ছোটগল্প

ডাকপিয়ন

এম ডি মাসুদ খান
গল্প: ডাকপিয়ন। অলঙ্করণ: রাজনীতি ডটকম

মফস্বল শহরগুলোর একটা নিজস্ব গন্ধ থাকে— ভেজা মাটির, ধুলো উড়ে যাওয়া বিকেলের, আর মানুষের অগোচরে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসের। সেই ছোট্ট শহরের সরু কাঁচা রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিন সূর্য ওঠে, আবার অস্ত যায়। মানুষ বাঁচে, স্বপ্ন দেখে, হারিয়ে যায়। অথচ শহরটা যেন সবকিছুই নীরবে বুকে আগলে রাখে।

সেই শহরেই জন্মেছিল আবির। তার জন্মের দিনটা হয়তো কারও কাছে বিশেষ কিছু ছিল না। কোনো উৎসব হয়নি, বাজেনি কোনো বাদ্যযন্ত্র। কিন্তু এক মায়ের কাছে সেদিনই পৃথিবীটা নতুন করে আলোয় ভরে উঠেছিল। নিজের সমস্ত দুঃখ ভুলে তিনি ছেলেকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘তুই মানুষ হবি, বাবা। শুধু বড় মানুষ না, মানুষের মতো মানুষ হবি।’

কিন্তু ভাগ্য যেন ছোটবেলা থেকেই আবিরকে কঠিন পরীক্ষার জন্য বেছে নিয়েছিল। খুব অল্প বয়সেই বাবাকে হারায় সে। সংসারের একমাত্র ভরসা ভেঙে পড়তেই তাদের ছোট্ট ঘরটায় নেমে আসে অভাবের দীর্ঘ ছায়া। মা দিনমজুরের কাজ করতেন। কখনো ইট বহন করতেন, কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, কখনো রোদের আগুনে দাঁড়িয়ে মাথায় বালুর ঝুড়ি তুলতেন।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেন ক্লান্ত শরীরে, রোদে পোড়া মুখে, হাতজোড়া ফেটে রক্তাক্ত। তবুও ছেলের সামনে হাসার চেষ্টা করতেন। অনেক রাতেই হাঁড়িতে ভাত থাকত না। কিন্তু মা বলতেন, ‘আমার খিদে নেই, বাবা। তুই খেয়ে নে।’

আবির জানত, মায়েরও খিদে পেয়েছে। তবুও সে কিছু বলত না। দুজন মানুষ না খেয়েও একে অপরকে তৃপ্ত দেখানোর অভিনয় করত। সেই অভিনয়ই ছিল তাদের ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মম ভাষা।

সেই দিনগুলোতেই আবির শিখে গিয়েছিল— সব কান্নার শব্দ হয় না। কিছু কান্না বুকের ভেতর নিঃশব্দে পাথর হয়ে জমে থাকে। অভাব তাকে ভাঙতে পারেনি। বরং আরও শক্ত করে গড়ে তুলেছিল।

স্কুলে পড়াশোনায় ভালো ছিল আবির। পুরোনো বই, ছেড়া খাতা আর ধার করা কলম দিয়েই স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল। রাতে কুপির আলোয় পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ত, সে নিজেও জানত না। অনেক সময় মা চুপচাপ এসে বইটা বন্ধ করে দিতেন, ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করতেন।

ম্যাট্রিক পাস করার পর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ডাক বিভাগে ডাকপিয়নের চাকরি পেল আবির। চাকরিটা খুব বড় ছিল না। বেতনও সামান্য। কিন্তু তার কাছে মনে হয়েছিল, যেন পুরো পৃথিবীটা হাতে পেয়ে গেছে। প্রথম বেতনের টাকা মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার সময় আবিরের চোখে যে আনন্দ ছিল, তা কোনো ধনীর সম্পদেও কেনা যায় না।

মা শুধু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আজ তোর বাবা বেঁচে থাকলে কত খুশি হতো!’

আবির কিছু বলতে পারেনি। শুধু মায়ের হাত দুটো নিজের কপালে ঠেকিয়ে রেখেছিল।

কিন্তু সুখ যেন তাদের ঘরে বেশিদিন থাকতে চাইল না। বছর ঘুরতেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন মা। ধীরে ধীরে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে গেলেন। চিকিৎসার জন্য যা ছিল, সব খরচ করে ফেলল আবির। তবু শেষ পর্যন্ত এক ভোরবেলায়, যখন জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো ঘরে ঢুকছিল, মা নিঃশব্দে পৃথিবীর সব কষ্ট থেকে মুক্তি নিয়ে চলে গেলেন।

সেদিন প্রথমবার আবির বুঝেছিল, পৃথিবীতে সত্যিকারের একাকীত্ব কাকে বলে।

একটা ছোট্ট ঘর।

একটা খালি ভাতের থালা।

আর অসহনীয় নীরবতা।

তবু জীবন থেমে থাকেনি। প্রতিদিনের মতো কাঁধে চিঠিভর্তি ব্যাগ তুলে আবার রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিল সে। মানুষের সুখের খবর পৌঁছে দিত, দুঃখের খবর পৌঁছে দিত, কারও অপেক্ষার অবসান ঘটাত। শুধু নিজের জীবনে আর কোনো অপেক্ষার মানুষ ছিল না। ঠিক সেই সময়েই তার জীবনে এলো নীলা।

একটি অনাথ আশ্রমে সরকারি চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়েছিল আবির। সেখানেই প্রথম দেখেছিল তাকে। সাদামাটা সালোয়ার-কামিজ পরা একটি মেয়ে। মুখে কোনো সাজ নেই। চোখ দুটো গভীর, শান্ত, অথচ অদ্ভুত বিষণ্ণ। মনে হচ্ছিল, অনেক না-বলা গল্প লুকিয়ে আছে সেই চোখের ভেতর।

চিঠি বুঝিয়ে দিয়ে ফিরে আসছিল আবির। হঠাৎ পেছন থেকে মেয়েটি ডেকে উঠল, ‘একটু দাঁড়াবেন?’

আবির ফিরে তাকাল। নীলা একটু ইতস্তত করে বলল, ‘আমার নামে কোনো চিঠি কখনো আসে না। তবুও প্রতিদিন গেটের দিকে তাকিয়ে থাকি। আজ আপনাকে দেখে মনে হলো... যদি কোনোদিন আসে, আপনি কি আমাকে নিজে হাতে দেবেন?’

প্রশ্নটা শুনে আবিরের বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। মৃদু হেসে বলেছিল, ‘অবশ্যই দেবো।’

সেদিনের সেই ছোট্ট কথোপকথনই ছিল এক দীর্ঘ গল্পের শুরু। এরপর মাঝেমধ্যেই দেখা হতে লাগল। কথা বাড়ল। দুজনেই বুঝতে পারল, তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় মিল— দুজনেরই পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই।

একজন বাবাহারা, মা-হারা। আরেকজন জন্ম থেকেই পরিচয়হীন। তাদের নিঃসঙ্গতা ধীরে ধীরে একে অন্যের আশ্রয় হয়ে উঠল।

একদিন বিকেলে নদীর ধারে বসে নীলা খুব আস্তে বলেছিল, ‘আবির, আমার একটা স্বপ্ন আছে।’

‘কী স্বপ্ন?’

‘আমি ডাক্তার হতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু আমার সেই স্বপ্নটা হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে।’

আবির অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। তারপর ধীরে ধীরে বলেছিল, ‘স্বপ্ন কখনো একা দেখে না, নীলা। আজ থেকে তোমার স্বপ্ন আমারও।’

নীলা অবাক হয়ে তাকিয়েছিল— ‘কিন্তু এত টাকা কোথায়?’

আবির মুচকি হেসে বলেছিল, ‘আমি প্রতিদিন একটু কম খাব। একটু বেশি হাঁটব। পুরোনো জামা আরও কয়েক বছর পরব। কিন্তু তোমার পড়া বন্ধ হবে না।’

নীলার চোখ ভিজে উঠেছিল। সেদিন হয়তো সে প্রথম বুঝেছিল— ভালোবাসা বড় বড় প্রতিশ্রুতিতে নয়, ছোট ছোট ত্যাগে বেঁচে থাকে।

অল্প কিছুদিন পর খুব সাধারণভাবে তাদের বিয়ে হলো। না ছিল জাঁকজমক, না ছিল আড়ম্বর। ছিল শুধু দুটো মানুষের একসঙ্গে বেঁচে থাকার অঙ্গীকার।

সংসার শুরু হলো। সেখানে দামী আসবাব ছিল না। ছিল না বিলাসিতা। ছিল একটি কাঠের খাট, একটি টেবিল, কয়েকটি বই, আর দুটো মানুষের সীমাহীন বিশ্বাস।

সকালে আবির ডাকপিয়নের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে যেত। আর নীলা বই নিয়ে বসে পড়ত। রাত গভীর হলে আবির ফিরে এসে ক্লান্ত শরীর নিয়েও নীলার পাশে বসত। চা বানিয়ে দিত। পড়া শুনত। কঠিন বিষয়গুলো বুঝতে না পারলেও মন দিয়ে শুনত। কারণ সে জানত, ভালোবাসা সবকিছু বুঝে নেওয়ার নাম নয়, পাশে থাকার নাম।

একদিন পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। নীলা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেল। সেদিন দুজনেই অনেকক্ষণ কোনো কথা বলতে পারেনি। রাতের আকাশে অসংখ্য তারা জ্বলছিল।

নীলা আবিরের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল, ‘তুমি আমার জন্য এত কিছু করছো... আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?’

আবির আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, ‘আমার কিছুই লাগবে না। শুধু একটা কথা দাও।’

‘কী কথা?’’

‘যেদিন তুমি নিজেকে সফল মানুষ বলে মনে করবে, সেদিন আমাকে একটা চিঠি লিখবে। তোমার নিজের হাতে লেখা, ভালোবাসায় ভরা একটা চিঠি।’

নীলা হাসতে হাসতে বলল, ‘এতটুকুই?’

আবির মাথা নাড়ল— ‘হ্যাঁ। কারণ একজন ডাকপিয়নের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো একটা অপেক্ষার চিঠি।’

নীলা তার হাতটা শক্ত করে ধরে বলেছিল, ‘আমি কথা দিলাম। সেই চিঠি তুমি অবশ্যই পাবে।’

সেই রাতের আকাশ সাক্ষী ছিল। দুজনেই জানত না— ভাগ্যও নীরবে সেই কথাটাই শুনছিল।

সময় কখনো কারও জন্য থেমে থাকে না। সে তার নিজস্ব গতিতে মানুষকে বদলে দেয়, সম্পর্ককে পরীক্ষা করে। আর ভালোবাসাকে নিয়ে যায় এমন এক মোড়ে, যেখানে হৃদয় আর বাস্তবতা একে অন্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যায়।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর নীলার জীবন যেন নতুন এক পৃথিবীর দরজা খুলে দিল। প্রথম দিকে প্রতিটি ছুটিতে সে বাড়ি ফিরত। আবিরের জন্য ছোট্ট কিছু নিয়ে আসত— কখনো একটি কলম, কখনো একটি রুমাল, কখনো বা নিজের হাতে লেখা ছোট্ট একটি নোট।

সেই নোটগুলো আবির বুকের ভেতর যত্ন করে রেখে দিত। রাতের নীরবতায় একা বসে বারবার পড়ত। প্রতিটি অক্ষরে সে খুঁজে নিত নিজের বেঁচে থাকার কারণ।

আবিরের জীবন তখনো একই ছন্দে চলছিল। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে কাঁধে চিঠিভর্তি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়া, মানুষের দোরগোড়ায় সুখ-দুঃখ পৌঁছে দেওয়া, আর সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে ছোট্ট ঘরে ফিরে নীলার পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া— এই ছিল তার প্রতিদিনের জীবন।

নিজের জন্য কোনো চাওয়া ছিল না আবিরের। একজোড়া নতুন জুতো কেনার প্রয়োজন ছিল, তবু সে কিনল না। শীতের রাতে পুরোনো সোয়েটারেই কাঁপতে কাঁপতে ঘুমিয়ে পড়ল, কারণ সেই টাকায় নীলার একটি রেফারেন্স বই কেনা যাবে। মাসের শেষে নিজের ওষুধ না কিনে নীলার কোচিং ফি জমা দিলো।

প্রতিটি ত্যাগের ভেতর তার একটাই আনন্দ ছিল— নীলার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীলার চারপাশ বদলে যেতে লাগল। নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ, নতুন পরিচয়। তার চারপাশে এখন সফল মানুষের ভিড়। আধুনিক জীবন, উজ্জ্বল আলো, সম্মান আর সম্ভাবনার নতুন জগৎ।

ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমে গেল। ব্যস্ততার অজুহাতে দিন পেরিয়ে সপ্তাহ, সপ্তাহ পেরিয়ে মাস কেটে যেতে লাগল।

আবির কখনো অভিযোগ করেনি। সে নিজেকে বুঝিয়েছে— মানুষ বড় হলে দায়িত্বও বড় হয়। ব্যস্ত থাকাটাই স্বাভাবিক।

তবু প্রতিদিন বিকেলে ডাকঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সে একবার অন্তত নিজের নামের খামগুলোর দিকে তাকাত।

হয়তো আজ... হয়তো আজ নীলা কথা রাখবে।

কিন্তু প্রতিটি দিনই শেষ হতো একই শূন্যতা নিয়ে।

এক সন্ধ্যায় নীলা বাড়ি ফিরেছিল অনেকদিন পর। সেই আগের উচ্ছ্বাস ছিল না। কথাগুলোও কেমন যেন মাপা। আবির অনেকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর মৃদু হেসে বলেছিল, ‘অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে তোমাকে।’

নীলা শুধু মাথা নেড়েছিল। কিছুক্ষণ নীরবতার পর সে ধীরে বলল, ‘আবির... আমাদের জীবন দুজনের আলাদা হয়ে গেছে।’

আবির বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল— ‘মানে?’

নীলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল— ‘আমার এখন অনেক বড় দায়িত্ব। অনেক বড় সমাজে চলতে হয়। সবকিছু... আগের মতো নেই।’

আবির চুপচাপ শুনছিল। তার বুকের ভেতর যেন অদৃশ্য কিছু ভেঙে পড়ছিল, কিন্তু মুখে তার কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না। শুধু খুব আস্তে বলল, ‘আমি কি তোমার পথের বাধা হয়ে গেছি?’

নীলা কোনো উত্তর দিল না। সেই নীরবতাই উত্তর হয়ে রইল।

তারপর থেকে দূরত্ব আরও বেড়ে গেল। এক ছাদের নিচে থেকেও দুজন মানুষ দুই পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে গেল।

একজন অপেক্ষা করত। আরেকজন ব্যস্ত হয়ে উঠত অপেক্ষাকে ভুলে যেতে। একদিন নীলা শহরে স্থায়ীভাবে চলে গেল। বিদায়ের সময়ও আবির শুধু বলেছিল, ‘নিজের যত্ন নিও।’

নীলা ফিরে তাকায়নি। আবির অনেকক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে দেখল, নীলার ব্যবহৃত চায়ের কাপটি এখনো টেবিলের ওপর রাখা। সে কাপটি ধুয়েও ফেলল না। যেন স্মৃতিগুলো মুছে না যায়।

দিন গড়িয়ে বছর হলো। এই সময়ে আবির অসংখ্য চিঠি মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে। কারও চাকরির নিয়োগপত্র। কারও সন্তানের জন্মের খবর। কারও বিয়ের নিমন্ত্রণ। কারও মৃত্যুসংবাদ।

প্রতিটি চিঠি পৌঁছে দিয়ে মনে মনে একবার নিজের ঠিকানাটাও খুঁজে দেখত আবির। কিন্তু তার নামে কোনো চিঠি আসত না। তবু সে বিশ্বাস হারায়নি। কারণ ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, অপেক্ষাও একদিন সত্যি হবে— এই বিশ্বাসেই সে বেঁচে ছিল।

তারপর একদিন...

একটি সাধারণ সকাল। ডাকঘরের কাঠের টেবিলে বসে আবির চিঠিগুলো সাজাচ্ছিল। হঠাৎ এক সহকর্মী এগিয়ে এসে বলল, ‘আবির ভাই... আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।

শব্দগুলো শুনেই তার বুক ধক করে উঠল। এতদিন পর?

হাত কাঁপতে লাগল। ধীরে ধীরে খামটা হাতে নিল। প্রেরকের নাম পড়তেই তার চোখ ভিজে উঠল— ডা. নীলা রহমান।

ঠোঁটে অজান্তেই একফোঁটা হাসি ফুটে উঠল। সে মনে মনে বলল, ‘শেষ পর্যন্ত তুমি কথা রেখেছ, নীলা।’

কাঁপা হাতে খাম খুলল। ভেতরে একটি মাত্র কাগজ। কয়েকটি ছোট্ট বাক্য।

‘আমাদের পথ এখন আলাদা। তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা আছে। কিন্তু সম্পর্ক নয়। অনুগ্রহ করে আমাকে মুক্তি দাও।’

নিচে নীলার স্বাক্ষর। আর একটি শব্দ— ডিভোর্স।

মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীটা যেন থেমে গেল। চারপাশে মানুষ কথা বলছে। ডাকঘরের ঘণ্টা বাজছে। খামের শব্দ হচ্ছে। সবকিছুই চলছে। শুধু আবিরের ভেতরের সময় থেমে গেছে।

সে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। কেউ বুঝতে পারল না, একজন মানুষের বুকের ভেতর ঠিক তখনই একটা পুরো পৃথিবী ভেঙে ধুলো হয়ে গেল।

কোনো কান্না এল না। কোনো অভিযোগও না। শুধু খুব যত্ন করে কাগজটা ভাঁজ করে বুকপকেটে রেখে দিল। যেন এটাও তার কাছে অমূল্য কোনো সম্পদ। কারণ এটাই তো সেই চিঠি— যে চিঠির জন্য সে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছিল।

হ্যাঁ... নীলা কথা রেখেছিল। সে সত্যিই একটি চিঠি লিখেছিল। শুধু সেই চিঠিতে ভালোবাসা ছিল না। ছিল ভালোবাসার সমাপ্তির ঘোষণা।

সেদিনও আবির কাঁধে ব্যাগ তুলে নিয়েছিল। অন্যের সুখের খবর, অন্যের ভালোবাসা, অন্যের অপেক্ষার উত্তর পৌঁছে দিতে বেরিয়ে পড়েছিল। রাস্তার মানুষ কেউ বুঝতে পারেনি, তাদের পাশ দিয়ে হাঁটছে এমন একজন মানুষ, যার নিজের সমস্ত স্বপ্ন মাত্র কয়েকটি বাক্যে শেষ হয়ে গেছে।

সেই রাতেই প্রথমবার আবির বুঝল— কিছু মানুষ জীবনে আসে আমাদের পূর্ণ করতে নয়; অপূর্ণতার অর্থ শেখাতে। আর কিছু চিঠি মানুষের হাতে পৌঁছায় ঠিকই, কিন্তু তার প্রকৃত ঠিকানা হয় হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর ক্ষত। সেদিন থেকে আবিরের জীবন আবারও নিঃসঙ্গ হয়ে গেল।

তবে এবার সে একা ছিল না। তার সঙ্গে ছিল একটি পুরোনো খাম। একটি ডিভোর্সের কাগজ। আর এক অসমাপ্ত অপেক্ষা, যার শেষ কোথায়, তা সে নিজেও জানত না।

মানুষ ভাবে, একটি স্বাক্ষরেই সম্পর্কের শেষ হয়ে যায়। আদালতের কাগজে লেখা কয়েকটি বাক্য, একটি সই, আর দুটি আলাদা পথ—ব্যস, গল্প শেষ। কিন্তু জীবন কখনো কাগজের নিয়ম মেনে চলে না। কখনো কখনো সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর চিহ্নটি নীরবে জন্ম নিতে থাকে, কারও অজান্তে।

ডিভোর্সের কাগজে স্বাক্ষর করার দিনটিতেই নীলা বুঝেছিল— তার শরীরের ভেতর আরেকটি হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। সেই হৃদস্পন্দন ছিল তার এবং আবিরের ভালোবাসার শেষ স্মৃতি।

সে জানত। খুব ভালো করেই জানত। তবু সে সত্যিটা কাউকে জানাল না। আবিরকেও না। কারণ সে তখন এমন এক জীবনের অংশ হয়ে গেছে, যেখানে অতীতের পরিচয়কে মানুষ দুর্বলতা বলে মনে করে।

সে নিজের চারপাশে সম্মান, পরিচয় আর সামাজিক অবস্থানের এমন এক প্রাচীর গড়ে তুলেছিল, যার ভেতরে আবিরের নাম উচ্চারণ করার সাহসও তার আর ছিল না। রাতের পর রাত সে একা কেঁদেছে। অনেকবার কলম হাতে নিয়ে আবিরকে চিঠি লিখতে বসেছে। প্রথম লাইন লিখেছে— ‘আবির, তোমাকে একটা কথা বলার আছে...’

তারপর থেমে গেছে। কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। কারণ সত্যিটা স্বীকার করার সাহস তার ছিল না।

কয়েক মাস পরে এক ভোরে পৃথিবীতে এলো একটি কন্যাশিশু। শিশুটি প্রথমবার কেঁদে উঠতেই হাসপাতালের ঘর ভরে গেল জীবনের সুরে। নীলা কাঁপা হাতে শিশুটিকে বুকে তুলে নিল। অদ্ভুত এক অনুভূতি তার বুকের ভেতর ছড়িয়ে পড়ল। মনে হলো, সে যেন আবিরেরই মুখ ছুঁয়ে আছে।

শিশুটির চোখ দুটো ছিল গভীর, শান্ত, স্বচ্ছ। হুবহু আবিরের মতো। নীলা অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর খুব আস্তে বলল, ‘তোমার নাম হবে... অদ্রিতা।’

শিশুটি কিছুই বুঝল না। কিন্তু নীলা বুঝল— এই ছোট্ট মুখের ভেতর লুকিয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য, আর সবচেয়ে বড় অপরাধ।

অদ্রিতা বড় হতে লাগল। প্রথম হাঁটা। প্রথম কথা বলা। প্রথম স্কুলে যাওয়া। প্রতিটি মুহূর্তে নীলার মনে পড়ত আবিরের কথা। সে ভাবত— আজ যদি আবির থাকত! আজ যদি সে মেয়েকে কোলে নিতে পারত! আজ যদি একবার ‘বাবা’ ডাকটা শুনতে পেত!

কিন্তু সেই ভাবনাগুলো প্রতিবারই নীলা নিজের ভেতর চাপা দিয়ে দিত। কারণ সে নিজেই সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

একদিন পাঁচ বছরের অদ্রিতা মায়ের কোলে মাথা রেখে জিজ্ঞেস করল, ‘মা, আমার বাবা কোথায়?’

প্রশ্নটা শুনে নীলার বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। অনেকক্ষণ সে কোনো কথা বলতে পারল না। জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। তারপর ঠোঁটে জোর করে একটি হাসি এনে বলল, ‘তোমার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন, মা।’

কথাগুলো বলতে বলতে তার কণ্ঠ কেঁপে উঠেছিল। অদ্রিতা নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে ছিল। সে মায়ের কথা বিশ্বাস করল। বিশ্বাস করা ছাড়া তার আর কোনো পথও ছিল না।

সেদিন রাতেই ছোট্ট মেয়েটি দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিল, ‘আমার বাবাকে ভালো রেখো।’

যার জন্য সে দোয়া করছিল, সেই মানুষটি তখনো জীবিত। একটি ছোট্ট ডাকঘরে বসে অন্য মানুষের চিঠি গুছিয়ে রাখছিল। কিন্তু কেউই জানত না— বাবা আর মেয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র মিথ্যে।

বছর গড়িয়ে যেতে লাগল। অদ্রিতা পড়ালেখায় অসাধারণ মেধার পরিচয় দিলো। মানুষের কষ্ট দেখলে তার মন কেঁদে উঠত। হয়তো রক্তের ভেতর কোথাও আবিরের মমতা আর নীলার স্বপ্ন একসঙ্গে বেঁচে ছিল।

নীলা কখনো তাকে কোনো অভাব বুঝতে দেয়নি। কিন্তু একটি শূন্যতা কোনোদিন পূরণ করতে পারেনি। বাবার শূন্যতা।

স্কুলে মা-বাবার অনুষ্ঠানে অন্য বাচ্চারা যখন বাবার হাত ধরে আসত, অদ্রিতা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকত। কখনো কাউকে কিছু বলত না। শুধু বাড়ি ফিরে পুরোনো খাতায় একটি মানুষের মুখ আঁকার চেষ্টা করত, যে মুখ সে কোনোদিন দেখেনি। তার কল্পনার বাবা ছিলেন একজন ভালো মানুষ, যিনি নিশ্চয়ই তাকে খুব ভালোবাসতেন। কারণ একটি শিশুর হৃদয় কখনো সহজে বিশ্বাস করতে পারে না— তার বাবা তাকে ভালোবাসতেন না।

অন্যদিকে... আবিরের জীবনও থেমে ছিল না। তবে সে আর বাঁচত না। শুধু দিন পার করত। প্রতিদিনের মতো ভোরে উঠে নামাজ পড়ত। ডাকঘরে যেত। অন্যের সুখ-দুঃখের সংবাদ পৌঁছে দিত। বিকেলে বাড়ি ফিরে এক কাপ চা বানাত।

তারপর বুকপকেট থেকে সেই পুরোনো ডিভোর্সের চিঠিটি বের করে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকত। কখনো পড়ত। কখনো শুধু ছুঁয়ে রাখত। মনে হতো, এই এক টুকরো কাগজেই তার পুরো জীবন আটকে আছে।

এভাবেই কেটে গেল ত্রিশটি দীর্ঘ বছর। ত্রিশ বছর— যার প্রতিটি দিন ছিল অপেক্ষার। প্রতিটি রাত ছিল স্মৃতির।

সময় নীলার চুলে সাদা রঙ ছড়িয়ে দিলো। তার চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা বসে গেল। যে হাতে একদিন মানুষের জীবন বাঁচানোর শপথ ছিল, সেই হাত আজ মাঝরাতে নিঃশব্দে কাঁপে। অনুশোচনারও একটি বয়স হয়। যত বছর বাড়ে, তার ভার তত গভীর হয়।

ডাক্তারের সাদা অ্যাপ্রন অনেক আগেই আলমারির ভেতর তুলে রাখা হয়েছে। এখন তার দিন কাটে নিঃশব্দে। আর রাত কাটে অতীতের সঙ্গে লড়াই করে।

অন্যদিকে অদ্রিতাও বড় হয়ে গেছে। সে এখন একজন চিকিৎসক। মানুষ তাকে সম্মান করে। রোগীরা তার চোখে ভরসা খুঁজে পায়। অনেকেই বলে, ‘আপনার হাতে যেন আল্লাহ শিফা দিয়েছেন।’

অদ্রিতা শুধু মৃদু হেসে মাথা নাড়ে। কিন্তু নিজের ভেতরের একটি প্রশ্নের উত্তর সে কোনোদিন খুঁজে পায়নি। প্রতিটি জন্মদিনে... প্রতিটি ঈদে... প্রতিটি সাফল্যের দিনে... তার মনে একটি প্রশ্নই ফিরে আসে— আমার বাবা সত্যিই কেমন মানুষ ছিলেন? তিনি কি হাসতেন? আমার কথা কখনো জানলে কি আমাকে একবারও বুকে জড়িয়ে ধরতেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দেয় না। নীলাও না। কারণ কিছু সত্য এত ভারী হয় যে, মানুষ সারাজীবন তা বয়ে বেড়ায়, কিন্তু উচ্চারণ করতে পারে না।

সময় তার নিজের নিয়মে চলতেই থাকে। কিন্তু ভাগ্য কখনো কখনো খুব দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমন একটি দরজা খুলে দেয়, যার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকে হারিয়ে যাওয়া সমস্ত উত্তর। আর সেই দরজাটি খুলবে এক বর্ষার দুপুরে...

একটি পুরোনো কাঠের আলমারির ভেতর লুকিয়ে থাকা কয়েকটি হলদে চিঠির হাত ধরে। যেখানে লেখা থাকবে শুধু একটি মানুষের নাম— মো. আবির হোসেন।

মানুষের জীবনে এমন কিছু দুপুর আসে, যেগুলো ক্যালেন্ডারের কোনো সাধারণ দিনের মতো শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত পুরো জীবনটাকেই বদলে দেয়। সেদিনও ঠিক তেমনই এক বর্ষার দুপুর ছিল।

আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ। টিনের চালে বৃষ্টির একটানা শব্দ। বাতাসে পুরোনো কাঠ, ভেজা মাটি আর স্মৃতির গন্ধ।

নীলা বহুদিন ধরেই অসুস্থ। বয়স তাকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তুলেছে। ডাক্তারি পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পর ঘরের পুরোনো জিনিসগুলোও আর কখনো গুছিয়ে দেখা হয়নি। সেদিন অদ্রিতা সিদ্ধান্ত নিল— পুরোনো কাঠের আলমারিটা পরিষ্কার করবে।

আলমারিটা ছিল অনেক বছরের সাক্ষী। তার গায়ে সময়ের দাগ, কাঠের গন্ধে জমে থাকা অগণিত স্মৃতি। দরজা খুলতেই ধুলো উড়ে উঠল। পুরোনো শাড়ি, কয়েকটি ডায়েরি, কিছু মেডিকেল বই আর নিচের ড্রয়ারে যত্ন করে রাখা কয়েকটি হলদে খাম।

খামগুলো যেন সময়ের কাছে হার না-মানা কিছু অপেক্ষা। অদ্রিতা কৌতূহলী হয়ে সেগুলো হাতে নিল।

প্রথম খামটির ওপর লেখা— প্রেরক: মো. আবির হোসেন।

নামটা পড়তেই তার বুকের ভেতর যেন অজানা এক সুর বেজে উঠল।

এই নামটি সে আগে কখনো শোনেনি।

আস্তে করে খাম খুলল। ভেতরের কাগজটি সময়ের ভারে হলদে হয়ে গেছে। অক্ষরগুলো একটু বিবর্ণ, তবুও প্রতিটি শব্দ যেন এখনও উষ্ণ। সে পড়তে শুরু করল—

‘নীলা, আজও ডাকঘরে দাঁড়িয়ে ভাবি, হয়তো আজ তোমার একটা উত্তর আসবে। যদি কখনো খুব ব্যস্ত হয়ে যাও, তবু একদিন লিখো। শুধু দুটো লাইন। আমি অপেক্ষায় আছি... থাকব।’

চিঠিটা পড়তে পড়তে অদ্রিতার বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। আরও একটি খাম খুলল। সেখানে লেখা—

‘তুমি সুখে থাকলেই আমি ভালো আছি, বিশ্বাস করো। আমার ভাগ্যে যদি শুধু অপেক্ষাই লেখা থাকে, তাহলে আমি শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এতে আমার কোনো কষ্ট নেই। কষ্ট শুধু এইটুকু— তুমি জানলে না, আমি কতটা অপেক্ষা করতে পারি।’

অদ্রিতা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। একটার পর একটা চিঠি খুলতে লাগল। কোথাও অভিযোগ নেই। কোথাও অভিমান নেই। একজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অসীম ধৈর্য আর অনন্ত অপেক্ষা— প্রতিটি লাইনে শুধু সেই গল্প।

তার চোখ ঝাপসা হয়ে এল। হঠাৎ মনে হলো, এই মানুষটিকে সে যেন কোথাও চেনে। কিন্তু কোথায়?

শেষ খামটির ভেতর থেকে একটি পুরোনো সাদা-কালো ছবি মেঝেতে পড়ে গেল। ছবিতে একটি তরুণ দাঁড়িয়ে আছে ডাকপিয়নের পোশাকে। মুখে শান্ত হাসি। চোখে অদ্ভুত কোমলতা। অদ্রিতা ছবিটা হাতে তুলে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। অজান্তেই তার চোখ ভিজে উঠল।

ঠিক তখনই ঘরে ঢুকলেন নীলা। অদ্রিতার হাতে ছবিটা দেখে তিনি হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। তার মুখের রঙ মুহূর্তে বদলে গেল। কাঁপা কণ্ঠে বললেন, ‘এগুলো... তুমি কোথায় পেলে?’

অদ্রিতা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার চোখে তখন অশ্রু আর অসংখ্য প্রশ্ন— ‘মা... আবির হোসেন কে?’

প্রশ্নটা শুনে নীলার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠল। তিনি কিছু বলতে চাইলেন। কিন্তু শব্দ বের হলো না। বছরের পর বছর বুকের ভেতর চাপা পড়ে থাকা সত্য যেন হঠাৎ গলায় এসে আটকে গেল।

অদ্রিতা আবার জিজ্ঞেস করল, ‘মা... বলো। এই মানুষটা কে?’

নীলা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। চোখের জল গড়িয়ে পড়ল। তিনি ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়লেন। কাঁপা গলায় বললেন, ‘ও... তোমার বাবা।’

মুহূর্তের মধ্যে অদ্রিতার চারপাশের পৃথিবী যেন থেমে গেল। সে কিছুই শুনতে পাচ্ছিল না। শুধু একটি বাক্য বারবার কানে বাজছিল— ‘ও... তোমার বাবা।’

তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল— ‘কিন্তু... তুমি তো বলেছিলে বাবা মারা গেছেন!

নীলা মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন— ‘আমি মিথ্যে বলেছিলাম... আমি খুব বড় অন্যায় করেছি।’

এরপর অনেক বছরের জমে থাকা সব সত্য একে একে বেরিয়ে এলো।

আবিরের কথা। তার ভালোবাসা। তার ত্যাগ। ডিভোর্সের চিঠি। আর অদ্রিতার জন্মের সত্য।

সব শুনে অদ্রিতা নির্বাক হয়ে বসে রইল। তার মনে হচ্ছিল, এতদিন সে যেন অন্য কারও জীবন বেঁচে এসেছে। যে মানুষটির জন্য সে বছরের পর বছর দোয়া করেছে, তাকে মৃত ভেবে কেঁদেছে— তিনি তো কোথাও একজন জীবন্ত মানুষ হয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করে গেছেন।

আদ্রিতার বুকের ভেতর হঠাৎ এক অদ্ভুত ব্যথা জন্ম নিলো। সে ফিসফিস করে বলল, ‘তাহলে... বাবা কোনোদিন আমাকে ছেড়ে যাননি?’

নীলা মাথা নত করে বললেন, ‘না, মা। তিনি তোমাকে ছেড়ে যাননি। আমি-ই তোমাদের দুজনকে আলাদা করে দিয়েছি।’

এই স্বীকারোক্তির পর ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। বাইরে তখনো বৃষ্টি পড়ছে। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতিও যেন এই সত্যের সাক্ষী হয়ে নীরবে কাঁদছে।

অনেকক্ষণ পর অদ্রিতা চিঠিগুলো আবার হাতে তুলে নিল। শেষ চিঠির ভাঁজে একটি ঠিকানা লেখা ছিল। কুসুমপুর।

কালির দাগ কিছুটা ঝাপসা হয়ে গেছে। তবুও ঠিকানাটি স্পষ্ট বোঝা যায়। অদ্রিতা চিঠিটা বুকের সঙ্গে চেপে ধরল। তার চোখে তখন আর শুধু কান্না নেই। একটি সিদ্ধান্তও আছে। সে খুব শান্ত গলায় বলল, ‘আমি বাবার কাছে যাব।’

নীলা মাথা তুলে তাকালেন। তার চোখে ভয়, লজ্জা আর আশার অদ্ভুত মিশ্রণ— ‘যদি... তিনি আমাকে ক্ষমা না করেন?’

অদ্রিতা মায়ের হাত আলতো করে ধরল— ‘ক্ষমা করবেন কি করবেন না, সেটা তার অধিকার। কিন্তু এত বছর পরে তার জানা উচিত— তিনি কোনোদিন একা ছিলেন না। তার একটি মেয়ে আছে, যে সারাজীবন তাকে না চিনেই ভালোবেসেছে।’

সেই রাতে অদ্রিতার চোখে একফোঁটা ঘুমও এল না। বারবার সে চিঠিগুলো পড়ল। প্রতিটি অক্ষর স্পর্শ করল। মনে হলো— এই কাগজগুলো নয়, যেন একজন বাবার বুকের স্পন্দন ছুঁয়ে দেখছে।

ভোর হওয়ার আগেই সে প্রস্তুত হয়ে গেল। একটি ছোট ব্যাগ। কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস। আর বুকের কাছে আগলে রাখা সেই পুরোনো চিঠিগুলো।

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে একবার মায়ের দিকে তাকাল। নীলা দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখে অপরাধবোধের অশ্রু। অদ্রিতা শুধু বলল, ‘দোয়া করো, মা। আমি যেন বাবাকে খুঁজে পাই।’

তারপর সে রওনা দিলো। একজন চিকিৎসক হিসেবে নয়, একজন সফল মানুষ হিসেবে নয়, একজন মেয়ে হয়ে— তার সেই বাবাকে খুঁজতে, যিনি কোনোদিন তাকে ছেড়ে যাননি, অথচ ভাগ্য আর একটি মিথ্যে তাকে ত্রিশ বছর দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

সামনের পথ দীর্ঘ। অজানা। তবুও অদ্রিতার মনে হচ্ছিল— জীবনে প্রথমবার সে সঠিক ঠিকানার দিকে হাঁটছে। কারণ পৃথিবীর সব পথের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পথটি হলো— একজন সন্তানের হৃদয় থেকে তার বাবার বুকে পৌঁছানোর পথ।

পৃথিবীর কিছু পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নয়, কিছু পথ মানুষের হারিয়ে যাওয়া পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও তৈরি হয়।

সেই ভোরে, আকাশ তখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। রাতের বৃষ্টির ফোঁটা গাছের পাতায় ঝুলে ছিল মুক্তোর মতো। দূরে কোথাও আজানের ধ্বনি ভেসে আসছিল। সেই নরম আলোয় অদ্রিতা কুসুমপুরের পথে যাত্রা শুরু করলো— হাতে একটি ছোট ব্যাগ, আর বুকের কাছে শক্ত করে চেপে ধরা কয়েকটি হলদে চিঠি।

প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে আদ্রিতার বুকের ভেতরের হৃদস্পন্দন যেন আরও দ্রুত হয়ে উঠছিল। সে জানত না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। মানুষটি কি এখনও বেঁচে আছেন? তিনি কি তাকে চিনবেন? তিনি কি তাকে নিজের মেয়ে বলে গ্রহণ করবেন? নাকি ত্রিশ বছরের দূরত্ব সব অনুভূতিকে নিঃশেষ করে দিয়েছে?

হাজার প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না। তবু সে এগিয়ে চলল।

গ্রামের এক বৃদ্ধকে ঠিকানাটা দেখাতেই তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘ডাকপিয়ন আবিরের বাড়ি? ওই যে শেষ মাথায় যে নিমগাছটা দেখছেন, তার পাশের টিনের ঘরটাই।’

অদ্রিতার বুকটা কেঁপে উঠল। ডাকপিয়ন আবির। নামটা যেন বাতাসে ভেসে এসে তার হৃদয় ছুঁয়ে গেল। ধীরে ধীরে সে এগিয়ে গেল।

গ্রামের শেষ প্রান্তে সত্যিই একটি ছোট্ট টিনের ঘর। সামনে বহু বছরের পুরোনো একটি নিমগাছ। গাছটির ছায়ায় একটি কাঠের চেয়ারে বসে আছেন এক বৃদ্ধ। চোখে মোটা কাঁচের চশমা। মুখ জুড়ে বয়সের অসংখ্য রেখা। সাদা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। তার কাঁপা হাতে একটি পুরোনো খাম।

অদ্রিতা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল। বৃদ্ধ মানুষটি ধীরে ধীরে খাম খুললেন। সযত্নে কাগজটি বের করলেন। কাঁপা চোখে অক্ষরগুলো পড়ার চেষ্টা করলেন।

সেটি ছিল সেই ডিভোর্সের চিঠি, যে চিঠি ত্রিশ বছর ধরে তাঁর বুকপকেটে থেকেছে। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি সেটি পড়ছিলেন। মনে হচ্ছিল, কষ্টটাকেও তিনি এতদিনে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী বানিয়ে ফেলেছেন।

অদ্রিতার চোখ ভিজে উঠল। সে বুঝতে পারল— এই মানুষটি ভালোবাসা হারাননি। তিনি শুধু ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়েছেন।

ঠিক তখনই শুকনো পাতার ওপর তার পায়ের শব্দে বৃদ্ধ মুখ তুলে তাকালেন। চশমাটা একটু ঠিক করে মৃদু হেসে বললেন, ‘কে তুমি, মা?’

একটি মাত্র প্রশ্ন। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে অদ্রিতার ত্রিশ বছর লেগে গেছে। তার ঠোঁট কাঁপছিল। চোখ দিয়ে অবিরাম জল গড়িয়ে পড়ছিল। অনেক কষ্টে সে বলতে পারল, ‘আমি... আমি আবির হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।’

বৃদ্ধ মানুষটি শান্ত স্বরে উত্তর দিলেন, ‘আমিই আবির।’

মুহূর্তের জন্য পৃথিবী যেন থেমে গেল। অদ্রিতার চারপাশ ঝাপসা হয়ে এল। এতদিন যার জন্য দোয়া করেছে... যাকে মৃত জেনে বুকের ভেতর একটি শূন্যতা নিয়ে বড় হয়েছে... যার মুখ কল্পনা করে শত শত ছবি এঁকেছে...

তিনি আজ তার সামনে। জীবন্ত। নিঃশ্বাস নিচ্ছেন।

অদ্রিতা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে দৌড়ে গিয়ে বৃদ্ধ মানুষটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তারপর কাঁপা দুই হাত দিয়ে আবিরের হাত দুটি আঁকড়ে ধরে বুকভাঙা কান্নায় উচ্চারণ করল— ‘বাবা...’

একটি শব্দ। মাত্র দুটি অক্ষর। কিন্তু সেই দুটি অক্ষর ত্রিশ বছরের সমস্ত নীরবতা ভেঙে দিল।

আবিরের পুরো শরীর কেঁপে উঠল। তিনি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। এই শব্দটি তিনি কত বছর শোনেননি? হয়তো কোনোদিনই শোনেননি।

কাঁপা গলায় তিনি বললেন, ‘মা... তুমি কে?’

অদ্রিতা চোখের জল মুছতে মুছতে বলল, ‘আমি... আমি তোমার মেয়ে। আমি অদ্রিতা। আমি নীলার মেয়ে... আর তোমারও।’

কথাগুলো শুনেই আবিরের হাত থেকে পুরোনো চিঠিটি মাটিতে পড়ে গেল। বাতাসে ভেসে এসে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি সেই কাগজটিকে ভিজিয়ে দিলো। যেন প্রকৃতি নিজেই ত্রিশ বছরের সেই ব্যথা ধুয়ে দিতে চাইছে।

আবির নির্বাক হয়ে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ধীরে ধীরে কাঁপা হাত বাড়িয়ে অদ্রিতার কপালে স্পর্শ করলেন। তার চোখ... হুবহু তার নিজের চোখ। তিনি যেন নিজের যৌবনকে দেখতে পেলেন সেই মুখে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার... একটা মেয়ে আছে?’

আবির থেমে গেল। তারপর ফিসফিস করে বলল, ‘আমি বাবা হয়েছিলাম... আর জানতেই পারলাম না?’

অদ্রিতা কোনো উত্তর দিতে পারল না। সে শুধু বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। সেই কান্নায় ছিল ত্রিশ বছরের হারিয়ে যাওয়া শৈশব। একটি না-পাওয়া ডাক। একটি অসম্পূর্ণ পরিচয়। আর একজন বাবার বুকের জন্য আজীবনের অপেক্ষা।

আবির দুই হাত দিয়ে মেয়েকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তার চোখ বেয়ে নেমে এল অশ্রুর ধারা। আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি ধীরে বললেন, ‘হে আল্লাহ... তুমি আমাকে এত বড় নিয়ামত দিয়েছিলে, আর আমি জানতেও পারিনি।’

তারপর মেয়ের মাথায় হাত রেখে ফিসফিস করে বললেন, ‘আজ মনে হচ্ছে... আমার সব অপেক্ষার উত্তর একসঙ্গে পেয়ে গেলাম।’

সেই দৃশ্যের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন নীলা। তিনি অনেকক্ষণ ধরেই সব দেখছিলেন। তার চোখে আর কোনো অহংকার নেই। নেই কোনো সামাজিক মর্যাদার গর্ব। শুধু অপরাধবোধ। শুধু অনুতাপ।

তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন। আবিরের সামনে এসে থেমে গেলেন। কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা আটকে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত দুই হাত জোড় করে বললেন, ‘আবির... আমাকে ক্ষমা করে দাও।’

আবির অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর শান্ত চোখে নীলার দিকে তাকালেন। সেই চোখে ঘৃণা ছিল না। প্রতিশোধ ছিল না। ছিল শুধু দীর্ঘ ক্লান্তি।

ধীরে বললেন, ‘ক্ষমা অনেক আগেই করে দিয়েছি, নীলা। কারণ ভালোবাসা যদি শুধু হিসাব রাখতে শিখত, তাহলে সেটা ভালোবাসা হতো না।’

নীলা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ত্রিশ বছরের জমে থাকা অপরাধবোধ যেন এক মুহূর্তে অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ল। কিন্তু তিনি খুব ভালো করেই জানতেন— কিছু ভুলের ক্ষমা পাওয়া যায়। কিন্তু সেই ভুলে হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনো ফিরে আসে না।

সেদিন বিকেলে গ্রামের মানুষ দেখেছিল এক আশ্চর্য দৃশ্য। একজন বৃদ্ধ ডাকপিয়ন, যার কাঁধে একসময় মানুষের চিঠির ব্যাগ ঝুলত, তিনি আজ নিজের জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি পেয়েছেন। সেই বার্তা কোনো খামে আসেনি। কোনো ডাকটিকিটও ছিল না। সেটি এসেছিল একটি শব্দ হয়ে— ‘বাবা।’

সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছিল। নিমগাছের ছায়া লম্বা হয়ে তিনটি মানুষের পায়ের কাছে এসে মিলেছিল। সেই ছায়ার ভেতর দাঁড়িয়ে ছিল— একজন বাবা, একজন মেয়ে, আর একজন মানুষ, যিনি সারা জীবন ধরে নিজের ভুলের ভার বয়ে বেড়িয়েছেন।

জীবনের সব গল্প মিলনে শেষ হয় না। কিন্তু কিছু গল্প মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। কারণ সেগুলো আমাদের শেখায়— ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বড় বড় প্রতিশ্রুতি নয়, নীরবে অপেক্ষা করে যাওয়ার ক্ষমতা।

আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য অর্থের অভাব নয়। সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য হলো এমন একজন মানুষকে হারিয়ে ফেলা, যে নিঃস্ব হয়েও সারাজীবন শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছিল।

আর সবচেয়ে ভারী কান্না সেই সন্তানের, যে অনেক দেরিতে জানতে পারে— তার বাবা কখনো তাকে ছেড়ে যাননি। তাকে শুধু সত্যিটা জানতে দেওয়া হয়নি।

সন্ধ্যার আলো নিভে আসছিল। দূরের মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান ভেসে এলো। আবির আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। আজ তার বুকপকেটে কোনো চিঠির অপেক্ষা নেই। কারণ যে উত্তরটির জন্য তিনি সারাটা জীবন অপেক্ষা করেছিলেন— সেটি আজ তার দুই বাহুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

পান মসলার বিজ্ঞাপনে অভিনয়, শাহরুখ-অজয়-টাইগারকে আইনি নোটিশ

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, অভিনেতাদের পৃথক ঠিকানায় নোটিশগুলো পাঠানো হয়েছে। অজয় দেবগনের জুহুর বাসভবন ও শাহরুখ খানের বান্দ্রার বাসভবন ‘মান্নাত’-এ নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। টাইগার শ্রফকে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘টাইগার শ্রফ প্রোডাকশনস’-এর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

১৫ দিন আগে

কলকাতায় আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত নাট্যকার আসাদুল ইসলাম

বাংলা থিয়েটারে মৌলিক নাটকের দুষ্প্রাপ্যতার প্রেক্ষাপটে প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মনোজ মিত্র এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন। মনোজ মিত্র প্রকল্পিত পার্থপ্রতিম স্মরণে সুন্দরম আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার এটি ছিল ৩৩তম আসর।

১৬ দিন আগে

প্রেক্ষাগৃহের পর এবার ওটিটিতে ‘মালিক’

গত ৬ আগস্ট রাত ১২টা থেকে দর্শকদের জন্য সিনেমাটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। সাইফ চন্দন পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

২৪ দিন আগে

না ফেরার দেশে জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী স্বাগত দে

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন সহশিল্পী, অভিনয়শিল্পী ও দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। স্বাগত দের প্রয়াণে বাংলা লোকসংগীত অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিজনেরা।

০৬ আগস্ট ২০২৬
Advertisement