
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

অর্থপাচার নিয়ে প্রথমেই যেটা বলতে চাই তা হলো, বাংলাদেশ থেকে বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকার কারণে এটুকু জানি।
যদিও আমি উপদেষ্টা বা অর্থনীতিবিদ হিসেবে যা দেখেছি, জেনেছি। তবে ভেতরের মানুষগুলোর এ ব্যাপারে আমার চেয়ে জ্ঞান-বুদ্ধি বেশি।
তারা আমাকে যেটা বলত, তা হলো পাচারকারীরা তাদের পাচারের একটি অংশ ব্রিফকেস দিয়ে নগদ ডলার হিসেবে নিয়ে যেত। বলা যায়, ক্যাশ ডলারটাই বাজার থেকে চলে যেত। একটি ব্রিফকেসে কয়েক লাখ ডলার নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর যারা এ ডলার পাচার করেছে এটা এমন না যে হাজার হাজার কোটি টাকা একবারে পাচার করেছে।
এটা সম্ভব নয়। এ চক্রটি নিয়মিতই এটা করে। এমনকি প্রতি সপ্তাহেই তারা এভাবে একটা ডলার নিয়ে যেত। আমরা নিউইয়র্কে দেখি, পাচারকারীদের অনেকেই এখানে এসে ক্যাশ টাকায় বাড়ি কিনে ফেলছে।
সোজা হিসাব। তারা কোনো মর্গেজে বা অন্য কোনো উপায়ে যাচ্ছে না। টাকা পাচারে এর বাইরেও আরো অনেক উপায় নিশ্চয়ই আছে।
এখন যদি টাকা ফেরানোর উপায় নিয়ে কথা বলি তাহলে আমার কথা হলো টাকাগুলো ফেরানোর সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। যারা পাচার করেছে, তারা তো টাকাটা নিশ্চিত করে ফেলেছে।
একটা বাড়ি কিনে ফেলেছে। বাড়িটা তো আর তুলে আনা যাবে না। যেমন—অনেকেই সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, দুবাই বা আরো অনেক দেশেই বাড়ি কিনেছে। ওই সব দেশের সরকার এভাবে ডলার নিয়ে যাওয়া উৎসাহিত করে। তারা চায়, তাদের দেশে ডলার প্রবাহ বাড়ুক। কারণ এটা তাদের লাভ। এতে তাদের ডলারের মজুদ বাড়ে। তারা তো ঘোষণাই করেছে যে বিনিয়োগ করলে তারা সুবিধা দেবে। এখন সুবিধা দিয়ে তো আর খোঁচাবে না। এখন আমরা যদি এটা ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে ওদের স্বার্থ নষ্ট হবে। তারা তা হতে দেবে কেন? এভাবে হবে না।
তবে একটি উপায় আছে, তা হলো জিটুজি বা সরকার টু সরকার পদ্ধতি। সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকার-সরকার আলোচনা করে একটি অংশ ফেরত আনতে পারে। ওই সরকারকে বোঝাতে হবে যে টাকাটা অবৈধ উপায়ে তারা আয় করে তা অন্যায়ভাবে নিয়ে গেছে। তখন ওই সরকার যদি সহানুভূতিশীল হয়, তখন আইনের ফাঁকফোকর দেখে হয়তো পাচারের কিছু অংশ দিলেও দিতে পারে। এর বাইরে পাচারকারী ওই সব দেশে তাদের বিনিয়োগ নিয়ে কোনো ঝুঁকিতে নেই। আইনেই তাদের সুরক্ষা দেওয়া আছে।
কেউ যদি সিঙ্গাপুরে টাকা নিয়ে যায়, ওই দেশের সরকারপ্রধান খুশি হয়ে তাকে ডিনারেও ডাকতে পারে। কিন্তু সেখানে বরফ গলতে পারে যদি প্রফেসর ইউনূস গিয়ে তাকে বলে যে, আমাদের এ রকম একটা লোক এভাবে টাকাটা নিয়ে এসেছে; আমাদের হেল্প করো। কিছু তোমরা রাখো, বাকিটা আমাদের ফেরত দিয়ে দাও। এভাবে হতে পারে। মোট কথা ড. ইউনূসের ইমেজ কাজে লাগিয়ে পাচারের টাকা ফেরত আনা সম্ভব।
লেখক : সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংক
সৌজন্য: কালের কণ্ঠ

অর্থপাচার নিয়ে প্রথমেই যেটা বলতে চাই তা হলো, বাংলাদেশ থেকে বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকার কারণে এটুকু জানি।
যদিও আমি উপদেষ্টা বা অর্থনীতিবিদ হিসেবে যা দেখেছি, জেনেছি। তবে ভেতরের মানুষগুলোর এ ব্যাপারে আমার চেয়ে জ্ঞান-বুদ্ধি বেশি।
তারা আমাকে যেটা বলত, তা হলো পাচারকারীরা তাদের পাচারের একটি অংশ ব্রিফকেস দিয়ে নগদ ডলার হিসেবে নিয়ে যেত। বলা যায়, ক্যাশ ডলারটাই বাজার থেকে চলে যেত। একটি ব্রিফকেসে কয়েক লাখ ডলার নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর যারা এ ডলার পাচার করেছে এটা এমন না যে হাজার হাজার কোটি টাকা একবারে পাচার করেছে।
এটা সম্ভব নয়। এ চক্রটি নিয়মিতই এটা করে। এমনকি প্রতি সপ্তাহেই তারা এভাবে একটা ডলার নিয়ে যেত। আমরা নিউইয়র্কে দেখি, পাচারকারীদের অনেকেই এখানে এসে ক্যাশ টাকায় বাড়ি কিনে ফেলছে।
সোজা হিসাব। তারা কোনো মর্গেজে বা অন্য কোনো উপায়ে যাচ্ছে না। টাকা পাচারে এর বাইরেও আরো অনেক উপায় নিশ্চয়ই আছে।
এখন যদি টাকা ফেরানোর উপায় নিয়ে কথা বলি তাহলে আমার কথা হলো টাকাগুলো ফেরানোর সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। যারা পাচার করেছে, তারা তো টাকাটা নিশ্চিত করে ফেলেছে।
একটা বাড়ি কিনে ফেলেছে। বাড়িটা তো আর তুলে আনা যাবে না। যেমন—অনেকেই সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, দুবাই বা আরো অনেক দেশেই বাড়ি কিনেছে। ওই সব দেশের সরকার এভাবে ডলার নিয়ে যাওয়া উৎসাহিত করে। তারা চায়, তাদের দেশে ডলার প্রবাহ বাড়ুক। কারণ এটা তাদের লাভ। এতে তাদের ডলারের মজুদ বাড়ে। তারা তো ঘোষণাই করেছে যে বিনিয়োগ করলে তারা সুবিধা দেবে। এখন সুবিধা দিয়ে তো আর খোঁচাবে না। এখন আমরা যদি এটা ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে ওদের স্বার্থ নষ্ট হবে। তারা তা হতে দেবে কেন? এভাবে হবে না।
তবে একটি উপায় আছে, তা হলো জিটুজি বা সরকার টু সরকার পদ্ধতি। সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকার-সরকার আলোচনা করে একটি অংশ ফেরত আনতে পারে। ওই সরকারকে বোঝাতে হবে যে টাকাটা অবৈধ উপায়ে তারা আয় করে তা অন্যায়ভাবে নিয়ে গেছে। তখন ওই সরকার যদি সহানুভূতিশীল হয়, তখন আইনের ফাঁকফোকর দেখে হয়তো পাচারের কিছু অংশ দিলেও দিতে পারে। এর বাইরে পাচারকারী ওই সব দেশে তাদের বিনিয়োগ নিয়ে কোনো ঝুঁকিতে নেই। আইনেই তাদের সুরক্ষা দেওয়া আছে।
কেউ যদি সিঙ্গাপুরে টাকা নিয়ে যায়, ওই দেশের সরকারপ্রধান খুশি হয়ে তাকে ডিনারেও ডাকতে পারে। কিন্তু সেখানে বরফ গলতে পারে যদি প্রফেসর ইউনূস গিয়ে তাকে বলে যে, আমাদের এ রকম একটা লোক এভাবে টাকাটা নিয়ে এসেছে; আমাদের হেল্প করো। কিছু তোমরা রাখো, বাকিটা আমাদের ফেরত দিয়ে দাও। এভাবে হতে পারে। মোট কথা ড. ইউনূসের ইমেজ কাজে লাগিয়ে পাচারের টাকা ফেরত আনা সম্ভব।
লেখক : সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংক
সৌজন্য: কালের কণ্ঠ

একটি নবনির্বাচিত বা নতুন গঠিত সরকারের সামনে রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের পথচলা নিছক রুটিন রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় নয়; বরং এটি একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সামলানো, গণআকাঙ্ক্ষা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থানের এক কঠিন পর
১৮ দিন আগে
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা দরকার— আমি রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনকে অন্যায় বলছি না। আমার মূল যুক্তিটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নিয়ে— রাজপথকে যদি প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২১ দিন আগে
মানুষের জীবনে কিছু প্রয়োজন আছে, যেগুলো নিয়ে কোনো আপস চলে না। খাদ্য তার প্রথম সারিতে। সকালে শ্রমজীবী মানুষের নাশতার রুটি, দুপুরে পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, কৃষকের গোলায় ধান কিংবা দুর্যোগে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া খাদ্যসহায়তা—সবকিছুর পেছনেই রয়েছে একটি বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার কেন
২২ দিন আগে
বাংলাদেশের গণপরিবহনে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঢাকার রাস্তায় যখন নারী চালক, নারী সহকারী আর নারী যাত্রীদের নিয়ে বাস চলছে, তখন সেটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগার ভেতরেই কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, যে প্রশ্নগুলো শুধু বাসের রং নিয়ে নয়, বরং আ
২৩ দিন আগে