প্রেমের নাটক-সিনেমার নির্মাণ-সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ চেয়ে আইনি নোটিশ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আইনি নোটিশ। প্রতীকী ছবি
আইনি নোটিশ। প্রতীকী ছবি

শুধু প্রেমভিত্তিক রোমান্টিক নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের ফলে দেশে একটি ভারসাম্যহীন তরুণ সমাজ গড়ে উঠছে অভিযোগ করে এ ধরনের নাটক ও চলচ্চিত্রের নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। নোটিশে দেশপ্রেমিক ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে নোটিশে। তা না করলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবল প্রেম ও মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কনটেন্টের ক্রমাগত সম্প্রচারের ফলে একটি চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের প্রতি মারাত্মকভাবে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এসব নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামোকে চরমভাবে ধ্বংস করছে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে বলেছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সামাজিক নৈরাজ্য তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশে পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখা সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এখন চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ধরনের কনটেন্ট নির্মাণে বিধিনিষেধ স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় উল্লেখ করে নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও তা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধসাপেক্ষে। এ ছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
প্রেমের নাটক-সিনেমার নির্মাণ-সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ চেয়ে আইনি নোটিশ