বিমানে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’র প্রদর্শন বন্ধ

বিনোদন ডেস্ক
‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: কোলাজ
‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: কোলাজ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দীর্ঘদিন ধরেই প্রদর্শিত হয়ে আসছিল একাধিক শাখায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই চলচ্চিত্র ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। তবে এখন থেকে বিমানের ফ্লাইটে আর এই চলচ্চিত্র দুটি প্রদর্শন করা হবে না।

সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে বিমান কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বলছে, দর্শকদের বিনোদনের ব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক তানভীর মোকাম্মেলের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ফ্লাইটে চলচ্চিত্র দুটির প্রদর্শনী বন্ধের খবর জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকটি পোস্ট তানভীর মোকাম্মেল নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

‘লালসালু’ আটটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিল। পিছিয়ে নেই ‘চিত্রা নদীর পারে’ও, এ সিনেমাটি পেয়েছে সাতটি শাখায় জাতীয় পুরষ্কার। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এই দুটি চলচ্চিত্র।

বিমানের ফ্লাইটে চলচ্চিত্র সরবরাহ করে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, মাস দুয়েক আগে তাদের জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্র দুটি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দেখানো হয়েছে বলে আপাতত আর না দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে আবার দেখানো হবে।

বিমান বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমানের ফ্লাইটে যাত্রীদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা হিসেবে চলচ্চিত্র, টিভি শো বা অডিওর তালিকা তিন মাস পরপর পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। ফ্লাইটে স্টোরেজের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন করা হয়। নিয়মিত এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমা দুটির প্রদর্শনী আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

‘লালসালু’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ২০০১ সালে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তানভীর মোকাম্মেল এটি নির্মাণ করেছিলেন। ছবির শ্রেষ্ঠাংশে রয়েছেন— রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকির আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল, মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ অন্যরা।

অন্যদিকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে তানভীর মোকাম্মেল নিজের কাহিনীতেই নির্মাণ করেন ‘চিত্রা নদীর পারে’। ১৯৯৯ সালে এটি মুক্তি পায় প্রেক্ষাগৃহে। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবীসহ অন্যরা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement