জীবনযাপন

মসলার রানি এলাচের পুষ্টিগুণ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ১১: ৫৯
এলাচকে বলা হয় মসলার রানি। ছবি: এআইয়ের তৈরি।

এলাচ বিশ্বের নানা প্রান্তে জনপ্রিয় একটি সুগন্ধি মসলা। এর অনন্য স্বাদ ও গন্ধের জন্য একে মসলার রানি বলা হয়। শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোই নয়, এলাচের রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ এবং নানা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। এলাচ মূলত দুই ধরনের—সবুজ এলাচ এবং কালো এলাচ। যদিও রান্নায় সবুজ এলাচের ব্যবহার বেশি দেখা যায়, তবে দু’ধরনের এলাচেই প্রায় সমান পুষ্টিগুণ বিদ্যমান।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে এলাচ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচে রয়েছে প্রায় ৩১১ ক্যালরি শক্তি, ৬৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১২ গ্রাম প্রোটিন, ৭ গ্রাম ফ্যাট, ২৮ গ্রাম ফাইবার, ২১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১১১৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ২২৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম এবং ৩৮৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এ কারণে এটি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের নানা চাহিদাও পূরণ করে।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান পর্যন্ত এলাচের গুরুত্ব স্বীকৃত। এর নানা উপাদান শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এলাচ হজমশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে কার্যকর। এতে থাকা ফাইবার ও এসেনশিয়াল অয়েল বমিভাব, পেট ফাঁপা ও বদহজম কমায়। একই সঙ্গে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যায়ও এলাচ উপকারী। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হাঁপানি কিংবা ব্রঙ্কাইটিসের উপসর্গ প্রশমিত করে।

হার্টের সুস্থতার ক্ষেত্রেও এলাচ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। পাশাপাশি এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এলাচ উপকারী হতে পারে। এতে থাকা পলিফেনল ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। এলাচ প্রাকৃতিক মাউথফ্রেশনার হিসেবেও কাজ করে। এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং দাঁত ও মাড়িকে রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এলাচে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। এর আরোমাথেরাপি গুণ মানসিক চাপ কমায়, স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

এলাচের ব্যবহার শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মিষ্টি, চা, বিভিন্ন পানীয়, হার্বাল ওষুধ এমনকি মাউথফ্রেশনার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এলাচ তেল, গুঁড়ো কিংবা গোটা এলাচ—সব রূপেই এর উপকারিতা পাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনে চায়ের স্বাদ বাড়াতে, বিরিয়ানি ও মাংসের রান্নায় কিংবা হার্বাল চিকিৎসায় এর ব্যবহার অত্যন্ত সাধারণ।

তবে এলাচ যতই উপকারী হোক না কেন, অতিরিক্ত সেবন শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এলার্জি প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক কিংবা রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে এলাচ খাওয়াই শ্রেয়।

সর্বোপরি বলা যায়, এলাচ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভেষজ উপাদান যা শরীরকে নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে পরিমিত ব্যবহারই এর সঠিক উপকার নিশ্চিত করে।

সূত্র: ল্যানসেট

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী রোববার থেকে চলবে

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কিছু সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে উক্ত বিষয়টি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে, বিষয়টি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

২২ দিন আগে

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ইক্কিস’ আসছে নতুন বছরে

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ এর আগে তিন দফা পরিবর্তন করা হয়। সবশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ২৫ ডিসেম্বর।

২৩ দিন আগে

রেসকোর্সের দলিলে পাকিস্তানি দম্ভের সলিল সমাধি

১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ক্যান্টনমেন্টে বন্দি নিয়াজির ‘ইস্টার্ন কমান্ড’, আত্মসমর্পণের পদধ্বনি

একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