
আবু হেনা তিমু

কোথাও যেন দূর—
মৃত একটি ট্রামের ভিতর বাজে ঘণ্টা;
গলির বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে
কোনো নামহীন কুকুর,
তার চোখের জলে ভিজে থাকে চাঁদের প্রতিচ্ছবি।
আমি কি সত্যিই এই বারান্দায় বসে আছি?
পূর্ণিমার আলোতে আমার হাতের রেখাগুলো
শুকনো নদীর তলদেশের মতো ফেটে গেছে।
নিচে, রাস্তার ওপারে,
একটি জানালায় অচেনা নারী
চুপচাপ বসে চুল আঁচড়ায়—
তার চুলের গন্ধও কি ধোঁয়াহীন সিগারেটের মতো?
বাড়িওয়ালা কড়া নেড়ে চলে গেছে—
কত বছর আগে? আমি ভুলে গেছি।
মুদির দোকানের খাতায় আমার নাম
শুকনো শরতের পাতার মতো হলদে হয়ে আছে।
নাতনির জন্য কাল দুধ কেনা হবে না—
অথবা নাতনি বলে কিছু নেই। এক স্বত্ত্বা
কেবল একটি স্বপ্নের ভিতরে থাকে,
যেখানে নদীর ওপারে
একটি গাছের তলায় ঘুমিয়ে থাকে সময়।
বেনসন লাইটস নেই;
তাই রাত্রি যেন
আলোর চেয়ে অন্ধকার বেশি বহন করে।
দূরে, বাঁশবনের ভিতর থেকে
কেউ যেন আমার নাম ধরে ডাকে—
আমি ফিরি, কিন্তু সেখানে শুধু
একটি ছায়া—আমার মৃত্যুর মত।
পকেটে হাত দিই কিছু খুঁজে পাই নে।
পূর্ণিমার আলো আকাশের সব গর্ত ভরিয়ে রাখে—
তবু আমার বুকের গভীরে
একটি কালো গহ্বর খোলা থাকে,
যেখানে আলো ঢোকে না,
শুধু ধুলো, শূন্যতা, অন্ধকার
এবং হারিয়ে যাওয়া ধোঁয়ার গন্ধ।

কোথাও যেন দূর—
মৃত একটি ট্রামের ভিতর বাজে ঘণ্টা;
গলির বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে
কোনো নামহীন কুকুর,
তার চোখের জলে ভিজে থাকে চাঁদের প্রতিচ্ছবি।
আমি কি সত্যিই এই বারান্দায় বসে আছি?
পূর্ণিমার আলোতে আমার হাতের রেখাগুলো
শুকনো নদীর তলদেশের মতো ফেটে গেছে।
নিচে, রাস্তার ওপারে,
একটি জানালায় অচেনা নারী
চুপচাপ বসে চুল আঁচড়ায়—
তার চুলের গন্ধও কি ধোঁয়াহীন সিগারেটের মতো?
বাড়িওয়ালা কড়া নেড়ে চলে গেছে—
কত বছর আগে? আমি ভুলে গেছি।
মুদির দোকানের খাতায় আমার নাম
শুকনো শরতের পাতার মতো হলদে হয়ে আছে।
নাতনির জন্য কাল দুধ কেনা হবে না—
অথবা নাতনি বলে কিছু নেই। এক স্বত্ত্বা
কেবল একটি স্বপ্নের ভিতরে থাকে,
যেখানে নদীর ওপারে
একটি গাছের তলায় ঘুমিয়ে থাকে সময়।
বেনসন লাইটস নেই;
তাই রাত্রি যেন
আলোর চেয়ে অন্ধকার বেশি বহন করে।
দূরে, বাঁশবনের ভিতর থেকে
কেউ যেন আমার নাম ধরে ডাকে—
আমি ফিরি, কিন্তু সেখানে শুধু
একটি ছায়া—আমার মৃত্যুর মত।
পকেটে হাত দিই কিছু খুঁজে পাই নে।
পূর্ণিমার আলো আকাশের সব গর্ত ভরিয়ে রাখে—
তবু আমার বুকের গভীরে
একটি কালো গহ্বর খোলা থাকে,
যেখানে আলো ঢোকে না,
শুধু ধুলো, শূন্যতা, অন্ধকার
এবং হারিয়ে যাওয়া ধোঁয়ার গন্ধ।

১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা
১৭ দিন আগে
একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব
১৯ দিন আগে
এই ভয়াল ট্র্যাজেডির পাশাপাশি এ দিনই শুরু হয় আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিক নাটকীয়তাও। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশের চরমপত্রের পর ১৩ ডিসেম্বর রাতে জেনারেল নিয়াজি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন নিয়াজির আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক সিগন্যালটি দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছায়।
২০ দিন আগে
একাত্তরের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই যখন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে আসছিল, তখনই গভর্নর হাউসের অন্দরমহলে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এক ভয়ংকর নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। তাঁর ডায়েরিতেই পাওয়া যায় সেই মৃত্যু-তালিকা, যেখানে লেখা ছিল দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের নাম।
২০ দিন আগে