সকালে খালি পেটে যে খাবার খাবেন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ০৮: ১৩

সকালের শুরুতে খালি পেটে সঠিক খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে খাওয়ার জন্য এমন কিছু খাবার নির্বাচন করা উচিত, যা শরীরে শক্তি যোগাবে, পুষ্টি সরবরাহ করবে, এবং হজমের জন্য সহায়ক হবে। নিচে খালি পেটে খাওয়ার জন্য কিছু উপযুক্ত খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

পানি: খালি পেটে প্রথমে পানি পান করা সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। এটি শরীরকে হাইড্রেট করে এবং রাতের পরিপাকের পরে শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে হজম শক্তি বাড়ে এবং মেটাবলিজমের উন্নতি হয়।

ভেজা বাদাম: সকালে খালি পেটে ভেজানো বাদাম খাওয়া শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে উপস্থিত ভিটামিন, মিনারেল, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বাদামের প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি শক্তি যোগায় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

মধু ও লেবুর পানি: এক গ্লাস কুসুম গরম পানির মধ্যে এক চামচ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীর ডিটক্সিফাই হয়। এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এছাড়া মধু ও লেবু পানিতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

পাকা কলা: খালি পেটে কলা খাওয়া একটি সহজ এবং পুষ্টিকর খাবার। কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। এছাড়া এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে, যা সকালের কার্যকলাপের জন্য প্রয়োজনীয়।

পেঁপে: পেঁপে খালি পেটে খেলে হজমের জন্য উপকারী। এতে থাকা এনজাইম প্যাপাইন হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। পেঁপে খাওয়ার ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

চিয়া বীজ: চিয়া বীজ খালি পেটে খেলে এটি শরীরকে প্রয়োজনীয় ফাইবার, প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ সরবরাহ করে। চিয়া বীজ হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণ রাখে। এটি ওজন কমাতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক।

দই: খালি পেটে দই খাওয়া হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে উপস্থিত প্রোবায়োটিকস শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি পাচনতন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ওটস: ওটস একটি ভালো প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যা খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া ওটস হজমের উন্নতি করে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

গোলাপ জল ও কিসমিস: গোলাপ জলে ভেজানো কিসমিস খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে এবং তা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন ও মিনারেল থাকে, যা শরীরের জন্য খুব উপকারী।

সজনে পাতা: সজনে পাতার রস খালি পেটে খেলে শরীরের বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ হয়। এটি শরীরে শক্তি যোগায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের জন্য উপকারী।

সকালে খালি পেটে উপযুক্ত খাবার গ্রহণ করা শরীরের স্বাস্থ্য, শক্তি এবং মেজাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে খালি পেটে বেশি মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিক, হালকা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ফলে সারাদিন শক্তি ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় থাকে।

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী রোববার থেকে চলবে

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কিছু সংবাদ মাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে উক্ত বিষয়টি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা’ করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশ করে, বিষয়টি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

২৩ দিন আগে

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ইক্কিস’ আসছে নতুন বছরে

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ এর আগে তিন দফা পরিবর্তন করা হয়। সবশেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ২৫ ডিসেম্বর।

২৩ দিন আগে

রেসকোর্সের দলিলে পাকিস্তানি দম্ভের সলিল সমাধি

১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা

১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ক্যান্টনমেন্টে বন্দি নিয়াজির ‘ইস্টার্ন কমান্ড’, আত্মসমর্পণের পদধ্বনি

একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