সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়

অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতার আসন বদলেছে, সংসদের চেহারা বদলেছে, কিন্তু রাজনীতির চরিত্র কি সত্যিই বদলেছে? বাংলাদেশ যে গতানুগতিক সাংঘর্ষিক রাজনীতির ধারায় দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ এখনো খুব একটা কাছাকাছি দেখছি না। প্রশ্নটি আমার কাছে নিছক কোন দল ক্ষমতায় আছে তা নয়, প্রশ্নটি হলো— রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের আচরণ, ভাষা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কতটা পালটেছে।

সংসদ বনাম রাজপথ: একটি অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব

সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু বানাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক শক্তিগুলো একদিকে সংসদকে কেন্দ্র বলে দাবি করছে, অন্যদিকে রাজপথকেও প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ধরে রাখতে চাইছে। এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।

এখানে ভারতের উদাহরণ প্রাসঙ্গিক মনে করি— সেখানে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আলোচনা ও আন্দোলন যথেষ্ট তীব্র হলেও মূল লড়াইটা শেষ পর্যন্ত সংসদের ভেতরেই নিষ্পত্তি হতে দেখা যায়। রাস্তার তৎপরতা থাকলেও তা টুকটাক ও প্রান্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ক্ষমতায় থাকা বা বিরোধী দলে থাকা— যে অবস্থানেই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভাষা মূলত একই থেকে যায়। ‘সংসদের দিকে যাব, কিন্তু রাজপথ ছাড়ব না’— এই বয়ানটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটি অবশ্য কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের বৈশিষ্ট্য নয়। বিএনপি এখন ক্ষমতায় থাকলেও বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একই ভাষায় কথা বলত।

যতক্ষণ পর্যন্ত এই ভাষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলাচ্ছে, ততক্ষণ সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আমি খুব একটা দেখছি না।

নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাস: সময় দেওয়ার যুক্তি

তবে একইসঙ্গে সতর্ক করতে চাই, নির্বাচনের পর মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে— চূড়ান্ত রায় দেওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় নয়। বর্তমান মন্ত্রিসভার একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য ও প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন। তাদের অনেকেরই সরকার পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বোঝা ও তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য সময় প্রয়োজন— এই যুক্তিতে আমি সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছি। একইসঙ্গে একে সরকারের জন্য নিঃশর্ত প্রশংসাপত্র মনে করছি না, বরং সময়ের দাবি ও সমালোচনা— দুটোই আমার বিশ্লেষণে পাশাপাশি থাকছে।

এ প্রসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চাই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি নিয়ে। আমার মতে, এখানে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে, যদি সরকার তা মেনে নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেবল একটি কমিটি, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদই বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। অন্য কোথাও এই ভাগাভাগির প্রবণতা আমি দেখছি না। এই একটি ঘটনাকেই আমি বৃহত্তর প্রবণতার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছি, যদিও সময় নিয়ে অপেক্ষা করার আহ্বানও জানাচ্ছি।

রাষ্ট্র বনাম সরকার: গভীরতর প্রাতিষ্ঠানিক সংকট

অতীতের রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে বর্তমানের মিল সবচেয়ে ধারালো অংশগুলোর একটি রাষ্ট্র শক্তিশালীকরণ ও সরকার শক্তিশালীকরণের ধারাবাহিকতা নিয়েও। অতীতে যত সরকার এসেছে, তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মজবুত করার চেয়ে নিজেদের ক্ষমতা সংহত করার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল। বর্তমান সরকার এই পুরনো ধারা থেকে এখনো নির্ণায়কভাবে সরে আসতে পেরেছে বলে আমি মনে করি না। সরকার এখনো সেই ‘ট্র্যাডিশনাল’ পথেই চলছে।

আমার মতে, জুলাই সনদে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু এই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্যের ঘাটতি রয়ে গেছে, তা সেই সুযোগকে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। যতক্ষণ এই মতপার্থক্য না মেটে, ততক্ষণ সরকার রাষ্ট্র মজবুত করার চেয়ে নিজেকে সংহত করার প্রবণতাতেই আটকে থাকবে বলে আমি আশঙ্কা করি।

জাতীয় ঐকমত্যের ঘাটতি ও জুলাই সনদ বিতর্ক

মৌলিক জাতীয় প্রশ্নে বাংলাদেশ এখনো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এই ঐকমত্য না হলে বড় আকারে সাংঘর্ষিক রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী।

জুলাই সনদ নিয়ে আমি একটি সূক্ষ্ম ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে চাই। আমার মূল্যায়নে, এই বিতর্কে উভয় পক্ষেরই এমন যুক্তি আছে যা নিজ নিজ অবস্থান থেকে যৌক্তিক বলে গণ্য করা যায়।

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্নে সনদেই উল্লেখ আছে— দ্বিমতের বিষয়গুলো জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে, জনগণ ম্যান্ডেট দিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নিজের মতো করে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে। এ যুক্তিতে জামায়াতের অবস্থানকেও আমি একরকম যৌক্তিকতা দিচ্ছি— সনদে ভোট পড়েছে মানে সত্যের একটি অংশেও ভোট পড়েছে এবং সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা থাকলে তার ফলাফলকে ‘না’ বলে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।

এ বিতর্কের কেন্দ্রে আছে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ-সংক্রান্ত একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সাংবিধানিক পরিষদ সংক্রান্ত যে গণভোটের নির্দেশনা এসেছিল, তার সঙ্গে সম্পর্কিত এই মামলাটি কেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এই একটি বিষয়ের নিষ্পত্তি হলে হয়তো বৃহত্তর রাজনৈতিক মতবিরোধেরও একটি মীমাংসা সম্ভব হতে পারত।

যেহেতু তা হয়নি, তাই মৌলিক ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি বলে আমি মনে করি। এবং এ ব্যর্থতাকেই আমি সামনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করছি।

বিএনপি ও দলীয়করণের প্রবণতা

ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপিকে নিয়ে আমি সতর্কভাবে ভারসাম্য রক্ষা করতে চাই।

মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিএনপির সামগ্রিক মূল্যায়ন করা কঠিন। কারণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে বহু বিষয় দলটির নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

তবু একটি নির্দিষ্ট উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে চাই— প্রাতিষ্ঠানিক জায়গাগুলোতে নিজেদের লোক বসানোর প্রবণতা, যাকে আমরা ‘দলীয়করণ’ নামে চিনি তা পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি। এর দৃষ্টান্ত হিসেবে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা যায়। এই প্রবণতা সামাল দিতে না পারলে তা ভালো ফল বয়ে আনবে না বলে আমার আশঙ্কা।

এনসিপি ও জামায়াত: পরিবর্তিত রাজনৈতিক ভূচিত্র

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়ে আমার মূল্যায়ন অত্যন্ত সমালোচনামূলক। এখানে স্পষ্ট করা দরকার, এগুলো আমার নিজস্ব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ। আমার দৃষ্টিতে এনসিপির রাজনৈতিক তাৎপর্য এখনো তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। আমি একে মূলত জামায়াতের একটি সম্প্রসারণ হিসেবে দেখি। স্বাধীন অস্তিত্বের দাবি সত্ত্বেও কীভাবে হঠাৎ দলীয় জোটে পরিণত হয়, তা আমার কাছে ব্যাখ্যাতীত। এবং জামায়াতকেই আমি এই জোটের মূল শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করি।

আমার সবচেয়ে জোরালো সমালোচনা এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। জামায়াত ও এনসিপির কর্মসূচির মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আমি দেখিনি— উভয়ের রাজনৈতিক বয়ান ও ভাষা আমার কাছে একই শোনায়। একটি দলের অর্থনৈতিক নীতি, প্রশাসনিক নীতি বা রাজনৈতিক দর্শন কী— এই মৌলিক বিষয়গুলোতে এনসিপির কোনো স্পষ্ট ও স্বতন্ত্র অবস্থান আমি এখনো খুঁজে পাইনি। আবেগনির্ভর রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির অভাবই আমার প্রধান আপত্তি।

এনসিপিকে আমি তরুণ রাজনীতিকদের সমাবেশ হিসেবে স্বীকার করি। কিন্তু এর সমর্থনে একটি দৃষ্টান্ত দিতে চাই— এক টেলিভিশন আলোচক ও একজন দন্ত্যচিকিৎসক প্রকাশ্য টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘নাহিদ আমাদের লোক।’ এই মন্তব্যকেই আমি এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার একটি প্রকাশ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরি এবং মনে করি, এই দুই দলের মধ্যে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য নেই।

আমি এনসিপিকে জামায়াতের ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’ বলেও অভিহিত করতে চাই। পাশাপাশি উল্লেখ করি, দলটির কিছু প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এরই মধ্যে সরে গেছেন। এ ক্ষেত্রে খুবই নির্দিষ্টভাবে তাসনিম জারা নামে একজন তরুণ সদস্যের সরে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখযোগ্য।

তিনটি রাজনৈতিক শক্তি ও সম্ভাব্য নতুন বিন্যাস

আমার মতে, বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ মূলত তিনটি শক্তিকে ঘিরেই আবর্তিত হবে— বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে আমার মূল্যায়ন— চেষ্টা করলেও দলটিকে দুই দিনে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ দলটির এখনো একটি ভিত্তি টিকে আছে।

এই তিন শক্তির মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে আমি একটি সুনির্দিষ্ট, কিন্তু স্পষ্টভাবে অনুমাননির্ভর, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরতে চাই। আমার আশঙ্কা— জামায়াত রাজপথে নামলে আওয়ামী লীগও রাজপথে ফিরে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত তার রাজপথের বিরোধিতার মুখ ঘুরিয়ে বিএনপির দিকে নিয়ে যেতে পারে, আর সেই বিশেষ সংঘাতে আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে একধরনের মিত্রতাদেও চলে যেতে পারে।

এর ফলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আমার আশঙ্কা। এখানে স্পষ্ট করতে চাই, এটি আমার একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিশ্লেষণ, অনিবার্য ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী নয়। তবু আমি একে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং বিএনপিকে এই ঝুঁকি মাথায় রেখে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি।

অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও আসন্ন সংকটের আশঙ্কা

আমি বারবার সরকারের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতির প্রসঙ্গে ফিরে আসতে চাই। বর্তমান সরকারের অনেক সদস্যই আগে কখনো সংসদে ছিলেন না, সরকারে ছিলেন না, এমনকি সুপরিচিত রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন না। প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে বলে আমি মনে করি। পর্যাপ্ত রাজনৈতিক শক্তি ও অভিজ্ঞতা ছাড়া সরকার পরিচালনা করতে গেলে বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে আমার সতর্কবার্তা।

আমার চূড়ান্ত সতর্কতা জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক অচলাবস্থাকে ঘিরে। এই অমীমাংসিত সংকট দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে সমাধান না হলে তা বিশেষভাবে বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে।

২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃত পরীক্ষাটি নির্বাচনের ফলাফলে নিহিত নয়। প্রকৃত পরীক্ষা হলো— রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাজপথ ও সংসদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে কি না, মৌলিক জাতীয় প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে কি না এবং রাষ্ট্রকে সরকারের ঊর্ধ্বে রেখে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারছে কি না।

এই তিনটি ক্ষেত্রেই অগ্রগতি এখনো সীমিত। ছয় মাসের অভিজ্ঞতা এখনো চূড়ান্ত রায়ের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু জুলাই সনদ ঘিরে অমীমাংসিত সাংবিধানিক প্রশ্ন ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অপরিবর্তিত ভাষা ও আচরণ নিয়ে আমার উদ্বেগ যথেষ্ট স্পষ্ট।

রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু রাজনীতির চরিত্র সত্যিকার অর্থে বদলেছে কি না— এ প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর আসবে আগামী দিনগুলোতে, যখন দেখা যাবে রাজনৈতিক শক্তিগুলো সংঘাত নাকি সমঝোতার পথ বেছে নেয়।

লেখক: সুপারনিউমারারি অধ্যাপক, জনপ্রশাসন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Ad
Ad
ad
ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

সরকারের ৬ মাস: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট, ব্যর্থতা এবং উত্তরণের পথ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক ব্যবসা হিসেবে না দেখে পুনরায় 'সেবা খাত' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিগত দিনে এ খাতে অপরাধের মাধ্যমে যে লুণ্ঠনের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল সরকার সংকট মোকাবিলায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারবে।

৮ দিন আগে

সরকারের ৬ মাস: অর্থনীতিতে সম্ভাবনা, সাফল্য ও আগামীর ঝুঁকি

অর্থনৈতিক সফলতার দরজা খুললেও সামনে বহুমাত্রিক ‘কিন্তু’ ও চ্যালেঞ্জ ঝুলছে। এই ছয় মাসের প্রাথমিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকার কীভাবে এসব ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করে, কীভাবে রাজস্ব বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা করতে পারে তার ওপর। দক্ষ ব্যবস্থাপনা

৮ দিন আগে

সরকারের ৬ মাস: শিক্ষায় অর্জনের সূচনা, বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সংস্কারের পথরেখা

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিশৃঙ্খলা বা বঞ্চনা রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তবে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের জায়গায় ফেরানোর যে সদিচ্ছা দেখিয়েছে, তাকে স্বাগত জানাই। এখন প্রয়োজন নীতিগত ঘোষণার দ্রুত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশ

৮ দিন আগে

বই কেনা নয়, পড়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে

বই আমাদের জীবনের কেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঘরের সাজসজ্জার অংশ হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বইকে এমন এক ধরনের ‘সামাজিক আসবাব’ হিসেবেও ব্যবহার করেন, যা ঘরের রুচি ও সামাজিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। হকিংয়ের বই নিয়ে পুরোনো এক প্রতিবেদনে প্রকাশকরাই এমন বইকে ‘সোশ্যাল ফার্নিচার’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

৯ দিন আগে