১৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ প্রস্তাব

তারেক রহমানের টোকিও সফর ঘিরে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ২৩
 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চারদিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে এই ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে।

১৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজ প্রস্তাব

এবারের সফরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বড় অঙ্কের জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ। আগামী ২০২৬ থেকে ২০৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য ১২টি অগ্রাধিকার খাতকে সামনে রেখে টোকিওর কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব রাখছে ঢাকা। এর মধ্যে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ছাড়াও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত 'বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি' (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।

সফরের মূল সূচি ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে’ মূল বক্তব্য দেবেন এবং জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া তিনি জাইকা প্রেসিডেন্ট, জেট্রো প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসি -এর গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সম্ভাব্য কর্মসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের একটি এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

আশ্বস্ত টোকিও, তবে রয়েছে চ্যালেঞ্জও

নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে জাপানি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে টোকিও আশা প্রকাশ করেছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত সুবিধার সুফল পেতে বাংলাদেশকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, "জাপানি বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে স্পেশাল সেলের মাধ্যমে সেবা আরও দ্রুতগতির করা দরকার।"

ইপিএ চুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে পণ্যের কোয়ালিটি ও সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম। তাঁর মতে, জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো আবশ্যক।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর আশরাফ-উদ-দৌলা মনে করেন, জাপানের কারিগরি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো উচিত, যা একটি দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

পাঁচ দশকের বিশ্বস্ত বন্ধুত্ব

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জাপান সফর দুই দেশের সহযোগিতার শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকার মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আসন্ন সফর দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad