রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ বন্ধ পাটকল ইজারা পেল প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৪৭
বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিন পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিজেএমসির সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের চুক্তি সই অনুষ্ঠান। ছবি: পিআইডি
বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিন পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিজেএমসির সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের চুক্তি সই অনুষ্ঠান। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালু করতে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়েছে সরকার। সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। এতে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। পাটকল তিনটি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ চুক্তি সই অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার সই করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। এ মিল থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement