
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজনীতি ডটকম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ২০২৫ সালের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্পদ বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদের পরিমাণে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। এর মধ্যে একজন উপদেষ্টার সম্পদের পরিমাণই ২১ জন উপদেষ্টার মোট সম্পদের চেয়েও বেশি!
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন উপদেষ্টার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেখানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের একার সম্পদের পরিমাণই ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা।
গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ২১ জন উপদেষ্টার মোট সম্পদের ৫১ দশমিক ২৪ শতাংশ বা অর্ধেকেরও বেশি শেখ বশিরউদ্দীনের একার। অর্থাৎ বাকি ২০ জন উপদেষ্টার সবার সম্পদ এক পাল্লায় রাখলেও উপদেষ্টা বশিরউদ্দীনের সম্পদের পাল্লা ভারী হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এই সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ২০২৪ সালের ৩০ জুন ও ২০২৫ সালের ৩০ জুনের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে বিবরণীতে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সম্পদের পরিমাণে শীর্ষে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দীনের ছেলে তিনি। পারিবারিক ব্যবসার মাধ্যমেই ব্যবসায়ে প্রবেশ করা বশিরউদ্দীন বাবার মৃত্যুর পর আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে ২০২০ সালে তিনি নিজেই আকিজ-বশির গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, আকিজ-বশির গ্রুপের অধীনে মোট কোম্পানির সংখ্যা ১৮। সিরামিকস, ফ্লোট গ্লাস, পাট, চা, পলিমার, ইস্পাত, এভিয়েশনসহ নানা খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এই উপদেষ্টা। তিনটি দেশে রয়েছে এই গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। গ্রুপটির বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদন করা পণ্য রপ্তানি হয় ২৫টি দেশে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী দেখুন এখানে—
দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদের পরিমাণের সঙ্গে বাকি উপদেষ্টাদের সম্পদের পরিমাণের ব্যবধান যোজন যোজন। এমনকি বাকি ২০ জন উপদেষ্টার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণও তার সময় নয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকাশিত সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, শেখ বশিরউদ্দীনের পরই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তার সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রয়েছেন তালিকার তৃতীয় স্থানে। তার সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা।
এ তালিকায় এরপরই রয়েছেন উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তার সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ১৬ লাখ টাকা।
দুজন উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটির ঘরে। তারা হলেন— মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও নূরজাহান বেগম। পাঁচ কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের।
এ ছাড়া তিন কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের।
দুই কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আদিলুর রহমান খান, ফারুক ই আজম ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর।
আর এক কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফরিদা আখতার ও আ ফ ম খালিদ হোসেনের।
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করা তরুণ দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে বিবরণীতে। তাদের দুজনের সম্পদের পরিমাণ অবশ্য বাকি উপদেষ্টাদের তুলনায় যোজন যোজন কম।
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। আর এ তালিকায় সবার চেয়ে কম সম্পদধারী হলেন মাহফুজ আলম। তার সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা।
উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর থেকেই তাদের প্রতিশ্রুতি ছিল যে তারা তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। সরকার গঠনের দেড় বছরের মাথায় সেটি তারা প্রকাশ করলেন।’
তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টারা তাদের সম্পদ বিবরণী নিজ দায়িত্বে দিলেন। এখন তাদের এই হিসাব যথার্থ কি না, এটা বিচার করার দায়িত্ব আমাদের কারও না, এনবিআর হয়তো তাদের ইনকাম ট্যাক্সের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে। তবে একজন উপদেষ্টার ওপর তো জাতির ভরসা থাকা উচিত যে তিনি তার সম্পদ বিবরণীটি প্রকাশ করে দিলেন সবার কাছে।’
আবদুল মজিদ আরও বলেন, ‘আগেকার আমলে ২০০৮ সালে ইশতেহারে লিখেও কেউ সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেননি। সেখানে উপদেষ্টারা প্রকাশ করেছেন, সেটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে ব্যক্তিগত আয়ের বাইরেও যদি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের হিসাবের প্রয়োজনীয়তা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা পরীক্ষা করে দেখতে পারে।’
