ফের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবল বাংলাদেশ, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগান-জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বল্প সংগ্রহে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন আফগান তারকা স্পিনার রশিদ খান। ছবি: সংগৃহীত
৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে স্বল্প সংগ্রহে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন আফগান তারকা স্পিনার রশিদ খান। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে সমীকরণ ছিল— ফাইনালে যেতে প্রথমে ব্যাট করলে ন্যূনতম ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। টসে জিতে ব্যাটিংই বেছে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতাতেই ফাইনালের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হলো। বরং দাপুটে জয় তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ফাইনাল নিশ্চিত করল আফগানিস্তান।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ স্টেডিয়ামে টপ অর্ডারের ভয়াবহ ব্যর্থতায় মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। সামান্য এ পুঁজিতে ফাইনালে ওঠার সমীকরণে আফগানদের আটকে দিতে হতো ১১৯ রানে। ৫০ ওভারের ম্যাচে সেটি যে সম্ভব না, তা বলাই বাহুল্য। বোলাররা তবু ম্যাচ টেনে নিয়ে গেলেন ৩৬তম ওভার পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতেই ফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতার রুগ্ন প্রদর্শনীতে শূন্য হাতে ফিরেছে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের টার্গেটে তবু ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। এ ম্যাচে প্রথম উইকেটের পতন দ্বিতীয় ওভারেই, মাত্র ৬ রানে। ১ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় তানজিদ হাসানের। ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য সরকার প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ‘উপহার’ দিলেন গোল্ডেন ডাক।

আরেক ওপেনার সাইফ হাসান আর টু ডাউনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তর ইনিংস মেরামতের প্রয়াস স্থায়ী হয় মাত্র ৫ ওভার। এরপর আবার জোড়া আঘাত। শান্ত ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন উইকেটের পেছনে। হৃদয় গোল্ডেন ডাক এড়িয়েছেন, তবে আউট হয়েছেন দ্বিতীয় বলেই, বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।

সপ্তম ওভারের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান। সেখান থেকে লড়াই চালিয়ে গেলেন সাইফ হাসান আর পারভেজ হোসেন ইমন। প্রায় ২৫ ওভার টিকে থাকলেন তারা। তবে আফগান বোলারদের সামনে রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের। জুটিতে আসে ৯৩ রান।

দলীয় ১২১ রানের মাথায় সাইফ-ইমন জুটির প্রতিরোধ ভাঙেন অভিজ্ঞ আফগান স্পিনার মোহাম্মদ নবি। তার বলে বদলি ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে থামে সাইফের ৮২ বলে ৪১ রানের সংগ্রামী ইনিংস। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ থিতু হন মাত্র ৭ বল। ২ রান সংগ্রহ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। শরিফুল ইসলামও স্থায়ী হন মাত্র ১৪ বল, ৭ রান করে তিনিও ড্রেসিং রুমে ফেরেন।

দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় শেষ হয় আশার আলো হয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা পারভেজ ইমনের প্রতিরোধও। রশিদ খানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। ৯৬ বলে ৭০ রান ছিল তার সংগ্রহ। আর ৪ রান সংগ্রহ করতেই বাকি দুটি উইকেটের পতনও ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের। তাতে ইনিংসের ৮ ওভার ৪ বল বাকি থাকতেই ১৬০ রানে থামতে হয় বাংলাদেশকে।

৭০ রানের ইনিংস খেলে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তার সে চেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি। ছবি: সংগৃহীত
৭০ রানের ইনিংস খেলে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামলানোর চেষ্টা করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তার সে চেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি। ছবি: সংগৃহীত

পারভেজ ইমন (৭০), সাইফ (৪১) আর শান্ত (১৫) ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। বরং পারভেজ আর সাইফের পর ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ এসেছে অতিরিক্ত থেকে— ২২!

৩১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের সফলতম বোলার রশিদ খান। দুটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই ও ইয়ামিন আহমেদজাই। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নবি ও বিলাল সামি।

১৬০ রান ডিফেন্ড করতে নেমে দলীয় তৃতীয় ওভারেই রহমানুল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তাসকিন আহমেদ। সপ্তম ওভারে সেদিকুল্লাহ অটলকেও একই কায়দায় আউট করে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেই তাসকিনই। রহমত শাহ আর ইব্রাহিম জাদরান তৃতীয় উইকেটে ৭৮ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে সে আশায় জল ঢেলে দেন।

দলীয় ৯৫ রানের মাথায় জাদরানকে শান্তর হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৮ বলে ৩৪ রান করেছিলেন তিনি। রহমত শাহ আর হাশমতুল্লাহ শহিদি আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি। ৬৬ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে ৩৫ ওভার ৩ বলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৯০ বলে ৬৭ রান সংগ্রহ করে অপরাজিত ছিলেন রহমত, হাশমতুল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৫৪ বলে ৩৬ রান করে। তাসকিন আর মোস্তাফিজ ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি বোলার উইকেটের দেখা পাননি।

দারুণ বোলিংয়ে রশিদ খান হয়েছেন ম্যাচসেরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় আবুধাবি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় এই ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad