বিভিন্ন ধর্মের অভিন্ন নৈতিক শিক্ষা

ড. কাজী নূরুল ইসলাম

[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্র আয়োজিত এক সেমিনারে ২০২৪ সনের জুন মাসে এ প্রবন্ধের একাংশ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. কাজী নূরুল ইসলাম। বর্তমান প্রবন্ধটি তারই পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত রূপ। চারটি পর্বে বিভক্ত করে প্রবন্ধটি প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।]

ভূমিকা

সারা পৃথিবীতে এ মুহূর্তে ছোট বড় সব মিলিয়ে যতগুলো ধর্ম প্রচলিত আছে তাদের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এসব ধর্মের মধ্যে মাত্র ১২টি ধর্ম বিশেষভাবে পরিচিত— হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, জৈন ধর্ম, শিখ ধর্ম, জরথুস্ট্রবাদ, ইহুদি ধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম, ইসলাম, তাওবাদ, কনফুসীয়বাদ, শিনতো ধর্ম ও বাহাই ধর্ম। এদের উৎপত্তিস্থল হলো— ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও জাপান। এসব ধর্মের উৎপত্তিস্থলের যেমন বিভিন্নতা লক্ষ্যণীয়. তেমনি তাদের বিশ্বাসের বৈপরীত্যও বিষ্ময়কর। অনেক কারণে এসব ধর্মের অধিকাংশের মধ্যে বিরোধ, বিদ্বেষ ও সংঘাত অতীতেও বিদ্যমান ছিল এবং আজও তা সারা বিশ্বময়ই কমবেশি বিদ্যমান।

১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম Parliament of World Religions-এ স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন— আমরা এমন কোনো অপরাধের কথা ভাবতে পারি না যা ধর্মের নামে সংঘটিত হয়নি। ধর্মের অনেক কঠিন সমালোচক বিগত শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ধর্মের বিরুদ্ধে অনেক বিষোদগার করেছে।

পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড রেলিজিয়নের ঠিক ১১১ বছর পরে ২০০৪ সালে দুজন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ জুডি কার্টার ও গর্ডন এস স্মিথ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলেন, ধর্মে ধর্মে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি এবং ধর্মের নামে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘণ একবিংশ শতাব্দিতে একটি দুঃখজনক অবস্থান সৃষ্টি করেছে।* এ দুজন ধর্মতত্ত্ববিদ ধর্মের নেতিবাচক দিকটির কথাই বলেছেন। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মের নেতিবাচক দিকের সঙ্গে সঙ্গে ইতিবাচক দিকের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, পৃথিবীতে এমন কোনো মঙ্গলজনক কাজ হয়নি বা এমন কোনো মঙ্গলজনক ঘটনা ঘটেনি যার পেছনে ধর্মের কোনো অনুপ্রেরণা বা অবদান ছিল না।

এখন স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন জাগে— তাহলে কি ধর্ম সত্যিই হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা ও সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত? বলা হয়— কোনো ধর্মই সংঘাত শিক্ষা দেয় না বা অন্যের প্রতি ঘৃণাকে প্রশ্রয় দেয় না বা অনুপ্রাণিত করে না। এই দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে সারা পৃথিবীব্যাপী ধর্মের নামে হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ও সংঘাত অতীতে কেন বিদ্যমান ছিল? বর্তমানেই বা কেন বিদ্যমান?

তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে ধর্ম হচ্ছে জগতে অশান্তিসৃষ্টিকারী? নাকি আমরা মেনে নেব যে ধর্মের সত্যিকারের উদ্দেশ্য ও শিক্ষা হলো সংঘাত নিরসনে সদর্থক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা? বর্তমান প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য এই সত্য প্রমাণ করা, বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত ধর্মগুলো হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা ও সংঘাত নামক ব্যাধীর প্রতিশোধক মহৌষধ এবং বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসের মধ্যে চরম বৈপরীত্যের মধ্যেও সত্যিকার অর্থে বিভিন্ন ধর্মের নৈতিক শিক্ষাগুলো অভিন্ন।

হিন্দু ধর্মের নৈতিক শিক্ষা

পৃথিবীতে যতগুলো প্রচলিত ধর্ম বিদ্যমান, তাদের মধ্যে হিন্দুধর্মকে সবচেয়ে পুরাতন মনে করা হয়। এই ধর্মে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ ধর্মের মূল গ্রন্থ বেদ। এখানে আছে নানা দেবতার সঙ্গে সঙ্গে একই ঈশ্বরে প্রার্থনার কথা। তার সঙ্গে আছে ন্যায়পরায়ণতা ও মানবতার ব্যাখ্যা।

বেদে দেব-দেবীর আরাধনার নির্দেশের পাশাপশি রয়েছে মানবতার চমৎকার জয়গান। ঋগবেদে অত্যন্ত পরিষ্কার ও স্পষ্ট ভাষায় মানবতার বিকাশের সহায়ক সততা, সরলতা, ন্যায়পরায়ণতা, সংযম, ব্রহ্মচর্য ইত্যাদির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে অশুভ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে শপথগ্রহণ, মিথ্যাচারিতা, হীনচক্রান্ত, পরনিন্দা, অসাধুতা, স্বৈরাচার, ব্যাভিচার, চুরি, ইত্যাদিকে অত্যন্ত জঘন্য ও চরম নিন্দনীয় কাজ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

পার্থিব জগতের দুঃখের হাত থেকে মুক্তির জন্য হিন্দুধর্ম নৈতিক পথকে প্রাধান্য দিয়েছে। কঠোপনিষদে বলা হয়েছে— যে ব্যক্তি নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখে না, যে নিজের ইন্দ্রিয়কে সংযত করে না এবং যার চিত্ত প্রশান্ত নয়, তার ব্রহ্মোপলব্ধি অসম্ভব। মুণ্ডক উপনিষদের পরিষ্কার বক্তব্য— ঈশ্বরের করুণা ছাড়া মোক্ষলাভ সম্ভব নয় এবং ঈশ্বরের করুণালাভের প্রধান শর্ত নৈতিক জীবনযাপন।

এদিকে ভগবদ্গীতার ষোড়শ অধ্যায়ে ব্রাহ্মণদের জন্য ২৬টি মহৎ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিশেষ গুণগুলো হলো—

অভয়, চিত্তসংশুদ্ধি, আত্মজ্ঞানে নিষ্ঠা।

দান, দম, যজ্ঞ, তপ, স্বাধ্যায়ে প্রতিষ্ঠা॥

অহিংসা, সত্য, অক্রোধ, ত্যাগ, সরলতা।

পরনিন্দা পরিহার, অলোভ, শান্তি অমানিতা॥

জীবে দয়া, মৃদুতা, কুকর্মে লজ্জা, ধীরভাব।

তেজ, ক্ষমা, ধৃতি, শৌচ ও অদ্রোহ স্বভাব॥

ইহজীবনে জগতের বিভিন্ন প্রকার দুঃখের হাত থেকে মুক্তিলাভের জন্য গীতায় চারটি পথের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ, ভক্তিযোগ ও রাজযোগ। কিন্তু এই চারটি যোগের প্রতিটির পূর্বশর্ত আছে। এই অপরিহার্য শর্ত হলো— আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ।

হিন্দুধর্মের নৈতিকতা প্রসঙ্গে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য এবং তা হলো— নৈতিকতা ও মানবতার গুরুত্ব এত বেশি করে এবং এত গুরুত্বের সঙ্গে দেখানো হয়েছে যে রামায়ণকে ‘কাব্যে রূপান্তরিত নীতিবিজ্ঞান’ বলা হয়।

আমরা জানি, হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে চারটি ভাগ আছে— ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈশ্য ও শুদ্র। এ বিভাজন সত্যিকার অর্থে জন্মের কারণে নয়। এর মূল কারণ গুণ ও কর্ম। ভগবদ্গীতায় একজন ব্রাহ্মণের গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে—

বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে পারঙ্গম হয়ে ইন্দ্রিয়সমূহ বশীভূত করে আসক্তি ও দ্বেষ বর্জন করে নির্জনবাস, স্বল্পাহার, বাক সংযম ও ধ্যানে নিবিষ্ট হয়ে দেহ ও মনের ওপর পুরাপুরি নিয়ন্ত্রণ এনে অহংকার, দম্ভ, লোভ, কাম, ক্রোধ ও পরিগ্রহ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েই একজন ব্রাহ্মণ হবার যোগ্যতা অর্জন করেন। (মোক্ষযোগ, ৫৩-৫৩)

হিন্দু ধর্ম ক্রোধ, হিংসা ও ঘৃণাবিরোধী। অথর্ববেদের নির্দেশ— ধনুকের তীর নিক্ষেপের ন্যায় হৃদয় থেকে ক্রোধকে নিক্ষেপ করো। তাহলেই তোমরা পরস্পরের বন্ধু হতে এবং শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। (৬.৪২.১)

সামবেদে বলা হয়েছে— জীবনের প্রতিটি স্তরে অনিয়ন্ত্রিত রাগ-ক্রোধ থেকে দূরে থাকো (৩.৭)। সামবেদে আরও বলা হয়েছে— ঈর্ষা থেকে হৃদয়কে মুক্ত করো। হিংসা থেকে বিযুক্ত থাকো। (২৭.৪)। যজুর্বেদে ঘৃণা না করার ব্যাপারে সুন্দর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—

বিশ্বজনীন মমতার স্বাদ যে পেয়েছে সে সকল প্রাণের মাঝেই নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে। যে নিজেকে পরমাত্মার অংশ মনে করে, সে কখনো অন্যের দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাতে পারে না। সে কখনো কাউকে ঘৃণা করে না। তাই ঘৃণা, দুঃখ বা বেদনা তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। (৪০.৬)

ভগবদ্গীতায় অত্যন্ত কঠিন ভাষায় কাম-ক্রোধ-লোভ পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কাম, ক্রোধ ও লোভ— এই তিনটি নরকের প্রবেশদ্বার। এ তিনটি ‘বিষবৎ পরিত্যায্য’। ঋগবেদ অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্রতী হতে নির্দেশ দিয়েছে— ওঠো, জাগো, সত্যের পতাকা সমুন্নত করো। দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাও অন্যায় আর অসত্যের বিনাশে। (১০.১০৩.১৩)।

ভগবদ্গীতার শিক্ষা হলো—

মানুষের উচিৎ ইন্দ্রিয় সুখের ব্যাপারে অনাসক্ত হওয়া— ইন্দ্রিয়জ সুখ নিয়ে বেশি চিন্তা করলে আসক্তি সৃষ্টি হয়; আসক্তি সৃষ্টি করে কাম। কাম পরিণত হয় ক্রোধে। ক্রোধ বিচারবুদ্ধি বিনষ্ট করে। চিত্তকে বিক্ষিপ্ত করে। বিক্ষিপ্ত চিত্ত ও বুদ্ধিবিভ্রম মানুষের সর্বনাশের কারণ হয়। (সাংখ্যযোগ, ৬২-৬৩)

ভগবদ্গীতায় আরও বলা হয়েছে—

নির্বোধরা অবিদ্যাদ্বারা আক্রান্ত হয়ে বিভ্রান্তির বেড়াজালে ঘুরপাক খেতে খেতে ইন্দ্রিয় সুখতাড়িত হয়ে অস্থিরতা, অশান্তি, জ্বরা-ব্যধিতে আক্রান্ত হয় এবং পতিত হয় রৌরব নরকে। (দ্বৈবাসুরসস্পদ্বিভাগযোগ, ৭-১১)

পৃথিবীতে বর্তমানে প্রচলিত প্রতিটি ধর্মই সম্যকবাকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এই ধর্মগুলোর যে পবিত্রগ্রন্থ আছে তাদের মধ্যে বেদকে সবচেয়ে পুরাতন বলে মনে করা হয়। বেদ চারটি— ঋগবেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। এই চারটি বেদের মধ্যে ঋগবেদ প্রাচীনতম। এই বেদে দুটি প্রার্থনা আছে—

হে প্রভু! সামর্থ দাও উদ্দীপনাময় সুন্দর এবং সাবলীল কথা বলার।(১০.৯৮.৩)।

হে প্রভু! আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ দান করো, দান করো কালজয়ী মন, আত্মিক সুষমা, অনন্ত যৌবন, আলোকোজ্জ্বল রূপ আর মধুর বচন। (২.১১.৬)।

যজুর্বেদের নির্দেশ— কর্কশ স্বরে কথা বলো না। তিক্ত কথা যেন মুখ ফসকেও বেরিয়ে না আসে। (৫.৮)। সামবেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— সত্যিকারের ধার্মিক সবসময় মিষ্টভাষী ও অন্যের প্রতি সমমর্মী। (২.৫১)। ঋগবেদ সমাজপতিদেরকে বলেছে— হে নেতা! হে পুরোধা! নির্ভীকভাবে সত্যভাষণের নৈতিক শক্তিতে তোমাকে বলীয়ান হতে হবে। (৮.৪.১৪)

অভাবগ্রস্ত, দুর্দশাগ্রস্ত ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঋগবেদের নির্দেশ— এসো, প্রভুর সেবক হই। গরীব ও অভাবীদের দান করি। (১.১৫.৮)। নিঃশর্ত দানের জন্য রয়েছে চমৎকার পুরষ্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘ জীবন ও অমরত্ব। (১.১২৫.৬)। এসো, প্রভুর সেবক হই। গরীব ও অভাবীদের পাশে দাঁড়াই। (৬.১৯.১০)।

সমাজকে ভালবাসো। ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও। দুর্গতকে সাহায্য করো। সত্য-ন্যায়ের সংগ্রামে সংগ্রামী ভূমিকা রাখার শক্তি অর্জন করো। (৬.৭৫.৯)।

অথর্ববেদে মানবজাতিকে সংঘবদ্ধ হয়ে সমাজকল্যাণে নিয়োজিত হতে বলেছে—

হে মানবজাতি! তোমরা সম্মিলিতভাবে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হও। পারস্পরিক মমতা ও শুভেচ্ছা নিয়ে একত্রে পরিশ্রম করো। জীবনের আনন্দে সম অংশীদার হও। (৩.৩০.৭)

হে মানুষ! সুসম জীবনাচার অনুসরণ করো। ধরিত্রী থেকে আহহৃত খাবার ও পানীয় সমভাবে বণ্টন করো। একটি চাকার শিকগুলো সমভাবে কেন্দ্রে মিলিত হলে যেমন গতির সঞ্চার হয়, তেমনি সাম্য-মৈত্রীর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হও। তাহলে অগ্রগতি অবধারিত। (৩.৩০.৬)।

ঋগবেদের একটি প্রার্থনা নৈতিকতার সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত—

সদাসর্বত্র বিরাজমান তন্দ্রাহীন সদা-সজাগ প্রতিনিয়ত করুণা বর্ষণকারী সর্বশক্তিমান, হে প্রভু! আমরা শুধু তোমারই মহিমা স্মরণ করি, তোমারই জয়গান গাই। প্রভু হে! আমাদের সর্বোত্তম আত্মিক পথে ও আলোকিত পথে পরিরচালনা করো। আমরা যেন সবসময় সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকে অনুধাবন করতে পারি।

এ প্রসঙ্গে ঋগবেদের কয়েকটি শিক্ষা বিশেষভাবে উল্লেখ্য—

একজন নিরীহ মানুষের ক্ষতি যে করে, সে মানুষ নয়, সে হায়েনা। তার কাছ থেকে দূরে থাকো। (২.২৩.৭)

যারা সৎপথে কঠোর পরিশ্রম করে এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করে তাদেরকেই প্রভু সাহায্য করেন। (৪.২৩.৭)

সৎকর্ম মানুষকে দৃঢ় ও সাহসী করে। দেহ-মনকে রোগ ও পাপ থেকে মুক্ত রাখে। সকল প্রতিকূলতার ওপর বিজয়ী করে। (৫.১৫.৩)।

ঈশ্বরের দৃষ্টিতে কেইউ বড় নয়। কেউই ছোট নয়, সবাই সমান। প্রভুর আশীর্বাদ সকলের জন্য। (৫.৬০.৫)

স্বনির্মিত সহশ্র শৃঙ্খলে মানুষ নিজেকে বন্দি করে রেখেছে। (৫.২.৪)

হে নেতা, হে পুরোধা! নির্ভিকভাবে সত্যভাষণের নৈতিক শক্তিতে তোমাকে বলীয়ান হতে হবে। (৮.৪৮.১৪)

উঠো, জাগো, সত্যের পতাকা সমুন্নত রাখো। দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাও অন্যায় অসত্যের বিনাশে। (১০.১০.১০৩)

বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক শিক্ষা

এশিয়ার আলো হিসাবে খ্যাত গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন মূলত একজন নৈতিক শিক্ষক ও সমাজসংস্কারক। মানুষের জীবনের দুঃখ আর বেদনার দিকটা যত গভীরভাবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এত গভীরভাবে আর কেউ ব্যাখ্যা করেননি। তার মতে, দুঃখের হাত থেকে নির্বাণলাভই হলো জীবনের চরম ও পরম লক্ষ্য। পাশ্চাত্যের নীতিদার্শনিকদের ভাষায়— ‘সাম্মাম বোনাম অব মেন’স লাইফ’।

এই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে, অর্থাৎ নির্বাণলাভ করতে গৌতম বুদ্ধ আটটি পথের কথা বলেছেন। এই আটটি পথ বা মার্গ হলো— সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক, সম্যক কর্মান্ত, সম্যক আজীব, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি। সংক্ষেপে এই আটটি পথকে বলা হয় অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা অষ্টমার্গ।

এই অষ্টমার্গ বা পথের অধিকাংশই আমাদেরকে সৎ, চরিত্রবান ও আত্মত্যাগী হতে শিক্ষা দেয়। গৌতম বুদ্ধ কর্তৃক নির্দেশিত এই আটটি পথকে তিনটি স্কন্ধে ভাগ করা হয়। এই তিনটি স্কন্ধ হলো— প্রজ্ঞা বা সম্যক জ্ঞান, শীল বা সম্যক আচরণ এবং সমাধি বা ধ্যান।

গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অনুসারে, প্রজ্ঞা অবিদ্যাকে বিনাশ করে। আর শীল প্রজ্ঞায় পূর্ণতা আনে। সকল প্রকার পাপকার্য থেকে বিরত হয়ে শুদ্ধ ও পবিত্র মনে কাজ করাই হলো শীল। শীল হলো সৎস্বভাব, আত্মসংযম ও বিধিনিষেধ অনুসরণ। এই শীলের কারণেই মন পবিত্র হয়। আর চিত্ত হয় প্রশান্ত। এর ফলে জাগতিক বিষয়াদির প্রতি স্বাভাবিকভাবেই অনাসক্তি জন্মায় এবং একজন ব্যক্তির অন্তরে নিষ্কাম কর্মের প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। সম্যক বাক, সম্যক কর্মান্ত ও সম্যক আজীব শীল স্কন্দের অন্তর্ভূক্ত। স্থিরভাবে ধ্যানস্ত হয়ে সত্যের ওপর মনকে নিবিষ্ট করাই হলো ধ্যান। সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি ধ্যান এর অন্তর্গত।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা যেসব কর্মাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাকে বৌদ্ধ ধর্ম দুভাগে ভাগ করেছে— বর্জনীয় ও বাঞ্ছনীয়। বর্জনীয় কাজগুলো হলো— হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যাচার, মাদকদ্রব্য গ্রহণ ইত্যাদি। বাঞ্ছনীয় কাজগুলোর মধ্যে যা বিশেভভাবে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো— প্রেম ও ভালোবাসা, দয়া ও বদান্যতা, সততা আত্মসংযম, সৎ ও মহৎ চিন্তা ইত্যাদি।

গৌতমবুদ্ধ বলতেন, তিনি সুখী, যিনি পৃথিবীর সমস্ত বস্তুকে ভালবাসেন এবং সবসময়ই মানুষের কল্যাণ কামনা করেন। ফুলের সৌরভ বাতাসের গতির বিপরীত দিকে যায় না, কিন্তু মানুষের গুণের সৌরভ চারিদিকে ছড়ায়। লোহার মরিচাই লোহাকে ধ্বংস করে। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের পাপই আমাদের সমস্ত অনিষ্টের মূল। মেঘমুক্ত আকাশ যেমন অন্ধকার রাতকে আলোকিত করে, ঠিক তেমনিভাবে মানুষের সৎকর্ম পৃথিবীকে উজ্জ্বল করে তোলে।

নির্বাণ লাভের পর দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে গৌতম বুদ্ধ মানুষের চরিত্র উন্নয়ন এবং সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্যে অনেক আদর্শ ও শিক্ষার বাণী সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট ছিলেন। তার এই অসংখ্য শিক্ষা অনেকগুলো শিক্ষা ধম্মপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। এ গ্রন্থের কয়েকটি শিক্ষার কথা ওপরে আলোচিত হয়েছে। আরও কয়েকটি শিক্ষার বাণী নিচে উদ্ধৃত করা হলো।

নীতিবিদ্যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো— কোনো কাজ নৈতিক না অনৈতিক তা নির্ধারণ করা। এখানে যা সবচেয়ে বেশি বিবেচ্য তা হলো— সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিপ্রায়। গৌতম বুদ্ধও মানুষের জীবনের কর্মক্ষেত্রে অভিপ্রায়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন:

চিন্তা বা অভিপ্রায়ের প্রতিফলন ঘটে স্বভাব বা প্রকৃতিতে। যদি কেউ মন্দ অভিপ্রায় নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে, দুঃখ তাকে অনুগমন করে। আর কেউ যদি সুচিন্তা নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে, সুখ তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে। (যমকবগ্গো: ৪২)

জন্মের ওপর ভিত্তি করে ভারতবর্ষে যে সামজিক স্তরবিন্যাস ও ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রচলিত ছিল এবং কম হলেও এখনো বিদ্যমান, গৌতম বুদ্ধ ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। আর সে কারণেই তিনি বলতেন:

জন্মসূত্রে কেউ ব্রহ্মণ হয় না। যিনি অহিংস, আসক্তিরহিত, পাপমুক্ত, ভীতিশূন্য, কপটতাবর্জিত, কামক্রোধমুক্ত, বিশুদ্ধচিত্ত, ক্ষমাশীল, প্রজ্ঞাবান, সত্য ও ধর্মানুসারী, তিনিই ব্রাহ্মণ অভিধাযোগ্য। (ব্রাহ্মণবাগ্গো: ৩৯৬-৪০৮)

ভগবদ্গীতাও এই ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে। গীতায় স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, ব্রাহ্মণ হতে হলে একজন মানুষকে কী কী গুণের অধিকারী হতে হবে। (মোক্ষযোগ : ৫১-৫৩)। গৌতম বুদ্ধও মনে করেন, একজন মানুষ জন্মের কারণে ব্রাহ্মণ হয় না। ব্রাহ্মণ হয় কেবলমাত্র গুণের কারণে। ওপরে যে গুণাবলির কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে উপরোক্ত গুণাবলী বিদ্যমান কেবল তিনিই ব্রাহ্মণ পদবাচ্য।

বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে যার ন্যূনতম জ্ঞান আছে সেও জানে যে এই ধর্ম অনুসারে অবিদ্যাই হচ্ছে দুঃখের মূল কারণ। অবিদ্যা সম্পর্কে গৌতম বুদ্ধ বারবার বলতেন:

সকল মলের নিকৃষ্ট মল অবিদ্যা। হে ধ্যানী! এই মল বর্জন করে নির্মল হও। (মরবগ্গো: ২৪৩)

অবিদ্যার কারণে যারা অসারকে সার আর সারকে অসার মনে করেন তারা কখনো সত্যের সন্ধান পায় না। (যমকবগ্গো: ১১)

সত্য সচেতনতা অমৃতের পথ। আর মূর্খতা মৃতপুরীর পথ। সত্য সচেতন ব্যক্তিরা অমর হন আর মূর্খরাতো মৃত সদৃশ। (অপপোমাদবগ্গো: ২১)

মুর্খরা ‘আমার পুত্র’, ‘আমার অর্থ’, ‘আমার ধন’— এই চিন্তা করে যন্ত্রণাভোগ করে। যখন সে নিজেই নিজের না তখন তার পুত্র বা ধন তার হয় কীভাবে? (বালবগ্গো: ৩২)

অবিদ্যার হাত থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো জ্ঞান বা প্রজ্ঞা। গৌতম বুদ্ধ বলেন:

যিনি সত্য, ধর্ম, ন্যায় অহিংসা, সংযমের প্রতীক, যিনি পাপমুক্ত, নির্মল ও প্রাজ্ঞ; তিনিই স্থবির। (ধম্মটবগ্গো: ২৬১)

মার্গ বা পথের মধ্যে আর্য অষ্টাঙ্গ শ্রেষ্ঠ, সত্যের মধ্যে চতুরার্যসত্য শ্রেষ্ঠ, গুণের মধ্যে নিরাসক্তিই শ্রেষ্ঠ, আর মানুষের মধ্যে প্রাজ্ঞই শ্রেষ্ঠ। (মগ্গবগ্গো: ২৭৩)

উচ্ছৃঙ্খল ও মূর্খ ব্যক্তির শত বছরের জীবনের চেয়ে প্রাজ্ঞ ও ধ্যানীর একদিনের জীবন উত্তম। (সহস্সবগ্গো: ১১১)

প্রাজ্ঞব্যক্তি কখনো নিন্দা বা প্রশংসায় প্রভাবিত হন না। (পণ্ডিতবগ্গো: ৮১)

গৌতম বুদ্ধ হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রোধ, মিথ্যাচার, পাপাচার ইত্যাদির বিরুদ্ধে সদাসতর্ক থাকার জন্য প্রত্যেককেই নির্দেশ দিতেন। তার কয়েকটি নির্দেশ নিম্নরূপ:

মিথ্যাবাদী, ধর্মলঙ্ঘণকারী ও পরলোকে অবিশ্বাসী ব্যক্তি যেকোনো পাপ কাজ করতে পারে। (লোকবগ্গো: ১৭৬)

কোনো পাপকেই ক্ষুদ্র মনে কোরো না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাপই জমা হতে হতে মুর্খের পাপের ভাণ্ডার পূর্ণ করে। (পাপবগ্গো: ১২১)

পাপী ইহলোক ও পরলোক উভয় লোকেই মনস্তাপে দগ্ধ হয়। অপরদিকে পুণ্যবান উভয়লোকেই পরমানন্দ লাভ করেন। (যমকবগ্গো: ১৭-১৮)

পাপের প্রতিফলন না পাওয়া পর্যন্ত মুর্খরা পাপকেই অমৃত বলে মনে করে। মনস্তাপ শুরু হয় পাপের ফল পাওয়ার পর। (বালবগ্গো: ৬৯)

লোভ হচ্ছে কঠিনতম রোগ, সংস্কার চরম দুঃখ, সুস্বাস্থ্য পরম লাভ, সন্তুষ্টি পরম ধন, বিশ্বাসই পরম বন্ধু, নির্বাণ পরম সুখ। (সুখবগ্গো: ২০৩-২০৪)

ধর্মশিক্ষাদান সর্বোত্তম দান। ধর্মের আলো সর্বোত্তম আলো। ধর্ম পালন সর্বোত্তম আনন্দ। আসক্তির বিনাশ সর্বদুঃখ বিজয়। (তনহাবগ্গো: ৩৫৪)

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, গৌতম বুদ্ধের নৈতিক শিক্ষা হলো তার অষ্টাঙ্গিক মার্গ। এই আটটি মার্গ বা পথের একটি হলো সম্যকবাক। সম্যকবাক বলতে শুধু সত্য কথা বলা ও মিথ্যা কথা পরিহার করাই নয়, এর তাৎপর্য অনেক গভীর ও ব্যাপক। গৌতম বুদ্ধ সবসময় বলতেন, তোমার কথায় যেন কেউ ব্যাথা না পায়। এর পক্ষে তিনি তার শীষ্যদের বলতেন:

কাউকে কটূ কথা বলবে না। কারণ সেও কটূ প্রত্যুত্তর দিতে পারে। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় তোমার জন্যও কষ্টদায়ক হবে। দণ্ডের প্রতিদণ্ড তোমাকেও স্পর্শ করবে। (দণ্ডবগ্গো: ১৩৩)

গৌতম বুদ্ধ সবসময় প্রতিশোধের বিরুদ্ধাচরণ করতেন। তিনি সর্বসাধারণকে লক্ষ্য করে সবসময়ই বলতেন:

শত্রুতা দ্বারা কখনো শত্রুতা বিনাশ করা যায় না। মিত্রতা দ্বারাই শত্রুতার নিরসন হয়। (যমকবগ্গো: ৫)

ক্রোধেকে ক্ষমা দ্বারা, অন্যায়কে ন্যায় দ্বারা, কার্পণ্যকে দান দ্বারা, মিথ্যাকে সত্য দ্বারা জয় করো। (ক্রোধবগ্গো: ২২৩)

নীতিবান, সাহসী ও আদর্শ মানুষ তৈরির লক্ষ্যে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তার অনেক প্রশংসনীয় শিক্ষার মধ্যে তিনটি শিক্ষা বিশেষভাবে উল্লেখ্য—

রণক্ষেত্রে সহযোদ্ধার ওপর বিজয়ীর চেয়ে রাগ-ক্রোধ বিজয়ী বা আত্মজয়ী বীরই বীরশ্রেষ্ঠ। (সহস্সবগ্গো: ১০৩)

যে ব্যক্তি অন্যকে দুঃখ দিয়ে নিজে সুখ পেতে চায়, সে ঘৃণার আবর্ত থেকে মুক্ত হতে পারে না। (পকিন্নকবগ্গো: ২৯১)

ভালো কাজ সবসময় করো। বার বার করো। মনকে সবসময় ভালো কাজে নিমগ্ন রাখো। সদাচরণই স্বর্গসুখের পথ। (পাপবগ্গো: ১১৮)

* “... religion is seen as a leading contributor to intolerance, human rights violation and violent extremism afflicting the world in the twenty first century.” Judy Carter and Gordon S. Smith, “Religious Peacebulding,” Harold Coward and Gordon S. Smith (ed): Religion and Peacebuilding, (State University of New York Press, 2004), পৃষ্ঠা ২৭৯

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেনাবাহিনীর ধাওয়ার ছবিটি এআই-নির্মিত

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেনাবাহিনীর ধাওয়ার ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশি ফ্যাক্টচেকিং ও ডিজিটাল মিডিয়া গবেষণা সংস্থা ডিসমিসল্যাব এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির যাচাইয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব ঘটনার নয়, বরং ডিজিটালভাবে নির্মিত বা সম

৩ ঘণ্টা আগে

পুলিশে ফিরছে নীল-জলপাই রঙের শার্ট ও খাকি প্যান্ট, প্রজ্ঞাপন জারি

আগের পোশাকে ফেরার অনুমোদন দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটের পুলিশের জন্য হবে গাঢ় নীল রঙের শার্ট। সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের এবং সকল পুলিশের প্যান্টের রঙ হবে খাকি।

৪ ঘণ্টা আগে

শিক্ষা খাত আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার, পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা: প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।’

৬ ঘণ্টা আগে

রাতে ১৪ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে তীব্র ঝড় বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝ

৬ ঘণ্টা আগে