এ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘দেরিতে হলেও এই সম্পদের বিবরণী প্রকাশ হলো, এটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমনভাবে মূলত সমালোচনার মুখে শেষ বেলার জন্য না রেখে যেভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অঙ্গীকার করা হয়েছিল সেভাবে যথাসময়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হলে দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হতো। সে সুযোগ আর থাকল না।’
একদিন পরই হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ড. ইফতেখারুজ্জামানের প্রত্যাশা, এ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার যেন নিয়মিত সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে।
টিআইবির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সরকার এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পথ পরিহার করে মন্ত্রিসভা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সব সংসদ সদস্য ও সব সরকারি কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী শুরুতেই স্বেচ্ছায় প্রকাশ করবেন এবং প্রতি বছর নবায়ন করবেন— দেশবাসী এই প্রত্যাশা করবে। এতে সরকারও দাবি করতে পারবে, অন্তর্বর্তী সরকার যা পারেনি তা তারা করে দেখিয়েছে।’
এদিকে উপদেষ্টার প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীর নামও রয়েছে সম্পদ বিবরণীর তালিকায়। তবে এর মধ্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। বিবরণীতে বলা হয়েছে, আলী রীয়াজ গত ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগ দিয়েছেন। আর লুৎফে সিদ্দিকী সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণ করেননি।
বাকি দুই বিশেষ সহকারীর মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের মোট সম্পদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৯ টাকা। আর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ টাকা এবং ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫০ ডলার, যা প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসাবে ৫৫ কোটি ৬৩ লাখ দুই হাজার টাকা। বিবরণীতে বলা হয়েছে, ডলার এই অঙ্কটি মূলত তার দেশের বাইরে অবস্থিত ইমারত, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের মূল্যমান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ২০২৫ সালের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্পদ বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদের পরিমাণে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। এর মধ্যে একজন উপদেষ্টার সম্পদের পরিমাণই ২১ জন উপদেষ্টার মোট সম্পদের চেয়েও বেশি!
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জন উপদেষ্টার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেখানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের একার সম্পদের পরিমাণই ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা।
গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ২১ জন উপদেষ্টার মোট সম্পদের ৫১ দশমিক ২৪ শতাংশ বা অর্ধেকেরও বেশি শেখ বশিরউদ্দীনের একার। অর্থাৎ বাকি ২০ জন উপদেষ্টার সবার সম্পদ এক পাল্লায় রাখলেও উপদেষ্টা বশিরউদ্দীনের সম্পদের পাল্লা ভারী হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এই সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ২০২৪ সালের ৩০ জুন ও ২০২৫ সালের ৩০ জুনের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে বিবরণীতে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সম্পদের পরিমাণে শীর্ষে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দীনের ছেলে তিনি। পারিবারিক ব্যবসার মাধ্যমেই ব্যবসায়ে প্রবেশ করা বশিরউদ্দীন বাবার মৃত্যুর পর আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে ২০২০ সালে তিনি নিজেই আকিজ-বশির গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, আকিজ-বশির গ্রুপের অধীনে মোট কোম্পানির সংখ্যা ১৮। সিরামিকস, ফ্লোট গ্লাস, পাট, চা, পলিমার, ইস্পাত, এভিয়েশনসহ নানা খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এই উপদেষ্টা। তিনটি দেশে রয়েছে এই গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। গ্রুপটির বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদন করা পণ্য রপ্তানি হয় ২৫টি দেশে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী দেখুন এখানে—
দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদের পরিমাণের সঙ্গে বাকি উপদেষ্টাদের সম্পদের পরিমাণের ব্যবধান যোজন যোজন। এমনকি বাকি ২০ জন উপদেষ্টার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণও তার সময় নয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকাশিত সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, শেখ বশিরউদ্দীনের পরই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তার সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রয়েছেন তালিকার তৃতীয় স্থানে। তার সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা।
এ তালিকায় এরপরই রয়েছেন উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তার সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সম্পদের পরিমাণ সাত কোটি ১৬ লাখ টাকা।
দুজন উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটির ঘরে। তারা হলেন— মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও নূরজাহান বেগম। পাঁচ কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের।
এ ছাড়া তিন কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের।
দুই কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আদিলুর রহমান খান, ফারুক ই আজম ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর।
আর এক কোটির ঘরে সম্পদ রয়েছে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফরিদা আখতার ও আ ফ ম খালিদ হোসেনের।
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করা তরুণ দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে বিবরণীতে। তাদের দুজনের সম্পদের পরিমাণ অবশ্য বাকি উপদেষ্টাদের তুলনায় যোজন যোজন কম।
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। আর এ তালিকায় সবার চেয়ে কম সম্পদধারী হলেন মাহফুজ আলম। তার সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা।
উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর থেকেই তাদের প্রতিশ্রুতি ছিল যে তারা তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। সরকার গঠনের দেড় বছরের মাথায় সেটি তারা প্রকাশ করলেন।’
তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টারা তাদের সম্পদ বিবরণী নিজ দায়িত্বে দিলেন। এখন তাদের এই হিসাব যথার্থ কি না, এটা বিচার করার দায়িত্ব আমাদের কারও না, এনবিআর হয়তো তাদের ইনকাম ট্যাক্সের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে। তবে একজন উপদেষ্টার ওপর তো জাতির ভরসা থাকা উচিত যে তিনি তার সম্পদ বিবরণীটি প্রকাশ করে দিলেন সবার কাছে।’
আবদুল মজিদ আরও বলেন, ‘আগেকার আমলে ২০০৮ সালে ইশতেহারে লিখেও কেউ সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেননি। সেখানে উপদেষ্টারা প্রকাশ করেছেন, সেটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে ব্যক্তিগত আয়ের বাইরেও যদি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের হিসাবের প্রয়োজনীয়তা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা পরীক্ষা করে দেখতে পারে।’
এ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘দেরিতে হলেও এই সম্পদের বিবরণী প্রকাশ হলো, এটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমনভাবে মূলত সমালোচনার মুখে শেষ বেলার জন্য না রেখে যেভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অঙ্গীকার করা হয়েছিল সেভাবে যথাসময়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হলে দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হতো। সে সুযোগ আর থাকল না।’
একদিন পরই হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ড. ইফতেখারুজ্জামানের প্রত্যাশা, এ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার যেন নিয়মিত সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে।
টিআইবির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সরকার এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পথ পরিহার করে মন্ত্রিসভা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সব সংসদ সদস্য ও সব সরকারি কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী শুরুতেই স্বেচ্ছায় প্রকাশ করবেন এবং প্রতি বছর নবায়ন করবেন— দেশবাসী এই প্রত্যাশা করবে। এতে সরকারও দাবি করতে পারবে, অন্তর্বর্তী সরকার যা পারেনি তা তারা করে দেখিয়েছে।’
এদিকে উপদেষ্টার প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীর নামও রয়েছে সম্পদ বিবরণীর তালিকায়। তবে এর মধ্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। বিবরণীতে বলা হয়েছে, আলী রীয়াজ গত ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগ দিয়েছেন। আর লুৎফে সিদ্দিকী সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণ করেননি।
বাকি দুই বিশেষ সহকারীর মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের মোট সম্পদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৯ টাকা। আর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ টাকা এবং ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫০ ডলার, যা প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসাবে ৫৫ কোটি ৬৩ লাখ দুই হাজার টাকা। বিবরণীতে বলা হয়েছে, ডলার এই অঙ্কটি মূলত তার দেশের বাইরে অবস্থিত ইমারত, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের মূল্যমান।

৫০তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের বিপরীতে এই নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৫০টি। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন
৮ ঘণ্টা আগে
তবে বেবিচকের পূর্বানুমতি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার ছাড়পত্রের সাপেক্ষে গবেষণা, জরিপ, কৃষি ও পরিবীক্ষণ কাজে এবং সরকারি সংস্থার আয়োজিত অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য ড্রোন ব্যবহারের অনুমোদন পেতে পারে সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
৯ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে দায়িত্বশীলতা, সচেতনতা ও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সফল করে তুলি। ভয় নয়—আশা নিয়ে; উদাসীনতা নয়—দায়িত্ববোধ নিয়ে; বিভক্তি নয়—ঐক্যের শক্তি নিয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য গণভোটের মাধ্যমেই আমরা প্রমাণ করব—বাংলাদেশের জনগণ নিজেদ
৯ ঘণ্টা আগে
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন ২ ফেব্রুয়ারি তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপর দিকে তাদের
৯ ঘণ্টা আগে