
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মিসরের পশ্চিম মরুভূমির বিস্তীর্ণ বালুর নিচে প্রায় এক হাজার ৬০০ বছর ধরে চাপা পড়ে ছিল এক প্রাচীন নগর। প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক খননে সেই হারিয়ে যাওয়া বাইজান্টাইন যুগের শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে। আবিষ্কৃত হয়েছে আবাসিক এলাকা, গির্জা, দুর্গ, রান্নাঘর, রুটির চুলা, ব্রোঞ্জ ও সোনার মুদ্রা, এমনকি মৃতদের মুখে রাখা সোনার পাতও।
একই সময়ে ভূমধ্যসাগর উপকূলের মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলেও মিলেছে ১৮টি নতুন সমাধি, যেখানে পাওয়া গেছে বিশাল গ্রানাইটের সারকোফাগাস, স্ফিংক্সের ভগ্নাংশ ও বহু মূল্যবান প্রত্নবস্তু।
মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন এই আবিষ্কারগুলো শুধু স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, বরং বাইজান্টাইন শাসনামলে মিসরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি, ধর্মীয় চর্চা এবং নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনবে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা পশ্চিমাঞ্চলের নিউ ভ্যালি প্রদেশের দাখলা মরূদ্যানে (ওয়েসিস) চতুর্থ শতাব্দীর একটি সুপরিকল্পিত শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন।
শহরটির রাস্তাঘাট ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। উত্তর-দক্ষিণমুখী প্রশস্ত সড়কের সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিমমুখী রাস্তার সংযোগে তৈরি হয়েছিল খোলা চত্বর ও জনসমাগমের স্থান। এসব বৈশিষ্ট্য সে সময়ের উন্নত নগর পরিকল্পনার পরিচয় বহন করে।
মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিজের মহাসচিব হিশাম এল-লেইথি বলেন, শহরের বিন্যাস দেখে বোঝা যায় এটি ছিল সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত একটি বসতি।

আবিষ্কৃত শহরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর একটি হলো চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি নির্মিত ব্যাসিলিকা-শৈলীর একটি বিশাল গির্জা।
শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর নজর রেখে উঁচু স্থানে নির্মিত এই গির্জা সে সময়ের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শহরের উপকণ্ঠ রক্ষায় নির্মিত দুটি প্রহরী টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষও পাওয়া গেছে, যা নগরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
খননে একটি শক্তিশালী দুর্গও পাওয়া গেছে। এর মোটা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শহরটিকে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া অসংখ্য বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। বাড়িগুলোতে ছিল অতিথি গ্রহণের কক্ষ, খিলানযুক্ত ছাদ এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক স্থাপনা।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় আবিষ্কারগুলোর একটি হলো ‘তিসুস’-এর বাড়ি। তিসুস ছিলেন স্থানীয় গির্জার একজন ডিকন বা ধর্মীয় কর্মকর্তা। গবেষকদের ধারণা, শহরের বড় ব্যাসিলিকা নির্মাণের আগেই এই বাড়িটি অস্থায়ী চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে এটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় কেন্দ্রের অংশে পরিণত হয়।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা শুধু স্থাপনা নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বহু চিহ্নও খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
উদ্ধার হওয়া ব্রোঞ্জের মুদ্রাগুলোতে বাইজান্টাইন সম্রাটদের প্রতিকৃতি, লাতিন ভাষার লেখা এবং খ্রিষ্টীয় প্রতীক খোদাই করা রয়েছে।
এ ছাড়া রোমান সম্রাট দ্বিতীয় কনস্টান্টিয়াসের (৩৩৭-৩৬১ খ্রিষ্টাব্দ) শাসনামলের একগুচ্ছ সোনার মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এসব মুদ্রা সে সময়ের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাক্ষ্য বহন করছে।
এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার প্রায় ২০০টি 'অস্ট্রাকা' বা লেখাযুক্ত মাটির পাত্রের ভাঙা টুকরো। প্রাচীন যুগে কাগজের পরিবর্তে এসব ভাঙা মৃৎখণ্ডে লেখা হতো বিভিন্ন তথ্য।
এগুলোর লেখায় উঠে এসেছে ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, প্রশাসনিক নথি এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের নানা ঘটনার বিবরণ। গবেষকদের মতে, এগুলো সে সময়কার সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন বোঝার ক্ষেত্রে অমূল্য দলিল হয়ে উঠতে পারে।
যেখানে এই শহরটির সন্ধান মিলেছে, সেই দাখলা মরূদ্যান বর্তমানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে স্থানটিকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিম মরুভূমির এই আবিষ্কারের পাশাপাশি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলেও বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সেখানে নতুন করে ১৮টি সমাধির সন্ধান মিলেছে।
এর মধ্যে রয়েছে— ১১টি পাহাড় কেটে তৈরি শিলাখোদিত সমাধি ও সাতটি চুনাপাথর দিয়ে নির্মিত ভূমিস্থ সমাধি।
নতুন আবিষ্কারের ফলে প্রত্নস্থলটিতে পাওয়া সমাধির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮টিতে।

খননে ২ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রানাইটের সারকোফাগাস পাওয়া গেছে। এর ভেতরে মানুষের কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা।
সারকোফাগাসের পাশেই পাওয়া গেছে প্লাস্টার দিয়ে তৈরি একটি স্ফিংক্স মূর্তির ভগ্নাংশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে—
এসব প্রত্নবস্তু প্রাচীন নগরটির ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সামাজিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরছে।
সমাধিগুলোর সবচেয়ে রহস্যময় আবিষ্কার ছিল কয়েকজন মৃত ব্যক্তির মুখের ভেতরে রাখা চারটি সোনার পাত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ভাষায় এটি 'গোল্ডেন টাং' বা 'সোনালি জিহ্বা' প্রথা।
প্রাচীন মিসরীয় ও গ্রিক-রোমান যুগের কিছু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বাস করা হতো, মৃত ব্যক্তির মুখে সোনার পাত বা জিহ্বার আকৃতির সোনার টুকরো রাখলে পরকালে দেবতাদের সঙ্গে কথা বলা সহজ হবে। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই এমন প্রথা অনুসরণ করা হতো বলে গবেষকদের ধারণা।
মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলটি ১৯৮৬ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল একসময় ভূমধ্যসাগর তীরের প্রাচীন গ্রিক-রোমান বন্দরনগরী লিউকাসপিস। দ্বিতীয় শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এই নগর চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত সমৃদ্ধভাবে টিকে ছিল।
সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো নগরটির ইতিহাস, বাণিজ্য এবং সমাধি-সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, দাখলা মরূদ্যানের বাইজান্টাইন শহর ও মারিনা এল-আলামেইনের সমাধিগুলোর এই যুগপৎ আবিষ্কার শুধু নতুন কিছু স্থাপনা উদ্ধারের ঘটনা নয়, বরং প্রাচীন মিসরের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দরজা আবার খুলে দিয়েছে।
বালুর নিচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ঘুমিয়ে থাকা এই শহর, মুদ্রা, দলিল, ঘরবাড়ি ও সমাধিগুলো এখন ইতিহাসবিদদের সামনে তুলে ধরছে এমন এক সময়ের চিত্র, যখন মিসর ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ধর্ম, বাণিজ্য ও নগর সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

মিসরের পশ্চিম মরুভূমির বিস্তীর্ণ বালুর নিচে প্রায় এক হাজার ৬০০ বছর ধরে চাপা পড়ে ছিল এক প্রাচীন নগর। প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক খননে সেই হারিয়ে যাওয়া বাইজান্টাইন যুগের শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে। আবিষ্কৃত হয়েছে আবাসিক এলাকা, গির্জা, দুর্গ, রান্নাঘর, রুটির চুলা, ব্রোঞ্জ ও সোনার মুদ্রা, এমনকি মৃতদের মুখে রাখা সোনার পাতও।
একই সময়ে ভূমধ্যসাগর উপকূলের মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলেও মিলেছে ১৮টি নতুন সমাধি, যেখানে পাওয়া গেছে বিশাল গ্রানাইটের সারকোফাগাস, স্ফিংক্সের ভগ্নাংশ ও বহু মূল্যবান প্রত্নবস্তু।
মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন এই আবিষ্কারগুলো শুধু স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, বরং বাইজান্টাইন শাসনামলে মিসরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি, ধর্মীয় চর্চা এবং নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনবে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিকরা পশ্চিমাঞ্চলের নিউ ভ্যালি প্রদেশের দাখলা মরূদ্যানে (ওয়েসিস) চতুর্থ শতাব্দীর একটি সুপরিকল্পিত শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছেন।
শহরটির রাস্তাঘাট ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। উত্তর-দক্ষিণমুখী প্রশস্ত সড়কের সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিমমুখী রাস্তার সংযোগে তৈরি হয়েছিল খোলা চত্বর ও জনসমাগমের স্থান। এসব বৈশিষ্ট্য সে সময়ের উন্নত নগর পরিকল্পনার পরিচয় বহন করে।
মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিজের মহাসচিব হিশাম এল-লেইথি বলেন, শহরের বিন্যাস দেখে বোঝা যায় এটি ছিল সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত একটি বসতি।

আবিষ্কৃত শহরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর একটি হলো চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি নির্মিত ব্যাসিলিকা-শৈলীর একটি বিশাল গির্জা।
শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর নজর রেখে উঁচু স্থানে নির্মিত এই গির্জা সে সময়ের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শহরের উপকণ্ঠ রক্ষায় নির্মিত দুটি প্রহরী টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষও পাওয়া গেছে, যা নগরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
খননে একটি শক্তিশালী দুর্গও পাওয়া গেছে। এর মোটা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শহরটিকে সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া অসংখ্য বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। বাড়িগুলোতে ছিল অতিথি গ্রহণের কক্ষ, খিলানযুক্ত ছাদ এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক স্থাপনা।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় আবিষ্কারগুলোর একটি হলো ‘তিসুস’-এর বাড়ি। তিসুস ছিলেন স্থানীয় গির্জার একজন ডিকন বা ধর্মীয় কর্মকর্তা। গবেষকদের ধারণা, শহরের বড় ব্যাসিলিকা নির্মাণের আগেই এই বাড়িটি অস্থায়ী চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে এটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় কেন্দ্রের অংশে পরিণত হয়।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা শুধু স্থাপনা নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বহু চিহ্নও খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
উদ্ধার হওয়া ব্রোঞ্জের মুদ্রাগুলোতে বাইজান্টাইন সম্রাটদের প্রতিকৃতি, লাতিন ভাষার লেখা এবং খ্রিষ্টীয় প্রতীক খোদাই করা রয়েছে।
এ ছাড়া রোমান সম্রাট দ্বিতীয় কনস্টান্টিয়াসের (৩৩৭-৩৬১ খ্রিষ্টাব্দ) শাসনামলের একগুচ্ছ সোনার মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এসব মুদ্রা সে সময়ের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাক্ষ্য বহন করছে।
এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার প্রায় ২০০টি 'অস্ট্রাকা' বা লেখাযুক্ত মাটির পাত্রের ভাঙা টুকরো। প্রাচীন যুগে কাগজের পরিবর্তে এসব ভাঙা মৃৎখণ্ডে লেখা হতো বিভিন্ন তথ্য।
এগুলোর লেখায় উঠে এসেছে ব্যবসায়িক লেনদেন, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, প্রশাসনিক নথি এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের নানা ঘটনার বিবরণ। গবেষকদের মতে, এগুলো সে সময়কার সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন বোঝার ক্ষেত্রে অমূল্য দলিল হয়ে উঠতে পারে।
যেখানে এই শহরটির সন্ধান মিলেছে, সেই দাখলা মরূদ্যান বর্তমানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে স্থানটিকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিম মরুভূমির এই আবিষ্কারের পাশাপাশি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলেও বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সেখানে নতুন করে ১৮টি সমাধির সন্ধান মিলেছে।
এর মধ্যে রয়েছে— ১১টি পাহাড় কেটে তৈরি শিলাখোদিত সমাধি ও সাতটি চুনাপাথর দিয়ে নির্মিত ভূমিস্থ সমাধি।
নতুন আবিষ্কারের ফলে প্রত্নস্থলটিতে পাওয়া সমাধির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮টিতে।

খননে ২ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রানাইটের সারকোফাগাস পাওয়া গেছে। এর ভেতরে মানুষের কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা।
সারকোফাগাসের পাশেই পাওয়া গেছে প্লাস্টার দিয়ে তৈরি একটি স্ফিংক্স মূর্তির ভগ্নাংশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে—
এসব প্রত্নবস্তু প্রাচীন নগরটির ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও সামাজিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরছে।
সমাধিগুলোর সবচেয়ে রহস্যময় আবিষ্কার ছিল কয়েকজন মৃত ব্যক্তির মুখের ভেতরে রাখা চারটি সোনার পাত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ভাষায় এটি 'গোল্ডেন টাং' বা 'সোনালি জিহ্বা' প্রথা।
প্রাচীন মিসরীয় ও গ্রিক-রোমান যুগের কিছু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বাস করা হতো, মৃত ব্যক্তির মুখে সোনার পাত বা জিহ্বার আকৃতির সোনার টুকরো রাখলে পরকালে দেবতাদের সঙ্গে কথা বলা সহজ হবে। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই এমন প্রথা অনুসরণ করা হতো বলে গবেষকদের ধারণা।
মারিনা এল-আলামেইন প্রত্নস্থলটি ১৯৮৬ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ছিল একসময় ভূমধ্যসাগর তীরের প্রাচীন গ্রিক-রোমান বন্দরনগরী লিউকাসপিস। দ্বিতীয় শতাব্দীতে গড়ে ওঠা এই নগর চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত সমৃদ্ধভাবে টিকে ছিল।
সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো নগরটির ইতিহাস, বাণিজ্য এবং সমাধি-সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, দাখলা মরূদ্যানের বাইজান্টাইন শহর ও মারিনা এল-আলামেইনের সমাধিগুলোর এই যুগপৎ আবিষ্কার শুধু নতুন কিছু স্থাপনা উদ্ধারের ঘটনা নয়, বরং প্রাচীন মিসরের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দরজা আবার খুলে দিয়েছে।
বালুর নিচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ঘুমিয়ে থাকা এই শহর, মুদ্রা, দলিল, ঘরবাড়ি ও সমাধিগুলো এখন ইতিহাসবিদদের সামনে তুলে ধরছে এমন এক সময়ের চিত্র, যখন মিসর ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ধর্ম, বাণিজ্য ও নগর সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

বাড়ির উঠোনের এক পাশে খড়ের পালা, অন্য পাশে পুঁথি পাঠের আয়োজন। ভ্যাপসা গরমেও মানুষের আগ্রহে কমতি নেই। আয়োজকরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। মাথার ওপরে পূর্ণিমার চাঁদ, আর উঠোনে কুপি ও হারিকেনের আলো— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল অন্যরকম এক আবহ।
১৮ দিন আগে
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে বলেছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সামাজিক নৈরাজ্য তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশে পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা এবং পারি
১৯ দিন আগে
এথিকের প্রথম প্রযোজনা ‘হাঁড়ি ফাটিবে’ নতুন আঙ্গিকে নির্দেশনা দিয়েছেন মিন্টু সরদার। নাটকটির শততম মঞ্চায়ন উপলক্ষ্যে মঞ্চ ও নেপথ্যে যুক্ত থাকা ১০০ জন কলাকুশলীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।
২০ আগস্ট ২০২৬
১৯৪৯ সালের এ দিনে সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মফিজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব কাস্টমস এবং মা মরহুম ফিরোজা খাতুন।
১৮ আগস্ট ২০২৬