
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব জুড়ে ফুটবলার, কোচ ও সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের কুসংস্কারের প্রচলন রয়েছে। বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই এসব বিশ্বাস যেন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। সেই তালিকা থেকে বাদ নন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে তিনি মাঠে যাচ্ছেন না। কারণ, তার বিশ্বাস— ঘরে বসেই খেলা দেখলে আর্জেন্টিনা জেতে।
বুয়েনস আইরেসের একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলেই জানিয়েছেন, ফাইনাল ম্যাচও তিনি অন্য সব ম্যাচের মতোই প্রেসিডেন্ট ভবন ‘অলিভোস’-এ বসে দেখবেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নিউ জার্সিতে গিয়ে ফাইনাল দেখবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই না। অন্য সব ম্যাচের মতো অলিভোসেই বসে খেলা দেখব।”
এরপর তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, এটি কি কুসংস্কারের কারণে? মিলেইর সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘হ্যাঁ’।
তার এই বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে একটি পরিসংখ্যানও। কোপা আমেরিকার আর্জেন্টিনার সাতটি ম্যাচই তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে বসে দেখেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিওনেল মেসির দল। তাই ফাইনালেও সেই রুটিন বদলাতে রাজি নন তিনি।
শুধু খেলা দেখার জায়গাই নয়, একই পোশাকও বদলাবেন না মিলেই। তিনি জানিয়েছেন, ফাইনালেও গায়ে থাকবে তার সেই পরিচিত ভারী জ্যাকেট। এর পেছনের ঘটনাও ব্যাখ্যা করেছেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখন ঠান্ডা আর আমি হিটার চালাই না, তাই একটি তেল কোম্পানির ব্র্যান্ডের জ্যাকেট পরি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন এটা পরে আমার খুব গরম লাগছিল। তখন জ্যাকেটটা খুলে ফেলি, আর ওরা আমাদের বিপক্ষে একটি গোল করে। এরপর আবার জ্যাকেট পরে নিই এবং তারপর থেকে আর কখনো সেটা খুলি না।’
আর্জেন্টিনায় এমন কুসংস্কারের প্রচলন নতুন নয়। দেশটিতে ‘কাবালাস’ নামে পরিচিত নানা ধরনের সৌভাগ্যের রীতি বা অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। শুধু খেলাধুলায় নয়, জীবনের নানা ক্ষেত্রেও এসব বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। ফুটবলকে ঘিরে এসব কুসংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং অনেকের কাছে তা দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ।
মিলেইর মতো অসংখ্য আর্জেন্টাইন বিশ্বাস করেন, দল জিততে থাকলে একই রুটিন ধরে রাখতে হয়। কেউ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই জার্সি না ধুয়ে পরে থাকেন। কেউ প্রতিটি ম্যাচ একই আসনে বসে দেখেন। আবার কোনো কোনো পরিবারে নির্দিষ্ট একজনকে খেলা দেখতে দেওয়া হয় না, কারণ বিশ্বাস করা হয়, তিনি খেলা দেখলে দল হেরে যায়। এমনকি কেউ কেউ মনে করেন, আর্জেন্টিনা গোল করার সময় যদি কেউ বাথরুমে থাকে, তবে পরের ম্যাচেও তাকে একই সময়ে সেখানে থাকতে হবে।
বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই একদল সমর্থক বাইবেল থেকে পাঠ শুরু করেন। এরপর তারা বিশ্বাস করেন, সেই রীতি বজায় রাখলেই সৌভাগ্য বজায় থাকবে। প্রতিপক্ষের দুর্ভাগ্য কামনায় খেলোয়াড়দের মূর্তি বা প্রতিপক্ষের নাম লেখা কাগজ বরফে জমিয়ে রাখার মতো রীতিও আর্জেন্টিনায় প্রচলিত।
দেশটির রাষ্ট্রপতিদের ক্ষেত্রেও কুসংস্কারের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম জাতীয় দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর উদ্বোধনী ম্যাচেই দিয়েগো মারাদোনার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনে ক্যামেরুনের কাছে হেরে যায়।
সেই ঘটনার পর মেনেমকে অনেকেই ‘মুফা’ বা অশুভ বলে আখ্যা দেন। এরপর থেকেই একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে— রাষ্ট্রপতির মাঠে উপস্থিতি জাতীয় দলের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। সেই কুসংস্কারের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতিরা বিশ্বকাপে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন।
সেই ধারাই বজায় রাখছেন হাভিয়ের মিলেইও। ট্রাম্পের আমন্ত্রণ থাকলেও তার বিশ্বাস, ফাইনালে আর্জেন্টিনার সাফল্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা প্রেসিডেন্ট ভবনই— আর গায়েও থাকবে সেই ‘সৌভাগ্যের’ ভারী জ্যাকেট।

বিশ্ব জুড়ে ফুটবলার, কোচ ও সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের কুসংস্কারের প্রচলন রয়েছে। বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই এসব বিশ্বাস যেন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। সেই তালিকা থেকে বাদ নন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে তিনি মাঠে যাচ্ছেন না। কারণ, তার বিশ্বাস— ঘরে বসেই খেলা দেখলে আর্জেন্টিনা জেতে।
বুয়েনস আইরেসের একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলেই জানিয়েছেন, ফাইনাল ম্যাচও তিনি অন্য সব ম্যাচের মতোই প্রেসিডেন্ট ভবন ‘অলিভোস’-এ বসে দেখবেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নিউ জার্সিতে গিয়ে ফাইনাল দেখবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই না। অন্য সব ম্যাচের মতো অলিভোসেই বসে খেলা দেখব।”
এরপর তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, এটি কি কুসংস্কারের কারণে? মিলেইর সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘হ্যাঁ’।
তার এই বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে একটি পরিসংখ্যানও। কোপা আমেরিকার আর্জেন্টিনার সাতটি ম্যাচই তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে বসে দেখেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে লিওনেল মেসির দল। তাই ফাইনালেও সেই রুটিন বদলাতে রাজি নন তিনি।
শুধু খেলা দেখার জায়গাই নয়, একই পোশাকও বদলাবেন না মিলেই। তিনি জানিয়েছেন, ফাইনালেও গায়ে থাকবে তার সেই পরিচিত ভারী জ্যাকেট। এর পেছনের ঘটনাও ব্যাখ্যা করেছেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখন ঠান্ডা আর আমি হিটার চালাই না, তাই একটি তেল কোম্পানির ব্র্যান্ডের জ্যাকেট পরি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন এটা পরে আমার খুব গরম লাগছিল। তখন জ্যাকেটটা খুলে ফেলি, আর ওরা আমাদের বিপক্ষে একটি গোল করে। এরপর আবার জ্যাকেট পরে নিই এবং তারপর থেকে আর কখনো সেটা খুলি না।’
আর্জেন্টিনায় এমন কুসংস্কারের প্রচলন নতুন নয়। দেশটিতে ‘কাবালাস’ নামে পরিচিত নানা ধরনের সৌভাগ্যের রীতি বা অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। শুধু খেলাধুলায় নয়, জীবনের নানা ক্ষেত্রেও এসব বিশ্বাসের চর্চা রয়েছে। ফুটবলকে ঘিরে এসব কুসংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং অনেকের কাছে তা দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ।
মিলেইর মতো অসংখ্য আর্জেন্টাইন বিশ্বাস করেন, দল জিততে থাকলে একই রুটিন ধরে রাখতে হয়। কেউ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই জার্সি না ধুয়ে পরে থাকেন। কেউ প্রতিটি ম্যাচ একই আসনে বসে দেখেন। আবার কোনো কোনো পরিবারে নির্দিষ্ট একজনকে খেলা দেখতে দেওয়া হয় না, কারণ বিশ্বাস করা হয়, তিনি খেলা দেখলে দল হেরে যায়। এমনকি কেউ কেউ মনে করেন, আর্জেন্টিনা গোল করার সময় যদি কেউ বাথরুমে থাকে, তবে পরের ম্যাচেও তাকে একই সময়ে সেখানে থাকতে হবে।
বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই একদল সমর্থক বাইবেল থেকে পাঠ শুরু করেন। এরপর তারা বিশ্বাস করেন, সেই রীতি বজায় রাখলেই সৌভাগ্য বজায় থাকবে। প্রতিপক্ষের দুর্ভাগ্য কামনায় খেলোয়াড়দের মূর্তি বা প্রতিপক্ষের নাম লেখা কাগজ বরফে জমিয়ে রাখার মতো রীতিও আর্জেন্টিনায় প্রচলিত।
দেশটির রাষ্ট্রপতিদের ক্ষেত্রেও কুসংস্কারের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম জাতীয় দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এরপর উদ্বোধনী ম্যাচেই দিয়েগো মারাদোনার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনে ক্যামেরুনের কাছে হেরে যায়।
সেই ঘটনার পর মেনেমকে অনেকেই ‘মুফা’ বা অশুভ বলে আখ্যা দেন। এরপর থেকেই একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে— রাষ্ট্রপতির মাঠে উপস্থিতি জাতীয় দলের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। সেই কুসংস্কারের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতিরা বিশ্বকাপে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকা এড়িয়ে চলেন।
সেই ধারাই বজায় রাখছেন হাভিয়ের মিলেইও। ট্রাম্পের আমন্ত্রণ থাকলেও তার বিশ্বাস, ফাইনালে আর্জেন্টিনার সাফল্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা প্রেসিডেন্ট ভবনই— আর গায়েও থাকবে সেই ‘সৌভাগ্যের’ ভারী জ্যাকেট।

মেসি সম্পূর্ণ চলে গেলেন প্লেমেকার কাম রাইট উইংগারের রোলে। মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে সেই মেসি গড়ে দিলেন দুটি অ্যাসিস্ট। তা থেকে লক্ষ্যভেদ করলেন এনজো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্টিনেজ। প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ইংলিশদের ৬০ বছরের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে গেল আলবিসেলেস্তেরা।
২ দিন আগে
ফেয়ারস্কয়ারের দাবি, এ ঘটনার মাধ্যমে ইনফান্তিনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন, যা আইওসির নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য হিসেবে ইনফান্তিনোর ওপর অলিম্পিক চার্টার ও আইওসি নৈতিকতা বিধিমালা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব বিধি ভঙ্গ করলে আইওসি সদস্যপদ
২ দিন আগে
টেস্ট আর ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশি ব্যাটারদের রানখরা অব্যাহত রয়েছে। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ালেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু হলো হার দিয়ে। জিম্বাবুয়ের তোলা ৬ উইকেটে ১৭০ রানের জবাবে বাংলাদেশ থেমেছে ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে। দল হেরেছে ৩২ রানে।
২ দিন আগে
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। বুধবার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
২ দিন আগে