
অরুণাভ বিশ্বাস

বাংলা গানের জগতে বর্ষা এক অনিবার্য রোমান্টিক উপাদান। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, মেঘলা আকাশ, কুয়াশামাখা মাঠঘাট, ভেজা আম-কাঁঠালের গন্ধ—সব মিলিয়ে বর্ষা যেন এক জীবন্ত কবিতা। এই ঋতুটি বাংলা গানে বারবার ফিরে আসে, কখনও প্রেমের রূপ ধরে, কখনও বিচ্ছেদের, আবার কখনও একাকীত্ব কিংবা কৃষকের আশার আলো হয়ে। বাংলা গানের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বর্ষা এখানে শুধু ঋতু নয়, এক অন্তর্গত আবেগ, যা বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকে চিরকাল।
প্রাচীন কবি-গান থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অতুল প্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় থেকে আধুনিক যুগের সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, রুনা লায়লা কিংবা বর্তমান প্রজন্মের অনুপম রায়, শিলাজিৎ—সবাই বর্ষার রোমান্টিকতায় মজেছেন। ‘এসো, এসো, এসো হে বরষা’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’, ‘রিমঝিম বৃষ্টির সুরে’, ‘মেঘ বলেছে যাবো যাবো’—এইসব গানে বর্ষা কখনও চুপিসারে আসা ভালোবাসার প্রতীক, আবার কখনও এক নিঃসঙ্গ কণ্ঠস্বর।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে বর্ষা এসেছে এক অতল প্রেম নিয়ে। তাঁর ‘বরিষ ধারা বাদরে’ গানটি কেবল প্রকৃতির বর্ণনা নয়, এক গভীর মানসিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। কবি বৃষ্টিকে দেখেছেন উদারতার প্রতীক হিসেবে, যা সবকিছুকে এক করে দেয়। আবার ‘আমার পরান যাহা চায়’ গানটিতে বর্ষা যেন এক গভীর আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
নজরুলের গানে বর্ষা এসেছে বিদ্রোহ আর প্রেমের মিশেলে। ‘বরষা এসে গেছে ফিরে, ওই বিজলি হাসে’, কিংবা ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হে ধরেছি দেখেছি পল্লবিত বনবীথি’—এইসব গানে বৃষ্টির শব্দ যেন বাঁশির সুর হয়ে বেজে ওঠে। তাঁর গানে বর্ষা কেবল প্রকৃতির আনন্দ নয়, বরং এক বিপ্লবী রোমান্স।
আধুনিক বাংলা গানেও বর্ষা স্থান করে নিয়েছে নতুন রূপে। ব্যান্ড সংগীতে যেমন ‘মাইলস’ এর ‘রেইন’, কিংবা ‘চিরকুট’-এর ‘যদি হেঁটে যেতে পারো বর্ষায়’ গানগুলোতে বর্ষা হয়ে ওঠে তরুণ প্রজন্মের আত্মকথা। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে বর্ষা একদিকে যেমন রোমান্সের প্রতীক (‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, ‘তুমি আসবে বলে’, ‘রিমঝিম গিরে সাওয়ান’), অন্যদিকে আবার মেলোড্রামারও বাহক। অনেক সময় নায়ক-নায়িকার চোখের জল আর আকাশের বৃষ্টিকে একসাথে দেখানো হয় দর্শকের অনুভূতি আরও গভীর করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা বাংলা গানে এত প্রভাব ফেলেছে কারণ এই ঋতুটি বাঙালির আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ-এর সংগীত ও আবেগ নিয়ে গবেষণা করা অধ্যাপক ড. ফিলিপ স্যামুয়েলস বলেন, “বাংলা গানে বর্ষা শুধু আবহ নয়, এটি এক গভীর মানসিক আবহাওয়ার প্রতিফলন। বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলে, তেমনি বাঙালি হৃদয়েও এক নতুন অনুভবের জন্ম দেয়। বাংলা গানের সুর আর কথায় এই আবেগ প্রকট।”
বৃষ্টির শব্দ, মেঘের গর্জন, আকাশের রং বদল—এসবই বাঙালি সুরকারদের জন্য এক অপার প্রেরণা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন’ শুনলে যেন নিজের অজান্তেই বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে। সুরের সঙ্গে সুর মিলে যায় হৃদয়ের। সেই একই অনুভূতি পাওয়া যায় সলিল চৌধুরীর ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’ বা রুনা লায়লার ‘সাঁঝের মেঘের মত’ গানগুলোতেও।
আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো-র মনোবিজ্ঞানী ড. এলিনা গার্সিয়া বলেন, “বৃষ্টি মানুষের মনে স্মৃতি জাগায়। বিশেষ করে প্রেম, অভিমান, অতীতের মুহূর্ত—এসব অনুভব বৃষ্টির দিনে আরও গভীর হয়। সেজন্য বর্ষা নিয়ে লেখা গান মানুষ বেশি অনুভব করে।” বাংলা গানে সেই অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায় নানা মাত্রায়।
তবে শুধু শহুরে রোমান্টিকতা নয়, বর্ষা এসেছে গ্রামীণ বাংলার গানে এক অন্য রূপে। ভাটিয়ালি, জারি-সারি, ধান কাটার গান—সবখানেই বর্ষার প্রভাব লক্ষ করা যায়। ধান রোপণের সময় গাওয়া গানগুলিতে যেমন বর্ষার প্রশংসা করা হয়, তেমনি অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হলে উঠে আসে হাহাকার। সেসব গান আজ হয়তো জনপ্রিয় নয়, কিন্তু গ্রামবাংলার মাটিতে তারা আজও বেঁচে আছে।
বর্ষা তাই বাংলা গানে শুধু প্রেম নয়, জীবনের প্রতিটি স্তরেরই অভিব্যক্তি। প্রেম, বিরহ, অপেক্ষা, ধান কাটার আনন্দ, নদী ভাঙনের ভয়, জীবনের চলার পথ—সবকিছুতেই বর্ষা এক সঙ্গী। বাংলা গানের এই বৈচিত্র্যময় আবেগ গঠনের পেছনে বর্ষা যেমন প্রকৃতি হিসেবে ছিল, তেমনি ছিল আবেগের রূপকার হিসেবে।
এখনকার তরুণ শিল্পীরাও বর্ষাকে বাদ রাখেন না। অনুপম রায়ের ‘আজ বৃষ্টি পড়ে’, ইমরানের ‘তুমি ভেজা আমার বর্ষা’, নন্দিতার ‘আকাশ কাঁদে, আমিও কাঁদি’—সব গানেই বর্ষা এক আধুনিক ব্যথা নিয়ে ফিরে আসে। প্রযুক্তি ও শহুরে জীবনের বদল এলেও বর্ষা গানের আবহে একই রকম আবেগ জাগায়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলা গানে বর্ষা এক অমলিন অনুপ্রেরণা। সময়ের সঙ্গে গানের ধরন বদলালেও বর্ষা তার অবস্থান অটুট রেখেছে। কারণ বর্ষা মানেই এক নতুন শুরু, এক প্রতীক্ষা, এক ফিরে আসা। আর বাঙালির মন তো অপেক্ষা, ভালোবাসা আর স্বপ্নের ওপরই দাঁড়িয়ে। তাই বর্ষা আসুক, গানের সুরে ভিজে উঠুক মন।

বাংলা গানের জগতে বর্ষা এক অনিবার্য রোমান্টিক উপাদান। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, মেঘলা আকাশ, কুয়াশামাখা মাঠঘাট, ভেজা আম-কাঁঠালের গন্ধ—সব মিলিয়ে বর্ষা যেন এক জীবন্ত কবিতা। এই ঋতুটি বাংলা গানে বারবার ফিরে আসে, কখনও প্রেমের রূপ ধরে, কখনও বিচ্ছেদের, আবার কখনও একাকীত্ব কিংবা কৃষকের আশার আলো হয়ে। বাংলা গানের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বর্ষা এখানে শুধু ঋতু নয়, এক অন্তর্গত আবেগ, যা বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকে চিরকাল।
প্রাচীন কবি-গান থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অতুল প্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় থেকে আধুনিক যুগের সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, রুনা লায়লা কিংবা বর্তমান প্রজন্মের অনুপম রায়, শিলাজিৎ—সবাই বর্ষার রোমান্টিকতায় মজেছেন। ‘এসো, এসো, এসো হে বরষা’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’, ‘রিমঝিম বৃষ্টির সুরে’, ‘মেঘ বলেছে যাবো যাবো’—এইসব গানে বর্ষা কখনও চুপিসারে আসা ভালোবাসার প্রতীক, আবার কখনও এক নিঃসঙ্গ কণ্ঠস্বর।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে বর্ষা এসেছে এক অতল প্রেম নিয়ে। তাঁর ‘বরিষ ধারা বাদরে’ গানটি কেবল প্রকৃতির বর্ণনা নয়, এক গভীর মানসিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। কবি বৃষ্টিকে দেখেছেন উদারতার প্রতীক হিসেবে, যা সবকিছুকে এক করে দেয়। আবার ‘আমার পরান যাহা চায়’ গানটিতে বর্ষা যেন এক গভীর আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
নজরুলের গানে বর্ষা এসেছে বিদ্রোহ আর প্রেমের মিশেলে। ‘বরষা এসে গেছে ফিরে, ওই বিজলি হাসে’, কিংবা ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হে ধরেছি দেখেছি পল্লবিত বনবীথি’—এইসব গানে বৃষ্টির শব্দ যেন বাঁশির সুর হয়ে বেজে ওঠে। তাঁর গানে বর্ষা কেবল প্রকৃতির আনন্দ নয়, বরং এক বিপ্লবী রোমান্স।
আধুনিক বাংলা গানেও বর্ষা স্থান করে নিয়েছে নতুন রূপে। ব্যান্ড সংগীতে যেমন ‘মাইলস’ এর ‘রেইন’, কিংবা ‘চিরকুট’-এর ‘যদি হেঁটে যেতে পারো বর্ষায়’ গানগুলোতে বর্ষা হয়ে ওঠে তরুণ প্রজন্মের আত্মকথা। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে বর্ষা একদিকে যেমন রোমান্সের প্রতীক (‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, ‘তুমি আসবে বলে’, ‘রিমঝিম গিরে সাওয়ান’), অন্যদিকে আবার মেলোড্রামারও বাহক। অনেক সময় নায়ক-নায়িকার চোখের জল আর আকাশের বৃষ্টিকে একসাথে দেখানো হয় দর্শকের অনুভূতি আরও গভীর করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা বাংলা গানে এত প্রভাব ফেলেছে কারণ এই ঋতুটি বাঙালির আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ-এর সংগীত ও আবেগ নিয়ে গবেষণা করা অধ্যাপক ড. ফিলিপ স্যামুয়েলস বলেন, “বাংলা গানে বর্ষা শুধু আবহ নয়, এটি এক গভীর মানসিক আবহাওয়ার প্রতিফলন। বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলে, তেমনি বাঙালি হৃদয়েও এক নতুন অনুভবের জন্ম দেয়। বাংলা গানের সুর আর কথায় এই আবেগ প্রকট।”
বৃষ্টির শব্দ, মেঘের গর্জন, আকাশের রং বদল—এসবই বাঙালি সুরকারদের জন্য এক অপার প্রেরণা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন’ শুনলে যেন নিজের অজান্তেই বুকের ভিতর কেঁপে ওঠে। সুরের সঙ্গে সুর মিলে যায় হৃদয়ের। সেই একই অনুভূতি পাওয়া যায় সলিল চৌধুরীর ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’ বা রুনা লায়লার ‘সাঁঝের মেঘের মত’ গানগুলোতেও।
আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো-র মনোবিজ্ঞানী ড. এলিনা গার্সিয়া বলেন, “বৃষ্টি মানুষের মনে স্মৃতি জাগায়। বিশেষ করে প্রেম, অভিমান, অতীতের মুহূর্ত—এসব অনুভব বৃষ্টির দিনে আরও গভীর হয়। সেজন্য বর্ষা নিয়ে লেখা গান মানুষ বেশি অনুভব করে।” বাংলা গানে সেই অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায় নানা মাত্রায়।
তবে শুধু শহুরে রোমান্টিকতা নয়, বর্ষা এসেছে গ্রামীণ বাংলার গানে এক অন্য রূপে। ভাটিয়ালি, জারি-সারি, ধান কাটার গান—সবখানেই বর্ষার প্রভাব লক্ষ করা যায়। ধান রোপণের সময় গাওয়া গানগুলিতে যেমন বর্ষার প্রশংসা করা হয়, তেমনি অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হলে উঠে আসে হাহাকার। সেসব গান আজ হয়তো জনপ্রিয় নয়, কিন্তু গ্রামবাংলার মাটিতে তারা আজও বেঁচে আছে।
