সুদানে দেড় হাজার মানুষের প্রাণ গেছে, শত শত লাশ রাস্তায়

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৯: ২৫
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকান রাষ্ট্র সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ সংঘর্ষের পর শহরের বিভিন্ন সড়কে শত শত মরদেহ পড়ে আছে, যাদের দাফন করারও কেউ নেই।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের একটি।

গত সপ্তাহে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরপরই শুরু হয় নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, ওই হামলায় অন্তত দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়, যার মধ্যে শুধু একটি হাসপাতালেই নিহত হয়েছে প্রায় চার শতাধিক।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শহরে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ ভয়াবহ বিপদের মুখে। অনেকের মৃত্যু হয়েছে, আবার অসংখ্য আহত মানুষ চিকিৎসা ছাড়া খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে।

প্রায় ছত্রিশ হাজার বাসিন্দা জীবন বাঁচাতে আশপাশের তাভিলা শহরে পালিয়ে গেছেন—যেখানে আগেই ছয় লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

এল-ফাশেরের এক নারী হায়াত জানান, সশস্ত্র আরএসএফ সদস্যরা তাদের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং তার ষোলো বছর বয়সি ছেলেকে হত্যা করে। তিনি বলেন, “রাস্তায় অসংখ্য লাশ পড়ে আছে, কিন্তু কেউ উদ্ধার করতে পারছে না।”

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী হুসেইনের ভাষায়, শহরের চিত্র ভয়াবহ—চারপাশে শুধু মৃতদেহ। তাভিলা শরণার্থী শিবিরে কাজ করা নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, এখনো অনেক মানুষ পালিয়ে আসতে পারেননি। সংগঠনটির আশঙ্কা, অনেকে পথেই প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দারফুরে জরুরি ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের জন্য সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে বিশ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, “নিহতদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন—এই ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”

দারফুর পরিস্থিতি নিয়ে গবেষক শায়না লুইস জানান, “আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে—বিস্তীর্ণ এলাকায় লালচে দাগে ঢাকা জমি, যেন রক্তে ভেজা পৃথিবী।

খাদ্য, পানি ও ওষুধের মারাত্মক সংকটে এখন এল-ফাশের শহর। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের একটি। সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। অবশেষে শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে চলমান আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন।

৬ ঘণ্টা আগে

টাইফয়েডে আক্রান্ত সিজেপির অভিজিৎ, বললেন ‘আন্দোলন থামবে না’

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে অসুস্থতা তাদের আন্দোলনের গতি কমাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

৬ ঘণ্টা আগে

দিল্লির আন্দোলনে পুলিশি হামলা, ১২ প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার। তাদের যুক্তি— দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। একইভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলি

৭ ঘণ্টা আগে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় বসতে নারাজ সিজেপি

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে এক্সে দেওয়া পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। সরকার যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অর্থ হয় না।

৮ ঘণ্টা আগে