বিমানের বহরে যুক্ত হবে এয়ারবাস, অক্টোবরে চুক্তির সম্ভাবনা
-6dc146-480x270.webp)
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এয়ারবাস যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরেই এয়ারবাস কেনার চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। ওই চুক্তির ‘রাইট টু পারচেজ অ্যাডিশনাল এয়ারক্রাফট’ ধারার আওতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার সম্পূরক চুক্তি হয়েছে। এতে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজগুলোর দাম ৩০ এপ্রিলের চুক্তিতে নির্ধারিত দরেই রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে বিমানের মোট ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০সহ ১৫টি ওয়াইড বডি এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি উড়োজাহাজ। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরে সরবরাহের কথা রয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে শেষ উড়োজাহাজটি সরবরাহ করা হবে। তবে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিমান।
এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি ও ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিমানের বহরে টেকসই মিশ্র উড়োজাহাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে এ বিষয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যাত্রী চাহিদা ও পরিচালনাগত প্রয়োজন বিবেচনায় বহরের উড়োজাহাজের ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে বিমানের নেটওয়ার্ক ফ্লিট পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন-পরিসর ও যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ন্যারো বডি উড়োজাহাজ চলবে আঞ্চলিক ও স্বল্পদূরত্বের রুটে। এগুলো বিমানের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজেরও বিকল্প হবে।
বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় ছোট পরিসরে পরিচালিত এয়ারলাইন্সটির বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা মাত্র ১৯টি।
মন্ত্রী বলেন, ইথিওপিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি বেশি এবং দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদাও বেশি। অথচ বর্তমানে মোট যাত্রী চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি বহন করতে পারছে বিমান। বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো। উড়োজাহাজের ঘাটতি কাটাতে সরকার সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। এ পরিকল্পনায় কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।
উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার মূল্য পরিশোধ করা হবে। সরবরাহ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়ায় অর্থ পরিশোধও হবে পর্যায়ক্রমে।
বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুটের আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, এ কারণে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সরাসরি সরকারি বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না।














-f3907b-256x144.webp)

