
বিবিসি বাংলা

‘আমাকে স্বামীর নাম জিজ্ঞাসা করেছিল। যখনই আমি বললাম যে তার নাম মুহাম্মদ আতাহার হুসেইন, সঙ্গে সঙ্গেই আট-দশজন মারতে শুরু করল। আমার স্বামীকে মেরে ফেলল। আমি বিধবা হয়ে গেলাম, সন্তানরা অনাথ হয়ে গেল! এখন ওরা কাকে বাবা বলে ডাকবে?’
গত ৫ ডিসেম্বরের রাতে ঘটনা নিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মুহাম্মদ আতাহার হুসেইনের স্ত্রী শবনম পারভিন। ওই রাতে ৪০ বছর বয়সি মুহাম্মদ আতাহার হুসেইনকে বিহারের নাওয়াদা জেলায় রোহ অঞ্চলের ভট্টা গ্রামে নৃশংসভাবে পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিহার শরিফ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় পুলিশের কাছে পালটাপালটি দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একটি করেছে তার পরিবার। অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে গণপিটুনির অভিযোগ আছে তাদের পক্ষ থেকেই আরেকটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গণপিটুনির অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তারা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
আতাহার হুসেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চুরির ভুয়া অভিযোগে বেশ কয়েকজন তাকে নৃশংস ভাবে মারধর করে। যাদের বিরুদ্ধে তাকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ, তারা পালটা অভিযোগ করেছেন, আতাহার হুসেইন চুরির উদ্দেশ্যে রাতে তাদের ঘরে ঢুকেছিলেন এবং চুরি করার সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল।
আতাহার হুসেইনকে গণপিটুনি দেওয়া ও তার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আতাহার হুসেইন বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। বিহার শরিফ এলাকার গগন দিওয়ান গ্রামে তার বাড়ি। পরিবার বলছে, তিনি গত প্রায় ২০ বছর ধরে রোহ ও তার আশপাশের এলাকায় সাইকেলে চেপে কাপড় বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তার শ্বশুরবাড়িও ওই অঞ্চলেরই মরুই গ্রামে।
নওয়াদা সদর ডেপুটি পুলিশ সুপার হুলাস কুমার বলেন, ৫ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ খবর পায় যে একজন চোরকে চুরি করতে ধরে রেখেছে মানুষ। পরদিন দুটি এফআইআর জমা হয়। একটিতে আতাহার হুসেইনকে চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত করা হয়, অন্যটিতে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন যে তাকে মারধর করা হয়েছে। কোথাও তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যে তাকে মারধর করা হয়েছে, এটা বলা হয়নি।
হুলাস কুমার আরও বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে আতাহার হুসেইনের কোনো অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড খুঁজে পাননি।
অন্যদিকে আতাহার হুসেইনের ভাই মুহাম্মদ চাঁদ বলেন, ৬ ডিসেম্বর আমরা যখন এফআইআর দায়ের করি, তখনো আমার ভাই অচেতন ছিল। আমাদের কাছে শুধু চুরির ভুয়া অভিযোগে মারধর করারই খবর ছিল। এরপরে যখন ভাইয়ের জ্ঞান ফিরে আসে তখন সে আমাদের বলে যে কীভাবে তার কাপড় খুলে ধর্মীয় পরিচয় জানা হয়েছে।
এ ঘটনায় দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের করবেন বলেও জানান মুহাম্মদ চাঁদ।
আতাহার হুসেইনের ভাই মুহাম্মদ চাঁদ বলছিলেন, আমরা সবাই ভয়ে আছি। আমাদের গ্রামের কোনো মুসলমান পুরুষ ফেরি করতে বা পশু বা অন্যান্য ব্যাপারিরা গ্রামের বাইরে বেরচ্ছে না।
তিনি বলছিলেন, মৃত্যুর আগে তার ভাই জানিয়েছিলেন যে ৫ ডিসেম্বর রাতে কাপড় ফেরি করে যখন ডুমরি গ্রাম থেকে নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন, তখন তার সাইকেলের চাকা পাঙচার হয়ে যায়।
মুহাম্মদ চাঁদের অভিযোগ, অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল তখন। ভট্টা গ্রামের পাশে একটি মোড়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন কয়েকজন মানুষ। তাদের কাছেই ভাই জানতে চায়, পাঙচার সারানোর দোকান কোথায় আছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তিরা ভাইয়ের নাম জিজ্ঞাসা করে। যেই নিজের নাম মুহাম্মদ আতাহার হুসেইন বলে ভাই, তখনই হামলা করে ওই ব্যক্তিরা।
তিনি আরও বলেন, সেখানে আট-১০ জন ছিল। জোর করে সাইকেল থেকে ভাইকে নামিয়ে তার সব টাকা-পয়সা লুট করে নেয়। ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করার পরে হাত-পা বেঁধে টানতে টানতে তাকে একটা ঘরে নিয়ে যায় ওরা। সেখানেই বেধড়ক মারধর করে আধমড়া করে ফেলে দেয় ওরা।
মুহাম্মদ চাঁদ জানান, ওই লোকেরা ভেবেছিল যে তার ভাই মারা গেছে। তারপরই পুলিশকে ফোন করে চুরির কাহিনিটা সাজায় ওরা। পরে পুলিশ গিয়ে আতাহার হুসেইনকে নওয়াদা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।
আতাহার হুসেইনের স্ত্রী শবনম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা এ ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। পরদিন সকালে কেউ একজন আতাহার হুসেইনকে মারধর করার ছবি দেখায়। ওই ছবিটি এলাকার অনেকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছিলেন। এভাবেই ঘটনাটি পরিবার জানতে পারে।
শবনম বলেন, ছবিটি দেখে আমি তো প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। চিৎকার করে কাঁদছিলাম আমি। দেবর শাকিব আর চাঁদ হাসপাতালে তাদের ভাইকে দেখতে গিয়েছিল। তখনও আমার স্বামী অজ্ঞান ছিলেন। ঘণ্টাখানেক পরে আমি যখন হাসপাতালে পৌঁছাই, দেখি তাকে ভীষণ মেরেছে। আমার গলার আওয়াজ পেয়েই ওর জ্ঞান ফেরে, ধীরে ধীরে চোখ খোলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ভীষণ ব্যথা।
শবনম আরও বলেন, ওখানে যে পুলিশ ছিল তাদের আমি অনেক বলেছিলাম। তবুও ওরা আমার স্বামীকে নিয়ে যেতে দেয়নি। বলেছিল, ওখানেই চিকিৎসা হবে। কোথাও যেতে দেওয়া হবে না।
তিন দিন পর আতাহার হুসেইনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার। পরিবার অনুরোধ করেছিল, কোনো বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হোক। পরে পাওয়াপুরী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একদিন পর পরিবারের সদস্যরা আহত আতাহারকে নিয়ে বিহার শরিফের দিকে রওয়ানা হন। পথেই মৃত্যু হয় আতাহার হুসেইনের। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
আতাহার হুসেইনের স্ত্রী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সবাই ভট্টা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
শবনমের দায়ের করা অভিযোগের পালটা আরেকটি মামলাও দায়ের হয়েছে। যে গ্রামে আতাহারকে মারধর করা হয়েছিল, সেই ভট্টা গ্রামের বাসিন্দা সিকান্দার যাদব আতাহার হুসেইনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অবশ্য আতাহারকে মারধরের ঘটনায় সিকান্দার যাদবকেও গ্রেপ্তার করেছে। তার বাড়িরই একটি ঘরে আতাহারকে মারধর করা হয়েছিল।
সিকান্দার যাদবের স্ত্রী বিন্দি অভিযোগ করেন, আতাহার হুসেইন তাদের ঘরে চুরি করার সময়ে তার চেঁচামেচিতেই লোক জড়ো হয়ে যায় এবং তাকে ধরে ফেলে মারধর করে। ঘটনার পর দুই সপ্তাহেরও বেশি পেরিয়ে গেলেও তার ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
