
রাশেদা কে চৌধূরী

বাংলা সাহিত্য, শিক্ষা ও মানবিকতার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা রেখে চলে গেল সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সে ছিল এমন এক মানুষ, যে কথায়-কাজে-চিন্তায় ও জীবনদর্শনে জাতির বিবেক হয়ে উঠেছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দীর্ঘদিনের শিক্ষক হিসেবে সৈয়দ মনজুর ছাত্রদের শুধু সাহিত্য নয়, মানুষ হওয়ার পাঠও শেখাতো। ক্লাসরুম থেকে কলাম, গল্প থেকে প্রবন্ধ— সবখানেই ফুটে উঠত তার তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ, মানবিক সংবেদনশীলতা আর ন্যায়বোধ।
অন্ধকার সময়েও সে ছিল আমাদের আলোকবর্তিকা, যে দেখিয়েছে— সাহিত্য কেবল নান্দনিকতার নয়, নৈতিক সাহসেরও একটি ক্ষেত্র। অন্যায় ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সে ছিল দৃঢ়, কিন্তু তার ভাষা ছিল সবসময় কোমল, গভীর ও আলোকিত।
শৈশব, পরিবার ও পড়ালেখার সূত্রে আমাদের সারা জীবনের পথ চলা। আমরা যারা সৈয়দ মনজুরের সহপাঠী, তাকে চিনতাম বন্ধুবৎসল, হাসিখুশি ও ‘উইটি’ মানুষ হিসেবে। তার সঙ্গে আমার শৈশবের সম্পর্ক। সে সিলেট শহরের পাইলট স্কুলে পড়ত। আর আমি অগ্রণী স্কুলে পড়তাম। সৈয়দ মনজুরের সঙ্গে সেই শৈশব থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আমরা দুজন ছিলাম ইংরেজি বিভাগের সহপাঠী।
যোগসূত্র পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা এখানেই শেষ নয়— আমার বাবা ছিলেন সৈয়দ মনজুরের শিক্ষক, আর মনজুরের মা ছিলেন আমার শিক্ষক। সহপাঠীই শুধু নয়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দাবিতে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে আমাদের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বয়কট করেছিলাম একসঙ্গে।
আজ তার এক ইন্টেগ্রিটির কথা বিশেষভাবে মনে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে আমি ছিলাম সভাপতি প্রার্থী, আর নির্বাচন কমিশনার ছিল সৈয়দ মনজুর। কিন্তু আমি সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় সে নির্বাচন পরিচালনা করতে অপারগতা প্রকাশ করে। তার বদলে ফখরুল ইসলামকে কমিশনার করা হয়।
ইংরেজি বিভাগ তো বটেই, সৈয়দ মনজুর হয়ে উঠেছিল জাতির বাতিঘর। সৈয়দ মনজুরের সূত্রে আজ মনে পড়ে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর কথা। এই সূত্রে গভীর শ্রদ্ধা জানাই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারকেও, যার মাপের কাউকে আর খুঁজে পাই না। তাদের কাছে পুঁথিগত বিদ্যা বা পাস করা ছিল না মুখ্য বিষয়।
বাবা কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে থাকায় আমি ভর্তি হয়েছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখান থেকে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই আমার বিয়ে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সৈয়দ মনজুর স্বাগত জানায় এবং আমাকে ঘিরে কিছুটা ফিসফাস টের পেয়ে বন্ধুদের জানিয়ে দেয়, আমি বিবাহিত। আমি যখন সন্তানসম্ভবা, তখন সহপাঠী হিসেবে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তার সহায়তার কথা বেশ মনে পড়ে।

সৈয়দ মনজুর আড়ালে অনেক মানুষের উপকার করত। তার কাছে অগ্রাধিকার ছিল ছাত্র, সতীর্থ ও সিলেট। সিলেটের কেউ তার কাছে গেলে এবং তার সামর্থ্যের মধ্যে থাকলে কখনো খালি হাতে ফিরত না। ঢাকাকেন্দ্রিক জীবন হলেও শেকড়ের প্রতি তার কমিটমেন্ট ছিল গভীর। ঢাকা ছাড়াও তার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিস্তৃতি ছিল দেশের বাইরেও।
সৈয়দ মনজুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের কর্মীরা অনেকেই কেঁদেছে। গণস্বাক্ষরতা অভিযানে বিভিন্ন ইস্যুতে তাকে ডাকলেই পাওয়া যেত। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির দরদ ছিল শিক্ষার প্রতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও সৈয়দ মনজুর ভাবত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক— সব স্তরের শিক্ষার কথা, এমনকি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়েও। কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সে ছিল সোচ্চার। আমাদের ওপর তার এতটাই আস্থা ছিল যে অনেক সময় শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ইস্যুতে বিবৃতি তৈরি করার সময় সে পড়েও দেখত না।
কঠিন কথা সহজ করে বলার এক জাদুকর ছিল সৈয়দ মনজুর। সে বিশ্বাস করত, সাহিত্য এক নৈতিক চর্চা, যেখানে লেখককে নিজের সময়-সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়। তার গল্পে যেমন উঠে এসেছে শহুরে জীবনের সংকট, তেমনি প্রান্তিক মানুষের বেদনাও।
কালপুরুষের দুঃখবিলাস, প্রেম ও প্রার্থনার গল্প, গল্পসমগ্র, প্রত্নগল্প, ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরে, কিংবা সাম্প্রতিক আলাপচারিতা— প্রতিটি রচনায় সে দেখিয়েছে বাঙালির মনোজগতের বহুমাত্রিক রূপ। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন।

সৈয়দ মনজুরের লেখায় সমাজের ভেতরকার অন্ধকার, ভয় ও অন্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার এক সাহসী আহ্বান থাকে। তবে সেই প্রতিবাদ কখনো কণ্ঠের উচ্চতায় নয়, ভাষার গভীরতায় প্রকাশ পায়। সে বিশ্বাস করত, সত্যিকারের সাহিত্য মানবিকতাকে জাগিয়ে তোলে— অন্যের দুঃখ অনুভবের ক্ষমতা শেখায়।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার আস্থা ছিল অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কিংবা পত্রিকার কলামলেখক হিসেবে সে তরুণদের উৎসাহ দিত প্রশ্ন করতে, ভাবতে, সাহসী হতে।
সে ছিল আমাদের সময়ের এক নির্ভীক চিন্তাবিদ, যে কখনো আপস করেনি নিজের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে। অন্যায়, দমন, বিভাজন— যে রূপেই আসুক, সে তা ভদ্র অথচ দৃঢ় ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। তার কলমে সাহিত্যের সৌন্দর্য যেমন ছিল, তেমনি ছিল এক অনমনীয় বিবেক।
আজ যখন সমাজে সত্য বলা কঠিন, যখন নৈতিকতা প্রায়ই বাজারে হারিয়ে যায়, তখন সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের চলে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বিবেক হারালে জাতি দিশাহারা হয়। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে, শব্দেরও একটি নৈতিক দায় আছে এবং সাহিত্য মানে কেবল রুচির নয়, মানবতার চর্চাও বটে।

এভাবে সৈয়দ মনজুর হঠাৎ করে চলে যাবে, ভাবতেও পারিনি। বেশ আগে থেকেই হার্ট ও কিডনির সমস্যা ছিল। বিষয়টি সেভাবে কাউকে বলেনি। একটু চাপা স্বভাবের ছিল, বিশেষ করে নিজের বিষয়ে।
ক্যান্সার সারভাইভার জীবনসঙ্গীর জন্য সে অনেক করেছে। অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে না আসার কারণ হিসেবে সে জানাত, সনজিদার (সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের স্ত্রী) শরীর ভালো না, তাই আসতে পারবে না।
সৈয়দ মনজুর ছিল এক প্রজন্মের আলোকবর্তিকা, যে আমাদের মনের অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে গেছে। তার মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি, কিন্তু তার চিন্তা, সততা ও নৈতিক সাহস আমাদের সাহিত্য-সমাজে দীর্ঘদিন জেগে থাকবে— এক অনির্বাণ আলো হয়ে।
লেখক: গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

বাংলা সাহিত্য, শিক্ষা ও মানবিকতার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা রেখে চলে গেল সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সে ছিল এমন এক মানুষ, যে কথায়-কাজে-চিন্তায় ও জীবনদর্শনে জাতির বিবেক হয়ে উঠেছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দীর্ঘদিনের শিক্ষক হিসেবে সৈয়দ মনজুর ছাত্রদের শুধু সাহিত্য নয়, মানুষ হওয়ার পাঠও শেখাতো। ক্লাসরুম থেকে কলাম, গল্প থেকে প্রবন্ধ— সবখানেই ফুটে উঠত তার তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ, মানবিক সংবেদনশীলতা আর ন্যায়বোধ।
অন্ধকার সময়েও সে ছিল আমাদের আলোকবর্তিকা, যে দেখিয়েছে— সাহিত্য কেবল নান্দনিকতার নয়, নৈতিক সাহসেরও একটি ক্ষেত্র। অন্যায় ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সে ছিল দৃঢ়, কিন্তু তার ভাষা ছিল সবসময় কোমল, গভীর ও আলোকিত।
শৈশব, পরিবার ও পড়ালেখার সূত্রে আমাদের সারা জীবনের পথ চলা। আমরা যারা সৈয়দ মনজুরের সহপাঠী, তাকে চিনতাম বন্ধুবৎসল, হাসিখুশি ও ‘উইটি’ মানুষ হিসেবে। তার সঙ্গে আমার শৈশবের সম্পর্ক। সে সিলেট শহরের পাইলট স্কুলে পড়ত। আর আমি অগ্রণী স্কুলে পড়তাম। সৈয়দ মনজুরের সঙ্গে সেই শৈশব থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আমরা দুজন ছিলাম ইংরেজি বিভাগের সহপাঠী।
যোগসূত্র পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা এখানেই শেষ নয়— আমার বাবা ছিলেন সৈয়দ মনজুরের শিক্ষক, আর মনজুরের মা ছিলেন আমার শিক্ষক। সহপাঠীই শুধু নয়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দাবিতে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে আমাদের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বয়কট করেছিলাম একসঙ্গে।
আজ তার এক ইন্টেগ্রিটির কথা বিশেষভাবে মনে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে আমি ছিলাম সভাপতি প্রার্থী, আর নির্বাচন কমিশনার ছিল সৈয়দ মনজুর। কিন্তু আমি সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় সে নির্বাচন পরিচালনা করতে অপারগতা প্রকাশ করে। তার বদলে ফখরুল ইসলামকে কমিশনার করা হয়।
ইংরেজি বিভাগ তো বটেই, সৈয়দ মনজুর হয়ে উঠেছিল জাতির বাতিঘর। সৈয়দ মনজুরের সূত্রে আজ মনে পড়ে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর কথা। এই সূত্রে গভীর শ্রদ্ধা জানাই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারকেও, যার মাপের কাউকে আর খুঁজে পাই না। তাদের কাছে পুঁথিগত বিদ্যা বা পাস করা ছিল না মুখ্য বিষয়।
বাবা কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে থাকায় আমি ভর্তি হয়েছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখান থেকে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই আমার বিয়ে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর সৈয়দ মনজুর স্বাগত জানায় এবং আমাকে ঘিরে কিছুটা ফিসফাস টের পেয়ে বন্ধুদের জানিয়ে দেয়, আমি বিবাহিত। আমি যখন সন্তানসম্ভবা, তখন সহপাঠী হিসেবে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তার সহায়তার কথা বেশ মনে পড়ে।

সৈয়দ মনজুর আড়ালে অনেক মানুষের উপকার করত। তার কাছে অগ্রাধিকার ছিল ছাত্র, সতীর্থ ও সিলেট। সিলেটের কেউ তার কাছে গেলে এবং তার সামর্থ্যের মধ্যে থাকলে কখনো খালি হাতে ফিরত না। ঢাকাকেন্দ্রিক জীবন হলেও শেকড়ের প্রতি তার কমিটমেন্ট ছিল গভীর। ঢাকা ছাড়াও তার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিস্তৃতি ছিল দেশের বাইরেও।
সৈয়দ মনজুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের কর্মীরা অনেকেই কেঁদেছে। গণস্বাক্ষরতা অভিযানে বিভিন্ন ইস্যুতে তাকে ডাকলেই পাওয়া যেত। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটির দরদ ছিল শিক্ষার প্রতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও সৈয়দ মনজুর ভাবত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক— সব স্তরের শিক্ষার কথা, এমনকি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়েও। কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও সে ছিল সোচ্চার। আমাদের ওপর তার এতটাই আস্থা ছিল যে অনেক সময় শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ইস্যুতে বিবৃতি তৈরি করার সময় সে পড়েও দেখত না।
কঠিন কথা সহজ করে বলার এক জাদুকর ছিল সৈয়দ মনজুর। সে বিশ্বাস করত, সাহিত্য এক নৈতিক চর্চা, যেখানে লেখককে নিজের সময়-সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়। তার গল্পে যেমন উঠে এসেছে শহুরে জীবনের সংকট, তেমনি প্রান্তিক মানুষের বেদনাও।
কালপুরুষের দুঃখবিলাস, প্রেম ও প্রার্থনার গল্প, গল্পসমগ্র, প্রত্নগল্প, ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরে, কিংবা সাম্প্রতিক আলাপচারিতা— প্রতিটি রচনায় সে দেখিয়েছে বাঙালির মনোজগতের বহুমাত্রিক রূপ। প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন।

