
টিম রাজনীতি ডটকম

গোল না পাওয়ার ডেডলক ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু। দুই দলের কেউই কোনো পরিবর্তন আনেনি হাফটাইমে।

ইংল্যান্ডের একটি শট ক্রসবারের অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গোলকিক হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়েছে। এ অর্ধে কোনো দলই নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বলের দখলেও দুই দলই কাছাকাছি— আর্জেন্টিনার ৫৬ শতাংশের বিপরীতে ইংল্যান্ডের ৪৪ শতাংশ।
এ অর্ধে দুই দলই মাত্র দুটি করে শট নিতে পেরেছে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে। তবে এর মধ্যে ইংল্যান্ড লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি শট, আর্জেন্টিনার দুটি শটই ছিল লক্ষ্যের বাইরে।
আর্জেন্টিনা ১২টি ফাউল করেছে, ইংল্যান্ড করেছে ৭টি। দুই দল হলুদ কার্ডও পেয়েছে একটি করে। আর্জেন্টিনা অফসাইড হয়েছে দুবার, ইংল্যান্ড একবার। দুল কর্নার পেয়েছে একটি করে।
ইংল্যান্ডের এক্সজি তথা গোলের সুযোগ শূন্য দশমিক শূন্য ৫, আর্জেন্টিনার শূন্য দশমিক শূন্য ৩।
আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। খানিক পরে পিকফোর্ড লম্বা পাস বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু রজার অফসাইডে থাকার কারণে সে বল কাজে আসেনি।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটের খেলা শেষ। রেফারি ইনজুরি টাইম দিয়েছেন ৩ মিনিট। কোনো দলই গোল বের করতে পারেনি, নিশ্চিত গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের রজারকে বাজে ফাউল করলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। হলুদ কার্ড পেতে হয়েছে তাকে এ ফাউলের জন্য।
মেসির পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে পাসের মাধ্যমে আক্রমণের চেষ্টা। ডি-বক্সের অনেক বাইরে বল পেয়ে এনজো ফের্নান্দেস দূরপাল্লার শট নেন। তবে তা গোলবারের মধ্যে রাখতে পারেননি। ২৫ গজ দূর থেকে তার শট ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। আর্জেন্টিনাও কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের জেমসের ফ্রি-কিক পাঞ্চ করে দেন এমি। সেখান থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন আলভারেজ। তিনি বল বাড়িয়ে দেন মেসিকে। মেসি দারুণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। স্পেন্স ও হ্যারি কেইনসহ চারজনকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন। উপায়ন্তর না দেখে অ্যান্ডারসনকে ফাউল করতে হয়েছে তাকে আটকানোর জন্য। সেই ফাউলের জন্য অ্যান্ডারসনকে হলুদ কার্ড পেতে হয়েছে।
ইংল্যান্ড আক্রমণের চাপ বাড়িয়েছে। বাঁ দিক থেকে ঢুকে পড়ছিলেন বেলিংহাম। সেটি ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি আর্জেন্টিনার রক্ষণ। পরে ডি-বক্সের লাগোয়া বাঁ পাশে ফ্রি-কিক পেয়েছে ইংল্যান্ড।
ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে বাঁ দিক থেকে ফ্রি-কিক নেয় ইংল্যান্ড। জন স্টোনস হেড করেছিলেন। তবে তা গোলবারের বাইরে চলে গেলে বিপদের কারণ হতে পারেনি।
জুড বেলিংহাম বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে বাঁ দিকে তাকে ফাউল করেন রোমেরো। ফ্রি-কিক পেয়েছে ইংল্যান্ড।

