
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইতিহাস শুধু বিজয়গাঁথা নয়, এটি কখনো কখনো সীমান্তে থমকে দাঁড়ানো এক অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্পও। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে শুরু করে অন্য প্রান্তে, সাম্রাজ্য বিস্তারে অদম্য এই যোদ্ধা যখন ভারতবর্ষে প্রবেশ করেন, তখন তার সামনে ছিল শুধুই অনিশ্চয়তা। এই উপমহাদেশ তাকে স্বাগত জানায় ঘন অরণ্য, অনিয়মিত বর্ষা, অসংখ্য নদী ও অপরিচিত প্রতিরোধশক্তি দিয়ে। এটি শুধু একটি ভৌগোলিক বাধা নয়—একটি সাংস্কৃতিক ও সামরিক সীমারেখাও।
আলেক্সান্ডারের বিশ্বজয়ের যাত্রা শুরু হয় মাত্র বিশ বছর বয়সে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৪ সালে। পারস্য সাম্রাজ্য ছিল তার প্রথম বড় প্রতিপক্ষ। মেসিডোনিয়া থেকে বের হয়ে তিনি ধ্বংস করেন প্রাচীন পারস্যের গর্ব। বহু বছরের গ্রিক-পারস্য সংঘাতের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, তার বিজয় কেবল সামরিক ছিল না—এটি ছিল প্রতিশোধ, গৌরব এবং এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।
পারস্যের “রাজাদের রাজা” দরিয়ুস তৃতীয়কে একাধিক যুদ্ধে পরাজিত করে, তাকে পালাতে বাধ্য করেন আলেক্সান্ডার। শেষমেশ বেসাস নামক এক সেনাপতি দরিয়ুসকে হত্যা করে নিজেকে রাজা ঘোষণা করে ব্যাকট্রিয়ার দিকে পালায়। আলেক্সান্ডার হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে পৌঁছে যান ব্যাকট্রিয়ায়, বেসাসকে পরাজিত করে এই বিশাল অঞ্চলের দখল নেন।
ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস এবং হোমারিক কাব্য মতে, ভারত ছিল পৃথিবীর পূর্বতম প্রান্ত। সেখানে পৌঁছানো মানেই যেন দিগ্বিজয়ের পূর্ণতা। তাই ব্যাকট্রিয়া জয়ের পর আলেক্সান্ডারের দৃষ্টি পড়ে ভারতবর্ষের দিকে।
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালে আলেক্সান্ডার প্রবেশ করেন ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে। তখন ভারত ছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত। অধিকাংশ রাজ্য মেসিডোনিয়ান বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু এক ব্যতিক্রম ছিলেন রাজা পুরু, যিনি বর্তমান পাঞ্জাব অঞ্চলের ঝিলাম নদীর পাশে এক শক্তিশালী রাজ্য পরিচালনা করতেন।
আলেক্সান্ডার চেয়েছিলেন রক্তপাত এড়িয়ে বশ্যতা আদায় করতে। তিনি পুরুকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। জবাবে পুরু জানান, “অবশ্যই যাব, তবে সসৈন্যে—রণক্ষেত্রে দেখা হবে।”
গ্রিক বাহিনী এবার মুখোমুখি হলো এমন এক শত্রুর, যারা শুধু সংখ্যায় নয়, সামরিক কৌশলেও নতুন। পুরুর হস্তীবাহিনী গ্রিকদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অজানা অভিজ্ঞতা। যুদ্ধের ময়দানে হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে অশ্বারোহী, ওপর থেকে তীর নিক্ষিপ্ত হচ্ছে লাগাতার।
তবুও, আলেক্সান্ডারের কৌশল আর সেনাদের প্রশিক্ষণ মিলে শেষ পর্যন্ত গ্রিকরাই জয়ী হয়। তবে বিজয়ী হয়েও আলেক্সান্ডার পুরুর বীরত্বের সম্মান করেন। ফিরিয়ে দেন তার রাজ্য। এই ঘটনা আলেক্সান্ডারের চরিত্রে এক মহানুভব নেতার ছাপ রেখে যায়।
যুদ্ধজয়ের পর আলেক্সান্ডার এগোতে চাইলেন আরো পূর্বে—পাটলিপুত্র তথা মগধ রাজ্যের দিকে। কিন্তু তখন তার সৈন্যরা ক্লান্ত, মনোবলহীন। তারা শুনেছে মগধের রাজা ধনানন্দের বিশাল বাহিনী ও ২০,০০০ হস্তীর কথা। ঝিলামের যুদ্ধের ধকল তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
শেষ পর্যন্ত সৈন্যদের অনিচ্ছার কাছে হার মানতে হয় আলেক্সান্ডারকে। তিনি পিছু হটেন, এবং মরুর ভয়ঙ্কর পথ ধরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পথে বহু সৈন্য মারা যায়। ফিরে এসে কিছুদিন পরই আলেক্সান্ডারের মৃত্যু ঘটে।
আলেক্সান্ডারের ভারত অভিযান অনেকের কাছে অপ্রাপ্তির ইতিহাস। কিন্তু এটি শুধু পরাজয়ের কাহিনি নয়। গ্রিক ঐতিহাসিকদের লেখনীতে ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি প্রথমবার বিশদভাবে লিপিবদ্ধ হয়। একরকম মৌখিক সংস্কৃতির দেশ ভারতবর্ষ তার প্রাচীন ইতিহাসের অনেক তথ্যই ধরে রাখতে পারে এই লেখকদের কল্যাণে।
আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট এক কিংবদন্তি। কিন্তু ভারতবর্ষ তার দিগ্বিজয়ের ইতি টেনে দেয়। এই উপমহাদেশ ছিল এক বিশেষ ধৈর্যের পরীক্ষা, যেখানে তার মতো পুরুষও শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত ও অসহায় হয়ে পড়ে। সেই ঠান্ডা, ভেজা, অচেনা রাত্রির মতো—যেখানে পৃথিবীর সেরা বীরও কখনো কখনো থমকে দাঁড়ায়।

ইতিহাস শুধু বিজয়গাঁথা নয়, এটি কখনো কখনো সীমান্তে থমকে দাঁড়ানো এক অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্পও। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে শুরু করে অন্য প্রান্তে, সাম্রাজ্য বিস্তারে অদম্য এই যোদ্ধা যখন ভারতবর্ষে প্রবেশ করেন, তখন তার সামনে ছিল শুধুই অনিশ্চয়তা। এই উপমহাদেশ তাকে স্বাগত জানায় ঘন অরণ্য, অনিয়মিত বর্ষা, অসংখ্য নদী ও অপরিচিত প্রতিরোধশক্তি দিয়ে। এটি শুধু একটি ভৌগোলিক বাধা নয়—একটি সাংস্কৃতিক ও সামরিক সীমারেখাও।
আলেক্সান্ডারের বিশ্বজয়ের যাত্রা শুরু হয় মাত্র বিশ বছর বয়সে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৪ সালে। পারস্য সাম্রাজ্য ছিল তার প্রথম বড় প্রতিপক্ষ। মেসিডোনিয়া থেকে বের হয়ে তিনি ধ্বংস করেন প্রাচীন পারস্যের গর্ব। বহু বছরের গ্রিক-পারস্য সংঘাতের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে, তার বিজয় কেবল সামরিক ছিল না—এটি ছিল প্রতিশোধ, গৌরব এবং এক নতুন ইতিহাসের সূচনা।
পারস্যের “রাজাদের রাজা” দরিয়ুস তৃতীয়কে একাধিক যুদ্ধে পরাজিত করে, তাকে পালাতে বাধ্য করেন আলেক্সান্ডার। শেষমেশ বেসাস নামক এক সেনাপতি দরিয়ুসকে হত্যা করে নিজেকে রাজা ঘোষণা করে ব্যাকট্রিয়ার দিকে পালায়। আলেক্সান্ডার হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে পৌঁছে যান ব্যাকট্রিয়ায়, বেসাসকে পরাজিত করে এই বিশাল অঞ্চলের দখল নেন।
ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস এবং হোমারিক কাব্য মতে, ভারত ছিল পৃথিবীর পূর্বতম প্রান্ত। সেখানে পৌঁছানো মানেই যেন দিগ্বিজয়ের পূর্ণতা। তাই ব্যাকট্রিয়া জয়ের পর আলেক্সান্ডারের দৃষ্টি পড়ে ভারতবর্ষের দিকে।
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালে আলেক্সান্ডার প্রবেশ করেন ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে। তখন ভারত ছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত। অধিকাংশ রাজ্য মেসিডোনিয়ান বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু এক ব্যতিক্রম ছিলেন রাজা পুরু, যিনি বর্তমান পাঞ্জাব অঞ্চলের ঝিলাম নদীর পাশে এক শক্তিশালী রাজ্য পরিচালনা করতেন।
আলেক্সান্ডার চেয়েছিলেন রক্তপাত এড়িয়ে বশ্যতা আদায় করতে। তিনি পুরুকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। জবাবে পুরু জানান, “অবশ্যই যাব, তবে সসৈন্যে—রণক্ষেত্রে দেখা হবে।”
গ্রিক বাহিনী এবার মুখোমুখি হলো এমন এক শত্রুর, যারা শুধু সংখ্যায় নয়, সামরিক কৌশলেও নতুন। পুরুর হস্তীবাহিনী গ্রিকদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অজানা অভিজ্ঞতা। যুদ্ধের ময়দানে হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে অশ্বারোহী, ওপর থেকে তীর নিক্ষিপ্ত হচ্ছে লাগাতার।
তবুও, আলেক্সান্ডারের কৌশল আর সেনাদের প্রশিক্ষণ মিলে শেষ পর্যন্ত গ্রিকরাই জয়ী হয়। তবে বিজয়ী হয়েও আলেক্সান্ডার পুরুর বীরত্বের সম্মান করেন। ফিরিয়ে দেন তার রাজ্য। এই ঘটনা আলেক্সান্ডারের চরিত্রে এক মহানুভব নেতার ছাপ রেখে যায়।
যুদ্ধজয়ের পর আলেক্সান্ডার এগোতে চাইলেন আরো পূর্বে—পাটলিপুত্র তথা মগধ রাজ্যের দিকে। কিন্তু তখন তার সৈন্যরা ক্লান্ত, মনোবলহীন। তারা শুনেছে মগধের রাজা ধনানন্দের বিশাল বাহিনী ও ২০,০০০ হস্তীর কথা। ঝিলামের যুদ্ধের ধকল তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
শেষ পর্যন্ত সৈন্যদের অনিচ্ছার কাছে হার মানতে হয় আলেক্সান্ডারকে। তিনি পিছু হটেন, এবং মরুর ভয়ঙ্কর পথ ধরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পথে বহু সৈন্য মারা যায়। ফিরে এসে কিছুদিন পরই আলেক্সান্ডারের মৃত্যু ঘটে।
আলেক্সান্ডারের ভারত অভিযান অনেকের কাছে অপ্রাপ্তির ইতিহাস। কিন্তু এটি শুধু পরাজয়ের কাহিনি নয়। গ্রিক ঐতিহাসিকদের লেখনীতে ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি প্রথমবার বিশদভাবে লিপিবদ্ধ হয়। একরকম মৌখিক সংস্কৃতির দেশ ভারতবর্ষ তার প্রাচীন ইতিহাসের অনেক তথ্যই ধরে রাখতে পারে এই লেখকদের কল্যাণে।
আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট এক কিংবদন্তি। কিন্তু ভারতবর্ষ তার দিগ্বিজয়ের ইতি টেনে দেয়। এই উপমহাদেশ ছিল এক বিশেষ ধৈর্যের পরীক্ষা, যেখানে তার মতো পুরুষও শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত ও অসহায় হয়ে পড়ে। সেই ঠান্ডা, ভেজা, অচেনা রাত্রির মতো—যেখানে পৃথিবীর সেরা বীরও কখনো কখনো থমকে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কিছু সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে উক্ত বিষয়টি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে, বিষয়টি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
২৩ দিন আগে
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ এর আগে তিন দফা পরিবর্তন করা হয়। সবশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ২৫ ডিসেম্বর।
২৩ দিন আগে
১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