সৈয়দ মনজুরের লেখায় সমাজের ভেতরকার অন্ধকার, ভয় ও অন্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার এক সাহসী আহ্বান থাকে। তবে সেই প্রতিবাদ কখনো কণ্ঠের উচ্চতায় নয়, ভাষার গভীরতায় প্রকাশ পায়। সে বিশ্বাস করত, সত্যিকারের সাহিত্য মানবিকতাকে জাগিয়ে তোলে— অন্যের দুঃখ অনুভবের ক্ষমতা শেখায়।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার আস্থা ছিল অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কিংবা পত্রিকার কলামলেখক হিসেবে সে তরুণদের উৎসাহ দিত প্রশ্ন করতে, ভাবতে, সাহসী হতে।
সে ছিল আমাদের সময়ের এক নির্ভীক চিন্তাবিদ, যে কখনো আপস করেনি নিজের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে। অন্যায়, দমন, বিভাজন— যে রূপেই আসুক, সে তা ভদ্র অথচ দৃঢ় ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। তার কলমে সাহিত্যের সৌন্দর্য যেমন ছিল, তেমনি ছিল এক অনমনীয় বিবেক।
আজ যখন সমাজে সত্য বলা কঠিন, যখন নৈতিকতা প্রায়ই বাজারে হারিয়ে যায়, তখন সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের চলে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়— বিবেক হারালে জাতি দিশাহারা হয়। সে আমাদের শিখিয়ে গেছে, শব্দেরও একটি নৈতিক দায় আছে এবং সাহিত্য মানে কেবল রুচির নয়, মানবতার চর্চাও বটে।

এভাবে সৈয়দ মনজুর হঠাৎ করে চলে যাবে, ভাবতেও পারিনি। বেশ আগে থেকেই হার্ট ও কিডনির সমস্যা ছিল। বিষয়টি সেভাবে কাউকে বলেনি। একটু চাপা স্বভাবের ছিল, বিশেষ করে নিজের বিষয়ে।
ক্যান্সার সারভাইভার জীবনসঙ্গীর জন্য সে অনেক করেছে। অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে না আসার কারণ হিসেবে সে জানাত, সনজিদার (সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের স্ত্রী) শরীর ভালো না, তাই আসতে পারবে না।
সৈয়দ মনজুর ছিল এক প্রজন্মের আলোকবর্তিকা, যে আমাদের মনের অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে গেছে। তার মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি, কিন্তু তার চিন্তা, সততা ও নৈতিক সাহস আমাদের সাহিত্য-সমাজে দীর্ঘদিন জেগে থাকবে— এক অনির্বাণ আলো হয়ে।
লেখক: গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন— বড় ভূমিকম্পে ঢাকার বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো কঠিন হবে, কোথাও কোথাও উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। তার এ বক্তব্যকে একটি সংস্থার সীমাবদ
২ দিন আগে
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির সংকট। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল চাহিদা ব্যবস্থাপনা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা পরিকল্পনার ঘাটতি মিলেই বারবার এই সংকট তৈরি করছে।
২ দিন আগে
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার বিকল্প নেই। এনটিআরসিএ’র বিদ্যমান কাঠামোর কোনো দুর্বলতা থাকলে তা পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এই প্রক্রিয়াকে পেছনে ঠেলে দিয়ে আবার ব্যক্তি বা কমিটির দুর্নীতির সুযোগ করে
২ দিন আগে
এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, এর কোনোটিই প্রত্যাশামাফিক কার্যকর হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস (পেট্রোবাংলা ও আইওসি মিলিয়ে) থেকে গ্যাসের উৎপাদন যেখানে ২৭০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছিল, সেটা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে। এটা পেট্রোব
৩ দিন আগে