৪০ বছর পর বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
৪০ বছর পর বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক

দীর্ঘ চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্নের খুব কাছে পৌঁছে গেছে ইরাক। আর মাত্র একটি জয়ের দূরত্ব—প্লে-অফে বলিভিয়া-কে হারাতে পারলেই বিশ্বমঞ্চে ফিরবে ‘লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া’।

প্রায় ৮৫০ দিন আগে বসরা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম-এ ইন্দোনেশিয়া-র বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে শুরু হয়েছিল ইরাকের এই যাত্রা। এরপর ২১ ম্যাচের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন তাদের গন্তব্য মন্টেরে।

তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র এক মাস আগেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় দলটির সফর। আকাশপথ বন্ধ, দূতাবাস অচল—এ অবস্থায় কোচ গ্রাহাম আরনল্ড আটকে পড়েন সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ। বিকল্প হিসেবে ইস্তাম্বুল হয়ে দীর্ঘ সড়কপথে যাত্রার চিন্তাও করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ফিফা-র হস্তক্ষেপে আম্মান থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছাতে দলকে বাগদাদ থেকে ১৫ ঘণ্টার বাসযাত্রা করতে হয়। সব মিলিয়ে ৪৩ ঘণ্টার ক্লান্তিকর ভ্রমণ শেষে মন্টেরে পৌঁছায় ইরাক।

মেক্সিকোয় পৌঁছে অপ্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে দলটি। স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস বাড়িয়েছে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস। এই সমর্থন বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বড় প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেক্সিকোর সঙ্গে ইরাকের রয়েছে আবেগঘন স্মৃতি। ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ-এই একমাত্রবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তারা। সে আসরে আহমেদ রাধি-র করা গোল আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

বর্তমান দলে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নজর কেড়েছেন আলী জসিম। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে তার পারফরম্যান্স ইরাককে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বলিভিয়াকে হারাতে পারলে শক্তিশালী গ্রুপে পড়তে পারে ইরাক, যেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement