যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের সব পেট্রোল পাম্প

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৯: ৪৬
যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের সব পেট্রোল পাম্প

সারাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় যে কোনো সময় তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মালিকরা।

রোববার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাম্পগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পাম্প কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। প্রতিদিনের প্রাপ্ত তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে তেল নিতে এসে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্পের কর্মীরাও শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে পাম্পগুলো অচল হয়ে যেতে পারে।

সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। পাম্প মালিকরা জানান, গত ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন মজুদ থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যাকে তারা ‘লুটতরাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করা হলেও অনেক চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই ট্যাংক আংশিক পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও বারবার তেল নিতে আসছেন, যার ফলে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না। এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে এসে মব তৈরি করে জোরপূর্বক পাম্প খুলিয়ে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার প্রসঙ্গ টেনে মালিকরা জানান, বর্তমানে পাম্পগুলোতে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

বর্তমানে শুধু পাম্পই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন প্রতিকূল অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই বলে জানিয়েছেন মালিকরা। তারা জানান, সংকটের কারণে অনেক পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করা না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন (লিফটিং) বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement