কমিশন ব্যর্থ হলে সেটা হবে সবার ব্যর্থতা: আলী রীয়াজ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১৪: ২২

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, মৌলিক বিষয়ে সবার মতামতের মধ্য দিয়ে আমরা এক জায়গায় যেতে পারি। কমিশন আলাদা কোনো সত্তা নয়। কমিশন ব্যর্থ হলে সবাই ব্যর্থ হবে। আমাদের ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৪তম দিনের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচ্য সূচিতে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধান সংশোধন এবং সংসদের নারী আসন।

রাজনৈতিক দলগুলোকে এক বছর আগের পরিস্থিতি অনুধাবন করার অনুরোধ জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ, আপনারা সবাই, আপনাদের কর্মীরা প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন বলে আমরা এখানে আসতে পেরেছি। সেই জায়গার সেই স্মৃতি, সেই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব, সে দায়িত্ব পালনে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয় এবং আপনারা সেই চেষ্টা করছেন। আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘সময়ের স্বল্পতার কারণে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছি না। কিন্তু এ সপ্তাহের পরে সময়ের স্বল্পতা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে যে, আমাদের খুব দ্রুততার সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আশা করছি সেগুলো আপনারা বিবেচনায় রাখবেন। নিষ্পত্তিহীন বিষয়গুলো আপনারা জানেন।’

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কমিশনের সহসভাপতি বলেন, ‘সবাই মিলে আমাদের একটি জাতীয় সনদ তৈরির জায়গায় যেতে হবে। যত দূর সম্ভব সবাই মিলে যেতে হবে। সে জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু অবস্থানগত পরিবর্তন আপনারা অব্যাহত রাখবেন আশা করি। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার বিবেচনাটা করুন, যাতে করে আমরা খুব দ্রুত জুলাই মাসের মধ্যেই একটা জাতীয় সনদ প্রণয়ন করতে পারি। মৌলিক বিষয়গুলো যেন এই জাতীয় সনদে সবার বা অধিকাংশের বা যত দূর সম্ভব সবার মতামতের মধ্য দিয়ে আমরা এক জায়গায় আসতে পারি।’

দায়িত্ব নেওয়ার পরে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের সবাই মিলে সফল হতে হবে। সে সাফল্যের মাপকাঠি হচ্ছে আমরা একটা কাঠামোগত সংস্কারের ব্যাপারে একমত হতে পারছি কি পারছি না। কিছু কিছু বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে একমত হয়েছি। কিছু বিষয়ে আপনারা প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় একমত হয়েছেন। আর কিছু নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় আছে। এগুলো আমরা আলোচনা করব।’

আগামী কয়েক দিনের আলোচনায় সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে জানিয়ে সহসভাপতি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা যেন আমাদের প্রত্যেকের দায় ও দায়িত্ব অনুভব করি। আমরা যেন স্মরণ করি, আমরা কীভাবে এইখানে এসে উপস্থিত হতে পেরেছি। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কী প্রত্যাশা মানুষের এবং সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা প্রত্যেকেই কী ভূমিকা পালন করলাম।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত আছেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

দেশকে এগিয়ে নিতে উভয়পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না। যদি একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”

৪ ঘণ্টা আগে

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— নির্বাচনের স্বার্থে আপস করেছি, জুলাই সনদেও সই করেছি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলিনি। আমাদের একটা তাগাদা ছিল যে এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সে জন্য আমরা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। আমরা একত্র হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে।’

৬ ঘণ্টা আগে

বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই, মানুষ জানে কাদের আছে: অর্থমন্ত্রী

সংসদে দেওয়া ভাষণে ঋণ খেলাপি ও ঋণ পুনঃতফসিলীকরণকে ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির ব্যবসায়ীদের ওপর যে পরিকল্পিত বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তারই ফলস্বরূপ অনেকে আজ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন।

৬ ঘণ্টা আগে

সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা, গেজেট প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ৪৯ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে বিএনপির ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২, স্বতন্ত্র জোটের একজনসহ মোট ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

৭ ঘণ্টা আগে