তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাখ্যার দায় সরকারের

এমদাদুল ইসলাম

নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরার বিষয়টি। এর আগে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নভেম্বর-ডিসেম্বরসহ নানা সময়ে তার দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। তবে তারেক রহমান নিজেই জানাচ্ছেন, শিগগিরই হয়তো তার দেশে ফেরা হচ্ছে না, এবং সেটি মায়ের সংকটময় শারীরিক অবস্থাতেও। এর জন্য ‘স্পর্শকাতর’ এক বিষয়কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি, যদিও তার বর্ণনা দেননি।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এ বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত।’

এ অবস্থায় এখন সরকারের কাঁধে একটি অলিখিত দায়িত্ব এসে গেছে। বিষয়টা খুব সহজ— তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারবেন কি না এবং ফিরলে সেটি তার জন্য কতটা নিরাপদ— এটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই কাজ। তিনি ‘স্পর্শকাতর’ একটি বিষয়ের কথা বলেছেন, কিন্তু কেন বলেছেন তা পরিষ্কার করেননি। এ জায়গায় আমি বা আপনি যা অনুমান করতে পারি, তা একটাই— এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়।

নিজের দেশ, নিজের মায়ের সংকটকালীন অসুস্থতা— সবকিছু থাকা সত্ত্বেও একজন মানুষ দেশে ফিরতে দ্বিধায় আছেন। এর মানে তিনি কোনো এক পক্ষের ওপর নির্ভর করেন এবং সেই পক্ষ সরকার নয়— এটিই তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে— অন্য পক্ষটা কে? কেন তিনি মনে করছেন সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না?

এখানে সরকারের ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব আছে। তার মন্তব্যের কারণ কী, সেটি সরকার জানতে চাইতে পারে এবং পরিষ্কার করতে পারে। কারণ এর বাইরে অন্য কোনো বিশেষ জটিলতা আছে বলে আমার মনে হয় না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন— আগে নাকি শেখ হাসিনা তাকে দেশে আসতে দিতেন না। এখন কি তার থেকেও বড় বাধা কোনো বাধা বিদ্যমান? আমি খুব স্পষ্টভাবে বলছি— না, এখন শেখ হাসিনার সেই অবস্থান নেই। তাই আজ নিরাপত্তা নিয়ে তার সংশয়টা সরকারের কাছ থেকেই ব্যাখ্যা দাবি করে।

সরকার চাইলে দুটি কাজ করতে পারে—

এক: কেন তিনি নিরাপদ বোধ করছেন না— সে বিষয়ে সরকারি অবস্থান পরিষ্কার করা;

দুই: তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া— তিনি কোন পক্ষের ওপর নির্ভর করেন এবং কোন পক্ষের ওপর নির্ভর করেন না।

মূল কথা— এই পুরো ইস্যু এখন ‘সিকিউরিটি পারসপেকটিভ’-এর মধ্যে আটকে আছে। তাই ব্যাখ্যার জায়গাটাও রাষ্ট্রের কাছেই ফিরে আসে।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

মেগা-ইভেন্ট: ভূ-রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার

ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমসের মতো, প্রায়শই ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক সাফল্যের উৎসব হিসাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু জৌলুস আর আড়ম্বরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ এক বাস্তবতা: মেগা-ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

১০ দিন আগে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় রাষ্ট্রের পদক্ষেপ জরুরি

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং বিশ্বসংযুক্ত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্ব নতুন কিছু সামাজিক, মানসিক ও শিক্ষাগত সংকটও তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্ফোরণমূলক বিস্তার শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের বিকাশ, শিক্ষাগ্রহণ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এ

১২ দিন আগে

বিআরআই: আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বাস্তবতা ও বাংলাদেশের কৌশলগত সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে বাংলাদেশকে এখন আর কেবল একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উদীয়মান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

১২ দিন আগে

খোলা চিঠি: রাষ্ট্র, মানুষ ও আস্থার সংকট

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। এই চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না, জানি না। কিন্তু আমি জানি, বাংলাদেশের মাটি, নদী, মাঠ, জনপদ, শহর, বন্দর, শ্রমিক কলোনি, চরাঞ্চল, পাহাড়, চা বাগান এবং বস্তির মধ্যে যে দীর্ঘশ্বাস প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায়, তার ভাষা একদিন না একদিন রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়বেই।

১৩ দিন আগে