যে ঘরে আতাহারকে মারধর করা হয়েছিল, সেই ঘরটি রাস্তার পাশেই। সেখানে কাঁচি, প্লাস, লোহার রড ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিবিসির প্রতিবেদক সেদিকে তাকাতেই সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
বিন্দি দাবি করেন, ‘দুই-তিন লাখ টাকার গয়না চুরি হয়ে গেছে। চোর ধরা পড়ার পরে বাসনপত্র পাওয়া গেছে, কিন্তু গয়না পাওয়া যায়নি। একজন চোর ধরা পড়েছিল, বাকি চোরেরা হয়তো পালিয়ে গেছে।’
সিকান্দার যাদব আর তার স্ত্রী দিনমজুর। বাড়িতে টয়লেট নেই, মাঠে যেতে হয় বাড়ির নারীদের। এরকম একটি পরিবারের ঘরে দুই-তিন লাখ টাকার গয়না থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থল ভট্ট গ্রামে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়েরই বসবাস। সেখানকার এক বাসিন্দা মুহাম্মদ আসগার বলেন, ‘আতাহার প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে সাইকেলে চেপে কাপড় ফেরি করেন। নারী ও শিশুদের জামা কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। ওর শ্বশুরবাড়িও রোহ এলাকায়, নিয়মিতই আসতেন। গ্রামের নারীরা সবাই চিনত আতাহারকে।’

‘আমাকে স্বামীর নাম জিজ্ঞাসা করেছিল। যখনই আমি বললাম যে তার নাম মুহাম্মদ আতাহার হুসেইন, সঙ্গে সঙ্গেই আট-দশজন মারতে শুরু করল। আমার স্বামীকে মেরে ফেলল। আমি বিধবা হয়ে গেলাম, সন্তানরা অনাথ হয়ে গেল! এখন ওরা কাকে বাবা বলে ডাকবে?’
গত ৫ ডিসেম্বরের রাতে ঘটনা নিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মুহাম্মদ আতাহার হুসেইনের স্ত্রী শবনম পারভিন। ওই রাতে ৪০ বছর বয়সি মুহাম্মদ আতাহার হুসেইনকে বিহারের নাওয়াদা জেলায় রোহ অঞ্চলের ভট্টা গ্রামে নৃশংসভাবে পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিহার শরিফ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় পুলিশের কাছে পালটাপালটি দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একটি করেছে তার পরিবার। অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে গণপিটুনির অভিযোগ আছে তাদের পক্ষ থেকেই আরেকটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গণপিটুনির অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তারা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
আতাহার হুসেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চুরির ভুয়া অভিযোগে বেশ কয়েকজন তাকে নৃশংস ভাবে মারধর করে। যাদের বিরুদ্ধে তাকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ, তারা পালটা অভিযোগ করেছেন, আতাহার হুসেইন চুরির উদ্দেশ্যে রাতে তাদের ঘরে ঢুকেছিলেন এবং চুরি করার সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল।
আতাহার হুসেইনকে গণপিটুনি দেওয়া ও তার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আতাহার হুসেইন বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। বিহার শরিফ এলাকার গগন দিওয়ান গ্রামে তার বাড়ি। পরিবার বলছে, তিনি গত প্রায় ২০ বছর ধরে রোহ ও তার আশপাশের এলাকায় সাইকেলে চেপে কাপড় বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তার শ্বশুরবাড়িও ওই অঞ্চলেরই মরুই গ্রামে।
নওয়াদা সদর ডেপুটি পুলিশ সুপার হুলাস কুমার বলেন, ৫ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ খবর পায় যে একজন চোরকে চুরি করতে ধরে রেখেছে মানুষ। পরদিন দুটি এফআইআর জমা হয়। একটিতে আতাহার হুসেইনকে চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত করা হয়, অন্যটিতে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন যে তাকে মারধর করা হয়েছে। কোথাও তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যে তাকে মারধর করা হয়েছে, এটা বলা হয়নি।
হুলাস কুমার আরও বলেন, তারা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে আতাহার হুসেইনের কোনো অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড খুঁজে পাননি।
অন্যদিকে আতাহার হুসেইনের ভাই মুহাম্মদ চাঁদ বলেন, ৬ ডিসেম্বর আমরা যখন এফআইআর দায়ের করি, তখনো আমার ভাই অচেতন ছিল। আমাদের কাছে শুধু চুরির ভুয়া অভিযোগে মারধর করারই খবর ছিল। এরপরে যখন ভাইয়ের জ্ঞান ফিরে আসে তখন সে আমাদের বলে যে কীভাবে তার কাপড় খুলে ধর্মীয় পরিচয় জানা হয়েছে।
এ ঘটনায় দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের করবেন বলেও জানান মুহাম্মদ চাঁদ।
আতাহার হুসেইনের ভাই মুহাম্মদ চাঁদ বলছিলেন, আমরা সবাই ভয়ে আছি। আমাদের গ্রামের কোনো মুসলমান পুরুষ ফেরি করতে বা পশু বা অন্যান্য ব্যাপারিরা গ্রামের বাইরে বেরচ্ছে না।
তিনি বলছিলেন, মৃত্যুর আগে তার ভাই জানিয়েছিলেন যে ৫ ডিসেম্বর রাতে কাপড় ফেরি করে যখন ডুমরি গ্রাম থেকে নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন, তখন তার সাইকেলের চাকা পাঙচার হয়ে যায়।
মুহাম্মদ চাঁদের অভিযোগ, অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল তখন। ভট্টা গ্রামের পাশে একটি মোড়ে আগুন পোহাচ্ছিলেন কয়েকজন মানুষ। তাদের কাছেই ভাই জানতে চায়, পাঙচার সারানোর দোকান কোথায় আছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তিরা ভাইয়ের নাম জিজ্ঞাসা করে। যেই নিজের নাম মুহাম্মদ আতাহার হুসেইন বলে ভাই, তখনই হামলা করে ওই ব্যক্তিরা।
তিনি আরও বলেন, সেখানে আট-১০ জন ছিল। জোর করে সাইকেল থেকে ভাইকে নামিয়ে তার সব টাকা-পয়সা লুট করে নেয়। ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করার পরে হাত-পা বেঁধে টানতে টানতে তাকে একটা ঘরে নিয়ে যায় ওরা। সেখানেই বেধড়ক মারধর করে আধমড়া করে ফেলে দেয় ওরা।
মুহাম্মদ চাঁদ জানান, ওই লোকেরা ভেবেছিল যে তার ভাই মারা গেছে। তারপরই পুলিশকে ফোন করে চুরির কাহিনিটা সাজায় ওরা। পরে পুলিশ গিয়ে আতাহার হুসেইনকে নওয়াদা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।
আতাহার হুসেইনের স্ত্রী শবনম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা এ ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। পরদিন সকালে কেউ একজন আতাহার হুসেইনকে মারধর করার ছবি দেখায়। ওই ছবিটি এলাকার অনেকে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছিলেন। এভাবেই ঘটনাটি পরিবার জানতে পারে।
শবনম বলেন, ছবিটি দেখে আমি তো প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। চিৎকার করে কাঁদছিলাম আমি। দেবর শাকিব আর চাঁদ হাসপাতালে তাদের ভাইকে দেখতে গিয়েছিল। তখনও আমার স্বামী অজ্ঞান ছিলেন। ঘণ্টাখানেক পরে আমি যখন হাসপাতালে পৌঁছাই, দেখি তাকে ভীষণ মেরেছে। আমার গলার আওয়াজ পেয়েই ওর জ্ঞান ফেরে, ধীরে ধীরে চোখ খোলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ভীষণ ব্যথা।
শবনম আরও বলেন, ওখানে যে পুলিশ ছিল তাদের আমি অনেক বলেছিলাম। তবুও ওরা আমার স্বামীকে নিয়ে যেতে দেয়নি। বলেছিল, ওখানেই চিকিৎসা হবে। কোথাও যেতে দেওয়া হবে না।
তিন দিন পর আতাহার হুসেইনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তার। পরিবার অনুরোধ করেছিল, কোনো বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হোক। পরে পাওয়াপুরী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একদিন পর পরিবারের সদস্যরা আহত আতাহারকে নিয়ে বিহার শরিফের দিকে রওয়ানা হন। পথেই মৃত্যু হয় আতাহার হুসেইনের। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
আতাহার হুসেইনের স্ত্রী ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সবাই ভট্টা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ বলছে, বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
শবনমের দায়ের করা অভিযোগের পালটা আরেকটি মামলাও দায়ের হয়েছে। যে গ্রামে আতাহারকে মারধর করা হয়েছিল, সেই ভট্টা গ্রামের বাসিন্দা সিকান্দার যাদব আতাহার হুসেইনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অবশ্য আতাহারকে মারধরের ঘটনায় সিকান্দার যাদবকেও গ্রেপ্তার করেছে। তার বাড়িরই একটি ঘরে আতাহারকে মারধর করা হয়েছিল।
সিকান্দার যাদবের স্ত্রী বিন্দি অভিযোগ করেন, আতাহার হুসেইন তাদের ঘরে চুরি করার সময়ে তার চেঁচামেচিতেই লোক জড়ো হয়ে যায় এবং তাকে ধরে ফেলে মারধর করে। ঘটনার পর দুই সপ্তাহেরও বেশি পেরিয়ে গেলেও তার ঘরে জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
যে ঘরে আতাহারকে মারধর করা হয়েছিল, সেই ঘরটি রাস্তার পাশেই। সেখানে কাঁচি, প্লাস, লোহার রড ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিবিসির প্রতিবেদক সেদিকে তাকাতেই সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
বিন্দি দাবি করেন, ‘দুই-তিন লাখ টাকার গয়না চুরি হয়ে গেছে। চোর ধরা পড়ার পরে বাসনপত্র পাওয়া গেছে, কিন্তু গয়না পাওয়া যায়নি। একজন চোর ধরা পড়েছিল, বাকি চোরেরা হয়তো পালিয়ে গেছে।’
সিকান্দার যাদব আর তার স্ত্রী দিনমজুর। বাড়িতে টয়লেট নেই, মাঠে যেতে হয় বাড়ির নারীদের। এরকম একটি পরিবারের ঘরে দুই-তিন লাখ টাকার গয়না থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাস্থল ভট্ট গ্রামে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়েরই বসবাস। সেখানকার এক বাসিন্দা মুহাম্মদ আসগার বলেন, ‘আতাহার প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে সাইকেলে চেপে কাপড় ফেরি করেন। নারী ও শিশুদের জামা কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। ওর শ্বশুরবাড়িও রোহ এলাকায়, নিয়মিতই আসতেন। গ্রামের নারীরা সবাই চিনত আতাহারকে।’

এই দ্বীপটি উপকূল থেকে কিছুটা দূরে এমন এক গভীর জলসীমায় অবস্থিত, যেখানে ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) নামক বিশাল তেলের ট্যাঙ্কারগুলো সহজেই ভিড়তে পারে।
৮ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব স্থাপনায় হামলা চালাবে, যেগুলো এখনো ইচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করা হয়নি।
৯ ঘণ্টা আগে
কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধ্বংস করা। এরপর বর্তমান সংঘাত কমিয়ে আনা ও কূটনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা অবাধ অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ দেয়।
৯ ঘণ্টা আগে
শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকেও সম্ভাব্
৯ ঘণ্টা আগে