
সাইমন মোহসিন

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ভিডিও সম্প্রতি ব্যাপক মনোযোগ কেড়েছে— যার সার্থকতা এর চমকপ্রদ সরলতার মাঝেই নিহিত। তিনি সেখানে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে একটি জনসেবামূলক ব্যবস্থা বাস্তবে কাজ করে। পদ্ধতিটি বুঝিয়ে বলেছেন। এর প্রত্যাশিত ফলাফল কী হওয়া উচিত, তাও স্পষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশের অসংখ্য দর্শকের কাছে এই ব্যাখ্যা যেন এক স্বচ্ছতার পরশ। এটি কোনো বৃহদাকার নীতি-ঘোষণা ছিল না, কিংবা সংস্কার নিয়ে কোনো বাগ্মিতাপূর্ণ বক্তৃতাও নয়; বরং এটি ছিল একটি প্রাত্যহিক ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের এক বাস্তবসম্মত ভাঙচিত্র।
এই সাধারণ কাজটি বাংলাদেশের শাসন-কাঠামোর একটি গভীর সত্যকে সামনে নিয়ে আসে— আমাদের জাতীয় শাসন-আলোচনা ক্রমেই ‘প্রক্রিয়া’কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে, যেখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— ‘পদ্ধতি’ —থেকে গেছে উপেক্ষিত।
নীতি-আলোচনার জগতে বাংলাদেশের শাসন-সংস্কার প্রায়শই ‘প্রক্রিয়া’র ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা কথা বলি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, তদারকির ব্যবস্থা, জবাবদিহির কাঠামো ও নীতি-বাস্তবায়নের ধারা নিয়ে। এগুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াগুলো শাসনকাঠামোর মেরুদণ্ড গঠন করে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকের কাছে এই বর্ণনাগুলো অনেক সময়ই দূরের ও বিমূর্ত থেকে যায়। এগুলি হলো একটি ব্যবস্থা তত্ত্বগতভাবে কীভাবে কাজ করবে তার উচ্চপর্যায়ের ব্যাখ্যা, বাস্তবে রাষ্ট্রের সঙ্গে নিত্যদিনের লেনদেনে সেটি কী আকার ধারণ করে, তা নয়।
অন্যদিকে ‘পদ্ধতি’ হলো শাসনের বাস্তব-জীবিত রূপ। পদ্ধতি হচ্ছে একটি সেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় কংক্রিট, ধাপে ধাপে নির্দেশনা— কী কী দলিল প্রয়োজন, কোন অফিসে যেতে হবে, যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে কে আছেন, অনুমোদনের কর্তৃত্ব কোন বিভাগের, এবং প্রতিটি ধাপের সময়সীমা কত। অন্য ভাষায়, পদ্ধতি হলো শাসন-ব্যবস্থার কার্যকরী ভাষা। এই পদ্ধতিই নির্ধারণ করে— একজন নাগরিক নতুন বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ পাবেন কি না, গ্যাস লাইন পাবেন কি না, জমি রেজিস্ট্রি করতে পারবেন কি না, পানির লাইন বসাতে পারবেন কি না, কিংবা একটি ছোট ব্যবসার লাইসেন্সের অনুমোদন পাবেন কি না।
হাসনাত আবদুল্লাহ যখন তার ভিডিওতে একটি পদ্ধতির ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা দেন, তখন তিনি ‘প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা’র শক্তিকে তুলে ধরেন। একটি বিষয় কীভাবে কাজ করে, তা স্পষ্ট করে বলে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য অনিশ্চয়তা কমিয়ে দেন এবং আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রায়শই জনগণের ওপর যে তথ্যগত সুবিধা ধারণ করে, তার কিছু অংশ দূর করে দেন। এর মাধ্যমেই তিনি শাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্যটিকে সামনে নিয়ে আসেন— সেবা পৌঁছে দেওয়া।
এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে এতটা ব্যবহারিক ভাষায় জনগণের সঙ্গে কথা বলার ঘটনা বিরল। তবে এই মুহূর্ত থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টি একটি মাত্র ভিডিওর গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার কাজটি কোনো সচেতন সংসদ সদস্যের মাঝে মাঝে করা কোনো প্রদর্শনী হয়ে থাকলে চলবে না, এটি হতে হবে একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রুটিন।
প্রথমবারের মতো পদ্ধতি দেখিয়ে দেওয়ার পর এ ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আদর্শভাবে সহযোগী, প্রশাসক বা গণসংযোগ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিবেদিতপ্রাণ টিমের মাধ্যমে ধরে রাখা, সম্প্রসারণ করা ও নিয়মিত হালনাগাদ করা উচিত। এর ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বৃহত্তর নীতি-চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং জনগণও সেবা-পদ্ধতি সংক্রান্ত সহজবোধ্য নির্দেশনা পেতে থাকে।
আসল বিষয়টি হলো— বর্তমান ‘প্রক্রিয়া’কেন্দ্রিক আলোচনার জোরালো প্রবণতা এমন এক জবাবদিহি কাঠামো তৈরি করে, যা কেবল বিশেষজ্ঞদের কাছেই দৃশ্যমান। একটি শাসন-প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে সাধারণত প্রয়োজন হয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অভ্যন্তরীণ নথিতে প্রবেশাধিকার অথবা আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সান্নিধ্য। ফলে সাধারণ নাগরকার্যকর তদারকির বৃত্তের বাইরেই থেকে যান। যখন একটি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াগত স্তরেই অস্বচ্ছ থাকে, তখন জবাবদিহি গণমুখী না হয়ে হয়ে ওঠে একটি অভ্যন্তরীণ ব্যাপারমাত্র।
বর্তমান ব্যবস্থার আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো— জবাবদিহি প্রায়শই ব্যক্তির পরিবর্তে পদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সরকারি নথি, পরিপত্র ও পদ্ধতি-বিবরণী সাধারণত দায়িত্বশীল অফিসটির নাম উল্লেখ করে, যেমন— একজন উপপরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী বা সহকারী কমিশনার। কিন্তু সেই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির নাম খুব কমই উল্লেখিত হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বত্বা চিহ্নিত না থাকলে জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়ে। যখন দায়িত্ব কেবল পদের সঙ্গে বাঁধা থাকে, তখন সময়ের স্রোতে সিদ্ধান্তের গতিপথ অনুসরণ করা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা ব্যর্থতার জন্য কে দায়ী ছিলেন, তা নির্ধারণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
এখানেই একটি নতুন শাসন-দৃষ্টান্তের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে ওঠে। সরকারের প্রতিটি কার্যাবলি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও আমলাতান্ত্রিক কাজকে অনুবাদ করতে হবে সহজবোধ্য, সবার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতির ভাষায়— এমন ভাষায় যা যেকোনো নাগরিক বুঝতে পারেন। এই পদ্ধতি-নির্দেশিকাগুলো হতে হবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, সহজে অনুসন্ধানযোগ্য এবং ব্যাপকভাবে প্রচারিত।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— পদ্ধতির প্রতিটি ধাপে সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, ফাংশনারি বা ঠিকাদারের নাম উল্লেখ থাকা উচিত, যিনি সেই কাজটি সম্পাদনের জন্য দায়ী। এ ধরনের স্বচ্ছতা শুধু দায়িত্ব নির্ধারণই পরিষ্কার করবে না, এটি জবাবদিহিতার একটি অনুসরণযোগ্য শৃঙ্খলও তৈরি করবে।
পাশাপাশি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও দায়িত্বপ্রাপ্তির তথ্যও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। কোনো প্রকল্প অসমাপ্ত থাকলে, কোনো সেবা অন্যায্যভাবে অস্বীকার করা হলে, অথবা পরবর্তীতে দুর্নীতি ধরা পড়লে তদন্তকারী ও নাগরিক উভয়েই সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন কোন ধাপে কে দায়িত্বে ছিলেন।
এ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে না, বরং এটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে। দায়িত্বকে শনাক্তযোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা পেশাদারিত্বকে উৎসাহিত করে, ক্ষমতার অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং এই নীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে যে সরকারি পদ শেষ পর্যন্ত একটি গণবিশ্বাস। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এর তাৎপর্য গভীরভাবে ব্যক্তিগত।
শাসনের সঙ্গে দৈনন্দিন লেনদেনের অভিজ্ঞতা— ইউটিলিটি সেবার জন্য আবেদন, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, পৌর অনুমতি নেওয়া, বা সরকারি অফিসে যোগাযোগ— প্রায়শই বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তায় ভরা। অনেক মানুষ জানেন না কোন অফিসে যেতে হবে, কী কী কাগজ জমা দিতে হবে, অথবা পুরো প্রক্রিয়াটিতে কতদিন সময় লাগবে। এ ধরনের পরিবেশে তথ্যই হয়ে ওঠে ক্ষমতার এক রূপ। যাদের কাছে এই তথ্য থাকে, সেটি দালালই হোন আর মধ্যস্বত্বভোগী হোন বা দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা— তারাই সুযোগ নিতে পারেন তাদের কাছ থেকে, যারা তথ্যের অভাবে ভোগেন।
ফলে বাংলাদেশে দুর্নীতি শুধু অসাধু ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয় না, এটি টিকে থাকে প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতার কারণেও। যখন নাগরিকদের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে না, তখন তারা হয়রানি ও অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের শিকার হন। ঝামেলা এড়াতে বা সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে মানুষ প্রায়শই অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে থাকেন।
প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এ পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে দিতে পারে। নাগরিকরা যদি সঠিক ধাপগুলো, প্রতিটি স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও প্রত্যাশিত সময়সীমা জানেন, তাহলে কারচুপির সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবি করা বা কৃত্রিম বিলম্ব তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে পদ্ধতি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া শুধু প্রথম পদক্ষেপ। সেগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে হবে এবং ব্যাপকভাবে বোধগম্য করে তুলতে হবে। সুশীল সমাজের সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংস্থা ও এমনকি ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সাররাও এ তথ্য প্রচারে সহায়তা করতে পারেন। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, অনলাইন নির্দেশিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট আমলাতান্ত্রিক জ্ঞানকে সহজলভ্য গণজ্ঞানে রূপান্তরিত করতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পদ্ধতিগত সাক্ষরতা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অঙ্গ হওয়া উচিত। জনসেবা ব্যবস্থাগুলো কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে একীভূত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু একাডেমিক জ্ঞান নিয়েই স্নাতক না হন, বরং তাদের জীবন গঠনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক গড়তে হয়, সে সম্পর্কে বাস্তবিক ধারণা নিয়েও বেরিয়ে আসেন। যখন একটি গোটা প্রজন্ম জেনে বড় হবে যে সরকারি ব্যবস্থাগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে, তখন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্যগত বৈষম্য দূর হতে শুরু করবে।
এই রূপান্তরের ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী। একটি সমাজ যেখানে নাগরিকরা পদ্ধতি বোঝেন, সেটি এমন এক সমাজ যেখানে ক্ষমতা আরও সমানভাবে বিতরণ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তারা আর অজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে বা প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারবেন না। নাগরিকরা ভীতি নয়, বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে জনসেবার কাছে যাবেন।
এটি আমাদের একটি সহজ কিন্তু অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। আমাদের কতজনই বা আসলে জানি সেই পদ্ধতিগুলো, যেগুলো আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি— গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ মিটার, পানির সংযোগ, জমি নিবন্ধন বা পৌর অনুমোদন? আর কতবারই না আমরা অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছি— কখনো সুবিধার জন্য, কখনো হয়রানির ভয়ে, আবার কখনো অবিরাম বিলম্ব এড়াতে— শুধু সেবাটি যেন আমাদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে?
যদি আমরা পদ্ধতিটি এবং প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে স্পষ্টভাবে জানতাম, তাহলে কি সেই অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হতো? সম্ভবত না।
কারণ জ্ঞানই ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে। যদি পদ্ধতিগুলো স্বচ্ছ ও সর্বজনবিদিত হতো, তাহলে নাগরিকরা অনিয়ম নথিভুক্ত করতে পারতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করতে পারতেন এবং সাংবাদিক, সুশীল সমাজের সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতেন। গণ-নজরদারি তখন ব্যতিক্রমী কোনো হস্তক্ষেপ নয়, বরং একটি দৈনন্দিন জবাবদিহি ব্যবস্থায় পরিণত হতো।
সে বিবেচনায়, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী শাসন-সংস্কার হয়তো কোনো নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা নিয়ন্ত্রক কাঠামো নয়, এটি কেবল পদ্ধতিগত জ্ঞানের গণতন্ত্রায়ণ হতে পারে।
লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশ্লেষক

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ভিডিও সম্প্রতি ব্যাপক মনোযোগ কেড়েছে— যার সার্থকতা এর চমকপ্রদ সরলতার মাঝেই নিহিত। তিনি সেখানে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে একটি জনসেবামূলক ব্যবস্থা বাস্তবে কাজ করে। পদ্ধতিটি বুঝিয়ে বলেছেন। এর প্রত্যাশিত ফলাফল কী হওয়া উচিত, তাও স্পষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশের অসংখ্য দর্শকের কাছে এই ব্যাখ্যা যেন এক স্বচ্ছতার পরশ। এটি কোনো বৃহদাকার নীতি-ঘোষণা ছিল না, কিংবা সংস্কার নিয়ে কোনো বাগ্মিতাপূর্ণ বক্তৃতাও নয়; বরং এটি ছিল একটি প্রাত্যহিক ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের এক বাস্তবসম্মত ভাঙচিত্র।
এই সাধারণ কাজটি বাংলাদেশের শাসন-কাঠামোর একটি গভীর সত্যকে সামনে নিয়ে আসে— আমাদের জাতীয় শাসন-আলোচনা ক্রমেই ‘প্রক্রিয়া’কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে, যেখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— ‘পদ্ধতি’ —থেকে গেছে উপেক্ষিত।
নীতি-আলোচনার জগতে বাংলাদেশের শাসন-সংস্কার প্রায়শই ‘প্রক্রিয়া’র ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা কথা বলি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, তদারকির ব্যবস্থা, জবাবদিহির কাঠামো ও নীতি-বাস্তবায়নের ধারা নিয়ে। এগুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াগুলো শাসনকাঠামোর মেরুদণ্ড গঠন করে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকের কাছে এই বর্ণনাগুলো অনেক সময়ই দূরের ও বিমূর্ত থেকে যায়। এগুলি হলো একটি ব্যবস্থা তত্ত্বগতভাবে কীভাবে কাজ করবে তার উচ্চপর্যায়ের ব্যাখ্যা, বাস্তবে রাষ্ট্রের সঙ্গে নিত্যদিনের লেনদেনে সেটি কী আকার ধারণ করে, তা নয়।
অন্যদিকে ‘পদ্ধতি’ হলো শাসনের বাস্তব-জীবিত রূপ। পদ্ধতি হচ্ছে একটি সেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় কংক্রিট, ধাপে ধাপে নির্দেশনা— কী কী দলিল প্রয়োজন, কোন অফিসে যেতে হবে, যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে কে আছেন, অনুমোদনের কর্তৃত্ব কোন বিভাগের, এবং প্রতিটি ধাপের সময়সীমা কত। অন্য ভাষায়, পদ্ধতি হলো শাসন-ব্যবস্থার কার্যকরী ভাষা। এই পদ্ধতিই নির্ধারণ করে— একজন নাগরিক নতুন বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ পাবেন কি না, গ্যাস লাইন পাবেন কি না, জমি রেজিস্ট্রি করতে পারবেন কি না, পানির লাইন বসাতে পারবেন কি না, কিংবা একটি ছোট ব্যবসার লাইসেন্সের অনুমোদন পাবেন কি না।
হাসনাত আবদুল্লাহ যখন তার ভিডিওতে একটি পদ্ধতির ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা দেন, তখন তিনি ‘প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা’র শক্তিকে তুলে ধরেন। একটি বিষয় কীভাবে কাজ করে, তা স্পষ্ট করে বলে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য অনিশ্চয়তা কমিয়ে দেন এবং আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রায়শই জনগণের ওপর যে তথ্যগত সুবিধা ধারণ করে, তার কিছু অংশ দূর করে দেন। এর মাধ্যমেই তিনি শাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্যটিকে সামনে নিয়ে আসেন— সেবা পৌঁছে দেওয়া।
এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে এতটা ব্যবহারিক ভাষায় জনগণের সঙ্গে কথা বলার ঘটনা বিরল। তবে এই মুহূর্ত থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টি একটি মাত্র ভিডিওর গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার কাজটি কোনো সচেতন সংসদ সদস্যের মাঝে মাঝে করা কোনো প্রদর্শনী হয়ে থাকলে চলবে না, এটি হতে হবে একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রুটিন।
প্রথমবারের মতো পদ্ধতি দেখিয়ে দেওয়ার পর এ ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আদর্শভাবে সহযোগী, প্রশাসক বা গণসংযোগ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিবেদিতপ্রাণ টিমের মাধ্যমে ধরে রাখা, সম্প্রসারণ করা ও নিয়মিত হালনাগাদ করা উচিত। এর ফলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বৃহত্তর নীতি-চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং জনগণও সেবা-পদ্ধতি সংক্রান্ত সহজবোধ্য নির্দেশনা পেতে থাকে।
আসল বিষয়টি হলো— বর্তমান ‘প্রক্রিয়া’কেন্দ্রিক আলোচনার জোরালো প্রবণতা এমন এক জবাবদিহি কাঠামো তৈরি করে, যা কেবল বিশেষজ্ঞদের কাছেই দৃশ্যমান। একটি শাসন-প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে সাধারণত প্রয়োজন হয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অভ্যন্তরীণ নথিতে প্রবেশাধিকার অথবা আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সান্নিধ্য। ফলে সাধারণ নাগরকার্যকর তদারকির বৃত্তের বাইরেই থেকে যান। যখন একটি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াগত স্তরেই অস্বচ্ছ থাকে, তখন জবাবদিহি গণমুখী না হয়ে হয়ে ওঠে একটি অভ্যন্তরীণ ব্যাপারমাত্র।
বর্তমান ব্যবস্থার আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো— জবাবদিহি প্রায়শই ব্যক্তির পরিবর্তে পদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সরকারি নথি, পরিপত্র ও পদ্ধতি-বিবরণী সাধারণত দায়িত্বশীল অফিসটির নাম উল্লেখ করে, যেমন— একজন উপপরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী বা সহকারী কমিশনার। কিন্তু সেই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির নাম খুব কমই উল্লেখিত হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বত্বা চিহ্নিত না থাকলে জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়ে। যখন দায়িত্ব কেবল পদের সঙ্গে বাঁধা থাকে, তখন সময়ের স্রোতে সিদ্ধান্তের গতিপথ অনুসরণ করা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা ব্যর্থতার জন্য কে দায়ী ছিলেন, তা নির্ধারণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
এখানেই একটি নতুন শাসন-দৃষ্টান্তের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে ওঠে। সরকারের প্রতিটি কার্যাবলি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও আমলাতান্ত্রিক কাজকে অনুবাদ করতে হবে সহজবোধ্য, সবার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতির ভাষায়— এমন ভাষায় যা যেকোনো নাগরিক বুঝতে পারেন। এই পদ্ধতি-নির্দেশিকাগুলো হতে হবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, সহজে অনুসন্ধানযোগ্য এবং ব্যাপকভাবে প্রচারিত।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— পদ্ধতির প্রতিটি ধাপে সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, ফাংশনারি বা ঠিকাদারের নাম উল্লেখ থাকা উচিত, যিনি সেই কাজটি সম্পাদনের জন্য দায়ী। এ ধরনের স্বচ্ছতা শুধু দায়িত্ব নির্ধারণই পরিষ্কার করবে না, এটি জবাবদিহিতার একটি অনুসরণযোগ্য শৃঙ্খলও তৈরি করবে।
পাশাপাশি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও দায়িত্বপ্রাপ্তির তথ্যও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। কোনো প্রকল্প অসমাপ্ত থাকলে, কোনো সেবা অন্যায্যভাবে অস্বীকার করা হলে, অথবা পরবর্তীতে দুর্নীতি ধরা পড়লে তদন্তকারী ও নাগরিক উভয়েই সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন কোন ধাপে কে দায়িত্বে ছিলেন।
এ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে না, বরং এটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে। দায়িত্বকে শনাক্তযোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা পেশাদারিত্বকে উৎসাহিত করে, ক্ষমতার অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং এই নীতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে যে সরকারি পদ শেষ পর্যন্ত একটি গণবিশ্বাস। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এর তাৎপর্য গভীরভাবে ব্যক্তিগত।
শাসনের সঙ্গে দৈনন্দিন লেনদেনের অভিজ্ঞতা— ইউটিলিটি সেবার জন্য আবেদন, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, পৌর অনুমতি নেওয়া, বা সরকারি অফিসে যোগাযোগ— প্রায়শই বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তায় ভরা। অনেক মানুষ জানেন না কোন অফিসে যেতে হবে, কী কী কাগজ জমা দিতে হবে, অথবা পুরো প্রক্রিয়াটিতে কতদিন সময় লাগবে। এ ধরনের পরিবেশে তথ্যই হয়ে ওঠে ক্ষমতার এক রূপ। যাদের কাছে এই তথ্য থাকে, সেটি দালালই হোন আর মধ্যস্বত্বভোগী হোন বা দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা— তারাই সুযোগ নিতে পারেন তাদের কাছ থেকে, যারা তথ্যের অভাবে ভোগেন।
ফলে বাংলাদেশে দুর্নীতি শুধু অসাধু ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয় না, এটি টিকে থাকে প্রক্রিয়াগত অস্বচ্ছতার কারণেও। যখন নাগরিকদের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে না, তখন তারা হয়রানি ও অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদানের শিকার হন। ঝামেলা এড়াতে বা সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে মানুষ প্রায়শই অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে থাকেন।
প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এ পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে দিতে পারে। নাগরিকরা যদি সঠিক ধাপগুলো, প্রতিটি স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও প্রত্যাশিত সময়সীমা জানেন, তাহলে কারচুপির সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দাবি করা বা কৃত্রিম বিলম্ব তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে পদ্ধতি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া শুধু প্রথম পদক্ষেপ। সেগুলোকে সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে হবে এবং ব্যাপকভাবে বোধগম্য করে তুলতে হবে। সুশীল সমাজের সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি সংস্থা ও এমনকি ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সাররাও এ তথ্য প্রচারে সহায়তা করতে পারেন। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, অনলাইন নির্দেশিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট আমলাতান্ত্রিক জ্ঞানকে সহজলভ্য গণজ্ঞানে রূপান্তরিত করতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পদ্ধতিগত সাক্ষরতা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অঙ্গ হওয়া উচিত। জনসেবা ব্যবস্থাগুলো কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে একীভূত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু একাডেমিক জ্ঞান নিয়েই স্নাতক না হন, বরং তাদের জীবন গঠনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক গড়তে হয়, সে সম্পর্কে বাস্তবিক ধারণা নিয়েও বেরিয়ে আসেন। যখন একটি গোটা প্রজন্ম জেনে বড় হবে যে সরকারি ব্যবস্থাগুলো আসলে কীভাবে কাজ করে, তখন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্যগত বৈষম্য দূর হতে শুরু করবে।
এই রূপান্তরের ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী। একটি সমাজ যেখানে নাগরিকরা পদ্ধতি বোঝেন, সেটি এমন এক সমাজ যেখানে ক্ষমতা আরও সমানভাবে বিতরণ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তারা আর অজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে বা প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারবেন না। নাগরিকরা ভীতি নয়, বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে জনসেবার কাছে যাবেন।
এটি আমাদের একটি সহজ কিন্তু অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। আমাদের কতজনই বা আসলে জানি সেই পদ্ধতিগুলো, যেগুলো আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি— গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ মিটার, পানির সংযোগ, জমি নিবন্ধন বা পৌর অনুমোদন? আর কতবারই না আমরা অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছি— কখনো সুবিধার জন্য, কখনো হয়রানির ভয়ে, আবার কখনো অবিরাম বিলম্ব এড়াতে— শুধু সেবাটি যেন আমাদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে?
যদি আমরা পদ্ধতিটি এবং প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে স্পষ্টভাবে জানতাম, তাহলে কি সেই অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হতো? সম্ভবত না।
কারণ জ্ঞানই ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে। যদি পদ্ধতিগুলো স্বচ্ছ ও সর্বজনবিদিত হতো, তাহলে নাগরিকরা অনিয়ম নথিভুক্ত করতে পারতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করতে পারতেন এবং সাংবাদিক, সুশীল সমাজের সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতেন। গণ-নজরদারি তখন ব্যতিক্রমী কোনো হস্তক্ষেপ নয়, বরং একটি দৈনন্দিন জবাবদিহি ব্যবস্থায় পরিণত হতো।
সে বিবেচনায়, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী শাসন-সংস্কার হয়তো কোনো নতুন প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বা নিয়ন্ত্রক কাঠামো নয়, এটি কেবল পদ্ধতিগত জ্ঞানের গণতন্ত্রায়ণ হতে পারে।
লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশ্লেষক

ফ্যামিলি কার্ড মূলত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। সাধারণত পরিবারে নারীর নামেই এই কার্ড ইস্যু করা হয়। ফলে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে আসে। এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং নারীর অ
৪ দিন আগে
নারীরা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকেও ছিটকে গিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণীর প্ল্যাটফর্ম থেকেও ছিটকে যাবেন। আর এর বিরূপ প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। নারী নেতৃত্বহীনতার ভারসাম্যহীন অবস্থা পুরুষতান্ত্রিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোকেও সুষম ও ভারসাম্যহীন করে তুলবে বলে মনে করছেন বোদ্ধা ও বিশ্লেষকরা।
৬ দিন আগে
কেউ কেউ বলেছেন, শেখ মুজিব হেয়ালি পরিহার করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় যদি সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন, তাহলে পাকিস্তানের অপ্রস্তুতির সুযোগ নিয়ে আমরা আরও কম জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত-আব্রুর বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়ে যেতাম। কী হতো জানি না, তবে বিতর্ক না বাড়িয়ে অনুমান করা যায়— এটি হতো হঠকারী আচরণের নব সংযোজন এবং তার
৭ দিন আগে
এ পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও বৈদেশিক আয় কাঠামো মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। ফলে আঞ্চলিক যুদ্ধ বা দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত, ভিসা নবায়নে জটিলতা, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি দেশের অর্থনীতিকে প্র
৭ দিন আগে