
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

হুটহাট নানা বিষয় নিয়ে লাগামছাড়া বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যখন তখন সবার অনুমানের বাইরে গিয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার নজিরও তিনি রেখেছেন। কিন্তু পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের লেনদেনের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ট্রাম্পের এসব হুটহাট বক্তব্য বা পদক্ষেপের ঠিক আগে আগেই বাজারে ঘটে যাচ্ছে বড় অঙ্কের লেনদেন। তাতে কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ।
বিভিন্ন আর্থিক বাজারের ট্রেড ভলিউমের তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রাম্পের বাজারে প্রভাব ফেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে বিবিসি। তাতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কখনো কখনো কয়েক মিনিট আগেই লেনদেনে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
অনুসন্ধানে বিবিসি এমন অন্তত পাঁচটি ঘটনা তুলে ধরেছে, যেখানে ট্রাম্পের বড় ধরনের ঘোষণা বা পদক্ষেপের ঠিক আগে আগে বাজারে ঘটে গেছে বড় ধরনের লেনদেন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা বা পদক্ষেপ ঘিরে লাভের অঙ্ক ঘরে তোলা এসব ব্যবসায়ী হয় ট্রাম্পের সম্ভাব্য বক্তব্য বা পদক্ষেপ নিয়ে বাজি ধরছেন; অথবা আগে থেকেই তারা খবর পাচ্ছেন যে ট্রাম্প এমন কোনো বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন বা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, যে খবরের ওপর ভিত্তি করে তারা বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছেন।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এটি স্পষ্টতই অবৈধ ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’য়ের লক্ষণ বহন করে, যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কেউ আগে থেকেই বিনিয়োগ করে লাভ করে। তবে আরও অনেকে বলছেন, বিষয়টি আরও জটিল। অনেক ট্রেডার এখন ট্রাম্পের পদক্ষেপ আগেভাগেই আন্দাজ করতে পারছেন।
ঘটনা যেটিই হোক, এসব ব্যবসায়ী মূলত ট্রাম্পকেই নিজেদের ‘বাজির ঘোড়া’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে আসা ওই পাঁচটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হলো—
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ওঠানামাগুলোর একটি দেখা গেছে তেলের ফিউচার মার্কেটে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের নবম দিনে মার্কিন প্রেসিডন্ট ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেন, সংঘাত ‘প্রায় পুরোপুরি শেষের পথে’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিবিএস প্রতিবেদকের পোস্টে তার এ বক্তব্য প্রথম প্রকাশ্যে আসে। গ্রিনিচ মিন টাইম অনুযায়ী তখন সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিট। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়, কারণ বাজার ধরে নেয় যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে।
কিন্তু বাজারের তথ্য বলছে, এর ৪৭ মিনিট আগে, গ্রিনিচ মিন টাইম সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটেই তেলের দাম কমবে ধরে বিপুল পরিমাণ বাজি ধরা হয়েছিল। ওই সময় কিছু ব্যবসায়ী তেলের দামের পতন থেকে মিলিয়ন ডলার লাভ করেন।
২৩ মার্চ ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার মাত্র দুই দিন পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং শত্রুতার ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ সম্ভব।
ট্রাম্পের এ ঘোষণা কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও ট্রেডারদের কাছে বড় চমক ছিল। এরপরই শেয়ারবাজারে সূচক বাড়ে, বাড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম হঠাৎ কমে যায়।
বিবিসির খবর থেকে জানা যায়, ট্রাম্প ওই পোস্ট দেওয়ার ১৪ মিনিট আগেই তেলের দামের ওপর অস্বাভাবিক পরিমাণ বাজি ধরা হয়েছিল।
একই প্রবণতা দেখা যায় ব্রেন্ট ক্রুডের ক্ষেত্রেও। একজন তেল বিশ্লেষক বলেন, এই লেনদেন ‘নিশ্চিতভাবেই অস্বাভাবিক’।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বাইরে আরও কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ দেখা গেছে। গত বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প ‘লিবারেশন ডে’ নামে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ব জুড়ে শেয়ারবাজার পড়ে যায়।
এর এক সপ্তাহ পর চীন বাদে অন্যান্য দেশের জন্য ট্রাম্প ৯০ দিনের ‘বিরতি’ ঘোষণা করলে বাজার হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হয়। এসঅ্যান্ডপি৫০০ সূচক একদিনেই বেড়ে যায় ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় উত্থান।
ওই সময়ের টাইমলাইনটি এমন—
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার আগেই একটি ফান্ডে অস্বাভাবিক হারে লেনদেন বাড়তে দেখা যায়, যা এসঅ্যান্ডপি৫০০ অনুসরণ করে। প্রতি মিনিটে চুক্তির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, যেখানে আগে ছিল মাত্র কয়েক শ।
কিছু ট্রেডার সেদিন বাজার বাড়বে ধরে ২০ লাখ ডলারের বেশি বাজি ধরেন, এবং প্রায় দুই কোটি ডলার মুনাফা হাতিয়ে নেন।
ওই সপ্তাহেই মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে চিঠি লিখে তদন্তের আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণাগুলো সাধারণ মানুষের ক্ষতির বিনিময়ে প্রশাসনের ভেতরের লোক ও ঘনিষ্ঠদের লাভবান করেছে।
কমিশন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। হোয়াইট হাউজও এ নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও পদক্ষেপের সঙ্গে অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের উত্থানও নতুন করে নজর কেড়েছে। ব্লকচেইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেমন— পলিমার্কেট ও খালশি তাদের ব্যবহারকারীদের আবহাওয়া থেকে শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পর্যন্ত নানা বিষয়ে বাজি ধরার সুযোগ দেয়।
ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পলিমার্কেটের বিনিয়োগকারী ও উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই মার্কেটে ‘বার্ডেনসাম-মিক্স’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানুয়ারির শেষ নাগাদ ক্ষমতাচ্যুত হবেন— এ বিষয়ের ওপর এই অ্যাকাউন্ট ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারির মধ্যে ৩২ হাজার ৫০০ ডলার বাজি ধরে।
পরদিন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে ওই অ্যাকাউন্ট চার লাখ ৩৬ হাজার ডলার জিতে যায়। এরপর অ্যাকাউন্টটির নাম পরিবর্তন করা হয় এবং আর কোনো বাজি ধরা হয়নি।
বাবলম্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে পলিমার্কেটে ছয়টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। সবগুলো অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে বাজি ধরা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ট্রাম্প হামলার ঘোষণা দিলে এসব অ্যাকাউন্ট সম্মিলিতভাবে ১২ লাখ ডলার লাভ করে।
এই ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অ্যাকাউন্ট পরে আর কোনো বাজি ধরেনি। একটি অ্যাকাউন্ট পরে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি হবে— এই বাজিতে আরও এক লাখ ৬৩ হাজার ডলার জিতে যায়।
পলিমার্কেট জানায়, তারা ‘বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুসরণ করে’ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে। মার্চে পলিমার্কেট ও খালশি উভয়ই ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করে।
প্রেডিকশন মার্কেটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি)। সংস্থাটি বিবিসির প্রশ্নের জবাব না দিলেও তাদের চেয়ারম্যান কংগ্রেসে বলেছেন, তারা প্রতারণা ও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে।
এদিকে হোয়াইট হাউজ সম্প্রতি কর্মীদের সতর্ক করে অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে বাজি না ধরতে নির্দেশ দিয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ‘প্রমাণ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দায়িত্বজ্ঞানহীন।’
ইনসাইডার ট্রেডিং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৩ সালের আইনের পর থেকেই অবৈধ। ২০১২ সালে এটি সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়, তবে এখন পর্যন্ত এ আইনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
এসেক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক পল অডিন বলেন, এই আইন প্রয়োগ করা কঠিন। তথ্যের উৎস কে— তা শনাক্ত করতে না পারলে কর্তৃপক্ষ মামলা করে না।
তবে বিভিন্ন আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউই অভিযোগগুলো স্বীকার করেনি। ওডিনের ভাষায়, আপনি বড় ধরনের লেনদেন দেখতেই পারেন, যা স্পষ্ট করে কেউ আগে থেকেই তথ্য জানত। তবু কারও বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

হুটহাট নানা বিষয় নিয়ে লাগামছাড়া বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যখন তখন সবার অনুমানের বাইরে গিয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার নজিরও তিনি রেখেছেন। কিন্তু পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের লেনদেনের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ট্রাম্পের এসব হুটহাট বক্তব্য বা পদক্ষেপের ঠিক আগে আগেই বাজারে ঘটে যাচ্ছে বড় অঙ্কের লেনদেন। তাতে কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ।
বিভিন্ন আর্থিক বাজারের ট্রেড ভলিউমের তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রাম্পের বাজারে প্রভাব ফেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে বিবিসি। তাতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কখনো কখনো কয়েক মিনিট আগেই লেনদেনে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
অনুসন্ধানে বিবিসি এমন অন্তত পাঁচটি ঘটনা তুলে ধরেছে, যেখানে ট্রাম্পের বড় ধরনের ঘোষণা বা পদক্ষেপের ঠিক আগে আগে বাজারে ঘটে গেছে বড় ধরনের লেনদেন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা বা পদক্ষেপ ঘিরে লাভের অঙ্ক ঘরে তোলা এসব ব্যবসায়ী হয় ট্রাম্পের সম্ভাব্য বক্তব্য বা পদক্ষেপ নিয়ে বাজি ধরছেন; অথবা আগে থেকেই তারা খবর পাচ্ছেন যে ট্রাম্প এমন কোনো বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন বা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, যে খবরের ওপর ভিত্তি করে তারা বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছেন।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এটি স্পষ্টতই অবৈধ ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’য়ের লক্ষণ বহন করে, যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কেউ আগে থেকেই বিনিয়োগ করে লাভ করে। তবে আরও অনেকে বলছেন, বিষয়টি আরও জটিল। অনেক ট্রেডার এখন ট্রাম্পের পদক্ষেপ আগেভাগেই আন্দাজ করতে পারছেন।
ঘটনা যেটিই হোক, এসব ব্যবসায়ী মূলত ট্রাম্পকেই নিজেদের ‘বাজির ঘোড়া’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে আসা ওই পাঁচটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হলো—
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ওঠানামাগুলোর একটি দেখা গেছে তেলের ফিউচার মার্কেটে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের নবম দিনে মার্কিন প্রেসিডন্ট ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেন, সংঘাত ‘প্রায় পুরোপুরি শেষের পথে’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিবিএস প্রতিবেদকের পোস্টে তার এ বক্তব্য প্রথম প্রকাশ্যে আসে। গ্রিনিচ মিন টাইম অনুযায়ী তখন সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিট। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়, কারণ বাজার ধরে নেয় যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে।
কিন্তু বাজারের তথ্য বলছে, এর ৪৭ মিনিট আগে, গ্রিনিচ মিন টাইম সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটেই তেলের দাম কমবে ধরে বিপুল পরিমাণ বাজি ধরা হয়েছিল। ওই সময় কিছু ব্যবসায়ী তেলের দামের পতন থেকে মিলিয়ন ডলার লাভ করেন।
২৩ মার্চ ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার মাত্র দুই দিন পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং শত্রুতার ‘সম্পূর্ণ সমাধান’ সম্ভব।
ট্রাম্পের এ ঘোষণা কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও ট্রেডারদের কাছে বড় চমক ছিল। এরপরই শেয়ারবাজারে সূচক বাড়ে, বাড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম হঠাৎ কমে যায়।
বিবিসির খবর থেকে জানা যায়, ট্রাম্প ওই পোস্ট দেওয়ার ১৪ মিনিট আগেই তেলের দামের ওপর অস্বাভাবিক পরিমাণ বাজি ধরা হয়েছিল।
একই প্রবণতা দেখা যায় ব্রেন্ট ক্রুডের ক্ষেত্রেও। একজন তেল বিশ্লেষক বলেন, এই লেনদেন ‘নিশ্চিতভাবেই অস্বাভাবিক’।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বাইরে আরও কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও এমন সন্দেহ দেখা গেছে। গত বছরের ২ এপ্রিল ট্রাম্প ‘লিবারেশন ডে’ নামে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ব জুড়ে শেয়ারবাজার পড়ে যায়।
এর এক সপ্তাহ পর চীন বাদে অন্যান্য দেশের জন্য ট্রাম্প ৯০ দিনের ‘বিরতি’ ঘোষণা করলে বাজার হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হয়। এসঅ্যান্ডপি৫০০ সূচক একদিনেই বেড়ে যায় ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় উত্থান।
ওই সময়ের টাইমলাইনটি এমন—
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার আগেই একটি ফান্ডে অস্বাভাবিক হারে লেনদেন বাড়তে দেখা যায়, যা এসঅ্যান্ডপি৫০০ অনুসরণ করে। প্রতি মিনিটে চুক্তির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, যেখানে আগে ছিল মাত্র কয়েক শ।
কিছু ট্রেডার সেদিন বাজার বাড়বে ধরে ২০ লাখ ডলারের বেশি বাজি ধরেন, এবং প্রায় দুই কোটি ডলার মুনাফা হাতিয়ে নেন।
ওই সপ্তাহেই মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে চিঠি লিখে তদন্তের আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণাগুলো সাধারণ মানুষের ক্ষতির বিনিময়ে প্রশাসনের ভেতরের লোক ও ঘনিষ্ঠদের লাভবান করেছে।
