আজ মে দিবস, শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের দিন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মে দিবস। গ্রাাফিক্স: রাজনীতি ডটকম

দিনের পর দিন যারা শ্রম আর ঘামে কলকারখানা চালিয়ে এসেছেন, তারাই ছিলেন বঞ্চিত, নিপীড়িত। মিলত না ন্যায্য মজুরি, দিতে হতো বাড়তি শ্রম। প্রায় দেড় শ বছর আগে সেইসব নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষরা এক হয়ে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আদায় করে নেন শ্রমের অধিকার, ন্যায্য মজুরির অধিকার। আজ ১ মে, মহান মে দিবস, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সেই দিন।

‘সুস্থ শ্রমিক কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’ প্রতিপাদ্যে এ বছর পালন করা হচ্ছে মে দিবস। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে আজ জাতীয় ছুটির দিন। আরও অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। এ দিনটিকে মে দিবসের পাশাপাশি ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস’ হিসেবেও পালন করে থাকে বাংলাদেশ

দিবসটি উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা এ দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

শ্রমিকদেরই দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মূল কারিগর অভিহিত করে বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্প-কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি উন্নত শ্রমিকবান্ধব সমাজ এবং মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ— এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মোট ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

এ দিবস উপলক্ষ্যে আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল শ্রমিক সমাবেশ আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারাও সমাবেশ উপস্থিত থাকবেন।

একনজরে মে দিবসের ইতিহাস

দিনের পর দিন কলকারখানায় শ্রম শোষণের শিকার শ্রমিকরা ১৮৮৬ সালের ১ মে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ডাকে শিকাগো শহরের তিন লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভ-সমুদ্রে।

ইতিহাস বলছে, এক লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরও বহু বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝাণ্ডা হাতে সমবেত হন সেখানে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে অন্তত ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান।

শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে। এমনকি তা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। শেষ পর্যন্ত তীব্র আন্দোলনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। মূলত এই আন্দোলনের ফল হিসেবেই শ্রমিকদের দৈনিক কাজের সময় নেমে আসে আট ঘণ্টায়।

তিন বছর পর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর হে মার্কেট এলাকার রক্তঝরা সেই অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসাবে পালন করতে শুরু করে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

এই সংবিধান লাখ লাখ শহিদের রক্তে পাওয়া: মির্জা ফখরুল

তিনি বলেছেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন যে আমি সংবিধানকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ, আমি করেছি, কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের আবেগ এবং ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহিদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।”

১৩ ঘণ্টা আগে

দেশকে এগিয়ে নিতে উভয়পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না। যদি একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”

১৪ ঘণ্টা আগে

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— নির্বাচনের স্বার্থে আপস করেছি, জুলাই সনদেও সই করেছি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলিনি। আমাদের একটা তাগাদা ছিল যে এরা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সে জন্য আমরা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। আমরা একত্র হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে।’

১৫ ঘণ্টা আগে

বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই, মানুষ জানে কাদের আছে: অর্থমন্ত্রী

সংসদে দেওয়া ভাষণে ঋণ খেলাপি ও ঋণ পুনঃতফসিলীকরণকে ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির ব্যবসায়ীদের ওপর যে পরিকল্পিত বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তারই ফলস্বরূপ অনেকে আজ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন।

১৬ ঘণ্টা আগে