আ.লীগের সরকার উৎখাতের ‘ষড়যন্ত্রে’ ভার্চুয়াল যোগাযোগ সমন্বয় করতেন সুমাইয়া

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয় সুমাইয়াকে। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাষ্ট্রবিরোধী ‘ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগে গ্রেপ্তার সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপারেশন ঢাকা ব্লকেড (ওডিবি-এম-১৭০১) নামের গ্রুপ পরিচালনা করতেন। গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ডাটা এন্ট্রি, বিভিন্ন গোপন কোড তৈরি ও সমন্বয়ের কাজ করতেন তিনি।

শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের পাঠানো ডাটা গুগল শিটে এন্ট্রি দেওয়াসহ অনলাইন সিগন্যাল অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগলের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করার দায়িত্বও সুমাইয়া পালন করতেন।

রাজধানীর বসুন্ধরায় একটি কনভেনশন হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ‘গোপন বৈঠকে’র ঘটনার পর বুধবার ইউনিলিভার বাংলাদেশের গাজীপুর টঙ্গী শাখার টেরিটরি ম্যানেজার সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সুমাইয়ার স্বামী মেজর সাদিকুল হকের বিরুদ্ধে ওইসব ‘গোপন বৈঠকে’ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাশকতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেনা হেফাজতে থাকা মেজর সাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করেছে সেনাবাহিনী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ঘটনায় সুমাইয়ার কী ধরনের ভূমিকা ছিল, তার সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত ছিলেন, এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গত ৮ জুলাইয়ে বসুন্ধরা এলাকার ওই কনভেনশন সেন্টারে ‘গোপন বৈঠক’ হওয়ার আগেও বিভিন্ন রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ফ্ল্যাটে একাধিক বৈঠক হয়েছে, যেখানে সরকার উৎখাতের ‘ষড়যন্ত্র’ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের এ তৎপরতা স্পষ্ট জানা যায় বসুন্ধরা এলাকার কনভেনশন হলের ওই বৈঠকের পর। এ ঘটনায় ১৩ জুলাই ভাটারা থানার এসআই জ্যোতির্ময় মণ্ডল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্ত সূত্র বলছে, সুমাইয়া যে গ্রুপে অ্যাডমিন ছিলেন সেই গ্রুপেই ভাসমান টোকাই সংগ্রহ করে তাদের মাধ্যমেও নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বসুন্ধরা এলাকার ওই বৈঠক সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা মিলিয়ে তিন থেকে চার শজন অংশ নেন। তারা সেখানে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।

বৈঠকে পরিকল্পনা করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার পর সারা দেশ থেকে লোকজন এসে ঢাকায় সমবেত হবেন। তারা ঢাকার শাহবাগ মোড় দখল করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে দেশে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুমাইয়া ও তার স্বামী মেজর সাদিকুল হক পূর্বাচলে সি-সেল রিসোর্ট, কাঁটাবনে একটি রেস্টুরেন্টে ও মিরপুর ডিওএইচএসে একাধিকবার ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ গোপন বৈঠকের আয়োজন করেন।

এ ছাড়া উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটির দুই নম্বর গেটসংলগ্ন সুমাইয়ার একটি ফ্ল্যাটে একাধিকবার গোপন বৈঠক হয়েছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও তাদের সমর্থকদের গতিশীল ও উৎসাহিত করার নানা কৌশল ও নাশকতার ছক নিয়ে এসব বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর বাইরে কয়েকবার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘সো-কলড’ বলা আদালত অবমাননার শামিল: চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর এক ঐতিহাসিক অর্জন। এই অভ্যুত্থানের পেছনে ১৪০০ মানুষের রক্তদান, ২৫ হাজার মানুষের অঙ্গহানি এবং অগণিত মানুষের ত্যাগ রয়েছে। এমন একটি মহান বিপ্লবকে ‘তথাকথিত’ বলা নিছক ধৃষ্টতাই নয়, এটি আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

২ ঘণ্টা আগে

নির্বাচন-গণভোটের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠকে ইসি

পোস্টাল ভোটিং ও জেলখানায় ভোট প্রদান ও আইনশৃঙ্খলার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে আলোচনায়। এ ছাড়াও বৈঠকে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার, প্রচার কার্যক্রম, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ঋণখেলাপী প্রার্থী বাছাইসহ বিভিন্ন দিক।

৪ ঘণ্টা আগে

‘তারেক রহমান ফিরতে চাইলে একদিনেই ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে এক দিনের মধ্যে ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে সরকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

৪ ঘণ্টা আগে

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড: ১২২ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২১ বারের মতো পেছাল। আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

৫ ঘণ্টা আগে