কমিশন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। হোয়াইট হাউজও এ নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও পদক্ষেপের সঙ্গে অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের উত্থানও নতুন করে নজর কেড়েছে। ব্লকচেইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেমন— পলিমার্কেট ও খালশি তাদের ব্যবহারকারীদের আবহাওয়া থেকে শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পর্যন্ত নানা বিষয়ে বাজি ধরার সুযোগ দেয়।
ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পলিমার্কেটের বিনিয়োগকারী ও উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই মার্কেটে ‘বার্ডেনসাম-মিক্স’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানুয়ারির শেষ নাগাদ ক্ষমতাচ্যুত হবেন— এ বিষয়ের ওপর এই অ্যাকাউন্ট ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারির মধ্যে ৩২ হাজার ৫০০ ডলার বাজি ধরে।
পরদিন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে ওই অ্যাকাউন্ট চার লাখ ৩৬ হাজার ডলার জিতে যায়। এরপর অ্যাকাউন্টটির নাম পরিবর্তন করা হয় এবং আর কোনো বাজি ধরা হয়নি।
বাবলম্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে পলিমার্কেটে ছয়টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। সবগুলো অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে বাজি ধরা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ট্রাম্প হামলার ঘোষণা দিলে এসব অ্যাকাউন্ট সম্মিলিতভাবে ১২ লাখ ডলার লাভ করে।
এই ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অ্যাকাউন্ট পরে আর কোনো বাজি ধরেনি। একটি অ্যাকাউন্ট পরে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি হবে— এই বাজিতে আরও এক লাখ ৬৩ হাজার ডলার জিতে যায়।
পলিমার্কেট জানায়, তারা ‘বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুসরণ করে’ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে। মার্চে পলিমার্কেট ও খালশি উভয়ই ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ ঠেকাতে নতুন নিয়ম চালু করে।
প্রেডিকশন মার্কেটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি)। সংস্থাটি বিবিসির প্রশ্নের জবাব না দিলেও তাদের চেয়ারম্যান কংগ্রেসে বলেছেন, তারা প্রতারণা ও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে।
এদিকে হোয়াইট হাউজ সম্প্রতি কর্মীদের সতর্ক করে অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে বাজি না ধরতে নির্দেশ দিয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ‘প্রমাণ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দায়িত্বজ্ঞানহীন।’
ইনসাইডার ট্রেডিং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৩ সালের আইনের পর থেকেই অবৈধ। ২০১২ সালে এটি সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়, তবে এখন পর্যন্ত এ আইনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
এসেক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক পল অডিন বলেন, এই আইন প্রয়োগ করা কঠিন। তথ্যের উৎস কে— তা শনাক্ত করতে না পারলে কর্তৃপক্ষ মামলা করে না।
তবে বিভিন্ন আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউই অভিযোগগুলো স্বীকার করেনি। ওডিনের ভাষায়, আপনি বড় ধরনের লেনদেন দেখতেই পারেন, যা স্পষ্ট করে কেউ আগে থেকেই তথ্য জানত। তবু কারও বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রতিনিধি দলে ট্রাম্পের প্রভাবশালী দুই উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন। তবে ওমান সাগরে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনার পর এই আলোচনায় তেহরানের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শান্তির বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই যুদ্ধ চায় না, বরং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কেবল 'বৈধ আত্মরক্ষা'র পথ বেছে নিয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশটির ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি
১৫ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প লিখেছেন, "আজ তৌসকা নামের প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আমাদের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটি তাদের জন্য ভালো হয়নি।" তিনি আরও বলেন, জাহাজটিকে থামার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু জাহাজটি তা মানেনি। "তাই আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ ইঞ্জিনরুমে গুলি চালিয়ে সেটিকে থাম
১৫ ঘণ্টা আগে