বর্ষা তাই বাংলা গানে শুধু প্রেম নয়, জীবনের প্রতিটি স্তরেরই অভিব্যক্তি। প্রেম, বিরহ, অপেক্ষা, ধান কাটার আনন্দ, নদী ভাঙনের ভয়, জীবনের চলার পথ—সবকিছুতেই বর্ষা এক সঙ্গী। বাংলা গানের এই বৈচিত্র্যময় আবেগ গঠনের পেছনে বর্ষা যেমন প্রকৃতি হিসেবে ছিল, তেমনি ছিল আবেগের রূপকার হিসেবে।
এখনকার তরুণ শিল্পীরাও বর্ষাকে বাদ রাখেন না। অনুপম রায়ের ‘আজ বৃষ্টি পড়ে’, ইমরানের ‘তুমি ভেজা আমার বর্ষা’, নন্দিতার ‘আকাশ কাঁদে, আমিও কাঁদি’—সব গানেই বর্ষা এক আধুনিক ব্যথা নিয়ে ফিরে আসে। প্রযুক্তি ও শহুরে জীবনের বদল এলেও বর্ষা গানের আবহে একই রকম আবেগ জাগায়।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলা গানে বর্ষা এক অমলিন অনুপ্রেরণা। সময়ের সঙ্গে গানের ধরন বদলালেও বর্ষা তার অবস্থান অটুট রেখেছে। কারণ বর্ষা মানেই এক নতুন শুরু, এক প্রতীক্ষা, এক ফিরে আসা। আর বাঙালির মন তো অপেক্ষা, ভালোবাসা আর স্বপ্নের ওপরই দাঁড়িয়ে। তাই বর্ষা আসুক, গানের সুরে ভিজে উঠুক মন।

১৬ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন প্রমাণিত হয়েছিল— একটি নিরস্ত্র জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি বা আধুনিক সমরাস্ত্র তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। মার্কিন সপ্তম নৌ বহর বঙ্গোপসাগরের নীল জলেই থমকে দাঁড়িয়েছিল। আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব কূটচাল ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল বাঙা
১৮ দিন আগে
একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর দিনটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিচিত্র ও শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়, যেখানে বিজয়ের চূড়ান্ত আনন্দ আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণ একই সমান্তরালে চলছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি ছিল বিজয়ের ঠিক আগের দিন। কিন্তু রণাঙ্গনের বাস্তবতায় এটি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক মৃত্যু ও যৌথ ব
১৯ দিন আগে
এই ভয়াল ট্র্যাজেডির পাশাপাশি এ দিনই শুরু হয় আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিক নাটকীয়তাও। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশের চরমপত্রের পর ১৩ ডিসেম্বর রাতে জেনারেল নিয়াজি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ১৪ ডিসেম্বর ছিল সেই দিন, যেদিন নিয়াজির আত্মসমর্পণের সেই ঐতিহাসিক সিগন্যালটি দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছায়।
২০ দিন আগে
একাত্তরের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই যখন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে আসছিল, তখনই গভর্নর হাউসের অন্দরমহলে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এক ভয়ংকর নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। তাঁর ডায়েরিতেই পাওয়া যায় সেই মৃত্যু-তালিকা, যেখানে লেখা ছিল দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের নাম।
২০ দিন আগে