
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

চিয়া সিড। ছোট ছোট কালচে রঙের এই বীজগুলো এখন অনেকের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে। কেউ বলেন ওজন কমাতে সাহায্য করে, কেউ বলেন পেট পরিষ্কার রাখে, কেউ আবার বলেন এটি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়। কিন্তু আসলে এই চিয়া সিড কী? সত্যিই কি এত উপকার? আর খাওয়ার সময় ও পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত?
চিয়া সিড আসলে একধরনের উদ্ভিদের বীজ, যার বৈজ্ঞানিক নাম সালভিয়া হিস্পানিকা। এটি মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষজন এই বীজকে খাবার ও শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতেন। এমনকি ‘চিয়া’ শব্দটির অর্থই হচ্ছে ‘শক্তি’। একে সুপারফুড বলা হয়। কারণ এতে রয়েছে অসাধারণ কিছু উপাদান, যা শরীরের নানা প্রকার চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।
চিয়া সিডে যে উপাদানগুলো পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কথা। এটি এমন একটি উপকারী চর্বি যা হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা মাছ খান না বা নিরামিষভোজী, তাদের জন্য উদ্ভিদ থেকে ওমেগা থ্রি পাওয়ার অন্যতম ভালো উৎস হলো চিয়া সিড। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টিবিদ ড. ফ্র্যাঙ্ক হু এ বিষয়ে বলেন, “চিয়া সিডের মতো উদ্ভিদজাত উৎস থেকে পাওয়া ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।”
শুধু তাই নয়, চিয়া সিডে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ফাইবার বা আঁশ। মাত্র ২ টেবিলচামচ চিয়া সিডে ১০ গ্রামের মতো ফাইবার থাকে, যা দৈনিক চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে পারে। এই ফাইবার হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে কম খিদে লাগে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চিয়া সিডে রয়েছে প্রোটিনও। নিরামিষভোজীদের জন্য এটি হতে পারে একটি দারুণ প্রাকৃতিক প্রোটিনের উৎস। বিশেষ করে এতে যে সব অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তা শরীরের গঠন ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিয়া সিডে আরও রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস—এই তিনটি উপাদান হাড় ও দাঁতের গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। তাই যাদের হাড় দুর্বল বা দাঁতে সমস্যা, তাদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে।
এই বীজে যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, তা হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং ক্যানসার, ডায়াবেটিস কিংবা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে। ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গবেষক ড. এমিলি স্যান্ডার্স বলেন, “চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং বার্ধক্য ধীর করে দেয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাবলয়ের মতো কাজ করে।”
তবে এই চমৎকার বীজ খাওয়ারও কিছু নিয়ম রয়েছে। অনেকেই ভুল করে চিয়া সিড শুকনো অবস্থায় খেয়ে ফেলেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চিয়া সিড পানির সংস্পর্শে এলেই ফুলে উঠে এবং জেলির মতো আকার ধারণ করে। তাই একে আগে পানি বা দুধে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত। ১ টেবিলচামচ চিয়া সিড এক গ্লাস পানিতে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে তা নিরাপদভাবে খাওয়া যায়।
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড খেলে পেট পরিষ্কার হয় এবং সারাদিন হালকা অনুভব হয়। আবার ব্যায়ামের আগে কিংবা পরে চিয়া সিড খেলে শরীর শক্তি পায়, ক্লান্তি কমে। অনেকে রাতে ঘুমানোর আগেও চিয়া সিড খান, কারণ এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড ঘুমের সহায়ক হরমোন মেলাটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করে।
চিয়া সিড খাওয়ার আরও কিছু জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে স্মুদি, জুস বা ওটসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া। চিয়া সিড পুডিং তো এখন ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে থাকে দুধ, চিয়া সিড, মধু ও ফল—যা সকালে বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে খুবই উপকারী।
তবে অতিরিক্ত খাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। কারণ এতে থাকা অতিরিক্ত ফাইবার অনেক সময় হজমে সমস্যা, গ্যাস বা পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ ২ টেবিলচামচ চিয়া সিড খাওয়াই নিরাপদ বলে ধরা হয়। গর্ভবতী বা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই উত্তম।
সবশেষে বলা যায়, চিয়া সিড একটি অনন্য উদ্ভিদজাত খাবার, যা আমাদের আধুনিক জীবনের নানা পুষ্টিগত ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে যেকোনো সুপারফুডের মতো একে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে হবে পরিমিতভাবে, সচেতনতার সঙ্গে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, “খাদ্যই হোক তোমার ওষুধ”—আর চিয়া সিড যেন সেই কথারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

চিয়া সিড। ছোট ছোট কালচে রঙের এই বীজগুলো এখন অনেকের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে। কেউ বলেন ওজন কমাতে সাহায্য করে, কেউ বলেন পেট পরিষ্কার রাখে, কেউ আবার বলেন এটি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়। কিন্তু আসলে এই চিয়া সিড কী? সত্যিই কি এত উপকার? আর খাওয়ার সময় ও পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত?
চিয়া সিড আসলে একধরনের উদ্ভিদের বীজ, যার বৈজ্ঞানিক নাম সালভিয়া হিস্পানিকা। এটি মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষজন এই বীজকে খাবার ও শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতেন। এমনকি ‘চিয়া’ শব্দটির অর্থই হচ্ছে ‘শক্তি’। একে সুপারফুড বলা হয়। কারণ এতে রয়েছে অসাধারণ কিছু উপাদান, যা শরীরের নানা প্রকার চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।
চিয়া সিডে যে উপাদানগুলো পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কথা। এটি এমন একটি উপকারী চর্বি যা হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। যারা মাছ খান না বা নিরামিষভোজী, তাদের জন্য উদ্ভিদ থেকে ওমেগা থ্রি পাওয়ার অন্যতম ভালো উৎস হলো চিয়া সিড। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পুষ্টিবিদ ড. ফ্র্যাঙ্ক হু এ বিষয়ে বলেন, “চিয়া সিডের মতো উদ্ভিদজাত উৎস থেকে পাওয়া ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।”
শুধু তাই নয়, চিয়া সিডে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ফাইবার বা আঁশ। মাত্র ২ টেবিলচামচ চিয়া সিডে ১০ গ্রামের মতো ফাইবার থাকে, যা দৈনিক চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে পারে। এই ফাইবার হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে কম খিদে লাগে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চিয়া সিডে রয়েছে প্রোটিনও। নিরামিষভোজীদের জন্য এটি হতে পারে একটি দারুণ প্রাকৃতিক প্রোটিনের উৎস। বিশেষ করে এতে যে সব অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তা শরীরের গঠন ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিয়া সিডে আরও রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস—এই তিনটি উপাদান হাড় ও দাঁতের গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। তাই যাদের হাড় দুর্বল বা দাঁতে সমস্যা, তাদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে।
এই বীজে যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, তা হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং ক্যানসার, ডায়াবেটিস কিংবা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে। ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গবেষক ড. এমিলি স্যান্ডার্স বলেন, “চিয়া সিডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং বার্ধক্য ধীর করে দেয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাবলয়ের মতো কাজ করে।”
তবে এই চমৎকার বীজ খাওয়ারও কিছু নিয়ম রয়েছে। অনেকেই ভুল করে চিয়া সিড শুকনো অবস্থায় খেয়ে ফেলেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ চিয়া সিড পানির সংস্পর্শে এলেই ফুলে উঠে এবং জেলির মতো আকার ধারণ করে। তাই একে আগে পানি বা দুধে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত। ১ টেবিলচামচ চিয়া সিড এক গ্লাস পানিতে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে তা নিরাপদভাবে খাওয়া যায়।
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড খেলে পেট পরিষ্কার হয় এবং সারাদিন হালকা অনুভব হয়। আবার ব্যায়ামের আগে কিংবা পরে চিয়া সিড খেলে শরীর শক্তি পায়, ক্লান্তি কমে। অনেকে রাতে ঘুমানোর আগেও চিয়া সিড খান, কারণ এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড ঘুমের সহায়ক হরমোন মেলাটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করে।
চিয়া সিড খাওয়ার আরও কিছু জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে স্মুদি, জুস বা ওটসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া। চিয়া সিড পুডিং তো এখন ইন্টারনেটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে থাকে দুধ, চিয়া সিড, মধু ও ফল—যা সকালে বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে খুবই উপকারী।
তবে অতিরিক্ত খাওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। কারণ এতে থাকা অতিরিক্ত ফাইবার অনেক সময় হজমে সমস্যা, গ্যাস বা পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ ২ টেবিলচামচ চিয়া সিড খাওয়াই নিরাপদ বলে ধরা হয়। গর্ভবতী বা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই উত্তম।
সবশেষে বলা যায়, চিয়া সিড একটি অনন্য উদ্ভিদজাত খাবার, যা আমাদের আধুনিক জীবনের নানা পুষ্টিগত ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে যেকোনো সুপারফুডের মতো একে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে হবে পরিমিতভাবে, সচেতনতার সঙ্গে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, “খাদ্যই হোক তোমার ওষুধ”—আর চিয়া সিড যেন সেই কথারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ওড়িশা রাজ্যের তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সেটে রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ঘটেছে এমন ঘটনা। অভিনেতার মরদেহ দিঘা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানেই তার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
১৪ দিন আগে
ঢাকার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর কণ্ঠশিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৬ দিন আগে
ঈদের উৎসবমুখর আবহে প্রেক্ষাগৃহে নতুন প্রাণ ফিরিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। বড় বাজেটের অ্যাকশনধর্মী সিনেমার ভিড়েও ভিন্নধর্মী গল্প আর শক্তিশালী অভিনয়ের জোরে সিনেমাটি দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটিকে ঘিরে চলছে ইতিবাচক আলোচনা, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বক্সঅফিসের আয়েও।
১৮ দিন আগে
বরাবরের মতোই সামাজিক অসংগতি ও গ্রামীণ জীবনের নানা সমস্যা ফুটে উঠবে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন নাট্যাংশে। এ ছাড়াও থাকছে মিউজিক্যাল ড্রামা, দর্শকদের নিয়ে বিশেষ প্রতিযোগিতা এবং বিদেশিদের অংশগ্রহণে একটি ব্যতিক্রমী পর্ব। সমসাময়িক প্রসঙ্গের পাশাপাশি বিনোদনের সব রসদ নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের পর্বটি।
২৩ দিন আগে