২ নারী অ্যাথলেট ‘পুরুষ প্রমাণিত’: পদক বাতিল, আজীবন নিষেধাজ্ঞা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৩২
জান্নাত বেগম (বাঁয়ে) ও কবিতা রায় (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পর্যায়ে নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একাধিক পদক ও রেকর্ড গড়া বাংলাদেশি দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাদের অর্জিত পদক ও রেকর্ড বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফেডারেশনের ভাষ্য, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনে জান্নাত ও কবিতার শরীরে ৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি (যৌন বিকাশের ভিন্নতা) শনাক্ত হয়েছে। তাদের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

২৮ বছর বয়সী জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট। তিনি জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে অংশ নিতেন। জাতীয় পর্যায়ে তার আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক ছিল। পাশাপাশি তার নামে ছিল দুটি জাতীয় রেকর্ড।

অন্যদিকে, ১৯ বছর বয়সী কবিতা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনিও একাধিক পদক জিতেছেন।

২০২৪ সালে নারী বিভাগে তাদের অংশগ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরে লিঙ্গ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অনুরোধ করে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি।

২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। চলতি বছরের ১১ মে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হয় এবং ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে জান্নাত ও কবিতার ক্ষেত্রে ৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডির পাশাপাশি উভয়েরই পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং জননগ্রন্থি (গোনাড) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে।

জান্নাতের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া যায় ১৯ দশমিক ৬৬ ন্যানোমোল/লিটার, আর কবিতার ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল/লিটার। নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সীমা ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল/লিটার।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের ডিএসডি বিধিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা করতে হলে একজন অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল/লিটারের নিচে থাকতে হয়। ফেডারেশনের দাবি, জান্নাত ও কবিতা এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি তাদের নারী বিভাগে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাতিল করা হয় জাতীয় পর্যায়ে তাদের অর্জিত সব পদক ও রেকর্ডও।

জান্নাতের জ্যাভলিন ও ডিসকাস থ্রোতে জেতা আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জসহ ১১টি পদক এবং দুটি জাতীয় রেকর্ড বাতিল হয়েছে। কবিতার ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত পদকও বাতিল করা হয়েছে। এসব পদক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই বিধি অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতাকে নারী বিভাগে আর খেলতে দেওয়া হবে না। তাদের জাতীয় প্রতিযোগিতার সব পদক বাতিল করা হয়েছে এবং নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

বাংলাদেশের রানের পাহাড়, অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড

৬ উইকেটে ৩৫১ রানে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে হাসান ও তাইজুল আউট হন। হাসানকে এলবিডব্লিউ করেন জশ হ্যাজলউড। তাইজুল তার বলেই ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ হন। তারপর তাসকিন ও মিরাজ দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত জুটিকে টেনে নেন। প্রথম সেশনে ৬৬ রান তোলে বাংলাদেশ ২ উইকেটের বিনিময়ে।

১ দিন আগে

দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৩ রানের লিড, হাতে এখনো ৪ উইকেট

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ডারউইনে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই তানজিদ আর মুমিনুল হক দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। প্রথম দুই সেশনেই ছিল বাংলাদেশি ব্যাটারদের দাপ এরপর নতুন বল হাতে তুলে নিয়ে অজি বোলাররা ১১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নেন। পরে মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে টাইগাররা।

২ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাপট, তানজিদের শতকে লিড বাংলাদেশের

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে নাথান লায়নের বল লং অফ দিয়ে ঠেলে এক রান নিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন তানজিদ।

২ দিন আগে

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, অস্ট্রেলিয়া সফরে স্বপ্নের সূচনা বাংলাদেশের

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের এই সুবিধাজনক অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান পেসারদের। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের সব ১০ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার। নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামের অনুপস্থিতি বুঝতেই দেননি হাসান মাহম

৩ দিন আগে