শুরুতে ইংল্যান্ডকে আক্রমণাত্মক দেখালেও প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে আর্জেন্টিনাও উঠে এসেছে আক্রমণে। কোনো দলের আক্রমণই অবশ্য বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থাতেই প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকে গেছে দুই দল।
এ পর্যন্ত বল দখলে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ৫৭ শতাংশ সময় বল দখলে ছিল তাদের। বিপরীতে ইংল্যান্ডের দখলে ছিল ৪৩ শতাংশ সময়। দুই দলই সমান ৬টি করে ফাউল করেছে।
আর্জেন্টিনা নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করছিল। এর মধ্যে ম্যাক আলিস্টারকে ফাউল করেন বেলিংহাম। ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে নেওয়া সে ফ্রি-কিক পরে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে ইংল্যান্ডের রক্ষণ।
নিজেদের মধ্যে পাস বিনিময় করতে করতে ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে দারুণ বল পেয়ে গিয়েছিলেন হ্যারি কেইন। রজার্সকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বল। তার শট সহজেই তালুবন্দি করেন এমি মার্টিনেজ।
বিপজ্জনকভাবে বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। রোমেরো দলকে বিপদমুক্ত করেন।
সিমিওনে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইড হওয়ায় তার দৌড় কাজে লাগনি।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। ইংল্যান্ডকেই অবশ্য বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছে। সে তুলনায় আর্জেন্টিনা অফ দ্য বল খেলার দিকেই বেশি মনোযোগী মনে হচ্ছে।
খেলায় অবশ্য উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুদলের মধ্যেই। এরই মধ্যে ছয়টি ফাউল হয়েছে। আর্জেন্টিনা ফাউল করেছে চারটি, ইংল্যান্ড দুটি।
ইএসপিএন ইনসাইটের তথ্য বলছে, ১০ মিনিটে এত বেশি ফাউল এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। এর আগে ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচেও প্রথম ১০ মিনিটে ছয়টি ফাউল হয়েছিল।
৩ খেলোয়াড় বদলালেও ফরমেশন বদলায়নি ইংল্যান্ড। আগের ম্যাচের মতোই তারা এ ম্যাচেও ৪-২-১-৩ ফরমেশনে মাঠে নেমেছে।
সেমিফাইনালের লাইনআপে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার সামনে রক্ষণে রয়েছেন রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি ও জেড স্পেনস।
মাঝমাঠে ডিফেন্সিভ মিড হিসেবে রয়েছেন ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তাদের সামনে আক্রমণাত্মক তিন মিডফিল্ডার মরগান রজার্স, জুড বেলিংহাম ও অ্যান্থনি গর্ডন।
আক্রমণে রয়েছেন ইংলিশ ক্যাপ্টেন হ্যারি কেইন।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১-৩-২ ফরমেশনের মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচে আবার তারা ফিরে এসেছে ৪-৪-২ ফরমেশনে।
সেমিফাইনালের লাইনআপে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার সামনে রক্ষণে রয়েছেন চার সেনানী নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।
মাঝমাঠে রয়েছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেসও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার।
আর আক্রমণের দায়িত্বে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
ইংল্যান্ড একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ টমাস টুখেল। এজরি কনসা, নিকো ও’রাইলি ও ননি মাদুয়েকের জায়গায় একাদশে এসেছেন রিস জেমস, জেড স্পেনস ও মরগান রজার্স।
গোলরক্ষক: জর্ডান পিকফোর্ড
রক্ষণ: রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গেহি, জেড স্পেনস
মাঝমাঠ: ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, মরগান রজার্স, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন
আক্রমণ: হ্যারি কেইন
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে মিডফিল্ডে রদ্রিগো ডি পলকে বাদ দিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার জায়গায় শুরু থেকেই খেলবেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
রক্ষণ: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো
মাঝমাঠ: জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার
আক্রমণ: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ
১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপে ১০১ ম্যাচ শেষ। শেষ চার ম্যাচের মধ্যে প্রথম সেমিফাইনালও শেষ। এবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, যারা ফিফা র্যাংকিংয়ের যথাক্রমে দ্বিতীয় ও চতুর্থ দল। এ ম্যাচে জয়ী দলই উঠবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে দ্বিতীয়বার শিরোপার অপেক্ষায় থাকা স্পেনের।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচের এ দ্বৈরথ ঘিরে ফের ফিরে এসেছে ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপসহ নানা ঘটনা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ইতিহাস-রাজনীতি তাই উত্তাপ ছড়াতে পারে ম্যাচেও।
হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের সবশেষ আপডেট পেতে সঙ্গে থাকুন রাজনীতি ডটকমের।