কবিতা

অস্বীকৃতির ব্লুপ্রিন্ট

ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে না—

সে তো আসলে কাঁটা নয়,

একটি নামহীন পোকা

যে প্রতিদিন সময় খেয়ে ফেলে।

কেউ একজন আমাকে ভুলে গিয়েছে—

আসলে আমি তো কখনোই ছিলাম না।

একটি নির্ভাষ কোলাজ,

চিন্তাবিহীন প্রসঙ্গ হয়ে ছিলাম তার নিঃশ্বাসে।

দেয়ালে ঝুলছে আমার "না"

তার পাশে আয়নার ভাঙা টুকরোতে

আমি দেখি "না"—আমি শুনি একটি

মৌন গান, যার স্কেল ভুলে গিয়েছে ঈশ্বরও।

তুমি বলে কেউ ছিল না,

ছিল একটি নীল-ধূসর বিকেল,

যেখানে শব্দ মানে শুধু শব্দ নয়—

কখনো একটি কুমারী পথ,

কখনো ঘুম না আসা ট্রেনের হুইসেল।

আমার চিঠির খামে ছিল না ঠিকানা,

ছিল শুধু একটা নিঃশব্দ সংলাপ—

যেখানে প্রতিটি অক্ষর আত্মহত্যা করেছে

মুদ্রণের ঠিক আগমুহূর্তে।

তবু আমি প্রতিজ্ঞা করি—

না, তোমার জন্য নয়,

একটি চাকা ঘোরা বৃষ্টির জন্য,

যে প্রতিবারই ভুল করে পড়ে যায়

একটি নিঃশব্দ নদীতে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

রেসকোর্সের দলিলে পাকিস্তানি দম্ভের সলিল সমাধি

১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা

১৭ দিন আগে

ক্যান্টনমেন্টে বন্দি নিয়াজির ‘ইস্টার্ন কমান্ড’, আত্মসমর্পণের পদধ্বনি

একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব

১৯ দিন আগে

বুদ্ধিজীবীদের রক্ত, গভর্নর হাউজে বোমার ভূমিকম্প আর ‘টাইগার’ এখন খাঁচাবন্দি!

এই ভয়াল ট্র্যাজেডির পাশাপাশি এ দিনই শুরু হয় আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিক নাটকীয়তাও। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশের চরমপত্রের পর ১৩ ডিসেম্বর রাতে জেনারেল নিয়াজি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন নিয়াজির আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক সিগন্যালটি দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছায়।

২০ দিন আগে

বিজয়ের ৪৮ ঘণ্টা আগে যেভাবে ‘মগজশূন্য’ করা হয় জাতিকে

একাত্তরের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই যখন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে আসছিল, তখনই গভর্নর হাউসের অন্দরমহলে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এক ভয়ংকর নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। তাঁর ডায়েরিতেই পাওয়া যায় সেই মৃত্যু-তালিকা, যেখানে লেখা ছিল দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের নাম।

২০ দিন আগে