
শানজীদা শারমিন

রাজীব হাসান, ঢাকার এক ব্যস্ত চাকরিজীবী। বয়স ২৯, সদ্য করপোরেট জগতে যোগ দিয়েছেন। নতুন চাকরির প্রথম মাসের শেষে, অফিস থেকে ই-মেইল পেলেন— স্যালারি প্রসেস করার আগে ই-টিন নম্বর জমা দিতে হবে।
রাজীব আগে কখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, ই-টিন নিয়েও ভাবেননি। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বসের সঙ্গে দেখা করলেন। বস বললেন, ই-টিন ছাড়া স্যালারি দেওয়া যাবে না। এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, পাসপোর্ট— সব জায়গায় বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।
রাজীব বুঝলেন, এটি শুধু চাকরির শর্ত না, একজন সচেতন নাগরিক হওয়ার অংশ।
বাসায় ফিরে রাতের বেলা ল্যাপটপ খুলে বসলেন। গুগল ঘেঁটে তাড়াতাড়ি https://www.incometax.gov.bd/ ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘e-Registration’ অপশনে ক্লিক করলেন। মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করে নিজের তথ্য দিলেন— নাম, ঠিকানা, পেশা। কয়েকটি ধাপেই তার ই-টিন তৈরি হয়ে গেল। সার্টিফিকেটও ডাউনলোড করে রাখলেন।
এদিকে মীরা রহমান, যিনি রাজীবের অফিসে প্রতিদিন দুপুরের খাবার সরবরাহ করেন, তিনিও একই সমস্যায় পড়লেন।
মীরা একজন ছোট উদ্যোক্তা। নিজের রান্নার ব্যবসা চালান, অল্প কিছু কর্মচারী আছে তার। গত তিন বছর ধরে অফিসে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করলেও কখনোই ই-টিন বা ট্যাক্স রিটার্ন করার প্রয়োজন হয়নি। সরল বিশ্বাসে ব্যবসা চালিয়ে গেছেন।
কিন্তু এবার অফিস থেকে এলো নতুন নীতিমালা— যারা সার্ভিস প্রদান করে, তাদেরও ই-টিন নম্বর ও সাম্প্রতিক ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে।
মীরা প্রথমে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি কি পারবেন সবকিছু ঠিকঠাক করতে? তবে হাল ছাড়লেন না। কয়েকজন পরিচিত ব্যবসায়ীর পরামর্শে তিনিও ওয়েবসাইটে ঢুকে ই-টিনের জন্য আবেদন করলেন।
মোবাইল ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছে। ফর্ম পূরণের সময় ঠিকানা মিলে না যাওয়ায় সংশোধন করতে হয়েছে। অবশেষে ধৈর্য ধরে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে, ই-টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করলেন।
এরপর শুরু হলো ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করার কাজ।
মীরার আয়ের হিসাব মোটামুটি সহজ— রান্নার আয়, কিছু ব্যয়। প্রথমবার করতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও ই-রিটার্ন পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজেই রিটার্ন জমা দিলেন।
রাজীবও নিজের রিটার্ন জমা দিলেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
এবার অফিসে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে গিয়ে রাজীব সহজেই তিন বছরের রিটার্ন রশিদ জমা দিলেন।
এক বছর পর রাজীব যখন একটি অ্যাপার্টমেন্ট বুক করতে গেলেন, ব্যাংকের লোন অফিসার প্রথমেই তার ই-টিন ও ট্যাক্স রিটার্নের কপি দেখতে চাইলেন। রাজীব হাসিমুখে সব ডকুমেন্টস দেখালেন। লোন প্রসেস সহজ হয়ে গেল।
মীরা নিজে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়ে যখন নতুন কিছু অফিসে খাবার সরবরাহের চুক্তি করতে গেলেন, তখন দেখতে পেলেন— প্রায় সব কোম্পানি এখন ই-টিন ও রিটার্ন কাগজ দেখতে চায়। তার এই প্রস্তুতি তাকে আরও বড় বড় অর্ডার পাওয়ার সুযোগ করে দিলো।
দুজনের কাছেই করদাতা হওয়া মানে নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন দায়িত্ববোধের শুরু। ই-টিন ও রিটার্ন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, ভবিষ্যতের জন্য অবিচ্ছেদ্য সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াল।
আজকের বাংলাদেশে, ই-টিন ও ট্যাক্স রিটার্ন ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, লোন বা ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, পাসপোর্ট ও ভিসা আবেদন, ট্রেড লাইসেন্স বা কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, জমি বা গাড়ি কেনাবেচা, শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনা, সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ, জমির নামজারি অথবা বিদেশে পড়াশোনার ফাইন্যান্সিয়াল প্রমাণ দিতে গেলে— সবখানেই এখন রিটার্নের প্রমাণ চাই। এমনকি ফ্রিল্যান্সার ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণকারীদের জন্যও এটি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে।
রাজীব ও মীরার অভিজ্ঞতা বলে, "নিজের ভবিষ্যতের জন্য প্রথম ধাপ হলো নিয়মিত করদাতা হয়ে ওঠা।"
যেসব এলাকায় ইন্টারনেট বা প্রযুক্তিগত সহায়তা সীমিত, সেসব জায়গায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ই-টিন করা বা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।
এর বাইরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে শতাধিক সরকারি সেবা নিয়ে চালু হচ্ছে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন আউটলেট। চলমান ডিজিটাল সেন্টারগুলোকেও এতে যুক্ত করা হবে। সেখানেও পাওয়া যাবে উল্লিখিত সেবাটি।

রাজীব হাসান, ঢাকার এক ব্যস্ত চাকরিজীবী। বয়স ২৯, সদ্য করপোরেট জগতে যোগ দিয়েছেন। নতুন চাকরির প্রথম মাসের শেষে, অফিস থেকে ই-মেইল পেলেন— স্যালারি প্রসেস করার আগে ই-টিন নম্বর জমা দিতে হবে।
রাজীব আগে কখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, ই-টিন নিয়েও ভাবেননি। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বসের সঙ্গে দেখা করলেন। বস বললেন, ই-টিন ছাড়া স্যালারি দেওয়া যাবে না। এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, পাসপোর্ট— সব জায়গায় বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।
রাজীব বুঝলেন, এটি শুধু চাকরির শর্ত না, একজন সচেতন নাগরিক হওয়ার অংশ।
বাসায় ফিরে রাতের বেলা ল্যাপটপ খুলে বসলেন। গুগল ঘেঁটে তাড়াতাড়ি https://www.incometax.gov.bd/ ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘e-Registration’ অপশনে ক্লিক করলেন। মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করে নিজের তথ্য দিলেন— নাম, ঠিকানা, পেশা। কয়েকটি ধাপেই তার ই-টিন তৈরি হয়ে গেল। সার্টিফিকেটও ডাউনলোড করে রাখলেন।
এদিকে মীরা রহমান, যিনি রাজীবের অফিসে প্রতিদিন দুপুরের খাবার সরবরাহ করেন, তিনিও একই সমস্যায় পড়লেন।
মীরা একজন ছোট উদ্যোক্তা। নিজের রান্নার ব্যবসা চালান, অল্প কিছু কর্মচারী আছে তার। গত তিন বছর ধরে অফিসে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করলেও কখনোই ই-টিন বা ট্যাক্স রিটার্ন করার প্রয়োজন হয়নি। সরল বিশ্বাসে ব্যবসা চালিয়ে গেছেন।
কিন্তু এবার অফিস থেকে এলো নতুন নীতিমালা— যারা সার্ভিস প্রদান করে, তাদেরও ই-টিন নম্বর ও সাম্প্রতিক ট্যাক্স রিটার্ন দিতে হবে।
মীরা প্রথমে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি কি পারবেন সবকিছু ঠিকঠাক করতে? তবে হাল ছাড়লেন না। কয়েকজন পরিচিত ব্যবসায়ীর পরামর্শে তিনিও ওয়েবসাইটে ঢুকে ই-টিনের জন্য আবেদন করলেন।
মোবাইল ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছে। ফর্ম পূরণের সময় ঠিকানা মিলে না যাওয়ায় সংশোধন করতে হয়েছে। অবশেষে ধৈর্য ধরে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে, ই-টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করলেন।
এরপর শুরু হলো ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করার কাজ।
মীরার আয়ের হিসাব মোটামুটি সহজ— রান্নার আয়, কিছু ব্যয়। প্রথমবার করতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হলেও ই-রিটার্ন পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজেই রিটার্ন জমা দিলেন।
রাজীবও নিজের রিটার্ন জমা দিলেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
এবার অফিসে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে গিয়ে রাজীব সহজেই তিন বছরের রিটার্ন রশিদ জমা দিলেন।
এক বছর পর রাজীব যখন একটি অ্যাপার্টমেন্ট বুক করতে গেলেন, ব্যাংকের লোন অফিসার প্রথমেই তার ই-টিন ও ট্যাক্স রিটার্নের কপি দেখতে চাইলেন। রাজীব হাসিমুখে সব ডকুমেন্টস দেখালেন। লোন প্রসেস সহজ হয়ে গেল।
মীরা নিজে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়ে যখন নতুন কিছু অফিসে খাবার সরবরাহের চুক্তি করতে গেলেন, তখন দেখতে পেলেন— প্রায় সব কোম্পানি এখন ই-টিন ও রিটার্ন কাগজ দেখতে চায়। তার এই প্রস্তুতি তাকে আরও বড় বড় অর্ডার পাওয়ার সুযোগ করে দিলো।
দুজনের কাছেই করদাতা হওয়া মানে নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন দায়িত্ববোধের শুরু। ই-টিন ও রিটার্ন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, ভবিষ্যতের জন্য অবিচ্ছেদ্য সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াল।
আজকের বাংলাদেশে, ই-টিন ও ট্যাক্স রিটার্ন ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, লোন বা ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, পাসপোর্ট ও ভিসা আবেদন, ট্রেড লাইসেন্স বা কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, জমি বা গাড়ি কেনাবেচা, শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনা, সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ, জমির নামজারি অথবা বিদেশে পড়াশোনার ফাইন্যান্সিয়াল প্রমাণ দিতে গেলে— সবখানেই এখন রিটার্নের প্রমাণ চাই। এমনকি ফ্রিল্যান্সার ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণকারীদের জন্যও এটি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে।
রাজীব ও মীরার অভিজ্ঞতা বলে, "নিজের ভবিষ্যতের জন্য প্রথম ধাপ হলো নিয়মিত করদাতা হয়ে ওঠা।"
যেসব এলাকায় ইন্টারনেট বা প্রযুক্তিগত সহায়তা সীমিত, সেসব জায়গায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ই-টিন করা বা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।
এর বাইরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে শতাধিক সরকারি সেবা নিয়ে চালু হচ্ছে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন আউটলেট। চলমান ডিজিটাল সেন্টারগুলোকেও এতে যুক্ত করা হবে। সেখানেও পাওয়া যাবে উল্লিখিত সেবাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কিছু সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে উক্ত বিষয়টি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে, বিষয়টি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
২২ দিন আগে
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ এর আগে তিন দফা পরিবর্তন করা হয়। সবশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ২৫ ডিসেম্বর।
২৩ দিন আগে
১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