ভূমিকম্পে করণীয়-বর্জনীয়

শাহরিয়ার শরীফ
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০০: ৩৯
ভূমিকম্প। প্রতীকী ছবি

শুক্র ও শনিবার জুড়ে ৩১ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ভূমিকম্প বাংলাদেশের মানুষকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে । শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের কম্পনের পর শনিবার সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় পরপর দুদফা ভূকম্পন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পের সময় কী করা উচিত—কী করা উচিত না তা নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একগুচ্ছ পরামর্শ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত।

ভূমিকম্পে কী করবেন

  • আতঙ্কিত হবেন না, স্থির থাকার চেষ্টা করুন।
  • বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল/ডেস্ক বা শক্ত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন।
  • রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বের হয়ে আসুন।
  • বিম, কলাম ও পিলারের কাছে আশ্রয় নিন।
  • স্কুলে থাকলে স্কুলব্যাগ মাথায় নিয়ে শক্ত বেঞ্চ/টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
  • ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলাস্থানে যান।
  • গার্মেন্টস, হাসপাতাল, মার্কেট বা সিনেমা হলে ভিড় এড়িয়ে মাথা ঢেকে বসে থাকুন।
  • চাপা পড়ে গেলে মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং খুব বেশি নড়াচড়া করবেন না।
  • কম্পন থেমে গেলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত খোলা জায়গায় বের হন।
  • গাড়িতে থাকলে সেতু, উড়ালসড়ক, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান এবং ভিতরে থাকুন।
  • বাড়িতে ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চ, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখুন।
  • ভবন নির্মাণে সঠিক বিল্ডিং কোড মেনে চলুন।
  • ঘরের জানালা, কাঁচের আলমারি বা ঝুলন্ত আলো থেকে দূরে যান, কারণ এগুলো ভেঙে পড়ে আঘাত করতে পারে।
  • পরিবার নিয়ে আগে থেকেই “মিটিং পয়েন্ট” ঠিক রাখুন— ভূমিকম্পের পর সবাই কোন স্থানে মিলিত হবেন তা নির্ধারণ করুন।
  • জরুরি যোগাযোগ নম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি (আইডি, ডকুমেন্ট) একস্থানে রাখুন।
  • প্রতিবেশী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আগে সহায়তা করুন।
  • কম্পন থামার পর গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পানির লাইন পরীক্ষা করুন; সন্দেহ হলে কর্তৃপক্ষকে জানান।
  • ছোটখাটো আগুন দেখা গেলে দ্রুত নেভানোর চেষ্টা করুন এবং বড় আগুন হলে ফায়ার সার্ভিসকে জানান।
  • ল্যান্ডলাইন বা মোবাইল কল কম ব্যবহার করুন, জরুরি সেবা যেন ব্যস্ত না হয়ে পড়ে।
  • বিদেশে থাকলে বা ভবনের ভেতর আটকে গেলে মোবাইল দিয়ে টেক্সট বা লোকেশন পাঠানোর চেষ্টা করুন, কারণ বার্তা কলের চেয়ে সহজে পৌঁছায়।
  • বড় ভবনে থাকলে “ডাক–কভার–হোল্ড” (Duck–Cover–Hold) পদ্ধতি অনুসরণ করুন—মাথা ঢেকে মজবুত কাঠামোর নিচে ধরুন।
  • পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ভূমিকম্পে কী করবেন না

  • আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করবেন না।
  • লিফট ব্যবহার করবেন না।
  • ওপর তলা থেকে লাফ দেবেন না।
  • দরজার সামনে ভিড় বা ধাক্কাধাক্কি করবেন না।
  • ঘরের বাইরে উঁচু ভবন, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে অবস্থান করবেন না।
  • ভাঙা দেয়ালের নিচে নড়াচড়া করবেন না।
  • গাড়ি নিয়ে সেতু বা ওভারপাসের নিচে অবস্থান করবেন না।
  • গ্যাস লাইন চালু রেখে চুলা জ্বালানো বা ইলেকট্রিক সুইচ অন করবেন না, আগুন লাগতে পারে।
  • লোহার দরজা, গেট বা লিফটের কাছে দাঁড়াবেন না। এসব জায়গায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
  • গুজব ছড়াবেন না, ভুল তথ্য আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়।
  • জরুরি নম্বরগুলোতে অকারণে ফোন করবেন না।
  • শিশু বা বয়স্কদের থেকে আলাদা হয়ে দৌড়ে পালাবেন না, তাদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন।
  • বুকডাউন বা ট্রাফিক ব্লক সৃষ্টি করবেন না, উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।
  • ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে দ্রুত ঢোকার চেষ্টা করবেন না। আফটারশকে ধসের ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশ কম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হলেও ঝুঁকির দিক দিয়ে অবস্থান ওপরের দিকে। তাই ভূমিকম্পে প্রাণক্ষয় কমাতে মহড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে জোর দিতে হবে।

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

আকাশ থেকে নামল ‘উড়ন্ত যম’— পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না পাকিস্তানি বাহিনীর

পাকিস্তানি জেনারেলরা তাদের তথাকথিত ‘ফোর্ট্রেস ডিফেন্স’ বা দুর্গ রক্ষা কৌশলের ওপর যে অন্ধ বিশ্বাস রেখেছিল, তা তখন অন্ধের মতোই তাদের হোঁচট খাওয়াচ্ছিল। একদিকে বিশ্বরাজনীতির দাবার বোর্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সপ্তম নৌ বহর পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপ ছড়াচ্ছিল, অন্যদিকে বাংলার

৪ দিন আগে

বিনয়-বাদল-দীনেশ— অগ্নিযুগের ৩ বিপ্লবী

তিন যুবকের হাতে মোটেও সময় নেই। বেচারা সিম্পসন! আজীবন নিরীহ-নিরপরাধ ভারতীয়দের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এসেছেন। এ জন্য কতকিছু চিন্তা করে নির্যাতনের উপায় বের করতে হয়েছে। সেই মানুষটি নিজের শেষ সময়ে বিন্দুমাত্র ভাবনার সময়ও পেলেন না। তার দিকে তাক করা তিনটি রিভলবার থেকে ছয়টি বুলেট সিম্পসনের শরীর ভেদ করে

৫ দিন আগে

মেঘনা পাড়ে মৃত্যুফাঁদ— রাও ফরমান আলীর পালানোর আকুতি

তবে এ দিনের সবচেয়ে বড় ‘নাটক’ মঞ্চস্থ হয়েছিল যুদ্ধের ময়দানে নয়, বরং ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে এবং নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে। খোদ পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী রাওয়ালপিন্ডির অনুমতি ছাড়াই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে, ‘খেলা শেষ’।

৫ দিন আগে

‘বাঘ’ এখন বিড়াল: ৭ ডিসেম্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জেনারেল নিয়াজি!

ঢাকায় তখন এক ভিন্ন দৃশ্য। যে জেনারেল নিয়াজি দম্ভভরে বলতেন ‘বাংলার মানুষ আমাকে বাঘের মতো ভয় পায়’, সেই নিয়াজি এ দিনেই গভর্নর হাউজে বসে প্রথমবারের মতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। ৭ ডিসেম্বর কেবল ভূখণ্ড জয়ের দিন ছিল না, এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর অহংকারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার দিন।

৬ দিন আগে