৪ অফসাইড গোলের ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগালের নাটকীয় জয়, বিদায় মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যাচ শেষে দুই বন্ধু লুকা মদ্রিচ (বাঁয়ে) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আলিঙ্গন। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল আর লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া— লড়াইটা নকআউটের। তাই ম্যাচ শেষে কোনো এক মহারথীর বিদায় ছিল ভবিতব্য। ভিএআর বিতর্ক আর অফসাইডে বাতিল ৪ গোলসহ নানা বিতর্কে শেষ পর্যন্ত সে ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে পর্তুগাল, বিশ্বকাপে টিকে থাকলেন রোনালদো। অন্যদিকে থেমে যেতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে, যার মাধ্যমে ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ যাত্রাও শেষ হলো।

টরন্টোর মাঠে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়া। দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ পর্যন্ত ভিএআর হস্তক্ষেপে নির্ধারিত হয়েছে বিজয়ী, ২-১ গোলে জয় পেয়েছে পর্তুগাল।

প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই ছিল পর্তুগালের হাতে। ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, রাফায়েল লিওরা রীতিমতো ব্যস্ত করে রেখেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে। তবে লিভাকোভিচের দৃঢ়তায় রোনালদোর ফ্রি-কিক, রেনাতো ভেইগার হেড, ব্রুনোর কঠিন কোণের শট কিছুই কাজে আসেনি। ফলে ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেও গোল পায়নি পর্তুগাল।

আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত ক্রোয়েশিয়া নিজেরা খুব একটা আক্রমণে উঠতে পারেনি। বলা যায়, লিভাকোভিচের অসাধারণ দক্ষতাতেই কোনোমতে গোল হজম না করে ম্যাচে টিকে ছিল তারা। ফলে বিরতির সময় স্কোরলাইন ০-০।

বিরতির পর ম্যাচের মোমেন্টাম ঘুরে যায়। ক্রোয়েশিয়াই চালকের আসনে। ৫৩ মিনিটে যোসিপ স্তানিসিচের ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে বল পর্তুগালের জালে জড়িয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।

গোল খেয়ে কিছুক্ষণ বিহ্বল হয়ে পড়লেও পালটা আক্রমণের ধার বাড়াতে সময় নেয়নি পর্তুগালও। ৫ মিনিটের মধ্যেই দারুণ আক্রমণ। ৫৮ মিনিটের মাথায় রাফায়েল লিও নিয়েছিলেন শট। লিভাকোভিচ পরাস্ত হলে ক্রসবার বাধা হয়ে দাঁড়ালে গোল পাওয়া হয়নি লিও বা পর্তুগালের।

গোলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও ১০ মিনিট। ৬৮ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়াতে একটুও ভুল করেননি রোনালদো। ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। আর রোনালদো নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এই প্রথম নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচে গোল পেলেন।

সমতায় থাকা ম্যাচের শেষ ভাগে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৮৮ মিনিটে আনতে পাসিলিচ দারুণ সুযোগ পেয়ে হেড করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৯০ মিনিট তাই শেষ হয় ১-১ সমতাতেই। এ বিশ্বকাপের আরও অনেক ম্যাচের মতো শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমেই জমে ওঠে নাটক।

যোগ করা সময়ের চতুর্থ তথা ম্যাচের ৯৪ মিনিটে রাফায়েল লিওর বাঁ দিক থেকে বাড়ানো দারুণ এক ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে যান বদলি ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস। দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দিলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। গ্যালারিতে তখন লালের জোয়ার।

তবে নাটকীয়তা তখনো বাকি। যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে পেরিসিচের ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন গাভার্দিওল। এবার উল্লাস ক্রোয়েশিয়ার। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ে দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে পাসিলিচ অফসাইডে ছিলেন। এ ম্যাচেই অফসাইডে বাতিল হওয়া আরও তিন গোলের মতো এই গোলটিও বাতিল করেন রেফারি। বিষাদ নেমে আসে ক্রোয়াট শিবিরে। রেফারিও শেষ বাঁশি বাজান কিছুক্ষণের মধ্যে। তাতেই বিশ্বকাপে থেমে যায় ক্রোয়েশিয়ার যাত্রা। মদ্রিচকেও আর দেখা যাবে না বিশ্বকাপের মঞ্চে।

এ জয়ের ফলে রাউন্ড অব সিক্সটিনে উঠে গেল পর্তুগাল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন, যারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচটি হবে বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার দিবাগত রাত ১টায়।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

কেপ ভার্দেকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি, বললেন ‘আসল লড়াই’ শুরু

স্কালোনি বলেন, ‘এখনই শুরু আসল লড়াই। কেপ ভার্দে নকআউটে উঠেছে দেখে আমি অবাক হইনি। তারা প্রতিটি প্রতিপক্ষের জীবন কঠিন করে তুলেছে। তারা খুবই কঠিন দল এবং আমাদের জন্যও ম্যাচটা সহজ হবে না।’

১ দিন আগে

১০ জন নিয়েই বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। প্রথমার্ধে অফসাইডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোল বাতিল হলে কিছুটা হতাশ হতে হয় স্বাগতিক সমর্থকদের। তবে সেই ধাক্কা সামলে আক্রমণের ধার বাড়ায় তারা। অবশেষে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসে ভাসিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ ব্যবধানে এগ

১ দিন আগে

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর ‘বিতর্কিত’ পেনাল্টি, বেলজিয়ামে স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের

৮৫ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রেখে শেষ ষোলোর স্বপ্নে সমর্থকদের রাঙিয়ে রেখেছিল দলটি। সেখান থেকে রোমেলু লুকাকু আর ইয়োরি টিলেম্যান্সের তিন মিনিটের ম্যাজিকে ভর করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল বেলজিয়াম। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ‘বিতর্কিত’ এক পেনাল্টিতে সেনেগালকে কাঁদিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে

১ দিন আগে

হ্যারি কেইন ম্যাজিকে কঙ্গোর প্রাচীর পেরোল ইংল্যান্ড

শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে জ্বলে উঠলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বুঝিয়ে দিলেন কেন তাকে সময়ের অন্যতম সেরা ফিনিশার বলা হয়। ৭৫ মিনিটে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে ‘লাইফলাইন’ এনে দিলেন ইংল্যান্ডকে। ৮৬ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে দারুণ শারীরিক ভারসাম্য রেখে দুর্দান্ত শটে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল করে দলকে এনে দিল

২ দিন আগে