
এ কে এম মাহফুজুর রহমান

রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ বা নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করে না; বরং এর মূল চালিকাশক্তি হলো সেই মানুষগুলো, যারা রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করেন। শাসকগোষ্ঠীর সততা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার মান যত উন্নত হয়, একটি দেশের উন্নয়ন ততই দ্রুত ও টেকসই হয়।
সুশাসন, যাকে আমরা রাষ্ট্রপরিচালনার কার্যকর পদ্ধতি বলি, সেটি মূলত সেই কাঠামো যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবার মান নির্ধারিত হয়। যখন এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয় এবং উন্নয়নের গতি ব্যাহত করে। একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মূল্যবোধনির্ভর নেতৃত্ব এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী দেখা যায়, রাষ্ট্রনায়কের সুশাসন, সততা, কঠোর শৃঙ্খলা ও নৈতিক নেতৃত্বই একটি দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়, যা বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশের সমান। এই বিপুল অর্থের অপচয় মানে হলো— কম হাসপাতাল, নিম্নমানের শিক্ষা, দুর্বল অবকাঠামো এবং সীমিত কর্মসংস্থান।
দুর্নীতির মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্বল জবাবদিহিতা, আইনের অসম প্রয়োগ ও প্রশাসনিক অদক্ষতা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, সরকারি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ঘুষ ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসা শুরু করা, অনুমোদন পাওয়া বা আইনি সেবা গ্রহণে অতিরিক্ত সময় ব্যয় বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দেখিয়েছে, সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব একটি জাতিকে কীভাবে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা নেতা লি কুয়ান ইউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, কঠোর আইন প্রয়োগ ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করেন।
একইভাবে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ শিল্পায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটিকে দ্রুত অগ্রগতির পথে নিয়ে যান। ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক সংস্কার ও উৎপাদনমুখী নীতির মাধ্যমে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
ইউরোপের এস্তোনিয়া ডিজিটাল রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করে নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আফ্রিকার রুয়ান্ডা দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সফল মডেল হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।
এ ছাড়াও আরও কিছু দেশ সুশাসন ও কঠোর প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে উঠে এসে শিল্পায়ন ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, যেখানে পার্ক চুং-হির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান দূরদর্শী পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শাসনের মাধ্যমে মরুভূমির অর্থনীতিকে আধুনিক নগররাষ্ট্রে রূপান্তর করেন।
বতসোয়ানা স্বাধীনতার পর দুর্নীতি দমন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সেরেতসে খামার অবদান উল্লেখযোগ্য। জর্জিয়া প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর মাধ্যমে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, বিশেষ করে মিখাইল সাকাশভিলির সময়। অন্যদিকে চিলি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকার একটি স্থিতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অনেক সময় এটি ব্যক্তিগত গুণ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী। সরকারি দপ্তরে দেরিতে কাজ শুরু হওয়া, ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ— এসব কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যায়।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশাসনিক বিলম্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয়। একটি দেশে যদি ব্যবসা শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগে, তবে উদ্যোক্তারা অন্য দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। ফলে কর্মসংস্থান কমে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সময়ানুবর্তিতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সততা ও জবাবদিহিতা একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি। একজন সৎ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, সরকারি সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং জনগণের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে। জবাবদিহিতার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে ক্ষমতার অপব্যবহার কমে যায় এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশে দুর্নীতির মাত্রা কম, সেসব দেশে মানব উন্নয়ন সূচক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত। একই সঙ্গে নাগরিকদের জীবনমানও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে ওঠে, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত এক-দুই যুগে দেশ সামান্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং দারিদ্র্যের হার কমেছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশের অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতিকে প্রবৃদ্ধির বৈপরীত্য হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু তার ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
যদি প্রশাসনিক সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, আইনের সমান প্রয়োগ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। কেননা, উন্নয়ন কোনো একক নীতির ফল নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া, যা শুরু হয় ব্যক্তির সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ থেকে এবং শেষ পর্যন্ত একটি জাতির সমৃদ্ধিতে রূপ নেয়।
লেখক: কলামিস্ট; সাবেক সহসভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এবং ডেপুটি ডিরেক্টর-ফ্যাকাল্টি এইচআর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ বা নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করে না; বরং এর মূল চালিকাশক্তি হলো সেই মানুষগুলো, যারা রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করেন। শাসকগোষ্ঠীর সততা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার মান যত উন্নত হয়, একটি দেশের উন্নয়ন ততই দ্রুত ও টেকসই হয়।
সুশাসন, যাকে আমরা রাষ্ট্রপরিচালনার কার্যকর পদ্ধতি বলি, সেটি মূলত সেই কাঠামো যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবার মান নির্ধারিত হয়। যখন এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয় এবং উন্নয়নের গতি ব্যাহত করে। একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মূল্যবোধনির্ভর নেতৃত্ব এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী দেখা যায়, রাষ্ট্রনায়কের সুশাসন, সততা, কঠোর শৃঙ্খলা ও নৈতিক নেতৃত্বই একটি দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়, যা বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশের সমান। এই বিপুল অর্থের অপচয় মানে হলো— কম হাসপাতাল, নিম্নমানের শিক্ষা, দুর্বল অবকাঠামো এবং সীমিত কর্মসংস্থান।
দুর্নীতির মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্বল জবাবদিহিতা, আইনের অসম প্রয়োগ ও প্রশাসনিক অদক্ষতা। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, সরকারি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ঘুষ ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসা শুরু করা, অনুমোদন পাওয়া বা আইনি সেবা গ্রহণে অতিরিক্ত সময় ব্যয় বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দেখিয়েছে, সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব একটি জাতিকে কীভাবে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা নেতা লি কুয়ান ইউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, কঠোর আইন প্রয়োগ ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করেন।
একইভাবে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ শিল্পায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটিকে দ্রুত অগ্রগতির পথে নিয়ে যান। ভিয়েতনাম অর্থনৈতিক সংস্কার ও উৎপাদনমুখী নীতির মাধ্যমে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
ইউরোপের এস্তোনিয়া ডিজিটাল রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করে নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আফ্রিকার রুয়ান্ডা দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সফল মডেল হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।
এ ছাড়াও আরও কিছু দেশ সুশাসন ও কঠোর প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে উঠে এসে শিল্পায়ন ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, যেখানে পার্ক চুং-হির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান দূরদর্শী পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শাসনের মাধ্যমে মরুভূমির অর্থনীতিকে আধুনিক নগররাষ্ট্রে রূপান্তর করেন।
বতসোয়ানা স্বাধীনতার পর দুর্নীতি দমন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সেরেতসে খামার অবদান উল্লেখযোগ্য। জর্জিয়া প্রশাসনিক সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর মাধ্যমে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, বিশেষ করে মিখাইল সাকাশভিলির সময়। অন্যদিকে চিলি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকার একটি স্থিতিশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
সময়নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অনেক সময় এটি ব্যক্তিগত গুণ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী। সরকারি দপ্তরে দেরিতে কাজ শুরু হওয়া, ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ— এসব কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যায়।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশাসনিক বিলম্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয়। একটি দেশে যদি ব্যবসা শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগে, তবে উদ্যোক্তারা অন্য দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। ফলে কর্মসংস্থান কমে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সময়ানুবর্তিতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সততা ও জবাবদিহিতা একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি। একজন সৎ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, সরকারি সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং জনগণের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে। জবাবদিহিতার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে ক্ষমতার অপব্যবহার কমে যায় এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশে দুর্নীতির মাত্রা কম, সেসব দেশে মানব উন্নয়ন সূচক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত। একই সঙ্গে নাগরিকদের জীবনমানও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে ওঠে, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত এক-দুই যুগে দেশ সামান্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং দারিদ্র্যের হার কমেছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশের অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতিকে প্রবৃদ্ধির বৈপরীত্য হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু তার ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
যদি প্রশাসনিক সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, আইনের সমান প্রয়োগ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তবে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। কেননা, উন্নয়ন কোনো একক নীতির ফল নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া, যা শুরু হয় ব্যক্তির সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ থেকে এবং শেষ পর্যন্ত একটি জাতির সমৃদ্ধিতে রূপ নেয়।
লেখক: কলামিস্ট; সাবেক সহসভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এবং ডেপুটি ডিরেক্টর-ফ্যাকাল্টি এইচআর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

এটি নয়াদিল্লির সেই স্বীকৃতিকে তুলে ধরে— ঢাকার সঙ্গে তার সম্পর্কটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তা দূরত্ব বজায় রেখে পরিচালনার বিষয় নয়। যখন কোনো সরকার পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন কৌশলী রাজনীতিককে নিয়োগ দেয় তখন তা প্রায়শই স্বীকার করে নেওয়া হয়, প্রশ্নাধীন সম্পর্কটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক কৌশল ও দীর্ঘ
৪ দিন আগে
হজ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আত্মশুদ্ধি অর্জন করেন এবং সমাজের জন্য একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠেন। ব্যক্তি পরিবর্তনের মাধ্যমেই সমাজ উন্নয়ন সম্ভব— এই চিরন্তন সত্য হজ আমাদের শিখিয়ে দেয়।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জন্ম ও বিকাশ একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে— প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা। এই চারটি স্তম্ভ কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক দর্শনেরও প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে তাদের প্রতিটি আন্দোলন, প্রতিটি কর্মসূচি সরাসরি
৪ দিন আগে
পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে— মন্ত্রী, এমপি, বিরোধী নেতা কিংবা সাংবাদিক— কেউই এর ব্যতিক্রম নন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ধরনের প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম বা রাজনৈতিক উপস্থিতি এই সংবেদনশীল পরিবেশে অনুমোদন করা উচিত নয়।
৭ দিন আগে