বুধবার বসছে পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসর, থাকছে পাঞ্জেরী

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা-বাণিজ্যকেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসর শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর)। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় পাঁচ দিনের এই বইমেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকাশক, লেখক, সাহিত্যিক, রাইটস এজেন্ট, অনুবাদক, প্রযুক্তিবিদ ও সৃজনশীল শিল্পের প্রতিনিধিদের সমাগম ঘটবে। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ এই মিলনমেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ কামরুল হাসান শায়ক এবারও ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় অংশগ্রহণ করবেন। ৬ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্রাঙ্কফুর্টে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রকাশক ও রাইটস এজেন্টদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে বিশ্ব প্রকাশকদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিএ) বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও কর্মসূচিতেও যোগ দেবেন।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা নিছক বই প্রদর্শনের আয়োজন নয়, এটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম। বইয়ের অনুবাদ ও প্রকাশনা-স্বত্ব কেনাবেচা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, সাহিত্য ও কনটেন্টের নতুন বাজার সৃষ্টি, অডিওবুক, চলচ্চিত্র ও গেমসের জন্য কনটেন্ট অধিকার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার— সবকিছুর সঙ্গে এই মেলার কার্যক্রম গভীরভাবে যুক্ত। ২০২৬ সালের আয়োজনে এসবের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রভাবও বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এবারের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার গেস্ট অব অনার হিসেবে থাকছে চেক রিপাবলিক । ‘A Country on the Coast’ বা ‘সমুদ্রতীরের একটি দেশ’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে দেশটি তাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরবে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার গেস্ট অব অনার কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং অনুবাদ ও আন্তর্জাতিক লাইসেন্স বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ানো।
পাঞ্জেরীর পক্ষ থেকে এবারের মেলায় বাংলাদেশের খ্যাতিমান লেখকদের প্রকাশিত শতাধিক বইয়ের পরিচিতি অনুবাদ ও প্রকাশনা-স্বত্ব বিক্রির উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা অঙ্গনের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার সাহিত্য, শিশু-কিশোর বই, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা এবং বাংলাদেশের লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মেলা চলাকালে কামরুল হাসান শায়ক বিভিন্ন দেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের রাইটস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বইয়ের অনুবাদস্বত্ব বিক্রি, বিদেশি বইয়ের স্বত্ব ক্রয়, যৌথ প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা বইয়ের প্রসার এবং প্রকাশনা প্রযুক্তি নিয়ে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
৭ অক্টোবর বুধবার ফ্রাঙ্কফুর্ট সফরের শুরুতেই কামরুল হাসান শায়ক ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন আর্টিফিশিয়ালি ইন্টেলিজেন্স (আইআরসিএআই) ও ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিএ) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা, সেমিনার ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘AI in Education & Publishing: How AI is Reshaping Learning, Textbooks and Educational Publishing’ এবং ‘AI in Media: JAISD: Publishing Scientific Knowledge in AI Era’ শীর্ষক সেমিনার।
একই দিনে আইপিএর ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান, আইপিএ কপিরাইট কমিটি ও আইপিএ ইনক্লুসিভ কপিরাইট পাবলিশিং অ্যান্ড লিটারেসি কমিটির সভাতেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশনা শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এরই মধ্যে সম্পাদনা, অনুবাদ, বইয়ের বিপণন, কনটেন্ট তৈরি, পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া এবং কপিরাইট ব্যবস্থাপনার মতো নানা ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। ফলে এবারের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় এআই ও প্রকাশনার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কামরুল হাসান শায়ক ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার International Grant Programmes’ Alumnae & Alumni Reception-এ অংশ নেবেন। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসবিআর মিডিয়া ও মেক্সিকোভিত্তিক ভিএফ এজেন্সিয়া লিটারারিয়ার রাইটস প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুবাদস্বত্ব ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
৯ অক্টোবর শুক্রবার Foreign Rights VF ও Spring Time Software Solutions Pvt. Ltd.-এর রাইটস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে কামরুল হাসান শায়কের। একই দিনে IRCAI আয়োজিত ‘AI Manifesto: Building a Human-Centered Vision for AI and Publishing’ এবং ‘AI Regulation: Governance, Ethics & Responsible AI for Publishing and Culture’ শীর্ষক সেমিনারেও তিনি অংশ নেবেন।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ২০২৬ সালের আয়োজনে নতুন হল বিন্যাস, আন্তর্জাতিক রাইটস বাণিজ্য, অনুবাদ, অডিও, চলচ্চিত্র, গেমস ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকাশনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের জন্যও এটি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
কামরুল হাসান শায়কের ধারাবাহিক ফ্রাঙ্কফুর্ট সফর ও আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের সঙ্গে বৈঠক বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাংলা বইয়ের অনুবাদ, মেধাস্বত্বের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রকাশনা প্রযুক্তি, এআই ও বৈশ্বিক প্রকাশকদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এবারের সফর নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ২০২৬ সালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ৭ থেকে ১১ অক্টোবর চলবে। ৭ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এটি মূলত পেশাজীবী ও বাণিজ্যিক দর্শনার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হিসেবে সক্রিয় থাকবে, ৯ অক্টোবর থেকে সাধারণ পাঠকরাও মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্বের প্রকাশনা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনকে ঘিরে এরই মধ্যে ফ্রাঙ্কফুর্টে আন্তর্জাতিক সাহিত্য, প্রকাশনা ও কনটেন্ট শিল্পের প্রতিনিধিদের মিলন শুরু হয়েছে।
লেখক: প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম


















