নারীদের বাদ দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া সম্ভব নয়: শামা ওবায়েদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
নারীদের বাদ দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া সম্ভব নয়: শামা ওবায়েদ

নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা না গেলে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-২ ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) প্রাঙ্গণে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পেছনে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে চট্টগ্রাম থেকে রংপুর কিংবা যশোর থেকে ফরিদপুর, সব অঞ্চলের নারীরা সমান সুযোগ পাবেন।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা অগ্রাধিকারের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা অন্য উদ্যোক্তাদের মতোই ন্যায্য অধিকার ও সমান সুযোগ চান। এমন একটি সময় আসা উচিত, যখন উদ্যোক্তার আগে ‘নারী’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে না। নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।

নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যশোরের কোনো নারী নকশিকাঁথা তৈরি করেন, রংপুরের কেউ শতরঞ্জি বানান, আবার চট্টগ্রামের কোনো তরুণী অনলাইনে খাবারের ব্যবসা করেন। কিন্তু বাজারজাতকরণ, নতুন বাজার খুঁজে পাওয়া, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে তাঁদের অনেকেই ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারছেন না। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশনকে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের সম্ভাব্য বাজার ও চাহিদা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে কোন ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাজারের সংযোগ তৈরিতে মিশনগুলো কাজ করবে।

বিদেশি কূটনীতিক, মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি জায়গায় তাদের পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে চান বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, এসএমই ফাউন্ডেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যোগাযোগ করলে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সরকার কাজ করছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নারীরা সব ক্ষেত্রেই আরও ভালো করবেন।

নিজেকে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নারী উদ্যোক্তার পেছনে সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প রয়েছে। এসব গল্প দেশের ১৭ কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগ থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননা পাওয়া সাগুফতা সুলতানা বলেন, নারীরা নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চেষ্টা করছেন। এ ধরনের স্বীকৃতি উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাঁদের কাজের অনুপ্রেরণা জোগায়।

নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হওয়ার মানসিকতা থেকেই নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও স্বদেশি উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি।

সাগুফতা সুলতানা বলেন, দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের দক্ষতা ও মান উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনেক নারী মাত্র তিন থেকে সাত দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করেন। অথচ একটি ব্যবসা পরিচালনার জন্য পণ্যের সঠিক মাপ নেওয়াসহ বিভিন্ন মৌলিক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দীর্ঘমেয়াদি করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সামিট আয়োজন করে উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরিরও অনুরোধ করেন।

এর আগে সামিটে আট নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। সম্মাননাপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা হলেন— ঢাকা বিভাগের সাগুফতা সুলতানা, চট্টগ্রাম বিভাগের মঞ্জুলিকা চাকমা, সিলেট বিভাগের শান্তনা, ময়মনসিংহ বিভাগের হেনা খাতুন, রাজশাহী বিভাগের আফরোজা আজিজ মুন্নি, রংপুর বিভাগের উম্মে কুলসুম পপি, বরিশাল বিভাগের বিলকিস আহমেদ লিলি এবং খুলনা বিভাগের মরিয়ম নার্গিস।

‘নারী উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ হবে আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে ৫ নভেম্বর ৬০টি স্টল নিয়ে শুরু হয়েছিল তিন দিনব্যাপী এ সামিট ও পণ্য মেলা। সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad