত্তায় মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের তেল উৎপাদন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে; দেশটির রুমাইলা ও ওয়েস্ট কুর্না-২ এর মতো বৃহৎ তেলক্ষেত্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সংঘাতের উত্তাপ ছড়িয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও; দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া

১৬ ঘণ্টা আগে