কবিতা

তবুও সন্ধ্যা নামে

প্রতিকী ছবি। ছবি : এআইয়ের তৈরি।
প্রতিকী ছবি। ছবি : এআইয়ের তৈরি।

শহরের ভিড়ে হাঁটি আমি নিঃসঙ্গ পথিক,

বিজ্ঞাপনের আলো, ক্লান্ত রিকশার ঘণ্টাধ্বনি,

সবাই যেন ঠেলে দেয় দূরের সীমান্তে—

যেখানে আর কোনো সাড়া নেই,

শুধু নীরবতার গহ্বর।

সময় প্রতিদিন আসে ঋণদাতার বেশে,

ক্যালেন্ডারের পাতায় লিখে যায় তাগিদ:

আজও বেঁচে আছ, কালও বাঁচতে হবে—

কিন্তু কোথা থেকে আনবে আলো,

কোথা থেকে আনবে নিঃশ্বাসের খোরাক?

মানুষেরা ব্যস্ত নিজেদের আয়নায়—

পুত্রের চোখে দহন,

পুত্রবধূর ঠোঁটে শীতল অভিযোগ,

নাতনির কণ্ঠে অপূর্ণতার ছায়া।

আমি তাদের পাশে থেকেও অচেনা,

যেন নিভে যাওয়া প্রদীপের নিস্তেজ সলতে।

তবুও সন্ধ্যা নামে—

আকাশে ধূসরতা মিশে যায় নদীর ডাকে।

বাসায় মোবাইল রেখে প্রতিদিন

ধলেশ্বরীর পারে গিয়ে দাঁড়াই,

জলে মুখ ডুবিয়ে শান্তি খুঁজি।

প্রতিদিন নদী আমাকে ফেরায়,

কানে কানে বলে দেয়—

এখনো তোমার সময় হয়নি।

আমি ফিরে আসি,

শহরের নরকযন্ত্রণা, দোকানদারের তাগাদা,

বাড়িওলার গালি, মানুষের শূন্যতা—

সব কোলাহল নিয়ে আবার বেঁচে থাকি।

কিন্তু অন্তরে জানি,

একদিন মেঘনা ডেকে নেবে আপন করে—

বলবে, আর ফেরাবো না তোমায়।

তখন ভেসে যাব নীল অন্ধকারে,

সময়ের কাঁটা থেমে যাবে সেখানে,

মানুষের সকল অনুযোগ হারাবে,

থাকবে শুধু শূন্য সমুদ্রের মতো নিস্তব্ধতা,

যেখানে আমি এক বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যাব

চিরকালের অসীমের ভেতর।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement